চাঁদপুর। মঙ্গলবার ৭ নভেম্বর ২০১৭। ২৩ কার্তিক ১৪২৪। ১৭ সফর ১৪৩৯

বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • ---------
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩১-সূরা লোকমান


৩৪ আয়াত, ৪ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


২২। যে কেহ আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ করে এবং সৎকর্মপরায়ণ হয় সে  তো দৃঢ়ভাবে ধারণ করে এক মজবুত হাতল, যাবতীয় কর্মের পরিণাম আল্লাহর ইখতিয়ারে।


২৩। আর কেহ কুফুরী করিলে তাহার কুফুরী যেন তোমাকে ক্লিষ্ট না করে। আমারই নিকট উহাদের প্রত্যাবর্তন।  অতঃপর আমি উহাদেরকে অবহিত করিব উহারা যাহা করিত। অন্তরে যাহা রহিয়াছে সে সম্বন্ধে আল্লাহ সবিশেষ অবহিত।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


কর্মদক্ষতাই মানুষের সর্বাপেক্ষা বড় বন্ধু।


                               -দাওয়ানি।

দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত জ্ঞানচর্চায় নিজেকে উৎসর্গ করো।


কী যে ভালো লাগছে আমার!
তৃপ্তি সাহা
০৭ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


কী যে ভালো আমার লাগলো আজ



এই সকাল বেলা কেমন করে বলি।



কী নির্মল নীল এই আকাশ,



কী অসহ্য সুন্দর!



কবি বুদ্ধদেব বসু এমন এক সকালে এমন ভালো লাগার কথা বলেছেন। গ্রন্থাগার পেশাজীবীদের জাতীয় মহাসম্মেলন ও আন্তর্জাতিক সেমিনার। সেমিনারে যোগদানের জন্যে ঈগলে চাঁদপুর থেকে ঢাকায় যাচ্ছিলাম। বারান্দায় দাঁড়িয়ে হঠাৎ করে দু' চোখ ভরে গেলো, নদীরপাড়ের দৃশ্য দেখে। সাদা কাশফুল ছেঁয়ে গেছে নদীরপাড়। তার মানে পূজোর আর দেরি নেই। আর পূজো মানেই আনন্দ, পূজো বাঙালির শাশ্বত ভালো লাগার ভালোবাসার শারদীয় দুর্গোৎসব। চোখের সামনে ভেসে উঠলো পল্লবিত বৃক্ষের নিচে উঠোনে শিশির ভেজা শিউলি ফুলের ফুলশয্যা। মনটা চলে গেলো সেই অতি শৈশবে।



আমি সেই 'আলোকিত মানুষ' পালান সরকার, যিনি নিজের পকেটের পয়সা খরচ করে রাজশাহী জেলার আড়ানী গ্রামে এবং তার আশপাশের এলাকাতে বই বিতরণ কার্যক্রম সফলভাবে চালু করেছেন। ২০০৭ সালে 'প্রথম আলো' ছুটির দিনে ম্যাগাজিনে এই পালন সরকারকে নিয়ে প্রচ্ছদ করে। পরে গ্রামীণফোন বেশ ক'টি জাতীয় দৈনিকে এবং টেলিভিশনে কাজের ধরন নিয়ে বিজ্ঞাপন, নাটক, সাক্ষাৎকার ইত্যাদি নিয়ে রীতিমত ঝড় তোলে। সেই আড়ানী গ্রামে আমার অতি শৈশব কাটে, জন্ম রাজশাহীর মিশন হাসপাতালে। শৈশব সকলের কাছে মধুময় আর আমার কাছে স্বপ্নময়তা দিয়ে ভরপুর। যদিও আড়ানী একটা গ্রাম, কিন্তু এর কৃষ্টির প্রাণচাঞ্চল্যতা একে অন্য মাত্রায় প্রাণ দিয়েছিল। আমরা টমটম অর্থাৎ ঘোড়ার গাড়িতে স্টেশনে আসা-যাওয়া করতাম। পাকসি ব্রিজের উপর দিয়ে যখন ট্রেন চলতো-সেই শব্দ আজো মনে তোলপাড় তোলে। যেই গান গাইতাম সেই গানের সাথেই মিশে যেতো। আড়ানীতে সেই সময় মেয়েরা সাইকেল চালাতো। চৈত্র সংক্রান্তি, পহেলা বৈশাখ, দুর্গোৎসব, ঈদ, মহররম, বলিখেলা, দোতালা বাড়ির আকৃতির পিতলের রথ, রথটানা, সেই উপলক্ষে রথমেলা। সেই মেলাতে বিশাল বিশাল কড়াইতে সুস্বাদু পাঁপড় ভাজা; এগুলোর প্রাণ ছিলো অন্য মাত্রার। আজও হৃদয়ে ভালো লাগার অনুরণন তোলে। সেই সময় মানুষে মানুষে হৃদ্যতা, শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ধর্মীয় গ-ী পেরিয়ে আনন্দময় জীবনের সহায়ক হতো। ঝড়ের দিনে আমরা 'হাজির বাগানে' আম কুড়াতে যেতাম আর সুর করে গাইতাম, 'ঝড় এলো এলো ঝড়। আম পড় আম পড়। কাঁচা আম, পাকা আম, টক টক মিষ্টি! এই যা ! এলো বুঝি বৃষ্টি--! আম বাগানে আম কুড়ানো, আম বাগানে বনভোজন করার কথা, উৎসবে বেতের বড় বড় ডালাতে মুড়ি-মুড়কি বানানোর দৃশ্য_হৃদয়কে জড়িয়ে রেখেছে ভালোবাসার চোখভেজা অনুভবে।



এই যে শিউলি ফুলের বর্ণনা দিলাম সেটাও এই আড়ানী গ্রামের। যার পাশ দিয়ে বয়ে গেছে প্রমত্তা পদ্মার শাখা নদী বড়াল। সেখানেই আমরা স্নান করতাম। পুকুর কম ছিলো। নদীর পাড়েই কাশফুল ফুটতো। সাঁতরে নদী পার হয়ে কাশফুল তুলে আনতো তুলনামূলকভাবে বড় ছেলে-মেয়েরা। আমরা খুব ভোরে উঠে ছোট দুই ভাই-বোন সাজি হাতে নিয়ে পাশের বাসায় চলে যেতাম। মা জামা পড়িয়ে তৈরি করে দিতেন। সে বাড়ির উঠোন শিউলি ফুলে ভরে থাকতো। আমরা কুড়িয়ে সাজিভরে ফুল আনতাম_শিউলি, স্থলপদ্ম।



ঈগল চলছে। চিন্তা করলাম এবার পূজোয় সবাইকে এসএমএস পাঠাবো। লিখাটা মনে মনে ঠিক করলাম এইভাবে_'নদীর চরে কাশফুল, শিশির ভেজা শিউলি ফুল, ঢাকির ঢাক_সব কিছুই বলছে পূজোর আর দেরি নেই; তাহলে আর দেরি কেন? ছোট-বড় ভেদাভেদ ভুলে আমরা সবাই মেতে উঠি শারদীয় পূজোর উৎসবে'। লঞ্চঘাটে এসে ভিড়লো। বাসে উঠলাম, আবার ভালো লাগার পালা। বাসে যাত্রী পূর্ণই ছিল। এর মধ্য বেশ ক'জন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী ছিল। স্বস্তি বোধ করলাম। সত্যি বলতে এই প্রজন্ম আমার ভালো লাগার বিষয়।



 



পথিমধ্যে একজন বয়স্ক মহিলা বাসে উঠলেন। একজন ছাত্র নিজের সীট ছেড়ে দিয়ে মহিলাকে বসতে দিল। সে নিজে দাঁড়িয়ে থাকলো; তখন আমার কী যে ভালো লাগলো! আমরা যারা তরুণদের প্রতি ভালোবাসা দেখাতে কুণ্ঠাবোধ করি_তাদের প্রতি করুণা হলো।



বিভিন্ন জায়গায় ড্রাইভার এবং হেল্পারের যাত্রীদের সাথে অশালীন আচরণে শুধু ছাত্ররাই নয়, ছাত্রীরাও যেভাবে সচেনতার সাথে ধমকাচ্ছিল_সেটাও আমার ভালো লাগলো। সত্যি বলছি_এদেশে আজো এতো ভালো লাগার বিষয় আছে, তা শুধু দেখার চোখ নয়, একটা ভালো মনও থাকতে হয়।



 



তাই বর্তমান প্রজন্মকে বলতে চাই, তোমরা আমাদের সন্তান। তোমরাও অনেক 'ভালো'। তোমরাই পার অজেয়কে জয় করতে, অন্যায়কে থামিয়ে দিতে। সত্যকে তুলে আনতে অসত্যের মাঝ থেকে। ভালোবাসা আর শ্রদ্ধা দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে অন্য মাত্রায়। 'আমিও পারবো' এটিই হোক ভালো কাজের মূলমন্ত্র।



 



ওদেরকে পরিবেশ দিতে হবে, দিতে হবে অকৃত্রিম ভালোবাসা। চাপিয়ে দিয়ে নয় ভালোবেসে ওদেরকে ছেড়ে দিতে হবে ওদের লক্ষ্যে। ওরা এগিয়ে যাবে। আজ আমাদের দেশে বড় মানুষ নয়, ভালো মানুষ দরকার। ওদের উপর সম্পূর্ণ আস্থা রেখেই বলতে চাই_আমরা হয়তো সবাই ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হবো না-কিন্তু একজন ভালো মানুষ হবো। যে যে পেশাতেই থাকি না কেন, নিজেকে ভালোবাসবো, দেশকে ভালোবাসবো। আর এজন্যে আমাদেরকে বিনয়ী-ভদ্র-মানবিক এবং ইতিবাচক চিন্তার অধিকারী হতে হবে। অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হবে একসাথে। আর এসব কাজগুলো প্রতিদিন একটু একটু করে অনুশীলনের মাধ্যমে আমরা পরিপূর্ণ মানুষ হয়ে উঠবো। আর একজন পরিপূর্ণ মানুষ কখনই দরিদ্র হতে পারে না। প্রকৃতিই তার দারিদ্রতা দূর করে।



 



জয় হোক তরুণ প্রজন্মের, জয় হোক তারুণ্যের।



 



লেখক : গ্রন্থাগারিক, চাঁদপুর সরকারি কলেজ।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৫৩৫৩০০
পুরোন সংখ্যা