চাঁদপুর। মঙ্গলবার ৯ জানুয়ারি ২০১৮। ২৬ পৌষ ১৪২৪। ২১ রবিউস সানি ১৪৩৯

বিজ্ঞাপন দিন

jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩৩-সূরা আহ্যাব

৭৩ আয়াত, ৯ রুকু, মাদানী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৬৬। যেদিন উহাদের মুখমন্ডল অগ্নিতে উলট-পালট করা হইবে সেদিন উহারা বলিবে, ‘হায়, আমরা যদি আল্লাহকে মানিতাম ও রাসূলকে মানিতাম!’

৬৭। তাহারা আরও বলিবে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা আমাদের নেতা ও বড় লোকদের আনুগত্য করিয়াছিলাম এবং উহারা আমাদিগকে পথভ্রষ্ট করিয়াছিল’।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন




পরিশ্রমী লোকের ঘুম শান্তিপূর্ণ হয়।

-জর্জ।


নামাজ বেহেস্তের চাবি এবং অজু নামাজের চাবি।


ফটো গ্যালারি
শিক্ষকের অধিকার আর নয় অবহেলা
সুধীর বরণ মাঝি
০৯ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

শিক্ষাই জাতির মেরুদ-। শিক্ষা ও শিক্ষক একই মুদ্রার দুটি পিঠ। একটিকে বাদ দিয়ে আরেকটির সফল বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। আজ কয়েকদিন পর্যন্ত এমপিওবিহীন শিক্ষকরা আমরণ অনশনে থাকার সময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে শিক্ষকরা তাদের আমরণ অনশন আন্দোলন প্রত্যাহার করেছেন। তাই শিক্ষা ও শিক্ষকবান্ধব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন। তিনি এই হতদরিদ্র শিক্ষকদের দুঃখ-কষ্ট আপন করে বুঝতে পেরেছেন। এরই মধ্যে অনেক শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং তাদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। শিক্ষা সভ্যতার ধারক-বাহক। শিক্ষা সমাজ ও সভ্যতার বিবেক। আর এই বিবেক তৈরির কারিগর হলেন শিক্ষক। যাঁরা সর্বজন সমাদৃত এবং পূজনীয়। পানি ছাড়া যেমন মাছ বাঁচতে পারে না, তেমনি শিক্ষক ছাড়াও শিক্ষা আলোকিত হতে পারে না। যেভাবেই বলি না কেন সমাজ, সভ্যতা, অর্থনীতি এবং রাজনৈতিক অগ্রগতিতে শিক্ষা এবং শিক্ষকের ভূমিকাই মুখ্য। রাষ্ট্রপ্রধান থেকে শুরু করে মন্ত্রী, এমপি, ডাক্তার, প্রকৌশলী, আইনজীবী, শিল্পী, সাহিত্যিক, সাংবাদিকসহ সকল ক্ষেত্রেই রয়েছে শিক্ষকের জ্ঞান বিতরণ। তাই শিক্ষককে পশ্চাতে রেখে দেশের কোনো অগ্রগতিই সম্ভব নয়। পৃথিবীর সকল দেশেই শিক্ষকরা মর্যাদাসম্পূর্ণ, সর্বজন সমাদৃত। শুধুমাত্র ব্যতিক্রম দেখি আমাদের দেশে। আমাদের দেশেই শিক্ষকরা অবহেলিত, মর্যাদাহীন। মাঝে মধ্যে আমাদের দেশের শিক্ষকরা রাষ্ট্রীয় হামলার শিকারও হয়। কথায় মর্যাদা থাকলেও কার্যক্ষেত্রে শিক্ষকতা মর্যাদাহীন পেশা। শ্রেণিকক্ষের বাহিরে শিক্ষকদের মূল্যায়ন সীমিত পরিসরে। মোদ্দাকথা শিক্ষকরা বঞ্চনা, অবহেলা আর অমর্যাদার শিকার। এরকম অবহেলিত, মর্যাদাহীন শিক্ষক সমাজ দিয়ে মর্যাদাশীল জাতি গঠন কল্পনাতেও সম্ভব নয়। আমাদের অনেক কর্তাব্যক্তিরাই বলেন, শিক্ষকতা সম্মানের পেশা। আমরা তাদের সাথে একমত। তাই বলে বিনা বেতনে শিক্ষকতা। কয়েক হাজার শিক্ষক প্রায় ১০ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত বিনা বেতনে জ্ঞান বিতরণ করে যাচ্ছেন। মাননীয় কর্তৃপক্ষের নিকট সবিনয় জিজ্ঞাসা, যদি তাদের এমপিও দিতে এতোই সমস্যা তাহলে তাদেরকে পাঠদানের অনুমতি দেয়া হলো কেন? শিক্ষকতা সম্মানের পেশা হলে আপনারাও আসেন এই সম্মানিত পেশায় এবং বিনা বেতনে পাঠদান করুন। আমরা জানি খালি পেটে ধর্মও হয় না। আর সেখানে জ্ঞান বিতরণের মতো একটি কঠিন কাজ কোনোভাবেই সম্ভব নয়। জড়বস্তু হলে কোনো চাহিদা থাকে না কিন্তু প্রাণ আছে এমন সকল কিছুর কিছু চাহিদা থাকে। যা বেঁচে থাকার জন্য অবশ্যই পূরণ করতে হয়। শিক্ষকরা যখন তাঁদের বাঁচা-মরার অধিকার প্রশ্নে রাজপথে আন্দোলনে তখনই শিক্ষকদের নেমে আসে রাষ্ট্রযন্ত্রের অমানবিক নির্যাতন। সমস্ত বিবেক যেন স্তম্ভিত। সবাই যেন প্রতিবাদের ভাষা হারিয়ে ফেলে। বিভিন্ন সময়ে আমরা যখন দেখি শিক্ষকদের আন্দোলনে শিক্ষকদের ওপরে লাঠিচার্জ করা হয়, প্রেপার স্প্রে করা হয়, টিয়ার সেল নিক্ষেপ করা হয় তখনও জাতি হিসেবে আমরা নির্বোধের মতো চেয়ে থাকি। শিক্ষক হিসেবে আমরা কতটা অবহেলিত। আর নয় অবহেলা, অযত্ন, অসম্মান। শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করার সময় এসেছে। জাতিকে শক্ত মেরুদ-ের উপর দাঁড় করাতে হলে শিক্ষা এবং শিক্ষকের সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই। কারিগর যদি মেধাবী এবং দক্ষ না হয় তাহলে তার উৎপাদনও আশানুরূপ হবে না। শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার মধ্য মেধাবীদেরকে এই পেশায় আকৃষ্ট করতে না পারলে উন্নত দেশ ও জাতি গঠন কখনই সম্ভব নয়। জার্মানিতে একজন শিক্ষককে চ্যান্সেলর পদমর্যাদা দেয়া হয়। পৃথিবীর প্রায় সকল দেশেই শিক্ষকদের বেতন এবং সামাজিক মর্যাদা রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং প্রধান বিচারপতির পরবর্তী স্থান। এ কারণেই তারা জ্ঞান-বিজ্ঞানের উন্নত শিখরে অবস্থান করছে। আর আমাদের দেশে শিক্ষকদের অবস্থান তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী। শিক্ষা এবং শিক্ষকরা হলেন জাতির বিবেক। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক জনাব আনু মুহাম্মদ এমপিও ভুক্তির দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষকদের সাথে একাত্মা প্রকাশ করে বলেছিলেন, এমপিওভুক্তির জন্য পর্যাপ্ত টাকা নেই এটি ডাহা মিথ্যাচার। আসলে এমপিও ভুক্তির জন্য টাকার সংকট নয়, সংকট মানসিকতার। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সংকটের অভাব নেই। তাদের বড় সংকট চাকুরি শেষে এককলীন পেনশনের টাকা তুলতে। এই টাকা তুলতে ৭ থেকে ৮ বছর সময় লাগে। যা হয়রানি এবং রসিকতার সামিল। বেসরকারি শিক্ষকরা এ থেকে মুক্তি চায় এবং রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ হস্তক্ষেপ কামনা করে। আজকের বাজার মূল্যে শিক্ষকদের অবস্থা নুন আনতে পান্তা ফুরোনোর মতো। শিক্ষকদের স্বতন্ত্র্য বেতন স্কেল নামক একটি মুলা ঝুলছে গত দশ বছর ধরে। শিক্ষা এবং শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা (অধিকারের) কথা আসলেই আমাদের অর্থমন্ত্রী বলেন টাকা নাই। আসলেই টাকার কোনো সংকট নেই সংকট মানসিকতার। হলমার্কের চার হাজার কোটি টাকা, ডেসটিনির প্রায় কয়েক হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পাচার হওয়া অর্থ, ঋণ খেলাপি এবং কালো টাকার পরিমাণ আমাদের বাজেটের তিন ভাগের একভাগ। গত দশ বছরে শুধুমাত্র চালের বাজার থেকে দেশীয় লুটেরা হাতিয়ে নিয়েছে প্রায় ৬ লাখ কোটি টাকা। এই টাকা উদ্ধার করতে পারলে গোটা দেশের অর্থনীতির চিত্র পাল্টে যাবে। শিক্ষাই একমাত্র মাধ্যম যেখানে এক টাকা বিনিয়োগ করলে দশ টাকা ফেরত পাওয়া যায়। এদেশে শিক্ষা খাতে রাষ্ট্রের পর্যাপ্ত বিনিয়োগ না থাকার একটি কারণ হলো রাষ্ট্রের কর্তাব্যক্তিদের সন্তানরা এদেশে পড়াশোনা করে না। ব্রিটিশদের মতো আমাদের স্বাধীন দেশের সরকারগুলোও দেশের মানুষকে শোষণ এবং কেরানি তৈরি করার জন্য যতটুকু শিক্ষার প্রয়োজন ততটুকুই দিচ্ছে। শিক্ষা এবং শিক্ষকদের উন্নতি না হলে কোনোভাবেই আমরা মধ্যম আয়ের দেশ, উন্নত দেশের মানদ- অর্জন করতে পারবো না। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে বিশ্ব অনেক অনেক দূর এগিয়ে গেলেও আমরা এখনও সেই পেছনেই পড়ে আছি। এর প্রধান কারণ শিক্ষক এবং শিক্ষার অনগ্রসরতা। পৃথিবীর কোনো দেশে আমাদের দেশর মতো চার ধারার শিক্ষা ব্যবস্থা আছে বলে আমার জানা নেই। চার ধারার শিক্ষা নয়, এক ধারার শিক্ষা চাই। শিক্ষকের সামাজিক মর্যাদা এবং স্বতন্ত্র্য বেতন স্কেল এখন সময়ের দাবি। যা কোনো অজুহাতেই অগ্রাহ্য হতে পারে না। শিক্ষার অধিকার, শিক্ষকের সামাজিক মর্যাদা এবং স্বতন্ত্র্য বেতন স্কেল প্রতিষ্ঠিত করতে না পারলে তা হবে সময়ের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা। যেই শিক্ষকরা আজকে আন্দোলনে আছেন তারা কেউ আমাদের ভাই, কারো বোন, কারো পিতা, কারো মাতা আবার সবারই শিক্ষক। তাই আমরা আশা করি শিক্ষকদের যৌক্তিক এবং ন্যায়সঙ্গত দাবি মেনে নেয়ার ক্ষেত্রে সরকার দ্রুত শুভ বুদ্ধির পরিচয় দিবে।

লেখক : শিক্ষক,

হাইমচর মহাবিদ্যালয়, হাইমচর।

আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৭৯৭৯৫
পুরোন সংখ্যা