চাঁদপুর। মঙ্গলবার ১৮ জুলাই ২০১৭। ৩ শ্রাবণ ১৪২৪। ২৩ শাওয়াল ১৪৩৮

বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • আজ ভোরে অ্যাডঃ এ.বি.এম. মোনাওয়ার উল্লা মৃত্যুবরন করেছেন (ইন্নালিল্লাহে.....রাজেউন)। তাঁর মৃত্যুতে চাঁদপুর রোটারী ক্লাব ও চাঁদপুর ডায়াবেটিক সমিতির পক্ষ থেকে গভীর শোক জানিয়েছেন
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৮-সূরা কাসাস 


৮৮ আয়াত, ৯ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৮৭। তোমার প্রতি আল্লাহর আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর উহারা যেন তোমাকে কিছুতেই সেগুলি হইতে বিমুখ না করে। তুমি তোমার প্রতিপালকের দিকে আহ্বান কর এবং কিছুতেই মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হইও না। ’


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


বিয়ে করা ভালো কিন্তু প্রতিপালনে অক্ষম হলে না করাই ভালো।


                        -ডাব্লিউ জি বেনহাম।

যে ব্যক্তির স্বভাবে নম্রতা  নেই সে সর্বপ্রকার কল্যাণ হইতে বঞ্চিত।


বিশেষ সাক্ষাৎকার : ডাঃ শরীফ মহিউদ্দিন
জাপানের স্কুলগুলোতে শিশু শিক্ষার্থীকে কেবল পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দেয়া হয় না, আচার-ব্যবহার, খেলাধুলা, রান্নাবান্না, ঘরের কাজকর্ম করার শিক্ষাও দেয়া হয়
১৮ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


ডাঃ শরীফ মহিউদ্দিন। বর্তমানে জাপানের আইচি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করছেন। তাঁর পিএইচডির বিষয় 'ডায়াবেটোলজী'। এর আগে তিনি নিউদিলি্লর এপোলো হাসপাতাল থেকে ফেলো অফ ডায়াবেটিস ও শাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে এমবিবিএস শেষ করেন। শরীফ মহিউদ্দিন ২০০৪ সালে মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের ট্যালেন্টফুলে বৃত্তি পান। ২০১২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিবিএস সনদ, ২০১৬ সালে আমেরিকান ডায়াবেটিক সমিতির বৃত্তি, ২০১৫ সালে লন্ডনের রয়েল সোসাইটি অফ পাবলিক হেলথ থেকে ফেলোশিপ লাভ করেন। এ বছর তিনি জাপানের আইচি বিশ্ববিদ্যালয় স্কলারশিপপ্রাপ্ত হন।



চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার নরিংপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করা ডাঃ শরীফ মহিউদ্দিন পড়াশোনার পাশাপাশি লেখালেখি ও সাংস্কৃতিক কর্মকা-ে যুক্ত আছেন। তিনি আবৃত্তি, ক্বেরাত, রচনা লিখনসহ নানা প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন জাতীয় পুরস্কার ও সনদপত্র লাভ করেছেন। নিয়মিত দেশ ও বিদেশের আন্তর্জাতিক পত্রিকাগুলোতে তিনি স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রবন্ধ লিখে থাকেন। তিনি জাপানে বাংলাদেশী গবেষকদের নিয়ে প্রতিষ্ঠিত ইয়াং রিসার্চার ফোরাম ফর বায়োমেডিকেল রিসার্চের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, দরিদ্র শিশুদের জন্য প্রতিষ্ঠিত জাগো ফাউ-েশন-এর কার্যকরী সদস্য, বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির নিবন্ধিত ও নির্বাচিত চিকিৎসক, বাংলাদেশে দরিদ্র ডায়াবেটিক রোগীদের সেবা ও সাহায্যের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত 'সেবা' নামক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা, আমেরিকান ডায়াবেটিক সমিতির ফেলো মেম্বার হিসেবে কাজ করছেন।



সম্প্রতি তাঁর সাথে যোগাযোগ হয় দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের শিক্ষাঙ্গন বিভাগের। ই-মেইলে পাঠানো বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর তিনি জানিয়েছেন মুহাম্মদ ফরিদ হাসানকে। বিশেষ সাক্ষাৎকার হিসেবে ডাঃ শরীফ মহিউদ্দিনের সাক্ষাৎকারটি আজ প্রকাশিত হলো।



শিক্ষাঙ্গন : কেমন আছেন?



ডাঃ শরীফ মহিউদ্দিন : আলহামদুলিল্লাহ্ ভালো আছি।



শিক্ষাঙ্গন : অনেকদিন প্রবাসে আছেন। কী করছেন?



ডাঃ শরীফ মহিউদ্দিন : বর্তমানে ডায়াবেটিক রোগীদের চিকিৎসা ও এ বিষয়ে গবেষণা নিয়ে দারুণ একটা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছি। আমি মূলত জাপানে এসেছি ডায়াবেটিক নিয়ে চলা বিশ্বব্যাপী একটি বিশেষ গবেষণার অংশ হিসেবে। আমেরিকান ডায়াবেটিক সমিতির পৃষ্ঠপোষকতায় ডায়াবেটিস নামক মহামারীর স্থায়ী সমাধানে সারা দুনিয়ার অনেক দেশেই কাজ চলছে, আমার বিশ্ববিদ্যালয় আইচি মেডিকেল ইউনিভার্সিটির ডায়াবেটিস বিভাগও কাজ করছে একই বিষয়ে।



শিক্ষাঙ্গন : আপনার প্রাথমিক শিক্ষা অর্জনের স্মৃতি সম্পর্কে জানতে চাই।



ডাঃ শরীফ মহিউদ্দিন : আমার প্রথম স্কুল আমার নানার বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জে। আর দশজনের মতই শুরু হয়েছিলো শিক্ষা জীবন। চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ার সময় আমি দারুণভাবে অসুস্থ হয়ে যাই, হাসপাতাল আর বাসায় এমনি করে প্রায় তিন বছর কেটে যায়। কেউ ভাবতে পারেনি নতুন করে আবার পড়াশোনা শুরু করতে পারবো। কিন্তু মনের তীব্র ইচ্ছাশক্তি দিয়ে তিন বছর পর নতুন করে পড়তে বসলাম। আবার স্কুলে ভর্তি হলাম ক্লাস ফাইভে চাঁদপুর হাসান আলী সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সে সময়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষক মালেক স্যার, হেড মাস্টার হাফিজ স্যার দারুণভাবে প্রেরণা দিয়েছেন। পরবর্তীতে হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হই। ৮ম শ্রেণী পাস করার পর একদিন কোরআনের একটি সুরার আরবী অনুবাদ পড়লাম। খুব খারাপ লাগলো এই ভেবে যে, আমি নিজের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ তেমন বুঝি না, তাই হুট করেই ভর্তি হলাম মাদ্রাসায়। এলাকার লোকজন, আমার স্কুলের শিক্ষক কেউই বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারেন নি। চাঁদপুর আহমদিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় নবম শ্রেণীতে এমন একজন ভর্তি হলো, যে কোনোদিন মাদ্রাসার বারান্দায় হাঁটাহাঁটিও করেনি। কিন্তু আমার মাদ্রাসার শিক্ষক খালিদ মোঃ সাইফুল্লাহ হুজুর আমার প্রতি তীব্র বিশ্বাস রাখলেন। দিনরাত এক করে পড়াশোনা করলাম। সবাইকে অবাক করে দিয়ে মাদ্রাসা বোর্ডে গোল্ডেন এপ্লাসে সারাদেশের ৪র্থ মেধাস্থান পেলাম। আমাদের সময়ে এ প্লাস ছিলো হাতে গোণা কয়েকজন। পরবর্তীতে আবার নটরডেম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করি। এমবিবিএস-এর পর দিল্লী এপোলো হাসপাতাল থেকে ডায়াবেটিসে ফেলোশিপ এবং রয়েল সোসাইটি অব পাবলিক হেলথ, ল-ন থেকে ফেলোশিপ অর্জন করি।



শিক্ষাঙ্গন : প্রবাস জীবনের একটি ভালো ও একটি খারাপ লাগার কথা জানতে চাই।



ডাঃ শরীফ মহিউদ্দিন : আসলে জাপানে আসার পর সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে এখানকার প্রশাসনিক কাজকর্ম। বিভিন্ন দরকারি কাগজ সংগ্রহ করতে সিটি অফিস, ইমিগ্রিশন অফিস যেতে হয়। কিন্তু কোথাও ১/২ মিনিটের বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি। কারণ একজন যাওয়া মাত্রই অফিসের পুরো কর্মী বাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়ে তাকে সাহায্য করার জন্য। যেন এক প্রতিযোগিতা কার আগে কে সাহায্য করবে।



আর খারাপ লাগে পরিবার পরিজন আত্মীয় স্বজন ছাড়া বাইরে থাকতে। আমাদের পরিবারের ৫ জন সদস্য-বাবা, মা ও আমরা তিন ভাই-বোন। বাবা সেই ছোটবেলা থেকে এখনো প্রবাসে। ছোট ভাইটা ইউরোপিয়ান স্কলারশীপ নিয়ে পর্তুগালের লিসবোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে, আমি জাপানে পিএইচডি করছি। দেশে শুধু মা আর একমাত্র ছোট বোনটা। তাদের জন্য মাঝে মাঝে খুবই খারাপ লাগে। তবে আশা



 



নিয়ে বুক বাঁধি, একদিন সব শেষ হলে আমরা বাড়ি ফিরবো, আবার আমাদের সবার দেখা হবে।



শিক্ষাঙ্গন : বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থাকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করেন?



ডাঃ শরীফ মহিউদ্দিন : বাংলাদেশের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা এক অস্থির সময় পার করছে। জেএসসি, পিএসসি, সৃজনশীল নিয়ে এখনো কারো ধারণাই স্পষ্ট হয়নি। দেশে ৮/১০ রকমের শিক্ষা ব্যবস্থা চালু আছে। আগামী ৫০ বছর পর বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে কিংবা দাঁড়ানো উচিত তা নিয়ে কেউই ভাবছে না। এর মধ্যে যোগ হয়েছে প্রশ্ন ফাঁস মহাউৎসব। কোনো পরীক্ষা বাদ যাচ্ছে না এর ছোবল থেকে। আমি আসলে বড় বেশি শঙ্কিত। তবে এর মধ্যে আশার বাণী এই যে, সরকার শিক্ষা ব্যবস্থা আধুনিকায়ন করতে আন্তরিক ভাবে চেষ্টা চালাচ্ছে , বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শ্রেণী কক্ষে পাঠদানের ধরণ বদলেছে অনেক, গ্রামে গ্রামে স্কুল হচ্ছে। মনে হচ্ছে আমরা হয়তো পরীক্ষায় ভালো ভাবেই উতরে যাবো।



শিক্ষাঙ্গন : আপনি এক সময় লিখতেন। কীভাবে লেখালেখি শুরু করেছিলেন?



ডাঃ শরীফ মহিউদ্দিন : আমার লেখালেখির ইচ্ছা খুব ছোটবেলা থেকেই। স্কুলের ম্যাগাজিনে কবিতা, প্রবন্ধ এসব লিখতাম। একবার জাতীয় পর্যায়ে রচনা লিখন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার পেয়েছি। এছাড়া চাঁদপুর শহর কিংবা তার আশেপাশে কোনো প্রতিযোগিতা হলে স্কুলের পক্ষ থেকে অনিবার্যভাবে আমাকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হতো। কোন না কোন পুরস্কার পেয়েই যেতাম। সবচেয়ে বেশি পথ খুলে দিয়েছিলো চাঁদপুর কন্ঠের শিশুকন্ঠ। আমার স্পষ্ট মনে আছে, আমি শিশুকণ্ঠের ১২ তম সদস্য। প্রতি রোববার শিশুকণ্ঠ ছাপতো, আমাদের লেখা ছাপা হবে কিনা তার জন্য কী দারুণ অপেক্ষা। আমার বাল্যবন্ধু হেলাল ঢালী লিখতো খুব ভালো। এছাড়া সাদ বিন ফারুক, সেলিনা রহমান নিলা সহ অনেক অনেক শিশু তখন লিখতো। আজ সবাই অনেক বড় হয়ে গেছে, কে কোথায় আছে জানি না। আচ্ছা, শিশুকন্ঠ কি এখনো চালু আছে? এখনো কি নিয়মিত সুন্দর সুন্দর লিখা বের হয়? এখন নিয়মিত বস্নগে লেখালেখি করি। এছাড়া বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় স্বাস্থ্য বিষয়ক কলাম লিখছি নিয়মিত। তাছাড়া আগামী বই মেলার জন্য দুটো বই লেখার কাজে হাত দিয়েছি, আশা করি সফল হবো।



শিক্ষাঙ্গন : পড়াশোনার বাইরে খেলাধুলা ও সংস্কৃতি চর্চা কতটা জরুরি বলে আপনি মনে করেন?



ডাঃ শরীফ মহিউদ্দিন : আমাদের বাবা-মাদের ধারণা, বইয়ের পাতায় যা লিখা তা-ই বোধহয় পড়াশোনা। কিন্তু আসলে এই কনসেপ্টটাই ভুল। আসলে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকা-ে অংশ না নিলে পড়াশোনাই যে সম্পূর্ণ হয় না এটা বুঝার সময় এখন এসেছে। একজন মানুষ পরিপূর্ণ মানুষ হিসাবে সমাজে আবির্ভূত হতে হলে তাকে অনেক প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হয়। খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকা- সেটিকে এগিয়েই দেয় বলে আমি মনে করি।



শিক্ষাঙ্গন : বর্তমানে ডায়বেটোলজির ওপর আপনি পিএইচডি করছেন। পিএইচডির বিষয় সম্পর্কে বলুন।



ডাঃ শরীফ মহিউদ্দিন : আমার গবেষণার বিষয় হলো ডায়াবেটিক নির্মূলে স্থায়ী সমাধান। আমরা কাজ করছি স্টেম সেল নিয়ে, যেটি ডায়াবেটিস নির্মূলের স্থায়ী সমাধান হতে পারে বলে আশা করা যায়। এ গবেষণায় সফল হলে ডায়াবেটিস নামের মহামারী প্রতিরোধ ও প্রতিকারে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।



শিক্ষাঙ্গন : জাপানে কেউ যদি পড়তে যেতে চায়, তার করণীয় সম্পর্কে কিছু বলুন।



ডাঃ শরীফ মহিউদ্দিন : জাপানে পড়াশোনার অনেকগুলো দিক আছে। বাংলাদেশ থেকে বেশির ভাগই আসেন পিএইচডি করতে। বিশেষ করে বিজ্ঞান বিভাগের সাব্জেক্টে। যেমন চিকিৎসা, প্রকৌশল, রসায়ন সহ নানা বিষয়ে পিএইচডি করতে আসা যায়। তবে সেজন্যে আপনার পড়াশোনায় ভালো ব্যাকগ্রাউন্ড থাকা লাগবে, মাস্টার্স সম্পন্ন হতে হবে, এছাড়া ভালো গবেষণাপত্র প্রয়োজন হয়। আরো একটি গ্রুপ আসেন জাপানী ভাষা শিক্ষা গ্রহণ করতে। বাংলাদেশে বিভিন্ন সেন্টার থেকে কিছু অংশ শিখে বাকিটা জাপানের বিভিন্ন ভাষা শিক্ষা স্কুলে ভর্তির মাধ্যেমে শিখতে হয়। এরপর জাপানী মিডিয়ামে অনার্স, মাস্টার্স কিংবা ডিপ্লোমাতে ভর্তি হতে পারেন, তবে এটি খুব ব্যয় সাপেক্ষ। প্রায় ১০/১২ লাখ টাকার মত খরচ হয়। অন্যদিকে পিএইচডি করতে আসা যারা তাদের বেশির ভাগই স্কলারশীপ নিয়েই আসেন, থাকা খাওয়া থেকে শুরু করে বিমান ভাড়া সব সরকারি কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচে হয়ে থাকে। যেমন আমার খরচ হয়েছিলো টোটাল ২৬০০ টাকা। এই ২৬০০ টাকা খরচ করেছি আমার সার্টিফিকেটগুলো জাপানে পাঠাতে, বাকি সব খরচই বিশ্ববিদ্যালয় বহন করেছে এবং করছে।



শিক্ষাঙ্গন : জাপানের শিক্ষা ব্যবস্থা ও বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে কী পার্থক্য আপনার চোখে পড়ে?



ডাঃ শরীফ মহিউদ্দিন : বাংলাদেশের প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার দারুণ ত্রুটি। আমি দেখি আমার ক্লাস থ্রি পড়ুয়া বোনটিকে সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে বিরাট এক ব্যাগ কাঁধে ঝোলাতে হয়। সেখানে ৮/১০ রকমের বইয়ের সমাহার। কিন্তু এখানকার চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। একটি শিশুকে স্কুল শুধু পাঠ্য বইয়ের শিক্ষা দেয় না, বরং রান্নাবান্না, আচার ব্যবহার, খেলাধুলা, ঘরের কাজকর্ম যেমন নিজের কাপড়-জামা ধোয়া, ইস্ত্রী করা সব শেখায় স্কুল থেকে। প্রতিটা স্কুল একই সাইজের, একই রংয়ের, কোনো ভিন্নতা নেই। একই শিক্ষা, একই ধরনের বই। আর স্কুলের বেতন সেটি নির্ভর করে অভিভাবকের আয়ের উপর। কেউ দশ লাখ টাকা আয় করলে তাকে বেশি টাকা স্কুলে দিতে হবে, আবার কেউ দশ হাজার আয় করলে তাকে সামান্য পরিমাণ কিংবা নাও দিতে হতে পারে। কিন্তু সুযোগ সুবিধা, বইপত্র সব কিছু স্কুল সমানে সমানে। জাপানে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত কোনো পরীক্ষা নেই, শুধু ক্লাসে তারা জীবন বোধের শিক্ষাই দিয়ে থাকে।



শিক্ষাঙ্গন : শেষ কবে দেশে এসেছেন?



ডাঃ শরীফ মহিউদ্দিন : আসলে আসার পর এখনো যেতে পারিনি, ইনশা আল্লাহ খুব শীঘ্রই দেশে যাবো।



শিক্ষাঙ্গন : অবসর সময়ে কী করেন?



ডাঃ শরীফ মহিউদ্দিন : আমি খুব ভ্রমণ পিপাসু মানুষ, ঘুরতে ভালো লাগে। জাপান অদ্ভুত সুন্দর একটা দেশ। চারদিকে শুধু ফুল আর ফুল, নানা জাতের হাজার হাজার লাখো লাখো ফুল ছড়িয়ে আছে পুরো দেশে। ইচ্ছে আছে পুরো জাপানের সবক'টি দ্বীপ ঘুরে দেখার।



শিক্ষাঙ্গন : চাঁদপুর কণ্ঠের পাঠকদের উদ্দেশে কিছু বলুন।



ডাঃ শরীফ মহিউদ্দিন : চাঁদপুর কন্ঠ চাঁদপুরবাসীর আবেগের একটি জায়গা। ইলিশ যেমন চাঁদপুরের সম্পদ, চাঁদপুর কণ্ঠও তেমনি একটি সম্পদ। সব পাঠককে ধন্যবাদ কষ্ট করে কথাগুলো পড়ার জন্য। আপনারা ভালো থাকবেন, দোয়া করবেন যেন দেশ-জাতি তথা চাঁদপুরবাসীর মুখ উজ্জ্বল করে একদিন দেশে ফিরে আসতে পারি।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
২৫১২৩০
পুরোন সংখ্যা