চাঁদপুর। বুধবার ২১ জুন ২০১৭। ৭ আষাঢ় ১৪২৪। ২৫ রমজান ১৪৩৮

বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • ---------
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৮-সূরা কাসাস 


৮৮ আয়াত, ৯ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৬২। এবং সেই দিন তিনি উহাদিগকে আহ্বান করিয়া বলিবেন, ‘তোমরা যাহাদিগকে আমার শরীক গণ্য করিতে, তাহারা কোথায়?’


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


স্বপ্নে রাজা হয়েছে, এমন লোকের সংখ্যা কম নয়।                    -জজ ওয়েস্ট স্টোন।


 


যারা পয়গম্বরদের (নবীদের) কবর পূজা করে, তারা অভিশপ্ত হোক। 


 

ফটো গ্যালারি
আলোর দিশারী স্কুল
নিঃস্বার্থভাবে পথশিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছেন তারা
মুহাম্মদ ফরিদ হাসান
২১ জুন, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


একদল শিশু পড়ছে। ছড়িয়ে ছিটিয়ে চাটাইয়ের ওপর বসে আছে ওরা। কারো হাতে বই, কারো হাতে খাতা। এই শিশু শিক্ষার্থীদের কারো বয়স ছয়-সাত, আবার কারো বয়স এগারো-বারো। তারা আনন্দ নিয়েই পাঠগ্রহণ করছে। ওরা সবাই ছিন্নমূল শিশু। কেউ টোকাই, কেউ এতিম, কেউ ভবঘুরে। কেউ কেউ ভিক্ষা করে। এসব শিশুকে একত্রিত করে পড়াচ্ছেন একদল তরুণ-তরুণী। চাঁদপুর শহরের বড়স্টেশন জামে মসজিদের সামনে গেলে পথশিশুদের এ পড়াশোনা চোখে পড়ে প্রায়ই। খোঁজ নিয়ে জানা গেলো, স্কুলের নাম আলোর দিশারী স্কুল (নিউ স্টেপ)। এ স্কুলের মাধ্যমে পথশিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছেন চাঁদপুরের বিভিন্ন স্কুল-কলেজে পড়া একদল তরুণ-তরুণী। তারা স্বেচ্ছাশ্রমে, বিনামূল্যে প্রায় একবছর ধরে পথশিশুদের পড়িয়ে যাচ্ছেন।



আলোর দিশারী স্কুলের শিক্ষকরা জানান, ২০১৬ সালে প্রথমদিকে এ স্কুলের কার্যক্রম শুরু করেন চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী পূজা সাহা, মিম, তাসনিম ফারিয়া, চাঁদপুর কলেজের শিক্ষার্থী হাবিব রেহমান, দীপংকর, রাফসান, মাহমুদুল্লাহ, শাওন, আলা ও দৃষ্টান্ত। প্রথমে অল্প কজন পথশিশু এ শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিলেও বর্তমানে ৩৫ জন শিক্ষার্থী প্রতিনিয়ত এ স্কুলে পাঠগ্রহণ করছে। প্রতিদিন সাড়ে চারটা থেকে সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত এখানে পথশিশুদের পড়ান শিক্ষকরা। বর্তমানে মাধুরী ভৌমিক, পূজা সাহা, মিম, হাবিব রেহমান, তাসনিম ফারিয়া_এই পাঁচজন পথশিশুদের পাঠদান করাচ্ছেন।



কথা হয় স্কুলের অন্যতম উদ্যোক্তা তাসনিম ফারিয়া ও পূজা সাহার সাথে। তারা বলেন, আমরা চাই আমাদের পথশিশুরা আলোকিত হোক। অর্থের অভাবে কোনো শিশু যেনো শিক্ষা বঞ্চিত না হয়। সেজন্যেই আলোর দিশারী স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত করেছি আমরা। আগামীতে আমরা এ কার্যক্রম চাঁদপুর শহরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দিতে চাই। খুব শীঘ্রই আমরা অন্য কোনো নির্ধারিত স্থানে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করবো।



স্কুলের অন্যতম উদ্যোক্তা ও শিক্ষক হাবিব রেহমান বলেন, নিঃস্বার্থভাবে আমরা পথশিশুদের শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে চেষ্টা করছি। নিজেরা টাকা জমিয়ে পথশিশুদের বই, খাতা, কলম কিনে দিচ্ছি। অনেকে এ কাজে আমাদেরকে সহযোগিতা করে থাকেন। অনেকে শিক্ষক হিসেবে শিশুদের পড়িয়ে আমাদের সহযোগিতা করেন। কেউ যদি নিঃস্বার্থভাবে আমাদের যে কোনো সহযোগিতা করতে চায়_আমরা তা গ্রহণ করি। আমরা মনে করি, সবার সার্বিক সহযোগিতায় চাঁদপুরের পথশিশুরা যথাযথ শিক্ষা অর্জন করবে। তারাও অন্যান্য শিশুর মতো বেড়ে ওঠবে।



 



স্কুল কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে কোনো প্রতিবন্ধকতা পেয়েছেন কিনা জানতে চাইলে উদ্যোক্তারা জানান, আমরা নিঃস্বার্থভাবে সামাজিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পথশিশুদের পড়িয়ে যাচ্ছি। কিন্তু অনেকে গুজব ছড়াচ্ছেন_তারা আমাদেরকে টাকা দিচ্ছেন পথশিশুদের পড়ানোর জন্যে। আসলে তেমনটি নয়। অনেকে পথশিশুদেরকে ব্যবহার করে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করতে চাচ্ছেন। এসব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। আবার অনেকে নিরুৎসাহিতও করেন এ কাজে। আমরা আমাদের কাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্যে চাঁদপুর জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, রাজনীতিবিদ ও সচেতন মানুষের সহযোগিতা কামনা করছি।



 



তরুণদের সামাজিক উদ্যোগ বাস্তবায়নের প্রতিবন্ধকতা দূর করে আলোর দিশারী স্কুলটি আগামী দিনে আরো এগিয়ে যাবে, আলোকিত করবে পথশিশুদের_এই প্রত্যাশা সমাজসচেতনদের।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৬০৯৮৬১
পুরোন সংখ্যা