চাঁদপুর। মঙ্গলবার ৮ মার্চ ২০১৬। ২৫ ফাল্গুন ১৪২২। ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৭
ckdf

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • হাজীগঞ্জে বসতঘর আগুনে পুড়ে ছাই || স্বাগতিক চাঁদপুরের কাছে ১ গোলে হেরেছে কুমিল্লা জেলা দল || শহরের নাজির পাড়ায় মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতাসহ সাইনবোর্ডে নাম মুছে দিয়েছে দুবৃর্ত্তরা || চাঁদপুর কলেজে অনুমতি ছাড়া ইশা ছাত্র আন্দোলন সম্মেলন ॥ আটক ২
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২২-সূরা : হাজ্জ

৭৮ আয়াত, ১০ রুকু, মাদানী

পরম করুণাাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।



৬২। এইজন্য ও যে, আল্লাহ্, তিনিই সত্য এবং উহারা তাঁহার পরিবর্তে যাহাকে ডাকে উহা তো অসত্য এবং আল্লাহ্, তিনিই তো সমুচ্চ, মহান।   

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


আমি আমার নিজের প্রশংসা নিজে করি না বলে লোকে আমাকে সম্মান দেয় বেশি।                      


                                                     -ক্যালডিরন।


দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত জ্ঞান চর্চায় নিজেকে উৎসর্গ করো।

                 -হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)


ফটো গ্যালারি
প্রিয় গাফ্ফার স্যার
আজিজুর রহমান ইজাজ
০৮ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

১৫ই আগস্ট। জাতীয় শোক দিবস। স্কুল থেকে শোক র‌্যালী বের হয়েছে। এই দিনে শোক প্রতীক হিসেবে কালো ব্যাজ লাগানো হয়। কিন্তু সবাইকে কালো কাপড়ের এ ব্যাজ দিতে গিয়ে দেখি আমার জন্যই নেই। সমস্যা না। ব্যাজ ছাড়াই র‌্যালী করে স্কুলে ফিরে আসি। তখন আমার স্যার দেখলেন আমার শার্টে কালো কাপড়ের ঐ ব্যাজ নেই। জিজ্ঞেস করলে কারণ বলায় তিনি নিজের পাঞ্জাবি হতে ব্যাজটি খুলে আমার শার্টে পরিয়ে দেন।

এতক্ষণ বলছিলাম আমাদের ইংরেজি শিক্ষক আব্দুল গাফ্ফার মজুমদার স্যারের কথা। আমার প্রিয় শিক্ষক। সবচেয়ে প্রিয় শিক্ষক। যে ঘটনাটির কথা বললাম। স্যারের ঐ ব্যাজটি দিতে কোন অর্থমূল্য লাগে নি। কিন্তু ছাত্রের প্রতি সন্তানতুল্য এই মনোভাবই আমার অন্তরে শ্রদ্ধার আসনে তিনি অসীম হয়েছেন।

গাফ্ফার স্যার যে শুধু এই একটি কারণে আমার প্রিয় শিক্ষক তা কিন্তু নয়। স্যারের আন্তরিকতা, সরলতা, নম্রতা, বলার ভঙ্গি, পোশাক-আশাক সবকিছুর জন্যই তিনি আমার প্রিয় শিক্ষক। শুধু আমার না। অনেকেরই প্রিয় তিনি। স্যারের আন্তরিকতার একটি উদাহরণ দেই। কাহিনীটি স্যারের মুখ থেকেই শোনা। পুরো হুবহু তো মনে নেই। তাবে যতটুকু মনে আছে। তা হলো স্যারের ক্লাসের এক ছাত্র বেশ কিছু দিন অনুপস্থিত থাকায় খবর নিয়ে জানতে পেরেছেন। আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে নাকি সে স্কুলে আসা বন্ধ করে দিয়েছে। স্যার অন্য ছাত্রদের কাছ থেকে ঐ ছাত্রের ঠিকানা নিয় পরদিন সকালে রওনা দেন ঐ ছাত্রের বাড়ি। স্যার কিছু পুরো সঠিক ঠিকানাও পান নি। তারপরও বহু খোঁজাখুজির পর ঠিকই ঐ ছাত্রের বাসা খুঁজে বের করেন। এবং ঐ ছাত্র এবং তার অভিভাবককে অর্থের চিন্তা না করার জন্য অভয় দেন এবং সর্বাত্মক সহযোগিতার কথা বলেন। স্যার ঐ ছাত্রের বকেয়া বেতন নিজের পকেট থেকে পরিশোধ করেন। স্যারের এমন আরো অনেক জানা অজানা ঘটনা রয়ে গেছে।

স্যার নিজের উদ্যোগে তার ছাত্রদের নিয়ে গরিব দুঃখীদের সাহায্যের উদ্দেশ্যে 'চড়ড়ৎ ভঁহফ' গঠন করেন। তিনি নিজেও অনেক টাকা এই ফান্ডে দেন। এই টাকা থেকে অনেক গরিব মানুষের সাহায্য তিনি করেছেন এক ছাত্রকে স্কুলের ইউনিফর্ম ও বই। এক বিধবাকে সেলাই মেশিন কিনে দেওয়া তারই উদাহরণ। আমার দেখা স্যারের আরেকটি ভালো দিক হচ্ছে। তিনি যে শুধু পড়ালেখার কথাই বলেন। তা কিন্তু নয়। তিনি আমাদের নম্রতা, ভদ্রতা, শালীনতা ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কথাও বলতেন। তাছাড়া তিনি ধর্মীয় কার্যাবলি পালনেও উদ্ধুদ্ব করতেন। স্কুলের নামাজ কক্ষের উন্নয়নে, নামাজ কক্ষের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য তাকে আমি নিজে অনেক বার নিজের পকেটের টাকা খরচ করতে দেখেছি।

স্যার ক্লাসে ছাত্রদের উপস্থিতির জন্য নিয়মিত ছাত্রদের পুরস্কারের ব্যবস্থা করতেন। প্রতি সাময়িক পরীক্ষার আগে যে সকল ছাত্র একদিনও ক্লাস বাদ দিবে না। তাদের তিনি পুরস্কৃত করতেন। আমি নিজেও দু'বার পেয়েছি। আবার ক্লাসকে আরো বেশি প্রাণবন্ত করার জন্য তিনি ক্লাসের মধ্যেই ভালো পারফরমেন্সকারীদের পুরস্কার দিতেন। স্যারের কাঁধে একটি কাপড়ের ব্যাগ থাকে (অনেকটা রবীন্দ্রনাথের ঝুলির মতো) স্যারের ঐ ব্যাগে সবসময় চকলেট বিস্কুট লাল ট্যাপ পেচানো বেত ও অনেক কিছু থাকত।

আবার আমার কথায় আসি। স্যার যখন হজ্জ্ব করতে যান। আমার সময় সবার মতো তিনি ও খেজুর আনেন। কিন্তু অবাক করার কথা হলো। তাঁর এতো আত্মীয়, পরিচিত লোকের মাঝেও তিনি আমার কথা তুলেন। তিনি নিজে আমাদের বাসায় এসে খেজুর দিয়ে যান এবং প্রায়ই তিনি আমার পড়ার ও নামাজের খোঁজ খবর নিতেন। তিনি এখনো তা করেন। তাইতো তিনি আজো আমার প্রিয় শিক্ষক।

আজকের পাঠকসংখ্যা
৪১৮০৯৬
পুরোন সংখ্যা