চাঁদপুর। মঙ্গলবার ৯ জানুয়ারি ২০১৮। ২৬ পৌষ ১৪২৪। ২১ রবিউস সানি ১৪৩৯
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • হাজীগঞ্জে পানিতে ডুবে দুই ভাইয়ের মৃত্যু
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩৩-সূরা আহ্যাব

৭৩ আয়াত, ৯ রুকু, মাদানী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৬৬। যেদিন উহাদের মুখমন্ডল অগ্নিতে উলট-পালট করা হইবে সেদিন উহারা বলিবে, ‘হায়, আমরা যদি আল্লাহকে মানিতাম ও রাসূলকে মানিতাম!’

৬৭। তাহারা আরও বলিবে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা আমাদের নেতা ও বড় লোকদের আনুগত্য করিয়াছিলাম এবং উহারা আমাদিগকে পথভ্রষ্ট করিয়াছিল’।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন




পরিশ্রমী লোকের ঘুম শান্তিপূর্ণ হয়।

-জর্জ।


নামাজ বেহেস্তের চাবি এবং অজু নামাজের চাবি।


ফটো গ্যালারি
ভালো ফলাফল অর্জনের পাশাপাশি সহ-পাঠক্রমিক কার্যক্রমেও ভালো করছে হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়
মুহাম্মদ ফরিদ হাসান
০৯ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


চাঁদপুরে হাতে গোণা যে ক'টি শতবর্ষী বিদ্যালয় অগ্রগণ্য তাঁর মধ্যে নিঃসন্দেহে হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় অন্যতম। এ বিদ্যালয়টি ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর জাতীয়করণ হয় ১৯৬৯ সালে। বর্তমানে এ বিদ্যালয়ে ১২ শ' ৫০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। এ বিদ্যালয়টি কেবল ভালো ফলাফলে জন্যে নয়, সহ-পাঠক্রমিক কার্যক্রমের জন্যেও চাঁদপুরের সুধীমহলের প্রশংসা কুড়িয়েছে। বর্তমানে শিক্ষার্থীরা জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জনের পাশাপাশি বিভিন্ন ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন, রানার্সআপ হয়ে স্কুলের সুনামের ধারা অব্যাহত রাখছে। সম্প্রতি দেয়া জেএসসি পরীক্ষার ফলাফলে এ স্কুলের শতভাগ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। অন্যদিকে শীতকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দুটি ইভেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। পড়াশোনা ও সহ-পাঠক্রমিক কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের সাফল্য দেখে শিক্ষক ও অভিভাবকবৃন্দ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।



স্কুলের শিক্ষার্থীরা জানায়, প্রতি মাসেই স্কুলে কোনো না কোনো ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থাকে। স্কুলে নিয়মিত ইনডোর ও আউটডোর গেমে অংশগ্রহণ করে শিক্ষার্থীরা। ইনডোর গেমের মধ্যে দাবা, লুডু, কেরাম; আউটডোর গেমের মধ্যে ভলিবল, হ্যান্ডবল, ক্রিকেট, ফুটবল, ব্যাডমিন্টন, হকি খেলা অনুষ্ঠিত হয়। সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের মধ্যে আবৃত্তি, সাধারণ জ্ঞান, বিতর্ক চর্চা ছাড়াও প্রতি সপ্তাহে একদিন সাংস্কৃতিক ক্লাস হয়। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের জন্যে রিডিং রুম, ইংলিশ স্পোকিং ক্লাব রয়েছে। রয়েছে ব্যান্ড দল, স্কাউট, বিএনসিসির কার্যক্রমও। এসব সহ-পাঠক্রমিক কার্যক্রমে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে।



বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহমুদুল ইসলাম বলেন, সহ-পাঠক্রমিক কার্যক্রমের বিষয়ে আমাদের শিক্ষকরা অনেক আন্তরিক। ক্রীড়া ও সংস্কৃতি চর্চা করার জন্যে তাঁরা আমাদের নানাভাবে উৎসাহিত করে থাকেন। দশম শ্রেণির আরেক শিক্ষার্থী শাওন গাজী বলেন, আমি ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই স্কুলের স্কাউট দলের সাথে যুক্ত আছি। স্কুলে স্কাউটিংয়ের জন্যে পর্যাপ্ত সরঞ্জাম রয়েছে। আমাদের বিভিন্ন ক্যাম্পে শিক্ষকরাও উপস্থিত থাকেন।



বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, আমরা শিক্ষার্থীদের আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্যে কাজ করছি। শিক্ষার্থীদের বাচিক শিল্পের উন্নয়নের জন্যে কদিন আগে স্কুলে ১২ দিনব্যাপী বিতর্ক কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। এ কর্মশালায় বিতর্ক করতে আগ্রহী প্রচুর শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। জেলার বিভিন্ন ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় আমাদের স্কুলের শিক্ষার্থীরা ভালো করে থাকে। গত বছর ৪৭তম শীতকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা বাস্কেটবল ও ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। অন্যদিকে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০১৭-তে এ বিদ্যালয়টি উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ হয়েছে। পাশাপাশি স্কুলের শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম পাটওয়ারী জেলার শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন। বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের পাশাপাশি আমরা জাতীয় দিবসগুলো যথাযথ মর্যাদায় পালন করে থাকি। আমরা পাঠদান ও সহ-পাঠক্রমিক কার্যক্রম, দুদিক দিয়েই এগিয়ে যেতে চাই। এজন্যে শিক্ষকরা শিক্ষার্থী, অভিভাবকদের সহযোগিতা ও সমর্থন প্রত্যাশা করেন।



স্কুলের ক্রীড়া শিক্ষকের ২টি পদ থাকলেও বর্তমানে একটি পদ শূন্য রয়েছে। ক্রীড়া শিক্ষক মঞ্জিল হোসেন বলেন, স্কুলের সহ-পাঠক্রমিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্যে পর্যাপ্ত উপকরণ রয়েছে। আমরা ইনডোর ও আউটডোর গেমে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে থাকি। শিক্ষার্থীদেরও খেলাধুলার বিষয়ে যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে। অভিভাবকরাও এ ক্ষেত্রে আন্তরিকতার পরিচয় দিচ্ছেন।



সহ-পাঠক্রমিক কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে স্কুলের প্রধান শিক্ষক হাফিজ মোঃ মাহবুব ওয়ালী খান বলেন, সহ-পাঠক্রমিক কার্যক্রম শিক্ষার বাইরের কোনো বিষয় নয়। এটি শিক্ষা কার্যক্রমেরই একটি অংশ। শিক্ষার্থীদের আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে খেলাধুলা ও সংস্কৃতি চর্চার কোনো বিকল্প নেই। পড়াশোনার পাশাপাশি ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশ নিলে শিক্ষার্থীর দেহ ও মন ভালো থাকে। মানসিক বিকাশ ত্বরান্বিত হয়।



তিনি আরো বলেন, আমরা সহ-পাঠক্রমিক কার্যক্রমকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছি। শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বৃদ্ধির জন্যে তাদেরকে নানাভাবে অনুপ্রাণিত করছি। আমাদের শিক্ষার্থীরাও এক্ষেত্রে যথেষ্ট আগ্রহের পরিচয় দিচ্ছে। তারা জেলার বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় ভালো ফলাফল অর্জন করে স্কুলের সুনাম বৃদ্ধি করছে। তিনি আগামীতে সহ-পাঠক্রমিক কার্যক্রমের পরিসর আরো বৃদ্ধি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
২৪১৮৪৮
পুরোন সংখ্যা