চাঁদপুর। বৃহস্পতিবার ১৩ এপ্রিল ২০১৭। ৩০ চৈত্র ১৪২৩। ১৫ রজব ১৪৩৮
ckdf

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৭-সূরা নাম্ল 


৯৩ আয়াত, ৭ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৮৫। সীমালঙ্ঘন হেতু উহাদের উপর ঘেঘিত শাস্তি আসিয়া পড়িবে; ফলে উহারা কিছুই বলিতে পারিবে না।  


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন

বড় হতে হলে সর্বপ্রথম সময়ের মুল্য দিতে হবে।                                 -স্মাইলস। 


মানবতাই মানুষের শ্রেষ্টতম গুণ।  


বিশেষ রচনা
শিক্ষার্থী কেন বই পড়বে?
প্রফেসর এম.এ.মতিন মিয়া
১৩ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

শিক্ষার্থী কেন বই পড়বে? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে যে উত্তরটি উঠে আসে-তা হলো বই না পড়লে শিক্ষার্থী কোন কিছু সম্পর্কে জানবে কিভাবে? না জেনে না বুঝে পরীক্ষায় ভালো ফল করা যায় না। তার জন্য চাই বই পড়া। এই বই শিক্ষার্থীর পাঠ্যবই। পাঠ্যবই নির্দিষ্ট শ্রেণিস্তরের সবার জন্য সুনির্দিষ্ট। সেটি তো তাকে পরীক্ষায় ভালো ফল করার জন্য পড়তেই হবে। পাঠ্যবই ভালো লাগুক আর না লাগুক বিষয়বস্তু পছন্দ হোক আর না হোক তা বার বার পড়ে আত্মস্থ করতে হয়। তার ওপর নানামুখী পরীক্ষা দিতে হয়। আমি পাঠ্য বইয়ের বাইরের বইয়ের কথা বলতে চাই। যেমন গল্প, উপন্যাস, ছড়া, কবিতা, ভ্রমণ বৃত্তান্ত, ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে প্রবন্ধ, নাটক, প্রযুক্তির আবিষ্কার, মহামনীষীদের জীবনী, রম্য রচনা ইত্যাদি। ধরে নেয়া যাক, শিক্ষার্থী কেন একটি গল্পের বই পড়বে। এ প্রসঙ্গে বলা যায়, লেখক লিখার আগে ভাবেন, ভাবতে থাকেন, মনের আকাশে ভাবনাগুলোকে জমাতে থাকেন, গোছাতে থাকেন। ভাবনা প্রকাশের জন্য শব্দ খুঁজতে থাকেন, পাঠকের জন্য উপযুক্ত শব্দ, সহজবোধ্য শব্দ। অতঃপর কাগজ-কলম নিয়ে মালা গাঁথার মতো শব্দের মালা দিয়ে সাজাতে থাকেন। নিজের মনের ভাবনাগুলোকে কালির কালো অক্ষরে প্রকাশ করতে থাকেন। তাই নিয়ে প্রকাশিত হয় একটি বই। একটি বই একজন লেখকের কায়িক ও মানসিক পরিশ্রমের নির্যাস। একজন লেখকের প্রথম লক্ষ্য নিজের ভাবনা প্রকাশ। দ্বিতীয় লক্ষ্য পাঠককে আনন্দ দেয়া, পাঠকের মনোযোগ ধরে রাখা। পাঠক যেন বই পড়তে পড়তে বিরক্ত না হন। ভাব প্রকাশ করতে গিয়ে লেখক পাঠকের বয়স স্তর বিবেচনা করেও অনেক সময় লিখে থাকেন। যেমন : শিশু সাহিত্য, কিশোর উপন্যাস, সায়েন্স ফিক্শন ইত্যাদি। কেউ কেউ বলেন পাঠ্য বইয়ের বাইরের বই পড়লে সময় নষ্ট হয়। কথাটি মোটেই ঠিক নয়। নিজেকে গড়ে তোলার জন্য এটি একটি বিনিয়োগ। পাঠ্য বইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে জ্ঞানও সীমাবদ্ধ থাকে। হোক পুরোনো দিনের লেখকের লেখা একটি বই। বই বিনোদনেরও উৎস। পাঠ্য বই পড়তে পড়তে, হোমওয়ার্ক করতে করতে মন যখন ক্লান্তিতে ভরে যায়, মনে যখন একগুঁয়েমি আসে, আর পড়তে ইচ্ছে করে না, তখন একখানা কবিতা কিংবা ছড়ার বই অথবা প্রবন্ধ বা উপন্যাস হাতে নিয়ে বিছানায় গা হেলিয়ে দিয়ে পড়া শুরু করে দিলে মনের ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। বই নানা লেখকের, নানা মতের ধারক ও বাহক। বই পড়ে একজন শিক্ষার্থী নিজের মানসিক অবস্থানের পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও পরিমার্জন ঘটাতে পারে। নিজের ভাবনার সাথে অন্যের ভাবনার তুলনা করার সুযোগ খুঁজে পায়। তবে পার্থিব জীবনে পথ চলায় নতুন মাত্রা আসে। একটি বই জ্ঞানের আধার। প্রতিটি বইয়ের মধ্যে নতুন কিছু তথ্য, কিছু দিক নির্দেশনা পাওয়া যায়। সেটি গল্প, উপন্যাস কিংবা বিজ্ঞানভিত্তিক যে কোনো লেখাই হোক না কেন।

বই পাঠ শিক্ষার্থীকে অনুসন্ধিৎসু করে তুলে। জানার কোনো সীমারেখা নেই। এ কথাটি যেন বই পাঠকারীর মনের কথা। তাইতো সে খুঁজে ফিরে নিত্য নতুন বই। তাই মনের চাহিদা পূরণের জন্য সে নতুন বইয়ের সন্ধানে নামে। নানা বই থেকে আহরিত জ্ঞান তার অনুসন্ধিৎসু মনের দিগন্তকে আরো বাড়িয়ে তোলে।

শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ছে, লেখকের সংখ্যা বাড়ছে। প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যাও বাড়ছে প্রতি বছর। লেখার মান এবং গুণগত বইয়ের সংখ্যা নিয়ে লেখা আমার আজকের উদ্দেশ্য নয়। উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের বই পড়ার কয়েকটি ইতিবাচক দিক তুলে ধরা।

বই পাঠ শিক্ষার্থীকে বিনয়ী হতে শেখায়। মানবীয় গুণের মধ্যে এটি অন্যতম। 'অল্প বিদ্যা ভয়ংকরী' এই বোধ যেন একজন বই পাঠকারী শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে অধিক প্রজ্জ্বোল। সে জানে, সে যা জেনেছে তা নগণ্য। অন্যদের চেয়ে সে আলাদা। সে বিনয়ী। সেই মনে রাখে বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী স্যার আইজ্যাক নিউটনের বাণী : 'জ্ঞান সমুদ্রের তীরে দাড়িয়ে আমি উপলখ- মাত্র সংগ্রহ করেছি, সম্মুখন্থ বারিধির আমি কিছুই জানি না।' (ও ধস মধঃযবৎরহম ড়হষু ঢ়বননষবং ংঃধহফরহম ড়হ ঃযব ংবধ ংযড়ৎব ড়ভ শহড়ষিবফমব রিঃযড়ঁঃ শহড়রিহম ঃযব াধংঃ ড়পবধহ ষুরহম নবভড়ৎব সব ঝরৎ ষমধপ ঘবঃিড়হ.্থ

যে কোনো বিষয়ে অভ্যাস গড়ে তোলার এবং তা ধরে রাখার জন্য চাই অনুশীলন। বই পড়ার ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য।

বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার জন্য কিছু নিয়ামক প্রয়োজন । পরিবারে মা-বাবা, বড় ভাই-বোন এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। কেউ কেউ মনে করতে পারেন বই পড়া বিনোদনের পুরোনো মাধ্যম। আধুনিক যুগের টেলিভিশন, কম্পিউটার, মোবাইল, ট্যাব এর মতো ইলেকট্রনিক ডিভাইস থাকতে বই পড়ে আনন্দ পাবার সুযোগ কোথায়? তাছাড়া এসব মাধ্যমে তো সব কিছু বাস্তব প্রত্যক্ষ করা যায়। সকলে মিলে এক সাথে আনন্দ উপভোগ করা যায়। তাছাড়া এসবতো অতি সাম্প্রতিক আধুনিক মাধ্যম। সারা বিশ্বের সব ঘটনা প্রবাহ প্রত্যক্ষ করা যায় এসব মাধ্যমে। আমি দ্বিমত পোষণ করছি না। এসবতো সকল ধর্ম-বর্ণ ও সব বয়সী মানুষের জন্য অবারিত। কিন্তু শিক্ষার্থীর মেধা ও মননশীলতা বিকাশের জন্য পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য বই পাঠের কোন বিকল্প নেই। বই পাঠ করে শিক্ষার্থী ধীরে ধীরে ধাপে ধাপে বিষয়বস্তুর গভীরে প্রবেশ করে, নিজের মনের মনিকোঠায় তার চিত্র ধারণ করে, নিজের বিবেক বুদ্ধিকে শাণিত করে। শিক্ষার্থীর কথা, কাজ ও আচরণে এর মাধুর্য ফুটে ওঠে।

বই পড়ার অভ্যাসটি ইদানীং একরকম হারিয়েই যাচ্ছে। একসময় স্কুল কলেজের আশে পাশে বইয়ের দোকান বিভিন্ন ধরনের বই দিন হিসেবে ভাড়ায় পড়তে পাওয়া যেতো। একটা নিরব প্রতিযোগিতা থাকতো, কত তাড়াতাড়ি বইটি পড়া শেষ করে জমা দিয়ে আরেকটি বই এনে পড়া শুরু করবো। এটি দোকানদারের বাণিজ্যিক চিন্তার চেয়ে সংস্কৃতি বিকাশে ভূমিকাই ফুটে উঠতো। এটাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন দেশবরেণ্য শিক্ষাবিদ আমার শিক্ষাগুরু অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যার-বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের নানা কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে। বই পাঠ প্রতিযোগিতা, ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরী ইত্যাদি তাঁর অন্যতম উদ্যোগ। মাঝে মাঝে পত্র পত্রিকায় খবর প্রতিবেদন নজরে আসে-ব্যক্তি বিশেষের উদ্যোগে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পাঠাগারে গড়ে তোলা হয়েছে, গড়ে তোলা হয়েছে পাঠক সংগঠন। এসবই শিক্ষার্থীর পাঠ অভ্যাস গড়ে তোলার এবং তা ধরে রাখার জন্য ইতিবাচক।

যে বই পাঠ একজন শিক্ষার্থীকে জ্ঞান অর্জনে আগ্রহী করে তোলে, আবেগ সৃষ্টিতে সাহায্য করে, অনুভূতি প্রকাশে উৎসাহিত করে তোলে, বড়দের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, ছোটদের প্রতি স্নেহশীল ও আপনজনদের প্রতি অনুরাগী হতে অনুপ্রাণিত করে সে বই পাঠ সমাজ থেকে হারিয়ে যাক তা কারো কাম্য হতে পারে না। বরং পাঠাগার স্থাপন করে নানা ধরনের বই সংগ্রহ করে সব বয়সী মানুষের পড়ার সুযোগ তৈরি করে দেয়া সুশীল সমাজের অন্যতম কর্তব্য বলে মনে করি।

লেখক : অধ্যক্ষ, চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজ, চাঁদপুর।

আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৩৭৪৬৩
পুরোন সংখ্যা