চাঁদপুর। মঙ্গলবার ৮ মার্চ ২০১৬। ২৫ ফাল্গুন ১৪২২। ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৭
ckdf

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • হাজীগঞ্জে বসতঘর আগুনে পুড়ে ছাই || স্বাগতিক চাঁদপুরের কাছে ১ গোলে হেরেছে কুমিল্লা জেলা দল || শহরের নাজির পাড়ায় মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতাসহ সাইনবোর্ডে নাম মুছে দিয়েছে দুবৃর্ত্তরা || চাঁদপুর কলেজে অনুমতি ছাড়া ইশা ছাত্র আন্দোলন সম্মেলন ॥ আটক ২
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২২-সূরা : হাজ্জ

৭৮ আয়াত, ১০ রুকু, মাদানী

পরম করুণাাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।



৬২। এইজন্য ও যে, আল্লাহ্, তিনিই সত্য এবং উহারা তাঁহার পরিবর্তে যাহাকে ডাকে উহা তো অসত্য এবং আল্লাহ্, তিনিই তো সমুচ্চ, মহান।   

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


আমি আমার নিজের প্রশংসা নিজে করি না বলে লোকে আমাকে সম্মান দেয় বেশি।                      


                                                     -ক্যালডিরন।


দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত জ্ঞান চর্চায় নিজেকে উৎসর্গ করো।

                 -হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)


ফটো গ্যালারি
চাঁদপুর সরকারি কলেজ ও আমাদের শিক্ষার্থীরা
মোঃ আমিনুল ইসলাম
০৮ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

আমি স্কুল ও কলেজ জীবনে আমি অনেক গুণী শিক্ষকদের সানি্নধ্য পেয়েছি। আর আমার মধ্যে সব সময়ই কাজ করতো_ সামাজিক দায় অবশ্যই মেটাতে হবে। শিক্ষকদের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা আর নিজের মনের লালিত স্বপ্নকে সত্যি করতে শিক্ষক হতে চাইলাম। কেননা, সুশিক্ষিত মানুষ মাত্রই পারে তার দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে। তারা পারে বিশ্বের কাছে তাদের মাতৃভূমিকে উপস্থাপন করতে। শিক্ষকতার মতো মহান পেশায় এসে নিজেকে ধন্য মনে করছি। আমি প্রথম ক্লাস নিয়েছিলাম নওয়াব ফয়জুন্নেছা কলেজে। সময়টা ছিলো ২০০৩ সালের শেষের দিকে, ১০ ডিসেম্বর। আগেই বলেছি, শিক্ষক হতে চেয়েছিলাম। তাই প্রথম ক্লাস মানে আমার স্বপ্ন পূরণের মুহূর্ত। ক্লাস করার প্রিপারেশন নিয়ে গিয়েছিলাম। উদ্দীপনা ছিলো, উত্তেজনা ছিলো আকাশছোঁয়া। সেটা ছিলো একাদশ শ্রেণির ক্লাস। ক্লাসের শিক্ষার্থীরা আমাকে সাদরে গ্রহণ করলো। আমার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনলো। প্রথম ক্লাস শেষ করে শিক্ষক মিলনায়তনে ফিরে এসে মনে হলো_ নাহ! ভালোই পড়িয়েছি। আমি পারবো। এই যে আমি পেরেছি কিংবা আমি পারবো এর সক্ষমতা আমি পেয়েছি আমার শিক্ষকদের কাছ থেকে। অনেক শিক্ষক আছেন। তবে আমি কেবল আমার প্রিয় শিক্ষক গোলাম নবী স্যারের কথা বলবো। এক অমায়িক মানুষ ছিলেন তিনি। এমনভাবে আমাদের পড়াতেন, আমরা অভিভূত হয়ে তাঁর কথা শুনতাম। তাঁর ক্লাসের জন্য আমরা ছিলাম উন্মুখ, উছল। তিনি শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে পারতেন। তিনি স্বপ্ন দেখাতে পারতেন। আমি যখন এখন কোনো ক্লাসে শিক্ষার্থীদের পড়াই, আমার গোলাম নবী স্যারের কথা মনে পড়ে যায়। আমি চেষ্টা করি স্যারের মতো শিক্ষার্থীদের স্বপ্নগুলো জাগিয়ে দিতে। তাদের স্বপ্ন দেখাতে, উৎসাহ দিতে আমার চেষ্টা থাকে।

চাঁদপুর সরকারি কলেজ জেলার অভিভাবকতূল্য প্রতিষ্ঠান। এ কলেজে পাঠদানের যথাযথ পরিবেশ বিরাজমান। শিক্ষা পরিবেশের কথা বলছি কারণ পাঠদান কতটা ভালো হবে তা শিক্ষা পরিবেশের উপর অনেকাংশে নির্ভর করে। পাঠদানের জন্য চাই আদর্শ পরিবেশ। বিশৃংখলা কিংবা অরুচিকর পরিবেশ শিক্ষার্থীদের মনোযোগকে বিঘি্নত করে। তাই, শিক্ষার পরিবেশ যথাযথ রাখা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্যে ভালো ফলাফল একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমি মনে করি তিনটি পক্ষ সমন্বিত চেষ্টা করলে ভালো ফলাফল সম্ভব। পক্ষগুলো হলো : শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবক। অভিভাবকদের ভূমিকা অবশ্যই গুরুত্বের দাবি রাখে। বিশেষ করে আমি কলেজ শিক্ষার্থীদের কথা বলবো। এসব শিক্ষার্থীর উপর অভিভাবকদের নিয়ন্ত্রণ কম থাকে। অনেক অভিভাবক শিক্ষার্থীর স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করতে চান না। মনে করেন_ এবার সন্তানের তো যথেষ্ট বয়স হলো, তারা নিজের ভালো বুঝতে পারবে। আসলে তাদের ধারনাটি আমি মনে করি সঠিক নয়। কেননা, এই বয়সে এসে তারা কিছুটা দিকভ্রান্ত থাকে। কখন কি করবে, কার সাথে বন্ধুত্ব করবে তা ঠিক করতে পারে না। অনেক সময় অসৎ সঙ্গেও তারা পড়ে। অনেকে নিয়মিত আসে না। ঠিকমতো ক্লাস করে না। পরীক্ষাগুলোও দেয় না কেউ কেউ। এজন্য অভিভাবক অবশ্যই তাঁর দায় এড়াতে পারেন না। ভালো ফলাফলের জন্য ক্লাসে নিয়মিত আসা অধিক জরুরি। অভিভাবকদের খেয়াল রাখতে তাঁর সন্তান কার সাথে মিশছে, সে নিয়মিত ক্লাসে আসছে কিনা, বাসায় হোমওয়ার্ক করছে কিনা_ ইত্যাদি। তারা নিয়মিত তাদের সন্তানদের ভালো মন্দের ব্যাপারে শিক্ষকদের সাথে যোগাযোগ রাখবেন। তাদের এমন ভূমিকা অবশ্যই শিক্ষার্থীকে ভালো ফলাফল করতে সহায়তা করবে। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের উচিত শিক্ষকদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা। তারা তাদের সমস্যা সম্পর্কে নিদ্বিধায় শিক্ষকদের সাথে বলবে। আবার শিক্ষকদেরও বন্ধুসুলভ হতে হবে, শিক্ষার্থীর সুবিধা-অসুবিধা বুঝতে হবে। এসময়ে এসে খেলাধুলার কথা বলতে হয়। কেননা অনেকেই এখন ক্রীড়া চর্চা বিমুখ। আগেরকার তুলনায় এখনকার শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা কম করছে। আসলে, স্কুলে থাকতেই শিক্ষার্থীরা খেলাধুলার চর্চা হারিয়ে ফেলে। ফলে কলেজে এসে আর নতুন করে আগ্রহ সৃষ্টি হয় না। এখন বার্ষিক ক্রীড়া হলে খেলোয়াড় খুঁজে পাওয়া যায় না। আমি বলবো, সুস্থ জাতি গঠনের জন্য খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। এজন্য স্কুল, কলেজ উভয় পর্যায়েই খেলাধুলার জন্য শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে হবে। আমরা চাই সুন্দর কাজ হোক। নতুন প্রজন্ম দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাক। এ কলেজকে সমৃদ্ধ করুক। আর তা হলে শিক্ষক হিসেবে আমরা, শিক্ষার্থী হিসেবে ছাত্রছাত্রীরা সার্থক ও সফল হবো।

আজকের পাঠকসংখ্যা
৪১৭৯৮৩
পুরোন সংখ্যা