চাঁদপুর, শুক্রবার ২৪ মে ২০১৯, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১৮ রমজান ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫১-সূরা যারিয়াত


৬০ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী


৫৬। আমি সৃষ্টি করিয়াছি জিন এবং মানুষকে এই জন্য যে, তাহারা আমারই ইবাদত করিবে।


৫৭। আমি উহাদের নিকট হইতে জীবিকা চাহি না এবং ইহাও চাহি না যে, উহারা আমার আহার্য্য যোগাইবে।


 


 


 


assets/data_files/web

খ্যাতিমান লোকের ভালোবাসা অনেক ক্ষেত্রে গোপন থাকে। -বেন জনসন।


 


 


যার দ্বারা মানবতা উপকৃত হয়, মানুষের মধ্যে তিনি উত্তম পুরুষ।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
বিতর্কের শক্তি
হাবিবুর রহমান ফাহিম
২৪ মে, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


বিতর্ক কথাটা শুনতে কিছুটা সহজ মনে হলেও বিষয়টা ততো সহজ নয়। এটা এমন একটা শক্তি যা পারে একজন মানুষের বা শিক্ষার্থীর ভেতরের জীবন ভাবনাটাকে বাইরে আনতে। যা পারে একজন মানুষের ভেতরের আলাদা একটা শক্তিকে বের করে আনতে। বিতর্ক যোগাতে পারে কারো মধ্যে কথা বলার শক্তি বা হাজারো মানুষের সামনে মাইক্রোফোন হাতে রাখার ক্ষমতা। বিতর্ক পারে একটি মানুষের জীবনের ভাব কথা বদলে দিতে। আর এই ছোটো কথাকে এতো কিছু পারতে দিতে হলে প্রথমেই দরকার একে ভালোবাসা। কারণ, একজন বিতার্কিক যদি তার গভীর মন থেকে বিতর্ককে ভালোবাসে, প্রাধান্য দেয় তাহলে সে কখনোই পিছিয়ে থাকবে না।



যেমন আমার বিতর্কের সাথে আগে কখনো পরিচয় ছিলো না। কলেজ লাইফে বিতর্কের সাথে যুক্ত হবার পর ধীরে ধীরে এটাকে ভালোবাসতে শুরু করি। আর এই ভালোবাসা আমার গত সতেরো বছরের জীবন থেকে এই সাত মাসে বিতর্কের সাথে যুক্ত হয়ে আমার জীবনে আমূল পরিবর্তন এনেছে। যদিও আমি বিতর্কের সাথে ততোটা পরিচিত না। আর বিতর্ক দ্বারা পরিচিতি লাভ করিনি। তবুও হলফ করে বলতে পারি, বিতার্কিকরা বিতর্কের মাধ্যমে নিজের পরিচিতি তুলে ধরতে পারে। উদাহরণ দেয়া যায় রাসেল ভাইয়ের কথা। যিনি বিতর্কের মাধ্যমে ফরিদগঞ্জের বাইরে চাঁদপুরে অনেক জনপ্রিয়। আর ভিভিয়ান দাদার কথা না বললেই নয়। যিনি ছোট থেকে বিতর্ক করতে করতে বর্তমানে একজন চ্যাম্পিয়ন বিতার্কিক। আর তার পরিচিতি ফুটে উঠেছে চাঁদপুরের বাইরেও। এই হলো বিতর্কের মানুষকে সবার কাছে পরিচিত করে তোলার শক্তি। আর কথায় আছে বিতার্কিকরা কখনো বেকার অবস্থায় থাকে না। অর্থাৎ তাদের যে কথা বলার যোগ্যতা থাকে সেটাকে তারা হাতিয়ার বানিয়ে জীবনের কর্মক্ষেত্রে কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হয়ে উঠে এবং বেকারত্বের জড়তা কাটিয়ে পেশাজীবী হয়ে উঠে। বিতর্ক এমন একটা বিষয় যা পারে একজন বিতার্কিককে যে কোনো জায়গায় যে কোনো কিছুর বিরুদ্ধে কথা বলার শক্তি দিতে। কীভাবে তা ব্যাখ্যা করছি। প্রত্যেক বিতার্কিকের কিন্তু বিতর্কের সময় একজন বা একদল অন্যদের পক্ষে কিংবা বিপক্ষে হয়ে যুদ্ধ করে। আর তারা যুদ্ধ করতে করতে তাদের মস্তিষ্ক এতোটা চালু আর পরিষ্কার হয়ে যায় যে, তারা পারে যে কারো সাথে যে কোনো ধরনের কথা বলতে। কীভাবে? তাহলো এই যে, বিতর্কের সময় দুই দল তাদের প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষের বিভিন্ন কথার উপরে বিভিন্ন যুক্তি বা কথা দ্বারা পরস্পরকে ঘায়েল করে। আর বাস্তব জীবনে তারা এভাবেই কথা বলার এক অদম্য শক্তি পায়। তারা পায় যে কোনো অন্যায় বা অন্যায্য কিছুর বিরুদ্ধে কথা বলার শক্তি, যদি তার ভেতরে তেমন সাহস থাকে। এই বিতর্ক শক্তিটা পারে মানুষের ভেতরের গভীর চিন্তার শক্তিকে জাগিয়ে তোলতে। কীভাবে? এটার ব্যাখ্যাও করছি। বিতার্কিকরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বিষয়ের উপর বিতর্ক করে থাকে। আর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করতে করতে তাদের চিন্তা শক্তি অধিকতর বৃদ্ধি পায়। আর এই চিন্তা শক্তি দ্বারা তারা ভালো দিক খারাপ দিকসহ অনেক দিক নির্বাচন করতে পারে। এই হলো বিতর্কের চিন্তা-ভাবনা বাড়িয়ে তোলার শক্তি। বিতর্ক দিতে পারে একজন বিতার্কিককে বিতর্কসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লেখার শক্তি। বিশেষ করে বিতর্ক নিয়ে কথা বলার শক্তি। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ডাঃ পীযূষ কান্তি বড়ুয়া স্যারের কথা। রাসেল ভাই, নোমান ভাই এবং ভিভিয়ান দাদার কথা। প্রায় সময় পত্রিকায় দেখা যায় বিতর্ক নিয়ে তাদের লেখা কিছু কথা। আর তাই বলা যায়, বিতর্ক পারে একজনকে বিতর্ক নিয়ে লেখার শক্তি দিতে।



আমার বিতার্কিক বন্ধুদের উদ্দেশ্যে একটা কথা বলবো যে, বিতর্ক এমন একটা শক্তি যা তোমাদের সাহস অনেক বাড়িয়ে দেয় কিছু করার।



বিতর্কের মঞ্চে কখনো প্রতিপক্ষ দলকে শক্ত ভেবে নিজেকে দুর্বল ভাববে না। নিজের ভিতরে বিতর্ক শিক্ষার যতটুকু শক্তি আছে তা দিয়ে তুমি তোমার যুদ্ধ শুরু করো। অল্প শক্তি দিয়ে শুরু করলে ধীরে ধীরে সেই শক্তি অনেক বেড়ে যাবে। যার ফলে তুমি অর্জন করতে পারবে বিজয়। নিজের দুর্বল স্থানকে কখনো জায়গা দিবে না। কারণ বিতর্কে দুর্বল স্থান বলতে কিছু নেই। একবার যদি তোমার শক্তির কথা না ভেবে দুর্বলতার কথা ভাবো তাহলে তুমি কখনোই ভালো করতে পারবে না। তাই বলি, নিজের শক্তিকে বৃদ্ধি করো। বিতর্ক জিনিসটাই এমন যে, তোমার অনেক স্থান দিয়ে শক্তি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে এবং তা অবশ্যই তোমার জীবনের দিক পরিবর্তন করবে। তাই তো বিতর্ক নামক ছোট শব্দকে এক প্রকার শক্তি বলা যায়। সামান্য একটা কথা বলি যে, তোমার আশেপাশে বা তোমার পরিবারের হয়তো কেউ বলবে বিতর্ক কেনো করো, কী লাভ, কী পাবে? কিন্তু না, বন্ধুরা তাদের কথা শুনে এই শক্তিকে মানে বিতর্ককে বাদ দিও না। লক্ষ্য করবে, তারা বিতর্ক উচ্চারণ সঠিকভাবে করতে পারে না। কেউ বলবে ডিবাইট, ডিবেট, ডিফাইট ইত্যাদি অনেক ধরনের। তখন ভাববে যে, তারা তো বিতর্ক (উবনধঃব) কথাটার উচ্চারণই ঠিকমত করতে পারে না তারা কীভাবে বুঝবে এর মূল্য বা শক্তি কতোটুকু। তাই বলি সেসব না ভেবে ঈড়হঃৎড়ষ ণড়ঁৎংবষভ এবং সামনে এগিয়ে চলো।



পরিবেশে বলা যায় যে, বিতর্ক কথাটা ছোট হলেও এর আছে অনেক শক্তি, যেই শক্তি অনেক বড় কাজ করতে পারে। পারে কারো জীবন বদলে দিতে। পারে কাউকে কথা শেখাতে।



 



লেখক : হাবিবুর রহমান ফাহিম, কার্যনির্বাহী সদস্য (সিসিডিএফ)।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৫৯৭৬৮৩
পুরোন সংখ্যা