চাঁদপুর। মঙ্গলবার ৩০ মে ২০১৭। ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪। ৩ রমজান ১৪৩৮

বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুর সরকারি কলেজের অনার্স পড়ুয়া দুই ছাত্রীসহ তিন জনকে আটক করেছে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ। হাজীগঞ্জে দুই কিশোর শিক্ষার্থীর উত্যক্তের কারণে হালিমা আক্তার (১৫) নামের এক মাদ্রাসা ছাত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। || হাজীগঞ্জে দুই কিশোর শিক্ষার্থীর উত্যক্তের কারণে হালিমা আক্তার (১৫) নামের এক মাদ্রাসা ছাত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩০-সূরা রূম


৬০ আয়াত, ৬ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৪৪।  যে কুফরি করে, কুফরির শাস্তি তাহারই প্রাপ্র্য; যাহারা সৎকর্ম করে তাহারা নিজেদেরই জন্য রচনা করে সুখসশ্যা।


৪৫। কারণ যাহারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে আল্লাহ তাহাদেরকে নিজ অনুগ্রহে পুরস্কৃত করেন। তিনি কাফিরদেরকে পছন্দ করেন না।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 

assets/data_files/web

সন্দেহ করার চেয়ে বিশ্বাস করা সহজ।


                                  -ইডিমাটিন।

যে সব ব্যক্তি নিন্দুক এবং যারা অপমানকারী, তাদের সর্বনাশ, অর্থাৎ তারা কষ্টদায়ক পরিণতি প্রাপ্ত হবে।


চাঁদপুর সরকারি কলেজ গ্রন্থাগার
আলোকিত মানুষ গড়ার অংশীদার
মুহাম্মদ ফরিদ হাসান ॥
৩০ মে, ২০১৭ ১৭:৫২:২২
প্রিন্টঅ-অ+


 চাঁদপুর সরকারি কলেজ। চাঁদপুরবাসীর গৌরবের অনন্য স্থান। এখানেই পড়াশোনা করে শত-সহ¯্র শিক্ষার্থী আলো ছড়াচ্ছে দেশে ও বিদেশে। এ কলেজটিরই অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান গ্রন্থাগার। কলেজের মূল ফটক দিয়ে সামনে এগিয়ে যেতেই চোখে পড়ে লাইব্রেরিটি। ভেতরে প্রবেশ করেই প্রথমে দৃষ্টি চলে যায় দেয়ালের দিকে। বাম পাশের দেয়ালে টানানো হয়েছে বরেণ্য ও গুণী মানুষদের ছবি। নজরুল-রবীন্দ্রনাথ শওকত ওসমান, এমএস সুলতান যেমন এই ছবিঘরে স্থান পেয়েছেন, তেমনি স্থান পেয়েছেন মহাত্মা গান্ধী, আইনস্টাইনও। দেয়ালে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন ছবিগুলোও পর্যাক্রমে টানানো রয়েছে। ছবিগুলো কেবল বাংলাদেশের কথাই বলে না, বলে বিশ^বাসী ও সভ্যতার কল্যাণের কথা। পাঠাগারের এ কক্ষটি ছাত্রদের পাঠকক্ষ। চারপাশে অসংখ্য বই। রুমের একপাশে পত্রিকার স্ট্যান্ড। সেখানে কিছু ছাত্র পত্রিকা পড়ছে। আর চারপাশে ছড়ানো টেবিল রয়েছে। এক টেবিলের কাছে যেতেই দেখা গেল চারজন ছাত্র মনোযোগ দিয়ে বই পড়ছে। বাকি দু টেবিলে গিয়ে দেখা গেল, কেউ বই পড়ছে, কেউ গ্রুফ স্টাডি করছে। কথা হলো কজন শিক্ষার্থীর সাথে। একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মাসুদ আহমেদ, সামির মিয়াজী জানালেন, তারা সময় সুযোগ পেলেই লাইব্রেরিতে আসেন। এখানে প্রচুর বিজ্ঞান বিষয়ক বই রয়েছে। পছন্দের বইগুলো পড়তে পেরে তারা আনন্দিত।

বাংলা বিভাগের মাস্টার্সে পড়–য়া ফাতেমা ইয়াসমিনও জানালেন একই কথা। তিনি বলেন, লাইব্রেরিতে ছাত্রীদের জন্যে আলাদা পাঠকক্ষ রয়েছে। তাই এখানে এসে পড়তে আমরা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। আমাদের পাঠ্য ও সহায়ক সকটিই বই-ই এখানে পাওয়া যায়। গ্রুফ স্টাডি করতে গিয়ে আমরা এসব বইয়ের সাহায্য নেই। পাঠাগারটি আমাদের পড়াশোনার জন্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

পাঠগারটির প্রথম কক্ষ পেরিয়ে দ্বিতীয় কক্ষটিতে চোখ পড়ে। চারদিকে কেবল বই আর বই। এ যেন বইয়ের রাজ্য। লাইব্রেরী সূত্রে জানা গেল, ১৯৪৬ সালে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হলে সেখানে একটি লাইব্রেরি কক্ষও রাখা হয়। বর্তমানে যেখানে উপাধ্যক্ষের কার্যালয়, সেখানেই প্রথমে লাইব্রেরিটি ছিলো। প্রথম হাতে গোনা দশ-পনেরটি বই নিয়ে লাইব্রেরি কার্যক্রম শুরু করা হয়। বর্তমানে এই লাইব্রেরিতে ২৭ হাজারের মতো বই রয়েছে। বর্তমানে এতে গ্রন্থাগারিকের দায়িত্ব পালন করছেন তৃপ্তি সাহা। শিক্ষার্থী প্রিয় সদালাপী এই গ্রন্থাগারিক বলেন, শিক্ষার্থীদের জানার জগৎকে সমৃদ্ধ করতে এই গ্রন্থাগারটি সাত দশক ধরে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা এখানে কেবল পাঠ্যবই-ই রাখি না, বিজ্ঞান, সাহিত্য, শিল্পকলা, সাধারণ জ্ঞান, ইতিহাস, ঐতিহ্য, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বইগুলো পড়ার সুযোগ করে দিই শিক্ষার্থীদেরকে। প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী লাইব্রেরিতে বই পড়তে আসে। তাছাড়া দেশের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাগাজিন, লিটলম্যাগ, বিনোদন পত্রিকাগুলো রাখি। শিক্ষার্থীদের যার যে বিষয়ের উপর আগ্রহ আছেÑতারা সেই বইগুলো পড়ে।

তিনি জানান, কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. এএসএম দেলওয়ার হোসেন নিজেও একজন বইপ্রেমী মানুষ। লাইব্রেরীর কার্যক্রমকে গতিশীল রাখতে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

কথা হয় কলেজ শিক্ষক পরিষদ সম্পাদক মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামানের সাথে। জানতে চাই গ্রন্থাগারটির কার্যক্রমের কথা। তিনি বলেন, আমরা কলেজের পক্ষ থেকে লাইব্রেরিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকি। ক্লাসে শিক্ষার্থীদের পাঠাগারে আসতে উদ্বুদ্ধ করতে আমরা কাজ করছি। শিক্ষার্থীরা পাঠাগারে বই পড়ে পড়াশোনাকে যেমন এগিয়ে নিচ্ছে, তেমনি মানসিকভাবেও অনেক সমৃদ্ধ হচ্ছে। আগামীতে লাইব্রেরিকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে।

কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. এএসএম দেলওয়ার হোসেন বলেন, সুন্দর ও সমৃদ্ধ জীবন গঠনের জন্যে লাইব্রেরির গুরুত্ব অপরিসীম। লাইব্রেরি সেই জ্ঞানের রাজ্য, যেখানে প্রবেশ করে শিক্ষার্থীরা আলোকিত হতে পারে। চাঁদপুর সরকারি কলেজ আলোকিত মানুষ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে কাজ করছে। আমাদের গ্রন্থাগারটিও আলোকিত মানুষ গড়ার অংশীদার। খুব শীঘ্রই লাইব্রেরিটিকে আমরা আধুনিকায়ন করবো। তখন শিক্ষার্থীরা আরো বেশি সুযোগ-সুবিধা পাবে।



প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া :

চাঁদপুরের প্রবীণ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক জীবন কানাই চক্রবর্তীও পড়াশোনা করেছেন চাঁদপুর সরকারি কলেজে। তিনি বলেন, বই ছাত্রজীবন থেকেই আমার প্রিয় বন্ধু। বইপ্রিয়তার কারণেই চাঁদপুর সরকারি কলেজে ১৯৫৯ সালে ভর্তি হয়েই লাইব্রেরির সঙ্গে এক অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রায় প্রতিদিনই লাইব্রেরিতে যেতাম। আমরা তখন রেফারেন্স বই কিনতে পারতাম না। কিন্তু কলেজ লাইব্রেরিতে অসংখ্য রেফারেন্স বই ছিলো। সেসব বই আমরা দলবেঁধে পড়তাম, নোট করতাম। লাইব্রেরিতে এই বইগুলো পড়ে কত যে উপকৃত হয়েছিÑতা বলে বোঝানো যাবে না। সেই বই পড়ার অভ্যেসটি আমার এখনো আছে। এখন যে জঙ্গীবাদ, মাদকসহ নানা সমস্যা আমাদেরকে গ্রাস করে চলেছেÑ বই পাঠই পারে এসব সমস্যার দীর্ঘস্থায়ী সমাধান দিতে। আমি বিশ^াস করিÑযারা বই পড়ে, তারা অন্যায় করতে পারে না, অন্যায়কে প্রশ্রয়ও দেয় না। চাঁসক গ্রন্থাগারটি কয়েক যুগ ধরে শিক্ষার্থীদের জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করছেÑএটি চাঁদপুরবাসীর জন্যে আনন্দের বিষয়।

মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের বর্তমান অধ্যক্ষ নূর খানও পড়াশোনা করেছেন চাঁদপুর সরকারি কলেজে। তিনি চাঁদপুর কণ্ঠকে বলেন, সত্তরের দশকে আমি এ কলেজে ভর্তি হই। তখন গ্রন্থাগার মানেই আমাদের জন্যে বিশেষ কিছু ছিলো। স্যাররাও আমাদেরকে লাইব্রেরিতে যাওয়ার ব্যাপারে বিশেষভাবে উৎসাহিত করতেন। তখন গ্রন্থাগারিক ছিলেন আবদুল মান্নান। তিনি অমায়িক মানুষ ছিলেন। আমরা গোগ্রাসে লাইব্রেরিতে গিয়ে বই পড়তাম। পাঠ্যবই তো পড়তামই, পাঠের সহায়ক বই, গল্প-উপন্যাসের বইও বাদ পড়তো না। সে স্মৃতি এখনো আমার চোখের সামনে জ¦লজ¦ল।  



সম্প্রতি কলা অনুষদে সারাদেশে প্রথম হওয়া শিক্ষার্থী মোহাম্মদ শাহাদাৎ হোসাইন জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের সমাবর্তনে মহামান্য রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ-এর কাছ থেকে সনদ ও ক্রেস্ট গ্রহণ করেছেন। তিনিও এ কলেজ থেকে বাংলায় অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করেছেন। তিনি কলেজ গ্রন্থাগার সম্পর্কে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, কলেজে পড়া অবস্থায় আমার সবচেয়ে পছন্দের জায়গা ছিলো গ্রন্থাগারটি। কত কত বই জমা সেখানে। এতো এতো পছন্দের বইÑকোনটা রেখে কোনটা পড়বোÑপ্রতিদিনই দ্বিধাদ্বন্ধে পড়ে যেতাম। আমাদের গ্রন্থাগারিক তৃপ্তি ম্যাডাম অনেক আন্তরিক। তিনি আমাদের চাহিদা মতো বইয়ের জোগান দিতেন। আমি যে সারা বাংলাদেশে কলা অনুষদে প্রথম হয়েছি, এর পেছনে এই গ্রন্থাগারটিরও ভূমিকা রয়েছে।

বিশেষ প্রতিক্রিয়া

সম্প্রতি চাঁদপুর সরকারি কলেজ ঘুরে গেছেন বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত কথাসাহিত্যিক হরিশংকর জলদাস। এসময় তিনি লাইব্রেরিটিও পরিদর্শন করেন। তিনি তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, গ্রন্থাগার সবসময়ই মানুষের জন্যে বাতিঘর হিসেবে কাজ করে। চাঁদপুর সরকারি কলেজ লাইব্রেরিটি অনেক গোছানো ও পরিচ্ছন্ন। এতো বিপুল সংখ্যক বই দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি। গ্রন্থাগারটি অসংখ্য শিক্ষার্থীর হৃদয়ে বিগত দিনে যেমন আলো জে¦লেছে, তেমনি আগামীতে আলো ছড়িয়ে দিবে বলে আমি বিশ^াস করি।


আজকের পাঠকসংখ্যা
৪০১৪
পুরোন সংখ্যা