চাঁদপুর। মঙ্গলবার ৩০ মে ২০১৭। ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪। ৩ রমজান ১৪৩৮
kzai
muslim-boys

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩৩-সূরা আহ্যাব

৭৩ আয়াত, ৯ রুকু, মাদানী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

 ২৯। আর যদি তোমরা কামনা কর আল্লাহ্, তাঁহার রাসূল ও আখিরাত, তবে তোমাদের মধ্যে যাহারা সৎকর্মশীল আল্লাহ্ তাহাদের জন্য মহাপ্রতিদান প্রস্তুত রাখিয়াছেন।'

৩০। হে নবী-পতিœগণ!  যে কাজ স্পষ্টত অশ্লীল, তোমাদের মধ্যে কেহ তাহা করিলে তাহাকে দ্বিগুণ শাস্তি দেওয়া হইবে এবং ইহা আল্লাহর জন্য সহজ।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


assets/data_files/web

মন যখন অন্যত্র, চোখ তখন বন্ধ।  

-পাবলিয়াস সাইরাস।


মুসলমানগণের মধ্যে যার স্বভাব সবচেয়ে ভালো সে-ই সর্বাপেক্ষা ভালো ব্যবহার করে, তারাই তোমাদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ  ব্যক্তি।


ফটো গ্যালারি
সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ
মোঃ শাহ আলম
৩০ মে, ২০১৭ ১৭:৫৬:১৬
প্রিন্টঅ-অ+


বলা হয়ে থাকে, সৃষ্টির সূচনাভূমি থেকেই সূচিত হয় সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সূচনা। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বহুবিধ শাখা রয়েছে। তবে সেসব শাখার মধ্যে অধিক প্রাচীন একটি শাখা সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং। বিশ্বের বড়-ছোট যত নির্মাণ সবকিছুই সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংদের হাতে গড়া। তাই নির্মাণ ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারÑকথাগুলো প্রায়শই একত্রে উচ্চারিত হয়। কারণ, নির্মাণ সম্পর্কিত যে কোনো কাজই সিভিল ইঞ্জিনিয়ার ছাড়া করা সম্ভব নয়। কোন নির্মাণ কত ভালো হবেÑতা নিঃসন্দেহে নির্ভর করে ভালো সিভিল ইঞ্জিনিয়ারের ওপর। শুধু বাইরের সৌন্দর্য নয়, কোন কাজ কতটা টেকসই হবেÑতাও নির্ভর করে এই নির্মাণসম্পৃক্ত ব্যক্তির ওপর। কাজেই সভ্যতার যে অগ্রগতি অন্তত অবকাঠামোগতÑনিঃসন্দেহে তাতে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদের বৃহৎ অবদান রয়েছে। এখন প্রশ্ন আসে যেÑএকজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার কি কি কাজ করে থাকেন? প্রথম কথা হলো : সিভিল ইঞ্জিনিয়ারের মূল কাজ মানসিক। কোনো কাঠামোর নকশা তৈরি, ব্যবস্থাপনা, গঠন, নির্ধারণ, তদারকি, পরিকল্পনা ইত্যাদি সিভিল ইঞ্জিনিয়ারের মূল কাজ। যেহেতু সমগ্র পৃথিবী জুড়েই নির্মাণশৈলীর অবারিত গুরুত্বÑতাই পৃথিবীজুড়েই সিভিল ইঞ্জিনিয়ার কাজ করতে পারেন। বলা যায়, একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার তাঁর দক্ষতার মাধ্যমে পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তেই কাজ করতে পারেন। গঠন করতে পারেন আদর্শ ও অনুসরণীয় ক্যারিয়ার।



সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বাংলা নাম পুরকৌশল। সভ্যতার প্রাচীনলগ্ন থেকেই এ বিদ্যার উদ্ভব ও সভ্যতার উন্নয়নের সাথে সাথেই এর বিকাশ। ধারণা করা হয়, যখন মানুষ সংঘবদ্ধভাবে বসবাস শুরু করলো এবং বাসস্থানের চিন্তা শুরু করলো, তখনই পরোক্ষভাবে পুরকৌশল বিদ্যার চিন্তা শুরু হলো। মিসরের যে পিরামিড, বা হাজার হাজার বছর প্রাচীন সেসব স্থাপনাগুলো রয়েছেÑএগুলো সবকিছুই পুরকৌশল বা সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের আদি ইতিহাস বহন করে। মিশর থেকেই সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যাথড সারা পৃথিবীজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। সর্বপ্রথম লন্ডনে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংকে পেশা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়। ১৮২৮ সালে লন্ডনে ইনস্টিটিউট অফ সিভিল ইঞ্জিনিয়ার এটিকে পেশা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। সেই পেশাদারিত্ব এখন বাংলাদেশসহ পৃথিবীর সব দেশেই গতিশীল রয়েছে।



সিভিল ইঞ্জিনিয়ারের কাজের ধরণ সম্পর্কে নানাবিধ কথা চালু রয়েছে। তবে কয়েকজন বিশ্লেষক ও সম্পৃক্ত ব্যক্তি কিছু গ্রহণযোগ্য ও উল্লেখযোগ্য কাজের ধরণের কথা বলেছেন। সুমাইয়া আহমেদ তাঁদের অন্যতম। তাঁর মতে, ‘সিভিল ইঞ্জিনিয়াররা মোটামুটি সব ক্ষেত্রেই কাজ করতে পারেন। তার কাজের ধরন অনুযায়ী তাকে মাঠ ও অফিস উভয় ক্ষেত্রেই থাকতে হয়। এছাড়া তাদের থাকতে হয় সদা প্রস্তুত। কেননা দুর্যোগকালীন সময়েও তাদের উপস্থিতি ও পরিকল্পনার দরকার হয়। এছাড়া চাইলে স্ব স্ব ফার্মের মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করতে পারেন। বাড়ি, সড়ক, ব্রিজ, পোতাশ্রয়, বাঁধ, রেলপথ, কারখানা, হাউজিং কমপ্লেক্স, নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট, বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন স্থাপনাতে নকশা ও অবকাঠামো তৈরিতে তাদের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। আর রিয়েল এস্টেটের ব্যবসা দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে সেখানে চাইলে সিভিল ইঞ্জিনিয়াররা তাদের অবস্থান করে নিতে পারে। এছাড়া কাঠামোটি কতটা টেকশই ও সহনশীল হবে সেটাও অনেকাংশে তাদের ওপর নির্ভর করে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তারা পরামর্শকের ভূমিকা পালন করে। সিভিল ইঞ্জিনিয়াররা হাইওয়ে ইঞ্জিনিয়ার, ভূ-প্রকৌশল ইঞ্জিনিয়ার, বিদ্যুৎ ইঞ্জিনিয়ার, কনস্ট্রাকসন ইঞ্জিনিয়ার, গণপূর্ত ইঞ্জিনিয়ারসহ বিভিন্ন সেক্টরে কাজ করে।



আমাদের দেশে সিভিল ইঞ্জিনিয়ার পড়তে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বেশ ভারী। দেশের প্রায় সব প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়েই সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট), রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট), চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) থেকেও এ বিষয়ে পড়া যায়। চাঁদপুরেও ডিপ্লোমা ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার বেশ সুযোগ রয়েছে। চাঁদপুর সিইআই পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট দীর্ঘদিন ধরে এ লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। ডিপ্লোমা ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার পর দেশের বাইরে ইউকে, রাশিয়া, নিউজিল্যান্ড, ইউক্রেন, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, চীনেও এ বিষয়ে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করা যায়।

কেউ চাইলে এসএসসি-এর পরপরই বিজ্ঞান বিভাগ থেকে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের অধীনে ডিপ্লোমা ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে পারেন। এক্ষেত্রে পরীক্ষায় ন্যূনতম জিপিএ ২.০ থাকতে হবে। এরপর চাইলে যে কেউ বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং করতে পারে যে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। এক্ষেত্রে ঢাকা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট) ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সুযোগ দিয়ে থাকে। চাইলে চাঁদপুর সিইআই পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটেও বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা নিয়ে চাঁদপুরের শিক্ষার্থীরা ডিপ্লোমা ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করতে পারেন। ডিপ্লোমা ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হতে হলে একজনকে পরিকল্পনা ও ড্রইয়িংয়ে পারদর্শী হতে হবে। শিক্ষার্থ যে কোনো বিভাগ থেকে এসেই এ কোর্সটি করতে পারেন। চাঁদপুর সিইআই পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে অনলাইনে ভর্তির সহজ সুযোগ রয়েছে। অনলাইনে ভর্তিসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেয়া রয়েছে।

একজন নতুন পুরকৌশলীর বেতন ২৫ হাজার থেকে ৩৫ হাজার হয়ে থাকে। তাছাড়া অভিজ্ঞতার ঝুড়ির দিক থেকে সেই আয় বেড়ে ৫০ হাজার থেকে লাখ ছাড়িয়ে যায়। এছাড়া একজন ইঞ্জিনিয়ার নিজের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ভালো আয় করতে পারেন।’

তথ্য কৃতজ্ঞতায় : যুগান্তর, সুমাইয়া আহমেদ।



লেখক : অধ্যক্ষ, সিইআই পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, চাঁদপুর।


আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৭৪৫৯১
পুরোন সংখ্যা