চাঁদপুর। মঙ্গলবার ৮ মার্চ ২০১৬। ২৫ ফাল্গুন ১৪২২। ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৭
ckdf

সর্বশেষ খবর :

  • ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় মোড়া, চাঁদপুরে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২২-সূরা : হাজ্জ

৭৮ আয়াত, ১০ রুকু, মাদানী

পরম করুণাাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।



৬২। এইজন্য ও যে, আল্লাহ্, তিনিই সত্য এবং উহারা তাঁহার পরিবর্তে যাহাকে ডাকে উহা তো অসত্য এবং আল্লাহ্, তিনিই তো সমুচ্চ, মহান।   

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


আমি আমার নিজের প্রশংসা নিজে করি না বলে লোকে আমাকে সম্মান দেয় বেশি।                      


                                                     -ক্যালডিরন।


দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত জ্ঞান চর্চায় নিজেকে উৎসর্গ করো।

                 -হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)


বেহালে চলছে পাঠকবিহীন পাঠাগার
সোহাগ হাসান আসিক
০৮ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

চাঁদপুর পৌরসভার সার্বিক ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত শহরে দুইটি বিশেষ প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠান দুটি হলো চাঁদপুর পৌর কমিউনিটি সেন্টার ও পাঠাগার নতুন বাজার এবং চাঁদপুর পৌর কমিউনিটি সেন্টার ও পাঠাগার পুরাণবাজার। চাঁদপুর পৌর কমিউনিটি সেন্টার ও পাঠাগার নতুনবাজার সেটি স্ট্র্যান্ড রোডে রয়েছে। একটি ভবনের দোতলায় এক সময় পাঠাগার ছিলো কিন্তু সেখানে প্রায়ই পাঠকক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক সভা হতো। যার ফলে পাঠকদের খুবই অসুবিধা হতে দেখা যেতো। রাজনৈতিক সভা হওয়ার কারণে প্রায়ই পাঠকক্ষ বন্ধ রাখতে হতো। এই সমস্যা লাঘবের জন্যে পাঠাগারটি ভবনের নিচতলায় যেন স্থানান্তর করা হয় সেই প্রেক্ষিতে একটি লেখা 'চাঁদপুর কণ্ঠ'তে লিখেছিলাম। চাঁদপুর কণ্ঠে লেখাটি প্রকাশিত হওয়ার কিছুদিন পরই পাঠাগার ভবনের নিচতলায় স্থানান্তর করা হলো। ফ্লোরে টাইলস করার পরই পাঠাগারও শুরু হল নতুন উদ্যামে। এই রাজনৈতিক সভা ছাড়া এখানে আর কোনো সমস্যা ছিলো না। এখানে দায়িত্ব থাকা লাইব্রেরিয়ান ও পিয়নরা অত্যন্ত আন্তরিক। তারা পাঠাকদের সুবিধা ও অসুবিধার দিকটি খুবই ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। বর্তমানে এই পাঠাগারটি সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে পাঠকদের মন জয় করে নিয়েছে। একটু দূরে পাঠাগারটি অবস্থিত হলেও প্রতিদিন অনেক পাঠক আসেন। পত্রিকা কিংবা বই পড়ার আলাদা চেয়ার টেবিল এবং পর্যাপ্ত লাইট ও ফ্যান যা পাঠকদের মন জয় করে চলছে। কিন্তু চাঁদপুর পৌর কমিউনিটি সেন্টার ও পাঠাগার পুরাণবাজার যেটি রয়েজ রোডে অবস্থিত- এটির বর্তমান অবস্থা সব দিক দিয়েই খারাপ। ভবনটি খুবই পুরনো। সিঁড়ির গোড়া থেকেই কমিউনিটি সেন্টার ও পাঠাগার সব জায়গায় কম বেশি ফাটল রয়েছে। যার ফলে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ বছর দুয়েক আগে কমিউনিটি সেন্টার বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু পাঠাগার চালু থাকলে ভবনটির কমিউনিটি সেন্টার ও পাঠাগার দোতলায় একই স্থানে হওয়ার কারণে পাঠকের উপস্থিতি একদম নাই। মাঝে মধ্যে দুয়েকজন এলেও কয়েক মিনিট পরই চলে যায়। পাঠাগার চলে লাইব্রেরিয়ান ও পিয়ন আসেন কিন্তু পাঠক নাই তা দেখতে গত মঙ্গলবার পুরাণবাজার গিয়েছিলাম। গিয়ে দেখি কোনো পাঠক নেই। শুধু বহিরাগত লোকজন পাঠকদের জন্য সংরক্ষিত বাথরুম ব্যবহার করে চলে যাচ্ছে। বসার মত জায়গা নেই। চেয়ার টেবিল থাকলেও ময়লায় পরিপূর্ণ। চেয়ার টেবিলে পরিস্কার জায়গা না পেয়েই বারান্দায় কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলাম। একজন পর একজন পাবলিক টয়লেট এর মত পাঠাগারের বাথরুম ব্যবহার করে যাওয়া আসা করছে। বাথরুম ব্যবহার করা লোকজন কেউই পাঠক নয় সবাই বহিরাগত। দায়িত্বে থাকা লাইব্রেরিয়ান ও পিয়ন কারো চোখে পড়ল না। বাথরুম ব্যবহার করা তরুণ ধরনের একজনকে বললাম এটার দায়িত্বে থাকা লোকজন কোথায়? তরুণটি সম্মান দিয়ে একটি চেয়ার ময়লা মুছে বসতে দিলো এবং নিজেও বসলো। কথা প্রসঙ্গে তরুণটি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমি অল্প পড়ালেখা জানি। মাঝে মাঝে খেলার পাতা দেখি। পড়ার পরিবেশ নাই। কারণ পাঠাগারের সামনেই বিভিন্ন মিল। এসব মিলের বিষাক্ত ছাই চোখে লাগছে। তার উপর আবার বহু জায়গায় ফাটল ধরা পুরনো ভবন। সাভারের মত রানা প্লাজার ঘটনা যদি ঘটে যায় এই ভয়ে অনেক পাঠকই আসে না। কমিউনিটি সেন্টার পরিত্যক্ত ঘোষণার আগে সামান্য কিছু পাঠক মাঝে মাঝে আসতো। এখন পাঠকই আসে না। পাঠাগারটিও পরিত্যক্ত ঘোষণা করা উচিত ছিলো। যেহেতু কমিউনিটি সেন্টারের সাথে লাগোয়া রয়েছে। লাইব্রেরিয়ান ঠিক মতোই আসেন। পাঠকই থাকে না বলে একা একা কতক্ষণ বসে থাকা যায়। তাই লাইব্রেরিয়ানও হাজিরা দিয়ে কিছুক্ষণ বসে চলে যায়। পিয়ন খুলে দিয়ে কিছুক্ষণ থাকার পর বাড়ি চলে যায় আর নিদিষ্ট সময়ের তিন থেকে চার ঘণ্টা আগেই বন্ধ করে দেয়া হয়। পাঠকই নাই এত সময় তারা কেন বসে থাকবে। পাঠাগারের বাথরুম বাইরের লোকজন বেশি ব্যবহার করে। এসব লোকজন বিভিন্ন দোকানে কাজ করে। এটাকে পাঠাগারের বাথরুম না বলে পাবলিক টয়লেট বলাই উত্তম। সবচেয়ে বড় কথা হল পাঠাগার যে কোনো সময়ই ভেঙ্গে পড়তে পারে। পৌর মেয়র সাহেবের উচিত পাঠাগারটি এখনই পরিত্যক্ত ঘোষণা করে অন্য কোথায়ও সম্পূর্ণ নিরিবিলি এবং ছাইমুক্ত পরিবেশে নতুন পাঠাগার নির্মাণ করা। এই জন্য সবচেয়ে ভালো পরিবেশ রয়েছে পুরাণবাজার কলেজের পেছনে। এখানে বহু জায়গা বেদখল রয়েছে। জায়গাটিও খুবই উপযুক্ত। এখানেই চাঁদপুর পৌর কমিউনিটি সেন্টার ও পাঠাগার পুরাণবাজার অংশেরটি নির্মাণ করা যায়। সাবধানে থাকাই ভালো। যদি কোনো সময় এই পরিত্যক্ত ভবনের পাঠাগারটি ভেঙ্গে পড়ে তাহলে খবর আছে।

দুটি প্রতিষ্ঠান একই সাথে একটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করলে অন্যটিও পরিত্যক্ত ঘোষণা করা উচিত। তাছাড়া পাঠাগারে পাঠকের শূন্যতা। শুধু পত্রিকারও বিলসহ দায়িত্বে থাকা লোকদের বেতন দিয়ে পৌরসভারই লোকসান। পাঠাগারে উপস্থিতি সন্তোষজনক করতে হলে এটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে অন্য কোনো স্থানে নতুন পাঠাগার হলে অবশ্যই পাঠকের উপস্থিতি ঘটবে। একটা কথা সত্য সবাই বাঁচতে চায়। কেউ সহজে মরতে চায় না। এই তরুণ অনেক বুদ্ধিমানের কথা বলে চলে যাওয়া মাত্রই একজন যুবক ধরনের লোক বাথরুম থেকে এসে একটা চেয়ারে বসলো। কিছুক্ষণ পর কোথায় থেকে আসা ও কি করেন জানতে চাইলে বলেন, আমি জায়রাবাদ থেকে এসেছি। ২০০৫ সালে পাঠাগারটি চালু হলে প্রায়ই আসতাম। কিছু ভবনটি পরিত্যক্ত হওয়ার পর একদম আসাই ছেড়ে দিয়েছি। আজ হয়তো ভুল করেই এসে পড়েছি। আমাদের পুরাণবাজারে অনেকে সাহিত্য চর্চা করেন। তাদের লেখা স্থানীয় ও জাতীয় সব পত্রিকায় কম বেশি প্রকাশিত হয়। সাহিত্যের টানেই ফাটল ধরা পরিত্যক্ত। ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাঝে মাঝে আসি। দুঃখের নয় লজ্জারও কথা যে, পাঠাগারে প্রথম আলো, যুগান্তর, ইত্তেফাক, জনকণ্ঠ, কালের কণ্ঠ, সমকাল, ইনকিলাব, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ডেইলি স্টার, চাঁদপুর কণ্ঠ ও ইলশেপাড় মোট ৯৫ টাকার ১১টি পত্রিকা প্রতিদিন হকার পাঠাগারের সিঁড়ির গোঁড়ায় থাকা লন্ডিতে দিয়ে যায়। পিয়ন লোকটি প্রতি শুক্রবারসহ সব রকমের সরকারি ছুটির দিনের পত্রিকাগুলো সবই লন্ডিতে দোকানীকে দিয়ে দেন। শুধুমাত্র শুক্রবারে ৫ টাকা দামের বাংলাদেশ প্রতিদিন ছাড়া আর কোনো পত্রিকাই পাঠাগারে থাকে না। ৯৫ টাকার পত্রিকার মধ্যে ৯০ টাকার পত্রিকাই উধাও হয়ে যায়। সব ছুটির দিনের বেলায় ৫ টাকা দামের বাংলাদেশ প্রতিদিনও থাকে না। বাকি ৯০ টাকার পত্রিকার কথা বাদই দিলাম। সোজা কথায় বলা যায় পরিত্যক্ত ভবন, বিষাক্ত ছাই ও অনুপযুক্ত পরিবেশ। এমন পরিবেশে পাঠাগার হলে পাঠক আসবে না এটা নিশ্চিত ধরে নেয়া যায়। পাঠাগারের পিয়নটি লাইব্রেরিয়ান চলে যাওয়ার পরে পাঠকই না থাকায় পাঠাগার সব সময় ফাঁকা থাকে। পিয়নটিও তার খেয়াল খুশি মত পাঠাগারে পত্রিকা লন্ডির দোকানীকে দিয়ে দেন। বিনিময়ে পিয়নও সামান্য কিছু পান। প্রতিদিন যদি ৯৫ টাকার পত্রিকা দেয়া হয় তাহলে মাসে বিল আসে ২৯৪৫ টাকা। এর মধ্যে প্রতি সপ্তাহের চার/পাঁচটি শুক্রবারে এবং সব রকমের সরকারি ছুটির দিনের সব পত্রিকা যদি উধাও হয়ে যায়ই তার দাম হিসাব করলে বুঝা যায়। এত টাকার পত্রিকা কোন এখতিয়ারে একজন পিয়ন এমন অনৈতিক অপকর্ম করে জানি না। যদিও এই বেআইনি কর্মকা- সম্পর্কে লাইব্রেরিয়ান কিছু জানেন না। কারণ পত্রিকা হকারের কাছ থেকে বুঝে নেওয়া তার কাজ নয়। পিয়নটি যদি দায়িত্বহীন অপকর্ম এভাবে চালিয়ে যায় তাহলে পৌরসভার চরম ক্ষতি হবে। পিয়নটিকে শুক্রবারেসহ সব রকমের সরকারি ছুটির দিনের পত্রিকাগুলো কোথায় জিজ্ঞাসা করলেই বলে 'বন্ধ ছিল' কিংবা 'দেয়নি'। হকার তো ৩০/৩১ দিনই পত্রিকা লন্ড্রিতে দিয়ে যায়। পিয়নটি যদি সব দিনের পত্রিকা বুঝে না এনে লন্ড্রির দোকানীকে দিয়ে দেয় সেটা কার দোষ বলা যেতে পারে। লন্ড্রির দোকানীর প্রচুর পেপার লাগে। তার লন্ড্রি ছাড়া চটপটির দোকান আছে। সবখানে পেপার দরকার। কাপড় মুড়িয়ে দিতে ও চটপটি খাওয়ার পরে হাত মুছতে পেপার লাগে। লন্ড্রির দোকানী সুবিধা পেয়ে সামান্য কিছু দিয়ে পিয়নটিকে খুশি করে নিজের স্বার্থ উদ্ধার করে। এই কারণে এখানে পুরনো পত্রিকা পড়তে পারা যায় না। অন্য সব পাঠাগারে পুরানো পত্রিকা পড়ার সুযোগ আছে। পাঠাগারে পাঠক নাই। খুবই ঝুঁকিপূর্ণ ভবন। সবকিছু বিবেচনা করে পাঠাগার বন্ধ করে দিলেই ভালো হয়। যে সব সময়ের পত্রিকা উধাও হওয়ার কথা বলেছি সে সময়ই সব পত্রিকা গুরোতে সাহিত্য সাময়িকী কিংবা সাহিত্য বিষয়ক লেখাই বেশি খাকে। মুখ পিয়নটি পাঠকের শূন্যতা বন্ধের অজুহাত সর্বোপরি দায়িত্বজ্ঞান না থাকায় এমন অপকীর্তি করে চলছে বছরের পর বছর। কেউ কিছুই বলছে না। পৌরসভা কর্তৃপক্ষও সারা বছরের পুরনো পত্রিকা কত হল এসব হিসাব নেয় না বললেই চলে। পিয়নটি খেয়াল খুশি মত পাঠকদের বঞ্চিত করে। লন্ড্রির দোকানীকে খুশি করায়। নিজের পকেটেও সামান্য কিছু পড়ে। এমন কুকীর্তিবান লোকের হাতে দায়িত্ব দিলে শুধু পাঠাগার নয় পৌরসভার কোষাগারও লুট হওয়ার সম্ভাবনা আছে। এই পিয়নটি যে কুকীর্তি বছরের পরে বছর করে চলছে অন্য কোনো পাঠাগারে কোন পিয়ন এমন করতে সাহস পায় না। প্রায় এক ঘণ্টা বহু ক্ষোভের সাথে এই পাঠক তার কথা গুলো বললেন। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে। পিয়নটির দেখা পাওয়া গেল না। চলে আসতে হল। পরের দিনও একই সময় পাঠাগারে গিয়ে পাঠক ও পিয়ন কেউকেই পাওয়া গেল না। হায়রে পাঠাগার।

আজকের পাঠকসংখ্যা
৬২৪১৮২
পুরোন সংখ্যা