চাঁদপুর। মঙ্গলবার ৯ জানুয়ারি ২০১৮। ২৬ পৌষ ১৪২৪। ২১ রবিউস সানি ১৪৩৯
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • হাজীগঞ্জে পানিতে ডুবে দুই ভাইয়ের মৃত্যু
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩৩-সূরা আহ্যাব

৭৩ আয়াত, ৯ রুকু, মাদানী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৬৬। যেদিন উহাদের মুখমন্ডল অগ্নিতে উলট-পালট করা হইবে সেদিন উহারা বলিবে, ‘হায়, আমরা যদি আল্লাহকে মানিতাম ও রাসূলকে মানিতাম!’

৬৭। তাহারা আরও বলিবে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা আমাদের নেতা ও বড় লোকদের আনুগত্য করিয়াছিলাম এবং উহারা আমাদিগকে পথভ্রষ্ট করিয়াছিল’।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন




পরিশ্রমী লোকের ঘুম শান্তিপূর্ণ হয়।

-জর্জ।


নামাজ বেহেস্তের চাবি এবং অজু নামাজের চাবি।


ফটো গ্যালারি
অধ্যক্ষের ফুলপ্রীতি
শিক্ষাঙ্গন প্রতিবেদক
০৯ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


শীতের সকাল। সেজন্যে সকাল ১০টা বাজলেও কুয়াশা রয়ে গেছে চারদিকে। এরমধ্যে শীতের মিষ্টি রোদ। শিক্ষার্থীরা যে যার মতো ক্যাম্পাসে প্রবেশ করছে। কলেজের গেট পেরিয়ে মাঠে যেতেই চোখে পড়লো ফুলের বাগান! চারদিকে বাহারি রঙের ফুল আর ফুল। ফুলঘেরা মাঠের মাঝখানে শিক্ষার্থীরা কথা বলছে। কোনো কোনো শিক্ষার্থীকে মুঠোফোনে ফুলের ছবিও তুলতে দেখা গেল। প্রথম দেখায় যে কারো মনে হতে পারে-কোনো ফুলের বাগানে এসে পড়লাম বুঝি! যদিও মুহূর্তেই বিভ্রম কেটে যাবে। চাঁদপুর জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এমন ফুলশোভিত নান্দনিক ক্যাম্পাস আর চোখে পড়ে না। বলছিলাম ডাকাতিয়া নদীর কোল ঘেঁষে দাঁড়ানো পুরাণবাজার ডিগ্রি কলেজ ক্যাম্পাসের কথা। একটু এগিয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা গেলো, কলেজ অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদারের উদ্যোগে ও তত্ত্বাবধানে ক্যাম্পাসে তৈরি করা হয়েছে বিশাল ফুলের বাগান। প্রতিদিনই তিনি সকাল-বিকাল এ বাগানের পরিচর্যা করেন। কলেজের শিক্ষকরা জানালেন, ফুলের বাগান কলেজের সৌন্দর্য বহুগুণে বৃদ্ধি করেছে। শিক্ষা পরিবেশকেও সৌন্দর্যম-িত করেছে। ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে সন্ত্বোষ প্রকাশ করেছেন কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য জাহাঙ্গীর আখন্দ সেলিমসহ ম্যানেজিং কমিটির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।



কলেজের শিক্ষার্থী মোঃ আলআমিন, আবু সুফিয়ান ও কামরুল হাসান বলেন, আগের চেয়ে আমাদের ক্যাম্পাস বহুগুণে সুন্দর হয়েছে। ক্যাম্পাসে আসলেই এখন মন জুড়িয়ে যায়। কলেজে এসে খুব ভালো সময় কাটে আমাদের। একটি সুন্দর ক্যাম্পাস উপহার দেয়ার জন্যে তারা অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদারকে ধন্যবাদ জানান।



মাঠেই দেখা হয় কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মোঃ হাবিবুর রহমান পাটওয়ারীর সাথে। কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফুল সবাই ভালোবাসেন। কিন্তু ফুলের বাগান করা কষ্টসাধ্য কাজ। কলেজ ক্যাম্পাসে বাগান করা আরো কষ্টকর। আমাদের অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার স্যারের আগ্রহে ও ঐকান্তিক পরিশ্রমে এখানে ফুলের বাগান করা সম্ভব হয়েছে। অন্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরাও ফুলের বাগান নিয়ে উচ্ছ্বসিত। তারা ফুলের বাগানটি রক্ষা করতে সহযোগিতা করছেন।



অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদারকে পাওয়া গেলো তাঁর কার্যালয়ে। ফুলের বাগানের প্রসঙ্গ তুলতেই তিনি ফুলের বাগান দেখাতে নিয়ে গেলেন। ক্যাম্পাসের চারদিকে শত শত ফুলের গাছ। প্রায় সব গাছেই ফুল ফুটে আছে। রতন কুমার মজুমদার জানালেন, এ ফুল গাছগুলো চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, বগুড়া থেকে আনা হয়েছে ফুলের চারা। বাগানে ডালিয়া, চন্দ্রমলি্লকা, স্নো-বল, জিনিয়া, ভার্জিনা, সেলভিয়া, হলিওক, ডেনডান, গেজানিয়া, আমেরিকান ইনকা (গাঁদা), কসমস, স্টার, বেলি, কালার করবী, অ্যারোমেটিক জুই, দোপাটি, নয়নতারা, বাগান বিলাস, গোলাপ, জবা, মাধবী লতাসহ কয়েকশ' ফুল গাছ রয়েছে। এর মধ্যে ২০ রকমের গোলাপ ও ৭ রকমের জবা ফুল রয়েছে। রয়েছে কিছু ফলের গাছও।



বাগান করার শুরু সম্পর্কে প্রশ্ন করি তাঁকে। তিনি বলেন, শৈশব থেকে আমার বাগান করার সখ। কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পেয়ে ভাবলাম, ক্যাম্পাসটি সাজাই। আরো দৃষ্টিনন্দন করি। মানুষ মাত্রই ফুলপ্রিয়। সেজন্যে ক্যাম্পাসে ফুলের বাগান করার পরিকল্পনা করলাম। ফুলের বাগান করার আরেকটি উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদেরকে ক্যাম্পাসে আকৃষ্ট করা এবং মনোরম পরিবেশে পাঠদান নিশ্চিত করা।



তিনি বলেন, সে উদ্দেশ্য আমার পূরণ হয়েছে। দৃষ্টিনন্দন এ ক্যাম্পাসের জন্যে কেবল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরাই নয়, এলাকাবাসীও আমাকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। শিক্ষার্থীরা আগে ক্লাসের ফাঁকে ক্যাম্পাসে বাইরে যেতো। কিন্তু এখন তারা ক্যাম্পাসেই থাকে। নানা রকমের ফুলগুলো তাদেরকে আকৃষ্ট করে রাখে। আমি নিজেই প্রতিদিন সকাল-সকাল কলেজে এসে বাগানের পরিচর্যা করি। কলেজ ছুটি হলে বিকেলে আবার ফুলের গাছগুলোর যত্ন নিই। বাগানের যত্ন নেয়ার জন্যে একজন মালিও রেখেছি আমরা।



'কেউ ফুল ছিঁড়ে না' এমন প্রশ্ন করতেই তিনি মৃদু হাসেন। বলেন, যখন প্রথম বাগান করা শুরু করি তখন আমিও আশঙ্কায় ছিলাম, ফুলগুলো থাকবে তো! কারণ শত শত শিক্ষার্থীর মধ্যে ফুলের বাগান টিকিয়ে রাখা দুরূহ বিষয়। ভেবেছিলাম ফুল ফুটলে ছেলেমেয়েরা ছিঁড়ে নিয়ে যাবে। কিন্তু তা হয়নি। আমাকে অবাক করে দিয়ে তারা ফুলের বাগান করতে আমাকে সহযোগিতা করলো। এখন যে শত শত ফুল ফুটে আছে, আমার কোনো শিক্ষার্থী একটি ফুলও ছিঁড়ে না। আমার খুব ভালো লাগে। আমি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদেরকে ধন্যবাদ জানাই।



ক'দিন আগে পুরাণবাজার ডিগ্রি কলেজ ঘুরে গেলেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি এমপি। তিনিও এ দৃষ্টিনন্দন ফুলের বাগান দেখে উচ্ছ্বসিত হয়েছেন। তিনি অধ্যক্ষের এ উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেছেন, পুরাণবাজার ডিগ্রি কলেজের ক্যাম্পাসটি এখন দৃষ্টিনন্দন হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার জন্যে উপযুক্ত শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে। আমি অভিভূত হয়েছি। তিনি এ সময় রতন কুমার মজুমদারকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান।



বাগান নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানতে চাইলে রতন কুমার মজুমদার বলেন, প্রতি মাসেই নতুন নতুন ফুল গাছ আনছি। দুর্লভ ফুল গাছের চারা আনার চেষ্টা করছি। ভবিষ্যতে এ বাগানের পরিসর আরো বৃদ্ধি করবো। তিনি এজন্যে সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
২৩৯৩৬৯
পুরোন সংখ্যা