চাঁদপুর। মঙ্গলবার ৩০ মে ২০১৭। ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪। ৩ রমজান ১৪৩৮

বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩০-সূরা রূম

৬০ আয়াত, ৬ রুকু, ‘মক্কী’

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৪০। আল্লাহ্ই তোমাদেরকে সৃষ্টি করিয়াছেন, অতঃপর তোমাদেরকে রিযিক দিয়াছেন, তিনি তোমাদের মৃত্যু ঘটাইবেন ও পরে তোমাদেরকে জীবিত করিবেন। তোমাদের দেব-দেবীগুলির এমন কেহ আছে কি, যে এ সমস্তের কোন কিছু করিতে পারে? উহারা যাহাদেরকে শরীক করে, আল্লাহ উহা হইতে পবিত্র, মহান।

৪১। মানুষের কৃতকর্মের দরুণ-স্থলে ও সমুদ্রে বিপর্যয় ছড়াইয়া পড়ে; যাহার ফলে উহাদেরকে উহাদের কোন কোন কর্মের শাস্তি তিনি আস্বাদন করান, যাহাতে উহারা ফিরিয়া আসে।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


assets/data_files/web

ডাক্তার বা উকিলের কাছে কোনো কিছু গোপন করো না।                     


-জর্জ হার্বাট।


ঝগড়াটে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট অধিক ক্রোধের পাত্র।


নারী শিক্ষার অগ্রদূত ডক্টর এম এ সাত্তার
জাহাঙ্গীর আলম হৃদয়
৩০ মে, ২০১৭ ১৭:৫৬:৪৮
প্রিন্টঅ-অ+




চাঁদপুর শাহরাস্তি উপজেলার গণমানুষের স্বপ্নদ্রষ্টা, আমার চোখে দেখা এক গুণী মানুষের নাম ডক্টর এম এ সাত্তার। তিনি সরকারি একজন সচিব থাকাবস্থায় সারা বাংলাদেশে নারী শিক্ষাকে তরান্বিত করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। নারীদের জন্য স্টাফিন চালু করেন। বিনামূল্যে বই বিতরণসহ নানান পদক্ষেপ গ্রহণ করেন, বয়স্ক শিক্ষা চালু করেন। যিনি মৃত্যুর পূর্বপর্যন্ত মানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন, অথচ আজ এই মানুষটির কথা নিজ উপজেলা শাহরাস্তিবাসী ভুলতে বসেছে। ডক্টর এম এ সাত্তার ছিলেন শাহরাস্তি-হাজীগঞ্জ নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্য মুক্তিযুদ্ধের ১ নং সেক্টর কমান্ডার সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেজর (অবঃ) রফিকুল ইসলাম বীর  উত্তম এমপি মহোদয়ের চাচা। তিনিও চাচার মত  সততার সাথে মানুষের কল্যাণে কাজ করে চলেছেন। যাদের জন্য মরহুম ডক্টর এম এ সাত্তার কাজ করেছেন অথচ তারাই তাঁর কথা বলেন না। তাঁর জন্য দোয়া হয় না, তার কর্মময় জীবন নিয়ে উপজেলায় ব্যাপকভাবে আলোচনা সভা হয় না। তিনি যেন নিভৃতে অনালোকে আছে। এর কারণ হতে পারে তিনি মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের লোক ছিলেন কিন্তু কোনো রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না। যিনি দল মত নির্বিশেষে সবার জন্য করেছেন। গরীবের সন্তানদের সুশিক্ষায় গড়ে তুলতে বিনামূল্যে বই এবং অর্থ দিয়েছেন তাঁর কথা কি করে আজ আমরা ভুলে যাই ? সবাই ভুলতে পারলেও আমি নগণ্য একজন মানুষ হিসেবে ভুলতে পারিনি । আর ভুলতে পারিনি বলেই এই মহান মানুষটিকে নিয়ে আজ কিছু কথা লিখতে বসলাম।



বাংলাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কৃতীসন্তান, বাংলাদেশ গণশিক্ষা সমিতির প্রতিষ্ঠাতা, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব, বিশিষ্ট অর্থনীতিববিদ, শিক্ষাবিদ, মসজিদভিত্তিক শিক্ষার রূপকার এবং বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন ড. এম এ সাত্তার। তিনি শিক্ষা, পরিবার পরিকল্পনা, সমাজসেবা এবং দারিদ্র বিমোচনের লক্ষ্যে ‘বেইস’ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৮৯ সালে নাওড়ায় মায়ের নামে করফুলেন্নেছা মহিলা কলেজ স্থাপন করেন। এ ছাড়া মৌলভীবাজার কলেজ, নারায়ণগঞ্জ মহিলা কলেজ, রংপুর বেগম রোকেয়া কলেজ ও মেহার কলেজ প্রতিষ্ঠায় বিশেষ ভূমিকা রাখেন।



ড. এমএ সাত্তার ১৯৩২ সালের ১ জুন চাঁদপুর জেলাধীন শাহরাস্তি উপজেলার নাওড়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন । তার বাবার নাম আজিজুর রহমান, মাতার নাম করফুলেন্নাছা। তিনি শাহরাস্তির নিউ স্কিম হাই মাদ্রাসায় (বর্তমানে শাহরাস্তি হাই স্কুল) অধ্যয়ন করেন এবং জুনিয়র বৃত্তি লাভ করেন। তারপর তিনি চট্টগ্রামে হাই মাদ্রাসায় ভর্তি হন এবং এই মাদ্রাসা হতেই ১৯৫১ সালে প্রথম স্থান অধিকার করে মেট্রিক পাস করেন । তিনি ১৯৫৩ সালে ঢাকা কলেজ থেকে মেধা তালিকায় সপ্তম স্থান অধিকার করে আইএ প্রথম বিভাগে পাস করেন । ১৯৫৬ সালে তিনি অর্থনীতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম শ্রেণিতে তৃতীয় স্থান লাভ করেন। ১৯৫৮ সালে পাকিস্তানের করাচি বিশ্ব বিদ্যালয় থেকে তিনি লোক প্রশাসনে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন এবং একই সাথে সিএসপি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে সারা পাকিস্তানে প্রথম স্থান অধিকার করে লাহোর সিভিল সার্ভিস ট্রেনিং একাডেমিতে যোগদান করেন। এক বছর ট্রেনিং শেষ করে তিনি যুক্তরাজ্যের ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লোকপ্রশাসনে ডিপ্লোমা ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৬০ সালে সিএসপি অফিসার হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৬২ সালে জার্মান নাগরিক ড. এলেন মেরি হেরিংটনের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন । ড. সাত্তার ১৯৬৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের উইলিয়াম কলেজ থেকে ডেভলপমেন্ট ইকনমিক্সে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন এবং ১৯৬৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টাফটস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকে সমর্থন করার কারণে পাকিস্তান কারাগারে বন্দি ছিলেন ।

ড. সাত্তার ব্যক্তি জীবনে চার জন পুত্র সন্তানের জনক। তারা সবাই সুশিক্ষিত এবং প্রতিষ্ঠিত। তিনি ১৯৯২ সালের ২৬ মে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ড. সাত্তারের অবদানের ফলশ্রুতিতে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার শিক্ষার হার ৯৬% ভাগে উন্নীত হয়েছে। ড. এমএ সাত্তারের নাম শাহরাস্তি তথা চাঁদপুরবাসীর হৃদয়ে চিরদিন অমলিন হয়ে থাকবে।


আজকের পাঠকসংখ্যা
১৫৮৫২৮
পুরোন সংখ্যা