চাঁদপুর। মঙ্গলবার ৭ নভেম্বর ২০১৭। ২৩ কার্তিক ১৪২৪। ১৭ সফর ১৪৩৯

বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • ---------
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩১-সূরা লোকমান


৩৪ আয়াত, ৪ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


২২। যে কেহ আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ করে এবং সৎকর্মপরায়ণ হয় সে  তো দৃঢ়ভাবে ধারণ করে এক মজবুত হাতল, যাবতীয় কর্মের পরিণাম আল্লাহর ইখতিয়ারে।


২৩। আর কেহ কুফুরী করিলে তাহার কুফুরী যেন তোমাকে ক্লিষ্ট না করে। আমারই নিকট উহাদের প্রত্যাবর্তন।  অতঃপর আমি উহাদেরকে অবহিত করিব উহারা যাহা করিত। অন্তরে যাহা রহিয়াছে সে সম্বন্ধে আল্লাহ সবিশেষ অবহিত।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


কর্মদক্ষতাই মানুষের সর্বাপেক্ষা বড় বন্ধু।


                               -দাওয়ানি।

দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত জ্ঞানচর্চায় নিজেকে উৎসর্গ করো।


আমাদের ফরক্কাবাদ ডিগ্রি কলেজ
ড. মোঃ হাসান খান
০৭ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


একজন মানুষ হিসেবে কিছু কিছু বিষয়ে আমি তৃপ্তি বোধ করি। এরমধ্যে একটি হলো আমি শিক্ষক হতে পেরেছি। শিক্ষকতা পেশাকে আমি সবসময়ই উপভোগ করি। সমাজের জন্যে কিছু করতে পারছি ভেবে আমি আনন্দিত হই। আমি ফরক্কাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম। এখানে আমার জন্ম, বেড়ে ওঠা। তাই এখানকার পরিবেশ, মানুষের জীবনযাপন, চিন্তাধারা, শিক্ষার অবস্থা সম্পর্কে আমার ভালো ধারণা রয়েছে। ফরক্কাবাদ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর আমি সবসময়ই চেষ্টা করেছি কলেজটিকে কীভাবে এগিয়ে নেয়া যায়। কীভাবে শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষাদান করা যায়। কলেজের প্রতিষ্ঠাতা, চাঁদপুরের কৃতিসন্তান সুজিত রায় নন্দী সবসময়ই শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্যে গুরুত্ব আরোপ করেন। আমাকে সঠিক পরামর্শ দেন, উৎসাহিত করেন এবং সবসময় কলেজের পাশে থাকেন। তাঁর, ব্যবস্থাপনা কমিটি ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায়, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আন্তরিকতায় বর্তমানে এ কলেজটি শিক্ষাবিস্তারে অনেক এগিয়ে গেছে।



 



আমরা পাঠদানের পাশাপাশি শিক্ষার পরিবেশের ওপর গুরুত্বারোপ করেছি। ভারতীয় হাইকমিশনের মাধ্যমে ভারত থেকে আমরা নিচতলা অডিটরিয়ামসহ ৪তলা বিশিষ্ট একটি আধুনিক ভবন পেয়েছি। যার নির্মাণ কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। কলেজের অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি আমরা কলেজকে ঢেলে সাজিয়েছি। ফলে ফরক্কাবাদ ডিগ্রি কলেজ একটি মনোরম পরিবেশ সমৃদ্ধ কলেজে পরিণত হয়েছে। আগে এই অঞ্চলের শিক্ষার্থীদেরকে অনার্সে পড়ার জন্যে চাঁদপুরসহ বিভিন্ন স্থানে যেতে হতো। এসব শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করেই আমরা কলেজে অনার্স কোর্স খুলেছি। শিক্ষার্থীরা এখন ফরক্কাবাদ ডিগ্রি কলেজে অর্থনীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞানসহ ৫টি বিষয়ে অনার্স করার সুযোগ পাচ্ছে। বর্তমানে এই পাঁচটি বিষয়ে ৬শ' জন শিক্ষার্থী এ কলেজে অনার্সে পড়ছে। আগামী বছরে মার্কেটিং এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ে অনার্স খোলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আশা করছি, তখন এ অঞ্চলের আরো অনেক শিক্ষার্থী এ কলেজে জ্ঞানার্জন করার সুযোগ পাবে।



 



বর্তমান সরকার শিক্ষাবান্ধব সরকার। শিক্ষার্থীরা এগিয়ে গেলে দেশও এগিয়ে যাবে। আমরা শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ গুরুত্বসহকারে পাঠদান করিয়ে থাকি। অভিভাবকদের সাথে কলেজের পক্ষ থেকে যোগাযোগ রক্ষা করা হয়। অভিভাবকরাও এক্ষেত্রে আন্তরিকতার পরিচয় দিচ্ছেন। সবার আন্তরিক প্রচেষ্টায় আমাদের এইচএসসির ফলাফল ভালো হচ্ছে। ফলাফলের দিক দিয়ে চাঁদপুর জেলার মধ্যে এই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিবছর সম্মানজনক স্থান দখল করে থাকে। এইচএসসির ফলাফলে ২০১৪ সালে ফরক্কাবাদ ডিগ্রি কলেজ থেকে ৯২ ভাগ, ২০১৫ সালে ৯১ ভাগ, ২০১৬ সালে ৯০ ভাগ ও সর্বশেষ ২০১৭ সালে প্রায় ৯৩ ভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে। এ বছর ফলাফলের দিক দিয়ে আমাদের কলেজটি চাঁদপুর সদরের মধ্যে প্রথম স্থান লাভ করতে সক্ষম হয়েছে। এ অর্জন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পরিশ্রম ও এলাকাবাসীর আন্তরিকতার ফসল। আমরা আগামীতে শতভাগ পাসের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।



প্রতিটি শিক্ষার্থীই যাতে ভালো করতে পারে সে ব্যাপারে আমরা বিশেষ দৃষ্টি দিচ্ছি। অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের আমরা বৃত্তি দিচ্ছি। অপেক্ষাকৃত কম মেধাবী শিক্ষার্থীদের আলাদা করে পাঠদান ও কাউন্সিলিংয়ের ব্যবস্থা করেছি। আশা করছি আগামী বছর এইচএসসিতে আমাদের ফলাফল আরো সন্তোষজক হবে। ডিগ্রি চূড়ান্ত পরীক্ষার ফলাফলও আমাদের আনন্দিত করে। ২০১৬ সালের ডিগ্রি চূড়ান্ত পরীক্ষা এ কলেজের ১ জন প্রথম শ্রেণিসহ শতভাগ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছিলো।



 



ফরক্কাবাদ ডিগ্রি কলেজের দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। এই ঐতিহ্য যেমন ফলাফলে, তেমনি ক্রীড়াচর্চায়ও। কলেজে খেলাধুলাকে গুরুত্বসহকারে দেখা হয়। শিক্ষার্থীদের জন্যে আউটডোর ও ইনডোর গেমের পর্যাপ্ত উপকরণ কলেজে রয়েছে। আমাদের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় উপজেলা ও জেলায় বিভিন্ন পুরস্কার লাভ করে থাকে। তাছাড়া সংস্কৃতিচর্চায় এখানকার শিক্ষার্থীরা অনেক এগিয়ে। আমরা প্রতিবছরই উৎসবমুখর পরিবেশে বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকি।



বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এই এগিয়ে যাওয়ার পথচলায় ফরক্কাবাদ ডিগ্রি কলেজ অংশীদার হতে চায়। একজন অধ্যক্ষ হিসেবে আমি সবসময়ই চেষ্টা করি, আমাদের শিক্ষার্থীরা যাতে সুশিক্ষা পায় ও সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হয়। শিক্ষায়, সংস্কৃতিতে আমাদের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে গেলেই এ উপজেলা এগিয়ে যাবে, এগিয়ে যাবে চাঁদপুর এবং সমৃদ্ধ হবে আমাদের সবার প্রিয় বাংলাদেশ।



 



লেখক : অধ্যক্ষ, ফরক্কাবাদ ডিগ্রি কলেজ।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৫৩৫৩৬২
পুরোন সংখ্যা