চাঁদপুর। বৃহস্পতিবার ১৩ এপ্রিল ২০১৭। ৩০ চৈত্র ১৪২৩। ১৫ রজব ১৪৩৮
ckdf

সর্বশেষ খবর :

  • ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় মোড়া, চাঁদপুরে ০৭ (সাত) নম্বর বিপদ সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ১০ (দশ) নম্বর মহাবিপদ সংকেত  || ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় মোড়া, চাঁদপুরে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৭-সূরা নাম্ল 


৯৩ আয়াত, ৭ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৮৫। সীমালঙ্ঘন হেতু উহাদের উপর ঘেঘিত শাস্তি আসিয়া পড়িবে; ফলে উহারা কিছুই বলিতে পারিবে না।  


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন

বড় হতে হলে সর্বপ্রথম সময়ের মুল্য দিতে হবে।                                 -স্মাইলস। 


মানবতাই মানুষের শ্রেষ্টতম গুণ।  


পরিসংখ্যান, আমি ও বিল্লাল হোসেন মোল্লা স্যার
মোঃ আবু সালেহ
১৩ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

আমার শিক্ষা জীবন এখন প্রায় শেষ হতে চলেছে। সামনে ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে মাস্টার্স পরীক্ষা দেবো। এখন পেছনে ফিরে তাকালে কত কত স্মৃতি ভেসে আসে মনে। কত কত বন্ধুর মুখ, শিক্ষকের মুখ। তাদের কারো কারো সাথে এখনো যোগাযোগ হয়, দেখা হয়। অনেকের সাথে গত দশ বছরেও একবার দেখা হয় নি। আমার অনেক শ্রদ্ধেয় শিক্ষক এখন আর পৃথিবী নেই। তাঁদের দেয়া শিক্ষাকে ধারণ করে এখন আমরা পথ চলছি। সেই স্যারদের কথা মনে পড়ে। তাঁরা কত যত্নে, স্নেহে আমাদের শিখিয়েছেন। তাঁদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। তবে আজ আমি একজন বিশেষ শিক্ষকের কথা বলতে চাই। তিনি আমার কলেজ জীবনের শিক্ষক। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে যাঁর সানি্নধ্য আমাকে ঋদ্ধ করেছে। তিনি পালাখাল রুস্তম আলী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর বিল্লাল হোসেন মোল্লা। তাঁকে প্রথম দেখি ২০০৭ সালে। শার্ট-প্যান্ট পরা পরিপাটি মানুষ। তিনি তখন পরিসংখ্যানের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। আমি ব্যবসায় শিক্ষার ছাত্র ছিলাম। স্বাভাবিক ভাবেই একাদশে আমাকে পরিসংখ্যান পড়তে হয়েছে। কিন্তু আমি পরিসংখ্যানে খুব বেশি ভালো ছিলাম না। বছর অর্ধেক পার হয়ে গেলেও পরিসংখ্যানকে ভালোভাবে বুঝে উঠতে পারি নি। দেখতে দেখতে দ্বিতীয় সেমিস্টার পরীক্ষা চলে আসলো। আমি ভাবলাম, এ বিষয়ে পরীক্ষা দেবো না। কলেজ অফিসে গিয়ে খোঁজ নিয়ে দেখলাম, এ বিষয়টি পরিবর্তন করা যায় কিনা। শেষ পর্যন্ত পরিবর্তন করা গেল না।

অবশেষ স্যারের দারস্থ হলাম। তাঁকে সবাই পরিসংখ্যানের মোল্লা স্যার বলে ডাকতাম। আমি স্যারের কাছে গেলাম। আমি আমার দুরাবস্থার কথা বললাম। স্যার বললেন, অসুবিধা নেই। আমি তো আছি। স্যার পরের দিন থেকে আমাকে সময় দিতে লাগলেন। আমি ও আমার দুজন বন্ধু মিলে স্যারের কাছে পরিসংখ্যান বুঝতে যেতাম। মনে আছে মাত্র তিন চারদিন যাওয়ার পরই আমরা পরিসংখ্যানে আসক্ত হয়ে গেলাম। পরিসংখ্যানের বিভিন্ন সূত্র বুঝতে শুরু করলাম। যে বিষয়টি আমার আতঙ্ক ছিলো, পারবো না ভাবছিলাম, সে বিষয়টিই আমার কাছে সহজ হয়ে উঠলো। আমাদের কলেজে পরিসংখ্যানে যে কজন ভালো ছাত্র ছিলো, অল্প কদিনেই আমি তাদের একজন হয়ে উঠলাম। যাই হোক পরবর্তীতে পরিসংখ্যানের সূত্র ধরে স্যারের সাথে আমার ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠলো। স্যার নিয়মিত আমার খোঁজ খবর রাখতেন। আমিও কোনো সমস্যা হলে স্যারকে জানাতাম। স্যার সাধ্যমত সেসব সমস্যার সমাধান করতে চেষ্টা করতেন।

স্যার আমাদের পাঠদানের ব্যাপারে অনেক আন্তরিক ছিলেন। কোনো বিষয় না বুঝলে বারবার বুঝাতেন। বিরক্ত হতেন না। প্রতিষ্ঠাটির আরেক জন শিক্ষকের কথা বলতে চাই। মোঃ কবির সমাজকর্ম পড়াতেন। তিনি মূলত লাইব্রেরিয়ান ছিলেন। পরীক্ষার হলে তিনি কখনো কখনো গার্ড হিসেবে থাকতেন। আমার লেখার প্রশংসা করতেন। এভাবেই তার সাথে আমার সখ্য গড়ে উঠে। তিনি কখনো আমার অভিভাবক, কখনো বন্ধু, কখনো শিক্ষক হিসেবে আমাকে উৎসাহ দিতেন। তার কাছে আমি কৃতজ্ঞ। আমার শিক্ষা জীবনে আমি এমন আরেকজন শিক্ষক পেয়েছিলাম চাঁদপুর সরকারি কলেজে ব্যবস্থাপনা বিভাগে ভর্তি হয়ে। তিনি প্রিয় শাহরিয়ার স্যার। স্যারের প্রতি আমি বিশেষ কৃতজ্ঞ। তাঁর আন্তরিকতার কথা পুরো কলেজই জানে। যতদিন বাঁচি আমি আমার এ দুজন শিক্ষকের কথা বিশেষভাবে স্মরণ রাখবো।

লেখক : শিক্ষার্থী, চাঁদপুর সরকারি কলেজ।

আজকের পাঠকসংখ্যা
৮৬২০০
পুরোন সংখ্যা