চাঁদপুর। মঙ্গলবার ৭ নভেম্বর ২০১৭। ২৩ কার্তিক ১৪২৪। ১৭ সফর ১৪৩৯

বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • ---------
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩১-সূরা লোকমান


৩৪ আয়াত, ৪ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


২২। যে কেহ আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ করে এবং সৎকর্মপরায়ণ হয় সে  তো দৃঢ়ভাবে ধারণ করে এক মজবুত হাতল, যাবতীয় কর্মের পরিণাম আল্লাহর ইখতিয়ারে।


২৩। আর কেহ কুফুরী করিলে তাহার কুফুরী যেন তোমাকে ক্লিষ্ট না করে। আমারই নিকট উহাদের প্রত্যাবর্তন।  অতঃপর আমি উহাদেরকে অবহিত করিব উহারা যাহা করিত। অন্তরে যাহা রহিয়াছে সে সম্বন্ধে আল্লাহ সবিশেষ অবহিত।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


কর্মদক্ষতাই মানুষের সর্বাপেক্ষা বড় বন্ধু।


                               -দাওয়ানি।

দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত জ্ঞানচর্চায় নিজেকে উৎসর্গ করো।


ভালো কাজে পাশে থাকা দরকার
কিউ এম হাসান শাহরিয়ার
০৭ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


ভালো কাজ করার জন্যে অনেকেই আমরা অনেককে বলে থাকি। বলি, এটা করো, ওটা করো। বক্তব্য কিংবা সেমিনারে গিয়ে বলি বেশি বেশি ভালো কাজ করতে হবে। গুরুজনরা বলেন, ভালো হয়ে চলতে হবে, ভালো কাজ করতে হবে। অনেকে বলেন, একটি ভালো কাজ একদিনে শেষ হয়ে যায় না। কেউ কেউ বলেন, ভালো কাজ করে যে, সুখে-সাচ্ছন্দে থাকে সে। ভালো কাজ করা নিয়ে এমন আরো অনেক কথা আমাদের সমাজে প্রচলিত আছে। এ কথাগুলো যৌক্তিক ও অর্থবহ। এসব কথা মেনেই আমি বলতে চাই, ভালো কাজ করার জন্যে আমাদের প্রত্যেকেই প্রত্যেকের পাশে থাকা উচিত। ভালো কাজের জন্যে উৎসাহ ও উদ্দীপনার পাশাপাশি আমরা কাছে থেকে সহযোগিতা করা উচিত। আমি মনে করি এতে করে অনেকেই ভালো কাজের প্রতি অনেক অনেক বেশি আগ্রহী হবে। যার ফলে সমাজে ভালো কাজের সংখ্যা বাড়বে।



 



ভালো কাজে পাশে থাকার কথা বলছিলাম। কীভাবে পাশে থাকবো? অথবা কে কার পাশে থাকবো? প্রাচীন একটি প্রবাদ আছে : ভালো কিছু নিজের ঘর থেকে শুরু করতে হয়। ভালো কাজে আপনিই আপনার সন্তান, স্ত্রী অথবা বাবার পাশে থাকুন। ধরুন আপনার মেয়েটি কোনো একটি স্কুলে পড়ে। আপনি নিশ্চয়ই চাচ্ছেন আপনার মেয়েটি ভালো হোক। তারা ভালো ভালো কাজ করুক। এজন্যে প্রথমত নৈতিকতা ও মূল্যবোধে তাকে শানিত করার দায়িত্ব আপনার। আবার নৈতিকতা, সামাজিকতার চর্চা করার সুযোগ দেয়ার দায়িত্বও কিন্তু আপনার। সে স্কুলে কোনো দরিদ্র শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়াতে চাইলে, অথবা সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টি করতে চাইলে, অথবা একটি বৃক্ষরোপণ করতে চাইলে, অথবা কোনো অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে বাবা-মা হিসেবে আপনার উচিত এই ভালো কাজটিতে তাকে আর্থিকভাবে, মানসিকভাবে সহযোগিতা করা। এসব কাজে যে খুব বেশি অর্থ ব্যয় হয় তা কিন্তু নয়। অর্থের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি সেটি হচ্ছে একটি ভালো কাজে আপনি তার পাশে আছে। এটিই তাকে আত্মশক্তিতে বলীয়ান করবে। সে যে কেবল পরিবারের জন্যে সম্মান বয়ে আনবে তা কিন্তু নয়। সে সমাজের জন্যেও ভালো কিছু বহন করে আনবে।



 



ভালো কাজ কী? আমাদের চারপাশে অসংখ্য ভালো কাজ করার জন্যে বিষয় রয়েছে। রাস্তার আশেপাশে ময়লা না ফেলে ডাস্টবিনে ময়লা ফেলা কিন্তু একটি ভালো কাজ। কোনো একজন বৃদ্ধকে রাস্তা পারাপার করাও একটি ভালো কাজ। কাউকে রক্ত দেয়াও অনেক ভালো কাজ। মাদক, বাল্য বিবাহ রোধে কাজ ভালো কাজ। ভালোভাবে পড়াশোনা করাও ভালো কাজ। ভালোভাবে কথা বলা, ভদ্র নম্র থাকাও ভালো কাজ। হিসেব করলে দেখা যাবে আমাদের চারপাশে কেবল ভালো কাজ আর ভালো কাজ। আমার অস্বচ্ছল সহপাঠীকে একটি বা দুটি পাঠ্য সহায়ক বই অথবা শিক্ষা সামগ্রী উপহার দেয়াও খুব ভালো কাজ। এর মধ্যে অধিকাংশ কাজই কিন্তু ছোট ছোট। এসব কাজ ছোট হলেও এ কাজগুলোর প্রভাব কিন্তু অনেক বড়। আমরা সবার যদি রাস্তায় ময়লা না ফেলি তাহলে কী হবে? দেখা যাবে চাঁদপুর ক্লিন সিটি হয়ে গেছে। আমরা যদি সবাই মাত্র একটি করে গাছ লাগাই এবং পরিচর্যা করি তাহলে কী হবে? আমরা দেখবো চাঁদপুর হয়ে গেছে ক্লিন সিটি। আমি একটি কাজ করলাম কিন্তু সম্মিলিতভাবে সেটা কিন্তু হাজার হাজার কাজ। আমরা আমাদের অবস্থান থেকে অনেক অনেক ভালো কাজ করতে পারি এবং যারা ভালো কাজ করে তাদের পাশে থাকতে পারি। এটা অবশ্যই স্মরণে রাখা দরকার, ভালো কাজের পাশে থাকাও কিন্তু একটি ভালো কাজ।



 



শিক্ষকরা ভালো কাজের জন্যে শিক্ষার্থীদেরকে তো বটেই, সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষদেরকে উৎসাহিত করতে পারেন। যদি স্কুলের শিক্ষকরা ভালো কাজের পাশে থাকেন তাহলে স্কুলের ফলাফল কিন্তু ভালো হবে। স্কুলের পরিবেশ আরো সুন্দর ও মনোরম হবে। শিক্ষার্থীরা আদর্শ শিক্ষার্থীতে পরিণত হবে। ক্রীড়া, সংস্কৃতিতে শিক্ষার্থীরা এগিয়ে যাবে। সেজন্যে শিক্ষার্থীদের কেবল ভালো কাজে উদ্বুদ্ধ করলে হবে না, ভালো কাজটিতে তাদের পাশে থাকতে হবে। প্রয়োজনে তারা কি কি ভালো কাজ করতে পারে সে ব্যাপারেও শিক্ষকরা পরামর্শ দিতে পারেন।



 



আমরা চাই, আমরা ভালো কাজ করার জন্যে কথা বলবো। পাশাপাশি কেউ যদি ভালো কাজ করতে চায় তাহলে তার পাশে থাকবো। এমন যেন না হয়, ভালো কাজ করার জন্যে শত শত কথা বললাম, কিন্তু ভালো কাজটি করার সময় নিজে সরে গেলাম!



আমরা নিজেরা সুখী হতে চাই। পরিবারকে সুখী রাখতে চাই। নিজেকে, পরিবারকে, আশেপাশের মানুষকে সুখী রাখতে ভালো কাজের কোনো বিকল্প নেই, ভালো কাজে পাশে থাকারও কোনো বিকল্প নেই।



লেখক : সহকারী অধ্যাপক, ব্যবস্থাপনা বিভাগ, চাঁদপুর সরকারি কলেজ।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৫৩৫০৭২
পুরোন সংখ্যা