চাঁদপুর। মঙ্গলবার ৭ নভেম্বর ২০১৭। ২৩ কার্তিক ১৪২৪। ১৭ সফর ১৪৩৯

বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • ---------
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩১-সূরা লোকমান


৩৪ আয়াত, ৪ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


২২। যে কেহ আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ করে এবং সৎকর্মপরায়ণ হয় সে  তো দৃঢ়ভাবে ধারণ করে এক মজবুত হাতল, যাবতীয় কর্মের পরিণাম আল্লাহর ইখতিয়ারে।


২৩। আর কেহ কুফুরী করিলে তাহার কুফুরী যেন তোমাকে ক্লিষ্ট না করে। আমারই নিকট উহাদের প্রত্যাবর্তন।  অতঃপর আমি উহাদেরকে অবহিত করিব উহারা যাহা করিত। অন্তরে যাহা রহিয়াছে সে সম্বন্ধে আল্লাহ সবিশেষ অবহিত।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


কর্মদক্ষতাই মানুষের সর্বাপেক্ষা বড় বন্ধু।


                               -দাওয়ানি।

দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত জ্ঞানচর্চায় নিজেকে উৎসর্গ করো।


পড়াশোনা : বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়
শামীমা ইয়াসমিন
০৭ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

সপ্তম অধ্যায়

বাংলাদেশের জলবায়ু

সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপকটি পড়ে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

সাদিয়া টেলিভিশনে 'বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ' সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দেখছিল। প্রতিবেদনের প্রথমাংশে দেখানো হয় কিভাবে উত্তরাঞ্চলের একটি গ্রামে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে কৃষিজমি শুকিয়ে যাচ্ছে। প্রতিবেদনের দ্বিতীয়াংশে দেখানো হয় উপকূলীয় অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিভাবে এর জনজীবন ও পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ওই অঞ্চলের অবস্থানগত কারণে প্রায়ই দুর্যোগপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করে।

ক) প্রচ- গতিসম্পন্ন ঘূর্ণিঝড়কে কী বলে?

খ) কালবৈশাখী কী? বুঝিয়ে লেখো।

গ) প্রতিবেদনের দ্বিতীয়াংশে দেখানো দুর্যোগ ঘটার কারণ ব্যাখ্যা করো।

ঘ) প্রতিবেদনের প্রথমাংশে দেখানো দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে কী ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়ত্মব্যাখ্যা করো।

উত্তর :

ক) প্রচ- গতিসম্পন্ন ঘূর্ণিঝড়কে টর্নেডো বলে।

খ) কোনো স্থানের তাপমাত্রা প্রচুর বেড়ে গেলে সেখানকার বাতাস হালকা হয়ে ওপরে উঠে যায়। তখন পাশের অঞ্চলের অপেক্ষাকৃত শীতল বাতাস প্রবল বেগে এই শূন্যস্থানে ধেয়ে আসে এবং ঝড়ের সৃষ্টি করে, যা আমাদের দেশে কালবৈশাখী ঝড় নামে পরিচিত। মূলত কালবৈশাখী হলো এক ধরনের ক্ষণস্থায়ী ও স্থানীয়ভাবে সৃষ্ট প্রচ- ঝড়। সাধারণত বৈশাখ মাসে এ ঝড় বেশি হয় বলে একে কালবৈশাখী বলা হয়।

গ) প্রতিবেদনের দ্বিতীয়াংশে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস দেখানো হয়েছে। সাধারণত উপকূলীয় অঞ্চলে যে ধরনের দুর্যোগ ঘটে তার মধ্যে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশে বেশির ভাগ ঘূর্ণিঝড় হয় বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের কারণে। সমুদ্রে সৃষ্ট নিম্নচাপ ও ঝড়ের ফলে সমুদ্রের নোনা জল বিশাল উচ্চতা নিয়ে এবং তীব্র বেগে উপকূলের স্থলভাগকে প্লাবিত করে। একেই বলে জলোচ্ছ্বাস। বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে এ পর্যন্ত কয়েকবার ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস মারাত্মকভাবে আঘাত হেনেছে। এতে অসংখ্য মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। ১৯৭০ সালের ২২ নভেম্বর বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ঘটে যাওয়া এমনি একটি ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে প্রায় ১০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। সামপ্রতিককালে ঘটে যাওয়া এ রকম দুটি বড় ঘূর্ণিঝড় হলো সিডর ও আইলা। ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর সিডরে এ দেশের ২৮টি উপকূলীয় জেলার প্রায় ৩০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর ২০০৯ সালের ৫ মে আইলায় উপকূলীয় এলাকার অনেক মানুষ, পশুপাখি ও ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সাধারণত উপকূলীয় অঞ্চলে প্রায়ই বাতাসের চাপ কমে যায় এবং বাতাসের তাপ বৃদ্ধি পায়। ফলে উপকূলীয় অঞ্চলে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়ে বিভিন্ন ধরনের দুর্যোগ ঘটে।

ঘ) প্রতিবেদনের প্রথমাংশে যে দুর্যোগের কথা বলা হয়েছে সেটি হলো খরা। খরা বাংলাদেশের একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাতের অভাবে খরা হয়। প্রায় প্রতিবছর বসন্তের শেষ ও গ্রীষ্মের শুরুতে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে খরা দেখা দেয়। পানির অভাবে জমির সেচকাজ ব্যাহত হয়, ফসল নষ্ট হয়।

বৃষ্টিপাতের অভাব ছাড়াও বিভিন্ন নদীর উজানে বাঁধ নির্মাণ, পরিবেশদূষণ ইত্যাদি কারণেও খরা হয়। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগটি পুরোপুরি প্রতিরোধ করা হয়তো সম্ভব নয়, তবে সচেতন হলে এবং সময়মতো ব্যবস্থা নিলে খরাজনিত ক্ষয়ক্ষতি অনেকখানি কমানো যেতে পারে। এ জন্য ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পরীক্ষা করে মাটির নিচ থেকে পানি উত্তোলন বন্ধ করতে হবে। বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে রাখতে হবে। সুষ্ঠু পানি ব্যবস্থাপনা ও পানি ব্যবহারে গণসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। বিভিন্ন নদীর উজানে বাঁধ নির্মাণ করে পরিবেশদূষণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। তাহলেই প্রতিবেদনের প্রথমাংশে দেখানো দুর্যোগ অর্থাৎ খরা অনেকটা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

আজকের পাঠকসংখ্যা
৫৩৪৯৭৮
পুরোন সংখ্যা