চাঁদপুর। বৃহস্পতিবার ১৩ এপ্রিল ২০১৭। ৩০ চৈত্র ১৪২৩। ১৫ রজব ১৪৩৮

বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • ---------
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৭-সূরা নাম্ল 


৯৩ আয়াত, ৭ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৮৫। সীমালঙ্ঘন হেতু উহাদের উপর ঘেঘিত শাস্তি আসিয়া পড়িবে; ফলে উহারা কিছুই বলিতে পারিবে না।  


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন

বড় হতে হলে সর্বপ্রথম সময়ের মুল্য দিতে হবে।                                 -স্মাইলস। 


মানবতাই মানুষের শ্রেষ্টতম গুণ।  


শিশু শিক্ষায় ছবির ব্যবহার
রাশেদা আতিক রোজী
১৩ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

শিশু শিক্ষায় ছবির গুরুত্ব অপরিসীম। শিশু যখন বই হাতে পায় তখন সে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা উল্টাতে থাকে আর ছবি দেখতে থাকে। ছবি দেখতে দেখতে কখনো সে বিড়বিড় করে আপন মনে। সম্ভবত ছবিটি ভালো লাগা না লাগা বা এর ভালো-মন্দ দিয়ে বিড়বিড় কথা বলে।

শিশু বিজ্ঞানীদের মতে শিশুর পাঠ শুরু হয় ছবি দিয়ে। শেখন-শেখানোর প্রশ্নে শিশুকে শেখাতে হবে সহজ থেকে কঠিন। বাস্তব থেকে বস্তু নিরপেক্ষতা। শিশুকে শেখাতে হবে তার ইচ্ছার উপর ভিত্তি করে।

শিক্ষার প্রারম্ভেই যেহেতু সে ছবি দ্বারা আকৃষ্ট হয়, সেজন্য তার পাঠ শুরু করতে হবে ছবি দিয়ে। বিশেষ কোন ছবি এঁকে (পরিচিত) ছবির বিভিন্ন অংশ দেখিয়ে শিশুর পাঠকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। আমাদের দেশে শিশু শিক্ষার জন্য বাজারে এরূপ বহু বই রয়েছে। শিক্ষক যদি ভালো ছবি অাঁকতে পারেন, আর সেটা যদি হয় পাঠ সংশ্লিষ্ট, তাহলে তাঁর যতো কথা বলে পাঠ উপস্থাপন করতে হয় সে ক্ষেত্রে কথা বলতে হবে ৫০%-এর মতো। বাকি কথা ছবি নিজেই বলবে।

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি যদি শিক্ষকের সহ-শিক্ষাক্রমিক কার্যাবলি পরখ করা হয়, যেমন : বাচনভঙ্গি, ছবি অাঁকা, খেলাধুলা, সঙ্গীত ইত্যাদি তাহলে অতি সহজেই শিক্ষক তার শিক্ষার্থীদের নিকট পাঠ উপস্থাপনে সাফল্য অর্জনে সক্ষম হবে।

উপরোউক্ত বিষয়সমূহে শিক্ষকদের পারদর্শী করতে তুলতে প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সেজন্য সিইনএড কোর্সে বিষয়ভিক্তিক নম্বরের ব্যবস্থা রয়েছে। পাশের জন্য নম্বরের মাপকাঠি থাকলেও বাস্তবতার নিরিখে সহ-শিক্ষাক্রমিক কার্যাবলিকে অধিকতর জোরদার করা উচিত। কেননা বুকে হাত দিয়ে বলার মত আমাদের কারোরই সাহস নাই যে, কে আবার আমাদের শিক্ষাচার্য জয়নুল হবে, কে হবে এসএম সুলতান, কে হবে হাশেম খান, কাইয়ুম চৌধুরী, রফিকুন্নবী, শিশির ভট্টাচার্য প্রমুখ।

প্রত্যেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চারু-কারু শিক্ষক নিয়োগ করা আমাদের দেশের মতো দরিদ্র দেশে সম্ভব নয়। হয়তো বা কোনো একদিন আমাদের সে অবস্থা ফিরে আসবে। সেজন্য তো এখন আর বসে থাকা যাবে না। তাই শিশু শিক্ষার সাথে জড়িত প্রাথমিক পর্যায়ের স্কুলগুলোতে সব শিক্ষককেই অংকনে পারদর্শী হওয়া দরকার।

শিশুরা ছবি অাঁকতে ভালোবাসে। সারা বছর ধরেই বিভিন্ন অনুষ্ঠান উপলক্ষে ছবি অাঁকার প্রতিযোগিতা থাকে। এসব অনুষ্ঠানে শিশুদের অংশগ্রহণের সংখ্যা থেকে সহজেই অনুমান করা যায়, তারা ছবিকে কত ভালোবাসে। এক্ষেত্রে গ্রামের তুলনায় শহরের ছেলেমেয়েরা এগিয়ে থাকলেও সব এলাকায় ছেলেমেয়েদেরই সমহারে গুরুত্ব দিতে হবে।

শ্রেণি রুটিনের আওতায় সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে চারু-কারু ক্লাসে অংকিত ছবিসমূহ নিজ নিজ শ্রেণিকক্ষে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করলে প্রত্যেক শিশু তার ছবিটি অন্যান্য শিশুদের অংকিত ছবির সাথে তুলনা করতে পারবে। এতে যার ছবি যতো ভাল হবে, সে ততো গর্ববোধ করবে। ভবিষ্যতে সে আরো ভালো করার জন্য উদ্যোগী হবে। সর্বোপরি সকল ছাত্রের মাঝে ছবি অাঁকার মনোভাব গড়ে উঠবে।

এক্ষেত্রে প্রদর্শনের জন্য শ্রেণিকক্ষের যে দেয়ালটি বড় সে দেয়ালে ১ ফুট ব্যবদানে রশি/গুনা টানিয়ে ৮/১০টি সারি করে তাতে ছবিগুলো টানিয়ে দেখা যায়। একবার টানানো ছবি পরবর্তী ক্লাস প্রতিযোগিতার পূর্ব পর্যন্ত দেয়ালে টানানো থাকতে পারে। শিক্ষকগণের (৩ সদস্যের) কমিটির মাধ্যমে ছবির স্থান নির্বাচন করে ছাত্র-ছাত্রীদের জানিয়ে তাদেরকে উৎসাহিত করা যায় এবং এর জন্য ছোট আকারে অংকনের সামগ্রী পুরস্কার হিসেবে দেয়া যেতে পারে। দেয়া যেতে পারে আনুষ্ঠানিক সার্টিফিকেট। শিশুদেরকে ক্লাস্টার, উপজেলা, জেলা বিভাগ এবং জাতীয় পর্যায়ের এমনকি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য এভাবেই শিশুদের গড়ে তোলা যায়। প্রাথমিক পর্যায়ে শিশু কি ছবি অাঁকল সেটা বড় কথা নয়, বড় কথা হলো শিশুরা ছবি অাঁকতে উৎসাহী হলো কিনা। মোটকথা শিশুর মধ্যে অাঁকিবুকির বীজ বপন করা হলো কিনা।

শিশু মন এক বিচিত্র কৌতূহলের সাগর। সেখানের মাটি এতই উর্বর যা বপন করা হবে, তা দ্রুত অবলিলায় বেড়ে উঠবে। সেজন্য সেখানে যা বপন করা হবে তা খুবই সাবধানে। নতুবা বিপরিত প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। শিশুদের অাঁকা ছবি শ্রেণিকক্ষে প্রদর্শনীর সময় বা বার্ষিক চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করে মা-বাবা বা অভিভাবকদের দেখার সুযোগ করে দিতে পারলে মা-বাবাও এ ব্যাপারে উৎসাহী হয়ে পুত্র-কন্যার যোগ্যতা ও দক্ষতা অধিকতর বৃদ্ধির জন্য সচেষ্ট হবেন এবং শ্রেণিকক্ষের বাইরে ও এসব কাজের জন্য উৎসাহ প্রদান করবেন। এভাবেই আমাদের শিশুরা হতে পারবেন জগদ্বিখ্যাত শিল্পী সালভাদর দালি, অরেমাপি, টিনটেরেত্তোর, মাইকেল অ্যাঞ্জেলো, পাবলো পিকাসো, যোগেন চৌধুরী। এভাবেই শিশু মনের ভিতরে বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গ আজীবনের জন্য স্থান করে নিবে।

লেখক : রাশেদা আতিক রোজী, ইন্সট্রাক্টর, উপজেলা রিসোর্স সেন্টার, মতলব দক্ষিণ, চাঁদপুর।

আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৩৩৬৫৮
পুরোন সংখ্যা