চাঁদপুর। মঙ্গলবার ৩ জানুয়ারি ২০১৭। ২০ পৌষ ১৪২৩। ৪ রবিউস সানি ১৪৩৮
ckdf

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • --
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৬-সূরা শু’আরা


২২৭ আয়াত, ১১ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


১৬৬। ‘এবং তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জন্যে যে স্ত্রীগণকে সৃষ্টি করিয়াছেন তাহাদিগকে তোমরা বর্জন করিয়া থাক। তোমরা তো সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়।’  


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


ভয় অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।                 -ওয়ার্ডস্ ওয়ার্থ। 


                       


          


  


 


 

কৃপণতা একটি ধ্বংসকারী স্বভাব, ইহা মানুষকে দুনিয়া এবং আখেরাতে উভয় লোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।  


ফটো গ্যালারি
অতিরিক্ত ফি, কোচিং ও সৃজনশীল পদ্ধতির কিছু কথা
হুসাইন মিলন
০৩ জানুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


পত্রিকায় যারা নিয়মিত চোখ রাখেন তারা হয়তো অবগত আছেন, সম্প্রতি ২০১৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ফরম ফিলাপে দ্বিগুণ থেকে বহুগুণ পর্যন্ত টাকা আদায়ের ঘটনা ঘটেছে। গত ১৬ নভেম্বর বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকায় 'এসএসসির ফরম ফিলাপে অতিরিক্ত অর্থ আদায়' শিরোনামে বর্ধিত ফি'র একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছিলো। তাতে স্কুলগুলোর ফরম ফিলাপের ভয়াবহ চিত্রের সন্ধান মিলেছে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সূত্রে জানা যায়, মানবিক ও ব্যবসায় শাখায় কেন্দ্র ফিসহ মোট ১ হাজার ৬শ' ৯৫ টাকা, অনিয়মিতদের জন্যে ১ হাজার ৭ শ' ৯৫ টাকা, বিজ্ঞানের ১ হাজার ৭শ' ৮৫ টাকা, অনিয়মিতদের জন্যে ১ হাজার ৮শ' ৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু স্কুলগুলো সর্বোচ্চ ১২-১৩ হাজার টাকা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করেছে। কী ভয়ানক শোষণ! বস্তুত পক্ষে, রেজিস্ট্রেশন এবং কেন্দ্র ফি ছাড়া অতিরিক্ত টাকা নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু স্কুলগুলো এ দুয়ের বাইরে বিভিন্ন অপশন বের করে বিপুল টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। বাধ্যতামূলক কোচিং ফি, উন্নয়ন ফি, অতিরিক্ত বেতন, মিলাদ ফি, সেশন ফি, মডেল টেস্ট ফি'র নামে গলাকাটা ফি আদায় করা হচ্ছে। তারপর টেস্টে অকৃতকার্যদের কাছ থেকে অতিরিক্ত আদায় (বিষয় প্রতি ১৫০০ টাকা পর্যন্ত) করা তো সাধারণ ঘটনায় রূপ নিয়েছে। অপরদিকে একই তারিখে দৈনিক প্রথম আলোতে 'এসএসসির ফরম পূরণে বেশি টাকা আদায়ের অভিযোগ' শিরোনামে আরেকটি প্রতিবেদন ছাপা হয়েছিলো।



এখন আমার প্রশ্ন এখানে যে, কোচিং ফি, উন্নয়ন ফি, মিলাদ ফি_এতো এতো ফি কোত্থেকে এলো? এসব আদায় করার সুযোগ নেই । অথচ ঠিকই আদায় করা হচ্ছে। উপরন্তু রসিদের মাধ্যমে ফরম পূরণের টাকা নেয়ার কথা থাকলেও অধিকাংশ বিদ্যালয় সে নির্দেশ মানে নি। এ থেকেও স্পষ্ট যে, এটি শুধুই বাণিজ্যের একটা কৌশল।



দ্বিতীয়, কোচিংয়ের ব্যাপারে আলাদা করে কিছু বলতে হয়। কোচিংয়ের বিপক্ষে পত্রপত্রিকায় বিগত সময়ে লেখা হয়েছে, এখনও হচ্ছে। কিন্তু কোচিংয়ের লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না কিছুতেই। পৃথক কোচিং সেন্টারগুলোর মূল উদ্দেশ্য বাণিজ্য একথা বলাই বাহুল্য। কিন্তু স্কুলের ভেতর কোচিং? এটাকে বলতে হবে মহাবাণিজ্য। স্কুলগুলোতে ক্লাসেও কোচিং চলে সমানভাবে। বিশেষত পঞ্চম, অষ্টম, দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের যথাক্রমে পিইসি, জেএসসি, এসএসসি পরীক্ষা মিলিয়ে বছরের প্রথম থেকেই শুরু করে দেয়া হয় কোচিং। অবিভাবকদের জন্যে যা একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যয়। স্কুলগুলোতে এসব কোচিং আমরা মেনে নিতে পারি না। ঠিকভাবে ক্লাস করালে, শিক্ষার্থীদের থেকে পড়া আদায় করলে কোচিংয়ের প্রয়োজন হবে কেন? স্কুলগুলোতে এসব কোচিংয়ের আয়োজন নিঃসন্দেহে অর্থ আদায়ের একটি উৎকৃষ্ট মাধ্যম।



 



আসলে আমাদের মিথ্যা, শিক্ষাগ্রহণ, শিক্ষাব্যবস্থায় দুর্নীতি, অবিচার, কারসাজি আর চুরিতে ভরে গেছে। আজকের এই দিনে চোখ বন্ধ করে আপনি যদি শিক্ষা ব্যবস্থার এসবের দিকে তাকান, চিন্তা করেন তবে আপনার মানস ছবিতে ভেসে উঠবে শোষণের বীভৎস চিত্র। রবি ঠাকুর বলেছিলেন, বিদ্যা যে দেবে এবং বিদ্যা যে নেবে, তাদের উভয়ের মাঝখানে যে সেতু; সেই সেতুটি হচ্ছে অতিস্নেহের সম্বন্ধ। সেই আত্মীয়তার সম্বন্ধ যা থেকে যদি কেবল কর্তব্য বা ব্যবসায়ের সম্বন্ধ থাকে তা হলে যারা পায় তারা হতভাগা, যারা দেয় তারাও হতভাগা। রবীন্দ্রনাথের এ কথার কেমন চরম বাস্তবতা আজকের এই দিনে! আত্মীয়তার সম্পর্ক তো অনেক কমে গেছেই উপরন্তু বিরাজ করছে শুষ্ক কর্তব্য আর ব্যবসায়ের সম্পর্কই। আর এজন্যে হয়তোবা আমরা জিপিএ-৫ ধারী, বড় ডিগ্রিধারী শিক্ষার্থী পাচ্ছি, কিন্তু সমাজে মানুষের মতো মানুষ পাচ্ছি না।



 



সবশেষে সৃজনশীল শিক্ষা পদ্ধতি সম্পর্কে কিছু বলার আছে। সৃজনশীল পদ্ধতি নিঃসন্দেহে শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি চমৎকার সংযোজন। একটা সময় ছিলো, যখন শিক্ষার্থীদের জোর করে পাঠ গলধকরণ করা হতো, পাঠদান পদ্ধতিটি ছিলো পুরোপুরি মুখস্ত নির্ভর। মুখস্ত করাটা বরাবরই একটা কঠিন কাজ। কিন্তু সেই সময়ও সেই পরিস্থিতে থেকে বেরিয়ে এসে আত্মপ্রকাশ ঘটে সৃজনশীল পদ্ধতির। সৃজনশীল পদ্ধতির তথা সৃজনশীল প্রশ্ন পদ্ধতির উদ্দেশ্যে হলো শিক্ষার্থীর চিন্তন দক্ষতা যাচাই করা। এজন্যে একটি উদ্দীপক/দৃশ্যকল্প দেয়া থাকে, যার থেকে শিক্ষার্থীর চিন্তন দক্ষতার চারটি স্তর মূল্যায়ন করা হয়। স্তরগুলো হলো : জ্ঞানমূলক, অনুধাবনমূলক, প্রয়োগমূলক ও উচ্চতর দক্ষতামূলক। জ্ঞানমূলক প্রশ্নটি পাঠ্যবইয়ে আছে ও সহজে মুখস্ত রাখা যায় এরকম তথ্য থেকে তৈরি করা হয়। অনুধাবনমূলক প্রশ্নটি পাঠ্যবইয়ের বিষয়গুলো ছাত্র-ছাত্রীরা ঠিক মতো বুঝেছে কিনা তা যাচাই করা হয়। প্রয়োগমূলক প্রশ্নের উত্তর করার জন্যে উদ্দীপকে পাঠ্যবইয়ে পড়া বিষয়গুলোর ইঙ্গিত থাকে। সেই ইঙ্গিতের আলোকে শিক্ষার্থীদের বুঝে নিতে হয় পাঠ্যবইয়ের কোন্ বিষয় থেকে প্রশ্নটি করা হয়েছে। উদ্দীপকের পরিস্থতি ও পাঠ্য বিষয়ের জ্ঞানের আলোকে এটির উত্তর করতে হয়।



শেষ প্রশ্নটি উচ্চতর দক্ষতামূলক। এ প্রশ্নটি উদ্দীপক ও পাঠ্য বিষয়ের সমন্বয়ে করা হয়। এ স্তরে পাঠ্য বিষয়ের তথ্য ও নিজের চিন্তা চেতনা যাচাই করা হয়। মোটকথা, সৃজনশীল পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে শিক্ষার্থীদের মুখস্ত নির্ভরতা থেকে সরিয়ে এনে তাদের চিন্তা করতে দেয়া, ভাবতে দেয়া। যাতে তারা নিজের জ্ঞানের মাপকাঠিতে নিজস্ব বিচার-বিশ্লেষণ ছাড়া কোনো বিষয় সম্পর্কে ভাবতে পারে। চিন্তন দক্ষতার উন্নয়ন ঘটাতে পারে। তাহলে এই প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক, সৃজনশীল শিক্ষা পদ্ধতি উদ্দেশ্যে যখন শিক্ষার্থীদের চিন্তন দক্ষতা যাচাই করা এবং একটা বিষয়ের প্রতি বিচার-বিশ্লেষণ করার সুযোগ দেয়া হয়_তহালে এতো সুসজ্জিত সাহায্যকারী গাইড বই কেন? প্রকৃতপক্ষে এখানেই আমাদের ত্রুটি। সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর করার জন্যে শিক্ষার্থীরা যেখানে চিন্তা করবে, মাথা খাটাবে, সেখানে খুবই সুন্দররূপে শিক্ষার্থীদের হাতে গর্হিত বই তুলে দেয়া হয়েছে। কি আশ্চার্য ! সরকার বিনামূল্যে পাঠ্যবই দিচ্ছে, আর অভিভাবকেরা গাইড বই কিনতে কিনতে ক্লান্ত। এসব সমস্যা সমাধানে সরকারকেই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। সোচ্চার হতে হবে। আর আমরা কিন্তু কেউ-ই হাল ছাড়ছি না। ম্যান্ডেলা বলেছিলেন, হাল ছেড়ো না বন্ধু! তাই হয়তো একদিন সঠিক সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠিত হবেই। আমরা সেই দিনের অপেক্ষায় আছি।



 



হুসাইন মিলন : শিক্ষার্থী, অর্থনীতি অর্থনীতি বিভাগ, চাঁদপুর সরকারি কলেজ।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৭৭৬৭৬৩
পুরোন সংখ্যা