চাঁদপুর। মঙ্গলবার ১৮ জুলাই ২০১৭। ৩ শ্রাবণ ১৪২৪। ২৩ শাওয়াল ১৪৩৮
kzai
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • ফরিদগঞ্জের রুপসা বাজার ব্যবসায়ী কমিটির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হাঙ্গামা, ভোট গণনা স্থগিত || মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল এলাকায় সড়কের পাশ থেকে এক নারীর লাশ উদ্ধার।। ২০১৯ সালে দেশে লোডশেডিং থাকবে না--মেজর অব: রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম এমপি।  || মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল এলাকার সড়কের পাশ থেকে এক নারীর লাশ উদ্ধার || মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল এলাকার রাস্তার পাশ থেকে হিন্দু মহিলার লাশ উদ্ধার
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৮-সূরা কাসাস 


৮৮ আয়াত, ৯ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৮৭। তোমার প্রতি আল্লাহর আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর উহারা যেন তোমাকে কিছুতেই সেগুলি হইতে বিমুখ না করে। তুমি তোমার প্রতিপালকের দিকে আহ্বান কর এবং কিছুতেই মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হইও না। ’


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


বিয়ে করা ভালো কিন্তু প্রতিপালনে অক্ষম হলে না করাই ভালো।


                        -ডাব্লিউ জি বেনহাম।

যে ব্যক্তির স্বভাবে নম্রতা  নেই সে সর্বপ্রকার কল্যাণ হইতে বঞ্চিত।


ফটো গ্যালারি
সাক্ষাৎকার : দুলাল কৃষ্ণ ঘোষ
শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকরা যথাযথ পাঠদান না করাতেই কোচিংয়ের দিকে শিক্ষার্থীরা ঝুঁকে পড়ছে
১৮ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


দুলাল কৃষ্ণ ঘোষ বর্তমানে শাহতলীর হামানকর্দ্দি পল্লীমঙ্গল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি ৩৪ বছর ধরে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত থেকে আলোকিত করেছেন অসংখ্য শিক্ষার্থীকে। ২০১৫ সালে 'আলোকিত মৈশাদী' অনুষ্ঠানে তাঁকে শিক্ষক হিসেবে সম্মাননা প্রদান করা হয়। সম্প্রতি তাঁর শিক্ষকতা জীবন, শিক্ষা সম্পর্কে ভাবনাসহ আরো নানা বিষয়ে তাঁর সাথে কথা বলেছেন 'শিক্ষাঙ্গন' বিভাগীয় সম্পাদক মুহাম্মদ ফরিদ হাসান। সাক্ষাৎকারটি আজ প্রকাশিত হলো।



শিক্ষাঙ্গন : কেমন আছেন?



দুলাল কৃষ্ণ ঘোষ : শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা ও সবার আন্তরিকতায় স্রষ্টার কৃপায় ভালো আছি।



শিক্ষাঙ্গন : আপনার শিক্ষকতা জীবনের শুরু সম্পর্কে জানতে চাই।



দুলাল কৃষ্ণ ঘোষ : ১৯৮৪ সালের মার্চের ঘটনা। এ বিদ্যালয়ে তখন শিক্ষক সঙ্কট ছিলো। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুরোধে একদিন স্কুল আসি। তখন শিক্ষকরা আমাকে টেনের ক্লাস নিতে বললেন। ক্লাসে ঢুকে আমি তো অবাক। সব ছাত্র প্রায় লম্বায় ও বয়সে আমার কাছাকাছি। তবে তারা খুব আন্তরিক ছিলো। পরের মাসেই আমি নিয়োগপ্রাপ্ত হই। তখন বিদ্যালয়টি টিনশেড একচালা ঘর ছিলো। বৃষ্টি হলে বাইরের চেয়ে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়তো বেশি। বর্ষায় ইটের ওপর দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ক্লাস করাতে হতো। তখন ১শ' ২৫ জন শিক্ষার্থী ছিলো। শৌচাগার ছিলো না। অনেক কষ্টে আমরা পড়াতাম। শিক্ষার্থীরাও তখন কষ্ট করে পড়েছে। তখনকার শিক্ষার্থীরা খুব প্রাণোচ্ছল ছিলো। পরে বিদ্যালয়ের সহ-সভাপতি শেখ আঃ রশিদ বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন করতে চেষ্টা করেছিলেন। পরবর্তীতে বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি আঃ কাদের মাস্টার, সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল মান্নান, সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব জামাল খানের প্রচেষ্টায় বিদ্যালয়টি বর্তমান রূপ পায়।



শিক্ষাঙ্গন : আপনার প্রিয় শিক্ষক কে? কাদের দ্বারা খুব অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন?



দুলাল কৃষ্ণ ঘোষ : আমার প্রিয় শিক্ষক ছিলেন মোঃ তাজুল ইসলাম খান। তিনি জিলানী চিশতি উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজির সহকারী শিক্ষক ছিলেন। তিনি আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন। হাইস্কুল জীবনে আমি একটু বেখেয়ালি ছিলাম। তিনি সেসময়ে পড়াশোনার প্রতি আমাকে খুব উৎসাহিত করেছিলেন। তাঁর কারণেই আমি পড়াশোনা সুন্দরভাবে শেষ করতে পেরেছি। তাঁর প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।



শিক্ষাঙ্গন : আপনার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে কিছু বলুন।



দুলাল কৃষ্ণ ঘোষ : বিভিন্ন বোর্ড পরীক্ষায় ৯০ ভাগ এ স্কুলের শিক্ষার্থী পাস করে এবং অনেকেই জিপিএ-৫ লাভ করে। আমাদের বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় ভালো করছে। কিন্তু তাদের জন্যে প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণের অভাব রয়েছে। শ্রেণিকক্ষের সমস্যা রয়েছে। তবে সংসদ সদস্য ডাঃ দীপু মনির একান্ত প্রচেষ্টায় আমাদের একতলা ভবনকে খুব শীঘ্রই তিনতলায় উন্নীত করা হবে। এর জন্যে অর্থ বরাদ্দও হয়ে গেছে। শিক্ষার্থীরা অনেক উৎসাহী। আমরা শিক্ষার্থীদের গুণগত শিক্ষা প্রদান করতে চাই। শিক্ষকরাও সবাই যোগ্যতাসম্পন্ন। শিক্ষকদের আন্তরিকতা অব্যাহত থাকলে আগামীতে চাঁদপুরের স্বনামধন্য স্কুলগুলোর সাথে এ স্কুলটিও একসাথে উচ্চারিত হবে। এর সাথে সাথে আমি বিদ্যালয়ের জন্যে ভূমিদাতা মরহুম সিদ্দিকুর রহমান খান, মরহুম ফাজিল খান, মরহুম হাছন খান, মুনছুফ খানসহ বিগত দিনের শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, সদস্যদের কথা স্মরণ করতে চাই। তাঁদের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ।



শিক্ষাঙ্গন : শিক্ষক ও শিক্ষার্থী সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত?



দুলাল কৃষ্ণ ঘোষ : শিক্ষাদানে কাজের পরিধি বেড়েছে। এ কারণে শিক্ষক ক্লাসের বাইরে অনেক সময় শিক্ষার্থীদের সময় দিতে চায় না। কিন্তু আমার মনে হয়, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত খোঁজখবর নেয়া উচিত। শিক্ষকরা পারিবারিক খোঁজখবরও নিবেন। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সম্পর্ক উন্নয়ন হলে পাঠদান করা সহজ হবে। ফলাফলও ভালো হবে।



শিক্ষাঙ্গন : সহ-পাঠক্রমিক কার্যক্রমকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?



দুলাল কৃষ্ণ ঘোষ : সহ-পাঠক্রমিক কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের জন্যে খুব গুরুত্বপূর্ণ। খেলাধুলা ও সংস্কৃতি চর্চা না করলে আদর্শ নাগরিক হওয়া যায় না। ভালোভাবে পড়াশোনা ও সহ-পাঠক্রমিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ_এ দুটির সমন্বয় হলে একজন শিক্ষার্থী জীবনে অনেকদূর এগিয়ে যেতে পারবে। আমাদের স্কুলে বিতর্ক, দেয়ালিকা, ম্যাগাজিন, সঙ্গীত, খেলাধুলা, স্কাউট ইত্যাদি শিক্ষার্থীরা নিয়মিত অংশগ্রহণ করে কার্যক্রমে থাকে।



শিক্ষাঙ্গন : 'কোচিং বাণিজ্য' বর্তমানে বেড়েই চলছে। কেন কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করা যাচ্ছে না বলে আপনার মনে হয়?



দুলাল কৃষ্ণ ঘোষ : সরকার কোচিং বাণিজ্যের বিরুদ্ধে সরব অবস্থান নিয়েছে। শিক্ষার সাথে যখন বাণিজ্য যুক্ত হয়, তখন সেটা ভালো হবে না এটাই স্বাভাবিক। ক্লাসে ঠিকমতো পড়ালেই কোচিংয়ে যাবার প্রয়োজন পড়ে না। যারা কোচিং করাচ্ছেন, তারা সরকারের নীতিমালা ভঙ্গ করছেন। আবার অভিভাবকরাও অনেক সময় প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব দেখান। কার সন্তান কতো ভালো করতে পারে এ নিয়ে প্রতিযোগিতা। এটা একটা অসুস্থ প্রতিযোগিতা বলে আমার মনে হয়। সন্তানকে তার মতো করে বেড়ে উঠতে দিতে হবে। শিক্ষকদের ক্লাসমুখী করতে পারলেই কোচিং বাণিজ্য দূর হবে। আর দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্যে 'বিশেষ ক্লাসের' ব্যবস্থা নিয়ম অনুযায়ী স্কুল কর্তৃপক্ষই করতে পারে।



শিক্ষাঙ্গন : আপনার বিদ্যালয়কে নিয়ে কী স্বপ্ন দেখেন?



দুলাল কৃষ্ণ ঘোষ : পাঁচ বছরের মধ্যে এখানকার শিক্ষার্থীরা শতভাগ পাস করবে_এটা দেখতে চাই। সর্বনিম্ন শিক্ষার্থীদের ফলাফল এ গ্রেড থাকবে। গ্রামের মানুষ যাতে এ স্কুলটিকে নিয়ে গর্ববোধ করে, শিক্ষকরাও যাতে গর্বিত হয়। এ বিদ্যালয়টিতে কারিগরি শিক্ষা শাখা খোলার ইচ্ছে আমাদের রয়েছে। এগুলোই আমার স্বপ্ন। আমার বিদ্যালয়টিকে আমি এভাবেই দেখতে চাই।



শিক্ষাঙ্গন : ত্রিশ বছর আগের ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে আপনি কী পার্থক্য লক্ষ্য করেন?



দুলাল কৃষ্ণ ঘোষ : ত্রিশ বছর আগে শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসতো লুঙ্গি পরে। অনেক কষ্ট করে তারা পড়াশোনা করেছে। প্রযুক্তিগত সুবিধা তারা পায় নি। এখনকার মতো তখন শিক্ষার্জনের প্রসারিত ক্ষেত্র ছিলো না। অনেক শিক্ষার্থী ঝরে পড়তো। এখন তো শিক্ষার বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে। শিক্ষা পরিবেশের উন্নতি হয়েছে। তখনকার শিক্ষার্থীদের মধ্যে অদ্ভুত সরলতা ছিলো। নিঃসঙ্কোচে তারা সবকিছু বলতো। খেলাধুলা ও সংস্কৃতি চর্চায় তখনকার শিক্ষার্থীরা খুব উৎসাহী ছিলো। বর্তমান প্রজন্ম সংস্কৃতি চর্চায় পিছিয়ে পড়েছে বলে আমার মনে হয়।



শিক্ষাঙ্গন : আপনার প্রতিষ্ঠানের অভিভাবকরা কতটুকু সচেতন? অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কী করণীয়?



দুলাল কৃষ্ণ ঘোষ : অভিভাবকদের অর্ধেকই এখন সচেতন। তারা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত খোঁজখবর নেন। শিক্ষকদের সাথে যোগাযোগ রাখেন। সন্তানের ভালোমন্দ জানতে চান। আমরা অভিভাবকদের সচেতন করতে বিভিন্ন অনুষ্ঠান করে থাকি। স্কুলের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করি। পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীর অভিভাবকের সাথে আমরা নিয়মিত যোগাযোগ করি। অভিভাবক সমাবেশ তো রয়েছেই। রাতে হোম ভিজিট করি। তবে পুরুষ অভিভাবকদের চেয়ে নারী অভিভাবকরাই এখন খুব বেশি সচেতন।



শিক্ষাঙ্গন : শিক্ষকদের প্রতি আপনার প্রত্যাশা কী?



দুলাল কৃষ্ণ ঘোষ : শিক্ষকদের কাছে প্রত্যাশা, তারা যদি যোগ্যতা অনুযায়ী পরিশ্রম করে তবে স্কুলটি খুব দ্রুত এগিয়ে যাবে। নিজের মতো করে যদি তারা কাজ করে তবে ফলাফলও অনেক সমৃদ্ধ হবে। শিক্ষকতা পেশায় নিজেকে ঢেলে দিয়ে সবাই আদর্শ শিক্ষক হিসেবে সর্বমহলে পরিচিত হবেন_এ প্রত্যাশা করি।



শিক্ষাঙ্গন : অবসর সময়ে কী করেন?



দুলাল কৃষ্ণ ঘোষ : অবসর খুব কম। অবসর পেলে পত্রিকা পড়ি। বইও পড়ি মাঝে মাঝে। পরিবারকে সময় দিই।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৩৭৩৫
পুরোন সংখ্যা