চাঁদপুর। মঙ্গলবার ২১ মার্চ ২০১৭। ৭ চৈত্র ১৪২৩। ২১ জমাদিউস সানি ১৪৩৮

বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • আজ ভোরে অ্যাডঃ এ.বি.এম. মোনাওয়ার উল্লা মৃত্যুবরন করেছেন (ইন্নালিল্লাহে.....রাজেউন)। তাঁর মৃত্যুতে চাঁদপুর রোটারী ক্লাব ও চাঁদপুর ডায়াবেটিক সমিতির পক্ষ থেকে গভীর শোক জানিয়েছেন
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৭-সূরা নাম্ল 


৯৩ আয়াত, ৭ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৫৫। ‘তোমরা কি কামতৃপ্তির জন্য নারীকে ছাড়িয়ে পুরুষে উপগত হইবে? তোমরা তো এক অজ্ঞ সম্প্রদায়।’ 


৫৬। উত্তরে তাহার সম্প্রদায় শুধু বলিল, ‘লূত-পরিবারকে তোমাদের জনপদ হইতে বহিস্কৃত কর, ইহারা তো এমন লোক যাহারা পবিত্র সাজিতে চাহে।’  


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


কলমকে হৃদয়ের জিহ্বা বলা যায়।     -কারভেনটেস।

যে মুসলমান অবৈধ (হারাম) বস্তু হইতে দূরে থাকে ও ভিক্ষাবৃত্তি হইতে দূরে থাকে, যাহার শুধু একটি পরিবার (স্ত্রী), খোদাতায়ালা তাহাকেই ভালোবাসেন।   


স্বপ্নের ফেরিওয়ালা
আবিদা সুলতানা
২১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


২০১৬ সালে আমরা বেশির ভাগ Aomeviait করা হয়েছিলো আমার ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সজিবকে নিয়ে। বছরের প্রথম থেকেই সে বিদ্যালয়ে প্রায় অনুপস্থিত থাকতো। ফোনে তার মায়ের সাথে কথা বললে তিনি বলতেন, তিনি অসুস্থ থাকায় প্রায় তাদেরকে তার বাবার বাড়িতে থাকতে হতো। সজিব বিদ্যালয়ে আসতে চায় কিন্তু তার কারণেই পারছে না। এভাবে প্রায় সারা বছরই চলতে লাগালো। বছরের শেষ পর্যায়ে পরীক্ষার দুইমাস আগে সজিব জানালো সে পরীক্ষা দিবে না। একথা শুনার পর তাদের বাড়িতে গিয়ে দেখি ঘরে তালা। পাশের এক মহিলা বললো, সজিব একটি দোকানে কাজ নিয়েছে। কারণ তার বাবা তাদের ছেড়ে দু মাস আগে চলে গিয়েছে। তার মা প্রচ- অসুস্থ। দৈনিক ৭৫ টাকা বেতনে একটি দোকানে কাজ করে তার অসুস্থ মা আর ভাই এর সংসার চালাচ্ছে। তার পড়াটা বন্ধ করে ফেলেছে। কিন্তু তার ভাইয়ের পড়া ঠিকই চলছে। তারপর একদিন সকালে রাস্তায় তার সাথে আমার দেখা হলো। সে আমাকে এড়িয়ে যেতে চাইলো। আমি তাকে কথা বলার জন্যে থামালাম। সে আমাকে বললো, ম্যাডাম আমি আর পড়তে পারবো না। পরীক্ষা দিতে পারবো না। তাকে পিইসিই পরীক্ষা দেয়ার জন্যে বুঝালাম। বললো মার সাথে কথা বলে অ্যাডমিড কার্ড বিতরণের পূর্বে আমি তার দোকানে যাই। তার মালিককে সব বলি। তখন তিনিও বলেন, সজিব পরীক্ষা দিতে চাইলে অবশ্যই তাকে ৩ ঘণ্টা ছুটি দিবেন। সজিব বললো, মাকে জানাবো। তারপর সজিব পিইসিই পরীক্ষা দেয় এবং সফলতার সাথে পিইসিই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়।



আমি এখানে একজন সজিবের গল্প বললাম। কিন্তু আমি জানি বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ রকম হাজার হাজার সজিব আছে। আমাদের শিক্ষার্থীদের মধ্যে খুব সংখ্যক শিক্ষার্থীই উচ্চ শিক্ষা লাভ করে কাঙ্ক্ষিত জায়গায় যেতে পারে। কিন্তু বেশির ভাগ শিক্ষার্থীই কাজে চলে আসে ১৩/১৪ বছর বয়সে। আগে তাদের জন্যে খারাপ লাগতো। কিন্তু সজিবকে দেখে মনে মনে গর্ব হয়েছে। কারণ, ১১ বছরের একটি ছেলে তার সামার্থ্য অনুযায়ী কাজ করে দৈনিক ৭৫ টাকায় অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা করেছে, ভাইয়ের পড়া অব্যাহত রেখেছে, সংসার খরচ চালিয়েছে। যেখানে তার ৩৫ বছরের বাবা তাদের ছেড়ে চলে গিয়েছে। সে বাবা ভাবেনি তার সন্তান কী খাবে, কী পড়বে। যাই হোক, এটাই হয়তো আমাদের দেশের অনেক পরিবারের গল্প, কিন্তু প্রাথমিক শিক্ষার লক্ষ্য?



শিশুর শারীরিক, মানসিক, সামাজিক, নৈতিক, মানবিক, নান্দনিক, আধ্যাত্মিক ও আবেগিক বিকাশ সাধন এবং তাকে দেশাত্মবোধ, বিজ্ঞানমনস্কায়, সৃজনশীলতায় ও উন্নত জীবনের স্বপ্ন দর্শনে উদ্বুদ্ধ করা। যা হয়তো এ প্রজন্মের শিশুদের দ্বারা প্রতিফলিত হবে বলেই আমার বিশ্বাস। কারণ এ লক্ষ্য অর্জন করার পেছনে কর্মকর্তা থেকে শিক্ষক পর্যন্ত সবার আন্তরিক অক্লান্তি পরিশ্রম ও চেষ্টা রয়েছে। কাজতো সবাই করে কিন্তু যেখানে কাজের সাথে আন্তরিকতা ও ভালোবাসা থাকে সেখানেই সাফল্য অর্জন সম্ভব। আর তাই হয়তো বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে এ দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের বেশির ভাগই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর পড়ার খরচ নিজেরা নির্বাহ করে এবং তাদের পরিবারকে চালায় টিউশনি করে বা পার্টটাইম জব করে। আমার গল্প এখানেই শেষ নয়।



পিইসিই পরীক্ষার শেষ। পরদিন যখন বিদ্যালয়ের গেলাম অনেক পিইসিই পরীক্ষার্থী দেখলাম মাঠে বল খেলছে। আমাকে আবার অনেকে দৌড়ে এসে বললো ম্যাডাম সজিব এসেছে। আমি যখন মাঠে গেলাম, তখন ও আমাকে বললো পরীক্ষা ভালো হয়েছে। বাবা আবার ফিরে এসেছে। জিজ্ঞাসা করলাম চাকুরি করছে কি না। বললো, না। আমি হাইস্কুলে পড়বো। একথা শুনে মনে হলো, আমরা শিক্ষকরা তো স্বপ্নের ফেরিওয়ালা, যে স্বপ্ন আমাদেরই দেখাতে হবে আবার আমাদেরই বাস্তবায়ন করতে হবে।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৩৬৪০৩
পুরোন সংখ্যা