চাঁদপুর, শুক্রবার ২৪ মে ২০১৯, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১৮ রমজান ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫১-সূরা যারিয়াত


৬০ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী


৫৬। আমি সৃষ্টি করিয়াছি জিন এবং মানুষকে এই জন্য যে, তাহারা আমারই ইবাদত করিবে।


৫৭। আমি উহাদের নিকট হইতে জীবিকা চাহি না এবং ইহাও চাহি না যে, উহারা আমার আহার্য্য যোগাইবে।


 


 


 


 


assets/data_files/web

খ্যাতিমান লোকের ভালোবাসা অনেক ক্ষেত্রে গোপন থাকে। -বেন জনসন।


 


 


যার দ্বারা মানবতা উপকৃত হয়, মানুষের মধ্যে তিনি উত্তম পুরুষ।


 


 


 


 


ফটো গ্যালারি
জনমানসের বিতর্কায়নে প্রশিক্ষণের গুরুত্ব
ডাঃ পীযূষ কান্তি বড়ুয়া
২৪ মে, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


জগতের শক্তি কী তা এক বিস্ময় অনেকের কাছেই। জগতের শক্তি কারও কাছে টাকায়। টাকাতে বাঘের দুধও মিলে। কিন্তু টাকার শক্তিও অসার হয়ে যায় যখন দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। টাকা তাই জগতের শক্তি নয়, বরং বলা যায় টাকা শক্তির একটা উৎস মাত্র, তবে শক্তি সরাসরি নয়। পেশীর শক্তি শক্তি নয় মোটেই। কেননা, পেশীর শক্তি প্রযুক্তির শক্তির কাছে কিছুই নয়। বিত্ত-বৈভব বা পদমর্যাদাও শক্তির কাতারে সেইভাবে আসে না যা বাস্তবসম্মতভাবে জগৎকে চালিত করতে পারে। জগৎ চালিত হয় মানুষের বুদ্ধিতে যা স্রষ্টা তার সৃষ্টির মধ্যে দান করেছেন উদারভাবে। সেই বুদ্ধিকে চালিত করে জীবনের যুক্তি। কাজেই যুক্তিই জগতের শক্তি এটা সন্দেহাতীত বলা যায়। যুক্তির বলেই মানুষের উত্তরণ হয়েছে অাঁধার গুহা থেকে। যুক্তির শক্তিতেই মানুষ এড়াতে পেরেছে রক্তপাত, মানুষ অর্জন করেছে প্রকৃতিকে আয়ত্তে আনার কৌশল। তাই যুক্তির চর্চাই জীবন ও জগতে আত্ম প্রতিষ্ঠার অকাট্য কৌশল।



যুক্তি কোনো উত্তরাধিকারের বংশগতি নয়, যুক্তি কোনো স্বতঃ ও স্বয়ংক্রিয় পন্থায় উৎপন্ন অনন্ত শক্তি-সমুদ্র নয়। যুক্তি হলো নিরন্তর চর্চার মাধ্যমে আপন মেধাকে শাণিত করে অর্জিত চিন্তাশক্তি যা শব্দ ও ধ্বনি এবং প্রতীকের মাধ্যমে অন্যের কাছে তুলে ধরা যায়। অনবরত চর্চায় যুক্তি ক্ষুরধার হয়, প্রতিনিয়ত শক্তিমান হয় এবং সমস্যা নিরসনে অজেয় হয়ে উঠে। যুক্তির নিয়মিত চর্চার এক অনন্য নান্দনিক ভূমি হলো বিতর্ক শিল্প। বিতর্কই যুক্তিকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গিয়ে নিজের মতকে প্রতিষ্ঠা দেয়। যে কোন বিদ্যা বা বিজ্ঞান বিনা চর্চায় বিকল হয়ে পড়ে কিংবা বিবশ হয়ে আসে। ফলে তখন আর তাকে কার্যকরভাবে ব্যবহারের সুযোগ থাকে না। যে কোন কিছুকে নিরন্তর চর্চায় রাখতে হলে চাই প্রশিক্ষণ। প্রশিক্ষণবিহীন ক্রমোন্নতি অসম্ভব।



বিতর্ক বা শিক্ষায় প্রশিক্ষণের গুরুত্ব যেমন অপরিসীম তেমনি এর ইতিহাসও সুপ্রাচীন। সক্রেটিস, অ্যারিস্টটল, প্লেটো, কনফুশিয়াসের আমল হতেই বিতর্ক ও শিক্ষণে প্রশিক্ষণের প্রচলন ছিল এর গুরুত্ব অনুধাবন করেই। তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য কৌটিল্য বা চানক্য প্রশিক্ষণের গুরুত্বকে অনুধাবন করে বার বার গুরুত্ব দিয়েছিলেন এর উপর। ব্যক্তির দক্ষতা, দলীয় সমঝোতা ইত্যাদির উন্মেষ ও বিকাশে প্রশিক্ষণের ভূমিকা অনস্বীকার্য। প্রশিক্ষণ অধীত বিষয়ে ব্যক্তির জ্ঞানকে বৃদ্ধি করে এবং আয়ত্ত করার শক্তিকে বাড়িয়ে দেয়। প্রশিক্ষণ স্থূল বিষয়গুলোকে তো বটেই, বরং সূক্ষ্ম বিষয়গুলোর উপর সতর্ক দৃষ্টি বুলোতে সহযোগিতা করে।



 



তৃণমূলকে সমাজের ও রাষ্ট্রের মূল স্রোতে আনতে হলে বিতর্ক শিল্পের চর্চাকে প্রসারিত করার গুরুত্ব অপরিসীম। আর এর জন্যে প্রয়োজন জনমানসের গণবিতর্কায়ন। বিতর্কের নান্দনিক চর্চার প্রতি সকলকে আকৃষ্ট করতে দরকার বিতর্কায়নের মাধ্যমে আবেশন। উপযুক্ত আবেশনের জন্যে চাই কার্যকর প্রশিক্ষণ। চুম্বক যেমন চুম্বকায়নের মাধ্যমে চৌম্বক পদার্থকে আকর্ষণ করে, বিদ্যুৎ যেমন বিদ্যুতায়নের মাধ্যমে পরিবাহকের মধ্যে আবেশ তৈরি করে তেমনি বিতর্কায়নের উপযুক্ত শক্তিতেই জনমানসকে জাগ্রত করা যায় রাষ্ট্র ও সমাজের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে। বিতর্কের জ্বর সবার মধ্যে সঞ্চারিত করতে হলে প্রশিক্ষণের মতো নির্মাণমূলক সক্রিয়তা প্রদর্শন জরুরি।



প্রাজ্ঞ বচনে বলে, অভ্যাসে বিদ্যা হয়, অনভ্যাসে বিদ্যা লয়। বিতর্ক একটি মননশীল বিদ্যা বলেই প্রশিক্ষণে এর উত্তরণের সুযোগ সর্বদা বিরাজমান। ক্রম সাফল্য অর্জনশীল বিতার্কিকও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজের দুর্বলতা চিহ্নিতকরণ ও তা অপনোদনের প্রয়াস নিতে পারে। মানুষের দক্ষতা একটি অবচয়শীল সম্পদ যা সময়ের সাথে নিম্নমুখী গতি অর্জন করে। তাই এই পতনশীল পরিণতি রোধে প্রশিক্ষণই একটা কার্যকর কর্মযজ্ঞ। ক্রমাগত প্রশিক্ষণ বিতার্কিকের মধ্যে প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব উৎপাদন ও প্রদর্শনের পারদর্শিতা তৈরি করে। কেউ সাঁতার পারা আর কেউ সাঁতার জানার মধ্যে তফাৎ যেমন তেমনি প্রশিক্ষণসম্পন্ন বিতার্কিক আর প্রশিক্ষণহীন বিতার্কিকের মধ্যেও সেই দুস্তর ব্যবধান। প্রশিক্ষণই বিতর্ককে জনমানসে কিংবা বিতার্কিকের কাছে একাধারে নিজ মত প্রতিষ্ঠার হাতিয়ার ও বিনোদনে রূপান্তরিত করে।



চিকিৎসা বিজ্ঞানে একটি প্রাচীন প্রবাদ আছে, একজন ভালো শৈল্যবিদ জানেন কীভাবে অস্ত্রোপচার করতে হয়, একজন শ্রেয়তর শৈল্যবিদ জানেন কখন অস্ত্রোপচার করতে হয় আর একজন সর্বোত্তম শৈল্যবিদ জানেন কখন অস্ত্রোপচার করতে নেই। অর্থাৎ চিকিৎসা বিজ্ঞানে ক্রমাগত প্রশিক্ষণ ব্যক্তিকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যায়, তখন ব্যক্তি দেখেই বুঝে নেন তার রোগীর অবস্থা। ঠিক তেমনি বিতর্ক নামের শিল্পটিও মনের রোগ সারানোর একটি মাধ্যম বিশেষত যারা পরমতকে গ্রাহ্য করেন না এবং তাদের জন্যেও যারা নিজের মতকে যুক্তির ঘাটতিতে প্রতিষ্ঠা দিতে পারেন না। সেই ক্ষেত্রে সময়মত প্রশিক্ষণ বিতার্কিকের জন্যে সেই পারদর্শিতা নিয়ে আসে যা তাকে কোন্টি যুক্তি নয় কিংবা কোন্টি সুযুক্তি তা দ্রুত বোধগম্য করে তোলার সক্ষমতা দান করে।



বিতর্ক হলো সমাজ নির্মাণের একটা কার্যকর হাতিয়ার এবং এর মাধ্যমে সমাজকে অাঁধার হতে আলোর দিকে টেনে আনা যায়। বিতর্কের শক্তি অপরিসীম এবং এর বলে জনমতে প্রভাব সৃষ্টি করে উত্তমের দিকে অধমকে ধাবিত করা যায়। যা না করতে পারে অর্থে ও আইনে, তা করতে পারে যুক্তিতে, বিতর্কে। তাই জনমানসে যুক্তির স্রোত তৈরি করে সমাজকে মুক্তবুদ্ধির চর্চায় ধাবিত করার জন্যে গণবিতর্কায়নের আজ বিকল্প নেই এবং জনমানসে গণবিতর্কায়নের জন্যে প্রশিক্ষণ ছাড়া উপযুক্ত কোনো মাধ্যম যথার্থ নয়। কালের পরিক্রমায় যুগের আবেশে গণবিতর্কায়নে ঋদ্ধ হোক জনমানস এই হোক আজকের সম্মিলিত আরাধনা।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৯২০৫৯৬
পুরোন সংখ্যা