চাঁদপুর। মঙ্গলবার ৯ জানুয়ারি ২০১৮। ২৬ পৌষ ১৪২৪। ২১ রবিউস সানি ১৪৩৯
kzai
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  •  ||  শাহরাস্তি থানার উপ সহকারী পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম (৩৫) শুক্রবার সকালে দায়িত্ব পালনকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। ||   ||   ||  শাহরাস্তি থানার উপ সহকারী পরিদর্শক রকিকুল ইসলাম (৩৫) শুক্রবার সকালে দায়িত্ব পালনকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ||   || -------------------- || ------- || শাহরাস্তি থানার উপ সহকারী পরিদর্শক রাকিকুল হাসান (৩৫) শুক্রবার সকালে দায়িত্ব পালনকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। ||   ||   ||  ||  শাহরাস্তি থানার উপ সহকারী পরিদর্শক রকিবুল ইসলাম (৩৫) শুক্রবার সকালে দায়িত্ব পালকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। ||   ||   || শাহরাস্তি থানার উপ সহকারী পরিদর্শক রাকিবুল হাসান (৩৫) শুক্রবার সকালে দায়িত্ব পালকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩৩-সূরা আহ্যাব

৭৩ আয়াত, ৯ রুকু, মাদানী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৬৬। যেদিন উহাদের মুখমন্ডল অগ্নিতে উলট-পালট করা হইবে সেদিন উহারা বলিবে, ‘হায়, আমরা যদি আল্লাহকে মানিতাম ও রাসূলকে মানিতাম!’

৬৭। তাহারা আরও বলিবে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা আমাদের নেতা ও বড় লোকদের আনুগত্য করিয়াছিলাম এবং উহারা আমাদিগকে পথভ্রষ্ট করিয়াছিল’।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন




পরিশ্রমী লোকের ঘুম শান্তিপূর্ণ হয়।

-জর্জ।


নামাজ বেহেস্তের চাবি এবং অজু নামাজের চাবি।


ফটো গ্যালারি
আমাদের হুজুর স্যার
রাসেল ইব্রাহীম
০৯ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


শিক্ষা, শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-এই তিনটির মধ্যে রয়েছে নিবিড় সম্পর্ক। আজকের শিক্ষার্থী আগামী দিনের কর্ণধার। ছাত্র-ছাত্রী তথা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে মূল্যবোধ সৃষ্টির জন্য শিক্ষকের ভূমিকা অনস্বীকার্য। শিক্ষক হলো মূল্যবোধ বিনির্মাণের আদর্শ কারিগর। আমি সৌভাগ্যবান যে শিক্ষাজীবনে বেশ কিছু ভালো শিক্ষকের কাছ থেকে শিক্ষা লাভ করতে পেরেছি। সকল শিক্ষকের প্রতিই আমি শ্রদ্ধাশীল। মাত্র একজন শিক্ষককে বাছাই করা আসলেই কঠিন। তবে আমার জীবনে যে সকল শিক্ষকের আদর্শ ও শিক্ষা খুব গভীরভাবে ছাপ ফেলেছে তাঁদের মাঝে অন্যতম হলেন মাওলানা সালাউদ্দিন পাটওয়ারী স্যার। তিনি কড়ৈতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ধর্ম শিক্ষক ছিলেন। যিনি 'হুজুর স্যার' হিসেবেই স্কুলে অধিক পরিচিত। ইসলাম শিক্ষার শিক্ষকের কথা ভাবলেই অনেকের মাথায় টুপি-পাঞ্জাবি পরিহিত সুন্দর দাড়িওয়ালা যে রাগী ও বেত হাতে দাঁড়ানো স্পষ্টভাষী একজন শিক্ষকের চিত্রটি আসে হুজুর স্যার কিন্তু তার ব্যতিক্রম ছিলেন না। তাছাড়া তিনি ছিলেন ছাত্রছাত্রীদের প্রতি সর্বদা আন্তরিক এবং সবাইকে সাহায্য করতে উৎসাহী। ধর্মীয় শিক্ষক হিসাবে তিনি আসলেই অতুলনীয়। একই সঙ্গে তিনি ছিলেন একজন সৎ চরিত্রের সহজ-সরল জীবনে বিশ্বাসী মানুষ। তাঁকে দেখে ছাত্র-ছাত্রীরা নীতিবান হতে উৎসাহী হতো। স্যার তাঁর ছাত্রদেরকে খুব সহজভাবে বোঝাতে পারতেন যা একজন আদর্শ শিক্ষকের অন্যতম গুণ। ইসলামের ইতিহাসের পাশাপাশি ইংরেজির মতো কঠিন বিষয়, যা অনেকের কাছেই আতঙ্কের-এমন একটি বিষয়ে স্যারের ছিলো প্রশংসনীয় দক্ষতা। স্যারের সুদীর্ঘ সময়ের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা ছিলো। স্যারের ইসলাম শিক্ষা ক্লাসে প্রত্যেক ছাত্রের মাথায় টুপি এবং ছাত্রীদের মাথা ঢেকে রাখা বাধ্যতামূলক ছিলো। ক্লাসে আসলে ছাত্রছাত্রীরা যখন দাঁড়াতো তখন স্যার বলতেন, বৈটি। বসো শব্দটির পরিবর্তে স্যার 'বৈটি' শব্দটি ব্যবহার করতেন। আমার মনে আছে যে তাঁর কাছে পড়ার সময় প্রতিদিন ক্লাসে পড়া মুখস্থ লিখে স্যারের কাছে জমা দিতে হতো। কোনো স্টুডেন্ট পড়া না পারলে স্যার বলতেন যে, 'খাতায় আছে মাথায় নেই, মাথায় আছে খাতায় নেই এমন বিদ্যার দরকার নেই'। মাঝেমধ্যে ছাত্রের কান ধরে হালকা করে মোচড় দিতেন। রসিকতার মাধ্যমে, কৌশল অবলম্বন করে পড়া আদায়ে তিনি এতই বদ্ধপরিকর ছিলেন যে, আমি প্রতিদিন আগে হুজুর স্যারের পড়া পড়তাম। প্রতিটি স্টুডেন্ট থেকে প্রতিদিন কৌশলে পড়া আদায় করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট দক্ষতার পরিচয় দিয়েছিলেন। উনি এমন একজন ব্যক্তি, যিনি ছাত্র-ছাত্রীদেরকে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি কৌতুক/হাস্যকর গল্প বলে ক্লাসের পরিবেশ উৎসবমুখর রাখতেন। কড়ৈতলী উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ার সময় অনেক ছাত্র ছিলো যারা বিভিন্ন শিক্ষককে নিয়ে বিভিন্ন কথা বলতো। তবে তাদের মাঝে কেউই কখনই হুজুর স্যারকে নিয়ে কিছু বলার সাহস পায়নি। শিক্ষকতা জীবনে তিনি ফরিদগঞ্জ উপজেলার প্রত্যেকটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নকল মুক্ত রাখার জন্যে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছেন। তিনি ছিলেন নকল মুক্ত শিক্ষাঙ্গন গড়ে তোলার অন্যতম রূপকার। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি ছিলেন ফরিদগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি, ফরিদগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির পর পর দুইবার নির্বাচিত সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বতর্মান জেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং ফরিদগঞ্জ আলিয়া মাদ্রাসার সাবেক ভিপি। তিনি এমন একজন শিক্ষক যিনি সকলের মন জয় করে নিতে পেরেছিলেন। ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন অসুস্থতাজনিত কারণে এই সফল শিক্ষক নেতাকে গত ৩০ ডিসেম্বর রোজ শনিবার চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেয়ার পথে পরলোকগমন করেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাইহি রাজিউন। স্যারের মৃত্যুতে কড়ৈতলী বিদ্যালয়ের শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবকসহ এলাকার সর্বশ্রেণীর ব্যক্তিবর্গ অশ্রুসিক্ত হয়েছেন। সত্যিই হুজুর স্যার নিজেই নিজের বিকল্প ছিলেন। স্যার আর বিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় আসবেন না। স্যার বেঁচে থাকবেন অজস্র ছাত্র-ছাত্রীদের অন্তরে। তিনি শুধু ছাত্রছাত্রীদের কাছে প্রিয় ছিলেন না, তিনি সবার কাছে কাছেই প্রিয় ছিলেন। এককথায় স্যার ছিলেন কড়ৈতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রিয় শিক্ষক। মৃত্যুকালে তিনি চার সন্তানসহ বহু গুণগ্রাহী রেখে যান। স্যারের পুত্র সন্তান মুহাম্মদ নাদির শাহ পাটওয়ারী, নাজিফ আহম্মেদ এবং কন্যা সন্তান নাদিমা আল ফারহা ও নাফিসা আল ওয়ারা বিবাহিতা।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৪৪৬৬৬
পুরোন সংখ্যা