চাঁদপুর। মঙ্গলবার ৩ জানুয়ারি ২০১৭। ২০ পৌষ ১৪২৩। ৪ রবিউস সানি ১৪৩৮
ckdf

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • ***
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৬-সূরা শু’আরা


২২৭ আয়াত, ১১ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


১৬৬। ‘এবং তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জন্যে যে স্ত্রীগণকে সৃষ্টি করিয়াছেন তাহাদিগকে তোমরা বর্জন করিয়া থাক। তোমরা তো সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়।’  


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


ভয় অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।                 -ওয়ার্ডস্ ওয়ার্থ। 


                       


          


  


 


 

কৃপণতা একটি ধ্বংসকারী স্বভাব, ইহা মানুষকে দুনিয়া এবং আখেরাতে উভয় লোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।  


শিক্ষক সাক্ষাৎকার : মোঃ ইলিয়াছ মিয়া
যে শিক্ষক ক্লাসে যতো বেশি আন্তরিক হবেন, সেই ক্লাসে শিক্ষার্থীরাও ততো বেশি মনোযোগী হবে
০৩ জানুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


চার বছর আগেও স্কুলটি এমন ছিলো না। ছিলো না উপযুক্ত শিক্ষা পরিবেশ। স্কুলের একপাশে ছিলো ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। আরেক পাশে ছিলো নর্দমা। শিক্ষার্থীদের জন্যে ছিলো না পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, স্কুলের প্রবেশপথের পাশে জরাজীর্ণ মূল ভবনটি যেন দাঁড়িয়ে ছিলো স্কুলের ক্ষয়ে যাওয়া চিত্রের সাক্ষী হয়ে। ফলে চাঁদপুরের শহরের অভিভাবকরা শিক্ষার্থীদের এই স্কুলে পারতপক্ষে ভর্তি করাতে চাইতেন না। অবকাঠামো ও পরিবেশগত সমস্যার কারণে এই স্কুলটি বরাবরই পিছিয়ে ছিলো। ২০১২ সাল পর্যন্ত লেডী দেহলভী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সার্বিক চিত্র ছিলো এ রকম। কিন্তু সে বছরের ১ এপ্রিল একজন নতুন প্রধান শিক্ষক যোগ দিলেন এই স্কুলে। তাঁর নাম মোঃ ইলিয়াছ মিয়া। এই প্রধান শিক্ষকের একান্ত প্রচেষ্টাতেই গত চার বছরে নতুন রূপ নিয়েছে লেডী দেহলভী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। অবকাঠামোগত উন্নয়ন থেকে শুরু করে পাঠদান, সহ-পাঠক্রমিক কার্যক্রম ও শিক্ষা পরিবেশে এসেছে আমূল পরিবর্তন। সম্প্রতি আমরা এই গুণী শিক্ষকের মুখোমুখি হই। কথা বলি তাঁর শিক্ষার্থী জীবন, শিক্ষকতা, স্বপ্ন নিয়ে। তাঁর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মুহাম্মদ ফরিদ হাসান।



 



শিক্ষাঙ্গন প্রতিবেদক : কেমন আছেন?



মোঃ ইলিয়াছ মিয়া : লেডী দেহলভী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি উত্তরোত্তর উন্নতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে আমি খুব ভালো আছি।



 



শিক্ষাঙ্গন প্রতিবেদক : শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে কেন নিলেন?



মোঃ ইলিয়াছ মিয়া : শিক্ষকতা পেশা মহান পেশা। এই পেশার মাধ্যমে সমাজের, দেশের মঙ্গল সাধন করা যায়। শিক্ষার্থীর মধ্যে লুকায়িত সম্পদের বিকাশ ঘটানো যায়। মানুষকে স্বপ্ন দেখানো যায়। সর্বোপরি আলোকিত মানুষ সৃষ্টি করা যায় বলে শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে নিয়েছি।



 



শিক্ষাঙ্গন প্রতিবেদক : প্রথম ক্লাস নেয়ার অনুভূতি কেমন ছিলো?



মোঃ ইলিয়াছ মিয়া : আমি নিজে বরাবরই ভালো ছাত্র ছিলাম। এসএসসি পরীক্ষার পর লালপুর বালুধূম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব মোঃ ইদ্রিস মিয়াজী আমাকে বললেন ১০ম শ্রেণিতে গিয়ে গণিত পড়াতে। আমি তাৎক্ষণিক রাজি হয়ে চক ও ডাস্টার নিয়ে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করলাম। তখন ৯ম-১০ম শ্রেণির অংক খুব ভালো পারতাম। তাই পড়াতে তেমন অসুবিধা হয় নি। উপভোগ করেছি।



 



শিক্ষাঙ্গন প্রতিবেদক : লেডী দেহলভী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সম্পর্কে কিছু বলুন?



মোঃ ইলিয়াছ মিয়া : আমার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান লেডী দেহলভী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। আমি মনে করি, আমার প্রতিষ্ঠান চাঁদপুরের সেরা প্রতিষ্ঠান। এখানকার শিক্ষকরা আন্তরিক। কমিটির সদস্যরা সেরা ব্যক্তি। সর্বদা তারা বিদ্যালয়ের উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখেন। আমার বিশ্বাস আগামী ২-১ বছরের মধ্যে শিক্ষা বিস্তারে এই বিদ্যালয় ঈর্ষণীয় ভূমিকা রাখবে।



 



শিক্ষাঙ্গন প্রতিবেদক : আপনার প্রিয় শিক্ষক সম্পর্কে আমাদের কিছু বলুন।



মোঃ ইলিয়াছ মিয়া : আমার প্রিয় শিক্ষক ছিলেন সফরমালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক মাওলানা কাজী সেকান্দর। তিনি ছিলেন আদর্শ ও আলোকিত মানুষ। তিনি ইংরেজি পড়াতেন। তাঁর পড়ানো পদ্ধতি ছিলো সাবলীল। বাংলা থেকে ইংরেজি রূপান্তর করতে তিনি পটু ছিলেন। একবার তিনি অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী। আমরা ৪০-৫০ জন ছাত্র-ছাত্রী দলবেঁধে তাঁকে দেখতে গেলাম। স্যার সাথে সাথে বিছানা থেকে উঠে বুকে জড়িয়ে বললেন, আছি, ভালো আছি। সত্যি তারপর তিনি স্কুলে হাজির হলেন।



 



শিক্ষাঙ্গন প্রতিবেদক : শিক্ষা প্রক্রিয়ায় অভিভাবকের ভূমিকা কেমন হওয়া উচিত?



মোঃ ইলিয়াছ মিয়া : শিখন-শিক্ষন পদ্ধতিটি ত্রিমুখী প্রক্রিয়া। যে অভিভাবক যতো বেশি সচেতন সে ছাত্র-ছাত্রী ততো বেশি ভালো। শ্রেণিপাঠ বাসায় নিয়মিত তদারটি করবেন অভিভাবক। আমি মনে করি যোগ্য নাগরিক তৈরির জন্যে মা-বাবাই অনন্য ভূমিকা রাখেন। স্বভাব-চরিত্র গঠনে স্কুলের যেমন দায়িত্ব রয়েছে, তেমনি অভিভাবকদেরও দায়িত্ব রয়েছে।



 



শিক্ষাঙ্গন প্রতিবেদক : শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ক নিয়ে কিছু বলুন?



মোঃ ইলিয়াছ মিয়া : শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক হবে মধুর। যে শিক্ষক ক্লাসে যতো বেশি আন্তরিক হবেন, সেই ক্লাসে শিক্ষার্থীরাও ততো বেশি মনোযোগী হবে। শিক্ষক হলেন সমাজের দর্পণ, তাঁকে শিক্ষার্থীরা অনুসরণ করবে। শিক্ষার্থীর যে কোনো সমস্যা শিক্ষক সমাধান করবেন। শিক্ষক নিজে আস্থাভাজন হবেন। শিক্ষকের পরামর্শ শিক্ষার্থীরা অকৃপণভাবে গ্রহণ করে। তাই শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক ভালো হলে শিখন-শিক্ষণ প্রক্রিয়াও তরান্বিত হবে।



শিক্ষাঙ্গন প্রতিবেদক : ফলাফল ভালো করার জন্য শিক্ষার্থীদের করণীয় কী?



মোঃ ইলিয়াছ মিয়া : ১) নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকা। ২) প্রতিদিনের পড়া প্রতিদিন তৈরি করা। ৩) সময়ের মূল্য দেয়া। ৪) শরীর সুস্থ রাখার জন্যে নিয়মিত খেলাধুলা করা। ৫) পত্রিকা পড়া। ৬) শিক্ষামূলক টিভি প্রোগাম দেখা। ৭) বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখা। ৮। ফেসবুক ব্যবহার না করা। ৯) পৃথিবীর সেরা ব্যক্তিদের সাফল্য জানা।



 



শিক্ষাঙ্গন প্রতিবেদক : পাঠদানের সময় শিক্ষা পরিবেশ কতটা গুরুত্বপূর্ণ?



মোঃ ইলিয়াছ মিয়া : আমি মনে করি, পাঠদানের জন্য শিক্ষা পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিবেশ সুন্দর থাকলে মন ভালো থাকে। শিক্ষার্থীরা পাঠে মনোযোগী থাকে। শিক্ষক প্রফুল্লচিত্তে তাঁর প্রাণ খুলে পাঠদান করে থাকেন। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষা উপকরণ, পর্যাপ্ত আলো, বেঞ্চের সুবিন্যস্ত সারি থাকবে। যাতে শিক্ষক প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীর কাছে যেতে পারেন। সাথে শিক্ষকদের পূর্ব পাঠপ্রস্তুতি থাকা উচিৎ।



 



শিক্ষাঙ্গন প্রতিবেদক : পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?



মোঃ ইলিয়াছ মিয়া : শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো ঞড় ঈৎবধঃব পড়সঢ়ষবঃব সধহ. তাই একজন ছাত্র-ছাত্রী সমাজের যোগ্য নাগরিক হতে হলে তাকে সবরকম গুণাবলী অর্জন করতে হবে। লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলায় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। এতে মানসিক ও শারীরিক বিকাশ ঘটে। খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকে। খেলোয়াড়রা চরিত্রবান হয়ে থাকে। খেলাধুলার চর্চা করলে খারাপ কাজ করার প্রবণতা কমে যায়।



 



শিক্ষাঙ্গন প্রতিবেদক : আপনার শিক্ষকতা জীবনের একটি সুখের স্মৃতি সম্পর্কে বলুন?



মোঃ ইলিয়াছ মিয়া : মানুষের জীবন সুখ-দুঃখে পরিপূর্ণ। সুখের স্মৃতিগুলো জীবনকে আন্দোলিত ও অনুপ্রাণিত করে। যখন আমার ছাত্রীরা পাবলিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে পাস করে ও পরবর্তীতে সমাজে যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখে, তখন আমার মন আনন্দে ভরে যায়। আমার বেশ কিছু শিক্ষার্থী সমাজে প্রতিষ্ঠিত আছে। ওরাই আমার সুখের স্মৃতি, আমার শিক্ষকতা জীবনের অলঙ্কার।



 



শিক্ষাঙ্গন প্রতিবেদক : অবসর সময় কীভাবে কাটে?



মোঃ ইলিয়াছ মিয়া : ১) ঘুমিয়ে। ২) টিভি দেখে। ৩) আড্ডা মেরে।



 



শিক্ষাঙ্গন প্রতিবেদক : পাঠকদের উদ্দেশে বিশেষ কী বলতে চান?



মোঃ ইলিয়াছ মিয়া : নিজের কাজ ঠিকমতো করলেই নিজের, সমাজের ও দেশের কাজ হয়। তাই সবার উচিত নিজের কাজগুলো ঠিকমতো করা। তাহলেই দেশ ও জাতির কল্যাণ হবে।



 



শিক্ষাঙ্গন প্রতিবেদক : আমাকে সময় দেয়ার জন্যে আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।



মোঃ ইলিয়াছ মিয়া : আপনাকেও ধন্যবাদ।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৫২২৭৩০
পুরোন সংখ্যা