চাঁদপুর। মঙ্গলবার ৩ জানুয়ারি ২০১৭। ২০ পৌষ ১৪২৩। ৪ রবিউস সানি ১৪৩৮
ckdf

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • --
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৬-সূরা শু’আরা


২২৭ আয়াত, ১১ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


১৬৬। ‘এবং তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জন্যে যে স্ত্রীগণকে সৃষ্টি করিয়াছেন তাহাদিগকে তোমরা বর্জন করিয়া থাক। তোমরা তো সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়।’  


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


ভয় অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।                 -ওয়ার্ডস্ ওয়ার্থ। 


                       


          


  


 


 

কৃপণতা একটি ধ্বংসকারী স্বভাব, ইহা মানুষকে দুনিয়া এবং আখেরাতে উভয় লোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।  


চেঞ্জ টুগেদার প্রোগ্রামে শিক্ষার্থীর উদ্দেশে বক্তব্যকালে
আমরা আমাদের জীবন বদলানোর জন্যে কাজ করবো
সবুর খান
০৩ জানুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


 



প্রথমে সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি চেঞ্জ টুগেদার এই সস্নোগানে সম্মত হওয়ার জন্যে। আমরা রিয়েলি এগ্রি? আমরা একা একা পরিবর্তন করতে পারবো? অবশ্যই না। তাই চেঞ্জ টুগেদার। চেঞ্জ টুগেদার বলতে বোঝাতে চাচ্ছি যদি দৃষ্টিভঙ্গি বদলাই জীবন বদলে যাবে। আমরা সুন্দর একটি সমৃদ্ধশালী ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারবো, সমৃদ্ধশালী দেশ গড়ে তুলতে পারবো। যদি আমরা পরিবর্তনই না করতে চাই তাহলে আমাদের ভবিষ্যৎ কি পরিবর্তিত হবে? কখনোই না। তাই একটি সমৃদ্ধশালী ভবিষ্যৎ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে আজকে আমরা এখান থেকে চেঞ্জ টুগেদার-এর মাধ্যমে যাত্রা শুরু করতে চাচ্ছি।



আমি একটি উদাহরণ দিচ্ছি। ছোট ছোট মৌমাছিরা কষ্ট করে বিভিন্ন ফুল এবং ফল থেকে মধু সংগ্রহ করে। তারা কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সেই মধুটা যখন একটা কোনো গাছের ঢালে বা অন্য কোথাও সঞ্চিত করে, তখন এই মধুটা কে আহরণ করে? তার ফল কে ভোগ করে? আমরা মানুষরা। তাই বলে জন্মলগ্ন থেকে অদ্যবধি মৌমাছিরা কি এই মধু সংগ্রহের কাজ থেকে বিরত আছে? তারা থামে নি। তাদের যদি ইতিহাস লেখা হতো, তারা যদি আমাদের মতো পড়তে পারতো, আমাদের মতো তাদের যদি জ্ঞান থাকতো_তাহলে তারা আর দ্বিতীয়বার মধু সংগ্রহ করতে যেতো না। যখন মৌমাছি বিষয়ক বই পড়বে দেখবে পৃথিবীর জন্ম থেকে অধ্যবধি যতো মধু কালেকশন করা হয়েছে, সবই তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল_অথচ সেই ফল ভোগ করছে মানুষরা। তারমানে কী দাঁড়াচ্ছে? এই মৌমাছিগুলো সম্মিলিতভাবে যে চেষ্টা করে মধুর ভা-ার গড়ে তুলেছে সেই মধু ভোগ করছি আমরা। এই ম্যাসেজটুকু কি এখান থেকে দিচ্ছে না যে, তারা সম্মিলিতভাবে কত বড় চমৎকার একটি কাজ করে যাচ্ছে সমাজের জন্যে, জাতির জন্যে এবং আমাদের জন্যে। আবার আমরা যদি দেখি একটি মৌমাছি কতটা হিংস্র, তাই না? যারা কামড় খেয়েছে তারাই বলতে পারবে একটি মৌমাছির কামড় কতোটা হিংস্র, কতটা পেইনফুল? হিংস্র তারমানে তারা ততোক্ষণ কাউকে কামড় দিচ্ছে না যতোক্ষণ পর্যন্ত না তারা অন্যের দ্বারা আঘাত প্রাপ্ত না হচ্ছে। আমরা কি কখনো দেখেছি কোনো মৌমাছি মৌমাছিকে আঘাত করতে? কখনোই না। যদি তাই হতো তাহলে তারা চেঞ্জ টুগেদার-এর মাধ্যমে এত চমৎকার মধুর ভা-ার গড়ে তুলতো না। কিন্তু আমরা সভ্য জাতি, সভ্য মানুষ হিসেবে আমরা কি তা মেনে চলি? আমরা মেনে চলি না। আজকে আমরা যারা এখানে উপস্থিত হয়েছি আমরা চাই আজকে থেকে আমরা আমাদের জীবন বদলানোর জন্য কাজ করবো। আমরা চাই আজকে থেকে আমরা সবাই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই। আমরা জানি হয়তোবা অনেকেই বলবে পুরো জাতি যদি পরিবর্তিত না হয় তাহলে আমরা মুষ্টিমেয় লোক পরিবর্তন হয়ে কোনো লাভ হবে না। কিন্তু এটা কি সত্যি? আমরা যদি ধর্মের দিকে তাকাই_ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক কে? একজনই ছিলেন। হিন্দু ধর্ম, বৌদ্ধ ধর্ম, খ্রীষ্ট ধর্ম-প্রত্যেকটা ধর্মের প্রবর্তক কে ছিলেন? একজন, একজন ব্যক্তিই কিন্তু ধর্মগুলোর প্রবর্তক ছিলেন_তাই না? একটু আগেই যে সূরা পাঠ করেছিলো_সৃষ্টিকর্তা ক্ষমাসুন্দর, তিনি তোমাকে ক্ষমা করে দিবেন। তুমি মানবকর্ম করো, ভালো ভালো কাজ করো, দলে দলে আল্লাহর পথে আসো। তাহলে আল্লাহ পাক তোমাদের ক্ষমা করে দিবেন। আমরা জানি সৃষ্টিকর্তা বারবার বলেছেন, দৃপ্ত এবং দৃঢ়ভাবে বলেছেন যে, আমি তোমাদের অনেক অপকর্ম ক্ষমা করে দিবো। কিন্তু মানুষের হক্ব, মানুষকে কষ্ট দেওয়া, অন্যের অধিকার হরণ করা, অন্যকে বিব্রত করা আমি ততোক্ষণ পর্যন্ত ক্ষমা করবো না যতোক্ষণ না পর্যন্ত ঐ মানুষ তোমাকে ক্ষমা না করে। কিন্তু আমরা কি সেটা মেনে চলি? আমরা প্রতিনিয়ত সমাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করছি, প্রতিনিয়ত আমরা আমাদের নিজেদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত করছি। আমরা আসলেই কি নিজেদের ভালোবাসতে পেরেছি? আমরা আমাদেরকে ভালোবাসতে পারিনি। তাই আমি চাই আজকে সবাই এই চেঞ্জ টুগেদার-এ প্রতিজ্ঞা করি_আমরা আমাদেরকে ভালোবাসবো। আমি যদি আমাকেই না ভালোবাসতে পারি, আমি কি আমার মা-বাবাকে ভালোবাসতে পারবো? আমি যদি আমাকেই না ভালোবাসতে পারি আমি কি সৃষ্টিকর্তাকে ভালোবাসতে পারবো। তাই আমি আমাকে ভালোবাসবো, বাবা-মাকে ভালোবাসবো, আমি আমার দেশকে ভালোবাসবো, আমি আমার জাতি, বন্ধু-বান্ধবী, আত্মীয়-আত্মীয়া, প্রতিবেশী সবাইকে ভালোবাসবো। সর্বোপরি আজকে তোমরা যারা এই থিম সং এবং জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে বুকে হাত রেখে রেসপেক্ট করেছো, এই সম্মানটুকু তোমরা দেশকে দিবে এবং প্রতিষ্ঠা করবে। কারণ তুমি যদি তোমার প্রতিষ্ঠানের জন্য কিছু করতে না পারো, তোমার পরিবারের জন্য কিছু করতে না পারো, নিজের জন্য কিছু করতে না পারো তাহলে আল্টিমেটলি কি দাঁড়াচ্ছে? তুমি পরিবর্তন হচ্ছো না। তাই এই চেঞ্জ টুগেদারের মাধ্যমে ছাত্রদের সাথে আমরা প্রথম পর্ব করছি। ইতোমধ্যে তোমরা জানো যে, প্রথম পর্ব করেছি আমরা আমাদের শিক্ষকদের নিয়ে। আজকে আমরা ছাত্রদের নিয়ে প্রথম করলাম। আমরা আশা করি আগামীতে আমাদের পরিসর আরো অনেক অনেক বড় হবে। আসো আজ আমরা প্রতিজ্ঞা করি চেঞ্জ টুগেদার। তোমরা নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছো সুর্যোদয় হচ্ছে, সূর্যের আলোর যে বিস্ফোরণ সেটি কিন্তু আমাদের চমৎকার ম্যাসেজ দিয়ে বের হয়। তাই আজকে আমরাও চাই আজকের এই ভোর, আজকের এই প্রত্যুষে আসো আমরা সবাই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই-আমরা আমাদের নিজেদের ভালোবাসবো। আমরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করবো, একে অপরের ক্ষতি করবো না। অন্যের সমালোচনা করবো। সেই সমালোচনা হবে তাকে সংশোধনের জন্যে, তাকে অপমান করার জন্যে নয়। আমরা সমালোচনা করবো আমাকে নিয়ে, আমার কী দোষ, আমার কী অপরাধ? আমার কী দোষ আমি সমালোচনা করবো সমুখে দাঁড়িয়ে, সুন্দরভাবে সমালোচনা করবো। আমরা ঠিক তেমনিভাবে আমাদের আচরণ, গাড়িতে, ক্লাসে বা যে কোনো জায়গায় বজায় রাখবো। যে কোনো অবস্থায় আমাদের দায়িত্ব পালনে সচেতন থাকবো। আমি বিশ্বাস করি এবং আশা করি, আমার সামনে তোমরাও সবাই বিশ্বাস করো যেই কথাটি আমি বারবার বলি_তুমি যখন টয়লেট ব্যবহার করো, তোমার সেই টয়লেটটি পরিষ্কার করার দায়িত্ব কার? তোমার। আমি যদি টয়লেট পরিষ্কার না রাখি তাহলে পরবর্তী যিনি আসবেন তিনি কাকে গালি দিবে? পূর্ববর্তী যিনি তাকে গালি দিবে না? আবার উল্টোভাবে চিন্তা করে দেখো। আমি যদি টয়লেটটা পরিষ্কার রাখি, রুমটা, ক্লাসরুমটা পরিষ্কার রাখি, আমি যেই বাসের সিটে বসে আছি সেই সিটটা পরিষ্কার করি, আমি যেই ক্যান্টিনে/ডাইনিং এ বসে খাচ্ছি সেইখানের পার্শ্ববর্তী পরিস্থিতিটা বা সবটা পরিষ্কার করি_তাহলে কি দাঁড়াবে? পরবর্তী যিনি আসবেন উনি এসে কি বলবেন যে একজন ভদ্রলোক এইখানে বসেছিলো, একজন ভদ্রলোক এই বাথরুমটা ব্যবহার করে ছিলো। আবার অপজিটটা দেখো-তুমি যখন একটি টয়লেট অপরিষ্কার করে আসছো, তোমার বাসের সিট, ক্লাসরুম, বাথরুমে আকাঝোকা_সবমিলিয়ে যখন অপরিছন্ন করছো। পরবর্তী ব্যবহারকারী তুমিও হতে পার? পরবর্তী ব্যবহারকারী এসে কি বলবে কোন্ স্টুপিড লোক এই বাথরুমটা ব্যবহার করেছে? এর মানে তোমরা প্রতিনিয়ত অভিশাপ পাচ্ছো। এটা কি আমরা একবারও ভেবে দেখেছি। আমরা প্রতিটা দিন, রাত, প্রতিটা মুহূর্ত কতটা অভিশাপ পাচ্ছি। কেউ কি একবারও ভেবে দেখেছো? আবার একইভাবে যদি আমরা প্রত্যেকে প্রত্যেকের দায়িত্বটুকু সঠিকভাবে পালন করি তাহলে প্রতিনিয়ত আশীর্বাদ পাচ্ছি। আমরা তোমাদের আর্ট অফ লিবিং-এ বলেছি তুমি যখন গাড়িতে যাও, তুমি যখন লিফটে উঠো, তোমার কাঁধের ব্যাগ কেন নামিয়ে রাখবে? তোমার ব্যাগের কারণে কেউ যদি আঘাতপ্রাপ্ত হয় তাহলে কি তিনি তোমাকে আশীর্বাদ করবেন নাকি অভিশাপ দিবেন? তাই আমি তোমাদের বলতে চাই_তোমাদের প্রতি আহবান করতে চাই, আসো সত্যিই আমরা পরিবর্তিত হই। কারণ আমরা যদি পরিবর্তন হই তাহলেই আমরাই পারবো সমৃদ্ধশালী ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে। পরিবর্তন যদি করতে চাই তাহলে আমাকে কি করতে হবে? আমাকে আগে সুস্থ থাকতে হবে। আমি পরিবর্তন করতে চাই সমাজকে, নেতৃত্ব দিতে চাই সমাজকে কিন্তু আমি সুস্থ না তাহলে কি হবে? এর জন্যে আজকে তোমাদেরকে নিয়ে আসলাম। নিজেকে চেঞ্জ করতে হবে, নিজেকে সুস্থ রাখতে হবে। সবাই সুস্থ থাকো, ভালো থাকো। পরিবর্তন আমরা করবো এখান থেকেই, আজকে থেকেই শুরু করতে চাই। সবাইকে ধন্যবাদ।



সবুর খান : প্রযুক্তি ব্যক্তিত্ব ও চেয়ারম্যান, ড্যাফোডিল গ্রুফ।



 



(প্রযুক্তি ব্যক্তিত্ব ও চেয়ারম্যান, ড্যাফোডিল গ্রুফের চেয়ারম্যান সবুর খান গত ১৪ ডিসেম্বর চেঞ্জ টুগেদার প্রোগ্রামে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধান অতিথি হিসেবে এ বক্তৃতা প্রদান করেন বক্তব্যটি অনুলিখন করেছেন মাইনুল হাসান দোলন পাটওয়ারী।)



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৬৪৫৭৯
পুরোন সংখ্যা