চাঁদপুর। মঙ্গলবার ১৩ মার্চ ২০১৮। ২৯ ফাল্গুন ১৪২৪। ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৩৯
ckdf
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুরসহ দেশের বেশ কিছু জেলায় আজ ঈদ পালিত হচ্ছে
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩৬-সূরা ইয়াসিন

৮৩ আয়াত, ৫ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৩৩। তাদের জন্যে একটি নিদর্শন মৃত পৃথিবী। আমি একে সঞ্জীবিত করি এবং তা থেকে উৎপন্ন করি শস্য, তারা তা থেকে ভক্ষণ করে।

৩৪। আমি তাতে সৃষ্টি করি খেজুর ও আঙ্গুরের বাগান এবং প্রবাহিত করি তাতে নির্ঝরণী।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


অন্ধ ব্যক্তিরাই পৃথিবীর বেশি ভাগ্যাহত।

-ডিকেন্স।

 


যে লোক কম কথা বলে বা চুপ থাকে সে অনেক বিপদ আপদ থেকে বেঁচে যায়।


ফটো গ্যালারি
ভবিষ্যতের ক্যারিয়ার
নাসরীন মুস্তাফা
১৩ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


টিনএজ ফ্রাস্টেশনের অন্যতম প্রধান উৎস হচ্ছে নিজের ভবিষ্যতকে খুব একটা স্পষ্ট দেখতে না পাওয়া। বাবা-মা চাইছেন এক রকম, সেই রকমের সাথে মিলছে না নিজের পছন্দ। ওদিকে যে ক্যারিয়ার কপালে জুটবে তা দিয়ে খেয়ে-পরে বেঁচে থাকা যাবে কি না, টিকে থাকতে পারবো কি না, ইত্যাকার নানান দৃশ্য টিনএজারের জীবনে বৈসাদৃশ্য ঘটিয়ে দেয়। ভাবনার হাত থেকে আপাতত মুক্তি পেতে অথবা ভাবনাকে অ্যায়সা কায়দায় ট্যাক্ল দিতে পারার মতো করে নিজেকে সুপার হিউম্যান ভাবতে টিনএজার তখন আশ্রয় খোঁজে মাদক কিংবা এরকম অন্ধকার চোরাগলিতে। বেচারার হাত ধরে সান্ত্বনা দেয়ার মতো সহানুভূতিশীল মানুষের তখন বড্ড অভাব পড়ে যায়। বাবা-মা নিজেরাই পরিণত হন সমস্যায়, সমাধান আর দেবেন কি!



 



এ রকম কৈশোরের সাথে আজকাল প্রায়ই দেখা হয়ে যাচ্ছে। কী অসহায়ত্ব ঘিরে ধরেছে ওদের, কী অসহায় সময় পার হয়ে এসেছি আমরাও! সমাজ কেবলি বলে, নিজের পায়ে দাঁড়াও। বলে, লেখাপড়া করে যে গাড়িঘোড়া চড়ে সে। বলে, ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হও।



 



'বলেই খালাস', এভাবেই খেদ ঝরে পড়েছিলো ইমরানের কণ্ঠে। ওর ঠোঁটের কোণে ঝরে পড়া তিক্ত হাসির খোঁচা বলাবলির ঊধর্ে্ব পেঁৗছে যেতে বলে।



'হয়ে ওঠার অপশন খুব কম। যেনো এর বাইরে আর কিছু হওয়া চলে না।' এই রাগ ছিলো মিথিলার।



 



দমন-কে প্রশ্ন করো, মন কি চায়? না না, মন-কে প্রশ্ন করার কাজটি যেনতেনভাবে করলে হবে না। তোমার মন তোমার সাথে কখন কীভাবে দেখা দেয়, সেটা আগে জেনে নাও। কোন মন খোলা আকাশের নিচে মেলে ধরে নিজেকে।'



ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার-গাড়ি-ঘোড়াওয়ালা ছাড়া আর হতে চাও? এরকম প্রশ্ন যখন করেছিলাম, ওর চোখে অসহায় দৃষ্টিশূন্যতা দেখেছি। আর কি হওয়া যায়? কেনো কিছু হতে হবে?



 



খুব দার্শনিক ছিলো শুভ্র। বলছিলো, 'টাকাপয়সা কামানো খুব একটা কঠিন কাজ নয়। টাকাপয়সা কামানোর জন্যে একটি ক্যারিয়ার বেছে নেবো আর তাতে আমার মন শান্তি পাবে না, তেমন তো আমি চাই না।'



 



বলেছিলাম, মন-কে প্রশ্ন করো, মন কি চায়? না না, মন-কে প্রশ্ন করার কাজটি যেনতেনভাবে করলে হবে না। তোমার মন তোমার সাথে কখন কীভাবে দেখা দেয়, সেটা আগে জেনে নাও। কোন মন খোলা আকাশের নিচে মেলে ধরে নিজেকে। কেউ আবার নিঃশব্দ গাছের কাছে গেলে নিজেকে খুঁজে পায়। তুমি আাগে তোমার মনের মুখোমুখি হও। তারপর প্রশ্ন করো, কিসে তৃপ্ত হবে মন?



একবার নবারুণ পত্রিকা একগাদা শিশুকিশোরকে কাগজ-কলম ধরিয়ে দিয়ে বলেছিল, কি হতে চাও লিখে ফেলো। কেউ কেউ আকাশ হতে চাইলো। কেউ চাইলো পাখি হতে। কেউ গাছ। এরা খোলা আকাশ দেখে না, খোলা মাঠে ছোটে না। তাই কিছু হতে চাইতে গেলে মনটা চুপিচুপি বলেছিল, মুক্তি চাই। মুক্তি মানে আকাশ, গাছ, পাখি।



ক্লাস সেভেনে পড়া সেঙ্পিয়র সেদিন বলছিলো, ও নাকি এমন এক গাড়ি বানাবে, যা কেউ এখনো দেখেইনি। গাড়ির প্রতি ওর ঝোঁক দেখে ওর মায়ের কপালে অসংখ্য ভাঁজ। কে ওকে গাড়ি বানানোর সুযোগ দেবে? কি হবে এই ছেলের? কি হবে ওর ভবিষ্যৎ?



আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা গৎবাধা কিছু টিপস দিতে পারে, এমএ পাস করে সরকারি অফিসের পিওন পদে আবেদন জমা দিতেও কুণ্ঠিত অনুভব দেয় না। এভাবেই কেটে গেছে দিন, আমাদের দিন। কিন্তু, এভাবে চিরকাল যাবে না। দুনিয়া বদলাচ্ছে বলে বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে ওঠার যুদ্ধে নেমেছে। আইডিয়ার সন্ধানে সরকারি অফিসে পর্যন্ত ইনোভেশন টিম গড়ে তুলে উৎসাহ দেয়া হচ্ছে আইডিয়ার। পৃথিবীর সম্পদ কমে যাচ্ছে, আইডিয়া দিয়ে নূ্যনতম সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন ছাড়া টিকে থাকা যাবে না, এটা সরকারি পর্যায়ে বোধগম্যতা এলেও আপামর জনগোষ্ঠী কি বুঝতে পেরেছে? আমি বুঝেছি? আপনি বুঝেছেন? আমরা সবাই কি বুঝতে পেরেছি? আর কত সময় লাগবে আমাদের সবাইকে বুঝে ওঠার সমান পর্যায়ে আসতে?



 



আর তাই, যতো দিন যাচ্ছে টিনএজারের জীবনের অাঁধার ততোবেশি গাঢ় হচ্ছে। একালের টিনএজারের ওপর অভিযোগও আছে কম না। আমাদের কালে পৃথিবী চোখের পলকে কম্পিউটারের পর্দায় বা হাতের মোবাইলে হাজির হতো না। এখন হয়। মেকানিঙ্ বুঝতে পারছিলাম না বলে চোখের পানিতে খাতার পাতা ভিজিয়ে ফেলেছিলাম। এখন তো খান একাডেমির মতো অসংখ্য শিক্ষণীয় সাইট আছে না বোঝাকে বুঝিয়ে দিতে। এরপরও ইন্টারনেটকে শিক্ষার্জনের মাধ্যম হিসেবে না নিয়ে গৎবাধা 'কোচিং সিস্টেম' গিলছে কেন টিনএজার? কেনো হতাশ হচ্ছে? ভবিষ্যতের ক্যারিয়ার, ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়েও কি কম তথ্য আছে? কেনো সেসব চেখে দেখছে না? ইন্টারনেট অনিরাপদ, সোজাসাপ্টা এ যুক্তি শুনতেও রাজি নই। নিরাপদ ইন্টারনেটকে কীভাবে চেনা যাবে, সেটা শেখার উপায়ও কিন্তু আছে ইন্টারনেটে।



বলছিলাম ভবিষ্যতের ক্যারিয়ার, ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা। মাইক্রোসফট-এর ওয়েবসাইটে একটি নিবন্ধ পড়ছিলাম। খুব বেশি দিন পরের ভবিষ্যৎ নয়, ২০২৫ সাল নাগাদ কোন্ কোন্ ক্যারিয়ার পৃথিবীর জন্যে অত্যন্ত দরকারি হয়ে উঠবে, তাই নিয়ে তথ্য আছে ওখানে। ২০২৫ সাল নাগাদ ভার্চ্যুয়াল রিয়েলিটি হয়ে ওঠবে লাখ লাখ মানুষের সময় কাটানোর প্রধান ডিজিটাল স্পেস। ওখানেই তারা থাকবে, কথা বলবে, শিখবে, খেলবে এবং কাজ করবে। গোটা বিশ্বকে দেখতে চাইলে জানালা খুলে তাকানোর দরকার পড়বে না। অনলাইনে যে দুনিয়া, সেটাই আসল দুনিয়া, হয়ে যাবে এরকম সব। এর আভাস পাচ্ছি কিন্তু এখনি।



 



২০১৭ সালে ১ কোটি ২০ লাখ ভার্চ্যুয়াল রিয়েলিটি (ভিআর) হেডসেট বিক্রি হয়েছে। ২০২০ সাল নাগাদ ভিআর প্রযুক্তির মার্কেট শেয়ার দাঁড়াবে বিশ্বব্যাপী ৪০ বিলিয়ন ডলার। আগামী দশকে স্মার্টফোনের জায়গা নেবে ভিআর প্রযুক্তি। তাই এই প্রযুক্তির দরকার পড়বে লাখ লাখ স্মার্ট তারুণ্যের, গত বছরই চীন প্রযুক্তিখাতের সেরা মেধাদেরকে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে খুঁজে নিয়ে ভিআর প্রযুক্তিতে লাগিয়ে দিয়েছে। ২০১৪ সালের সাথে হিসেব করলে ভিআর প্রযুক্তিতে দক্ষ জনবল চেয়ে করা চাকুরির বিজ্ঞাপনের পরিমাণ বেড়ে গেছে ৮০০%। সব দেশ স্কুল-কলেজ-ইউনিভার্সিটিতে ভিআর প্রযুক্তি শিখিয়ে দক্ষ করতে চাইছে। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে বিশ্বে এই প্রথম শুরু হলো গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা কোর্স, অস্ট্রেলিয়ার ডিয়াকিন ইউনিভার্সিটিতে। একই সময়ে লুজিয়ানাতে ডিজিটাল মিডিয়া ইনস্টিটিউট থ্রিডি মডেলিং, টেঙ্চারিং, অ্যানিমেশন এবং মোশন ক্যাপচারিং-এর ওপর দুটি কোর্স চালু হয়, যার উদ্দেশ্য হচ্ছে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে স্থাপত্য, তেল-গ্যাস খাতে, রেলশিল্পে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সামরিক বাহিনীতে খুব শীঘ্রি যে ভিআর প্রযুক্তি অত্যাবশ্যকীয় হয়ে পড়বে, তাতে সুযোগ পেতে প্রস্তুত করা।



অনলাইন গেমিং থেকে শুরু করে সফটওয়্যার অ্যাপ্লিকেশনে দ্রুত জায়গা করে নেয়া ভিআর প্রযুক্তি তৈরি করছে সম্পূর্ণ নতুন ধরনের ক্যারিয়ার।



 



হতাশাগ্রস্ত টিনএজার ও তাদের বাবা-মায়ের এই রকম ক্যারিয়ার নিয়ে আগ্রহ কি জন্মাবে? হয়তো সোজা বাক্যটা উচ্চারিত হবে, আমরা কি পারবো? ছাপোষা মধ্যবিত্তের অতো অডভেঞ্চার দরকার নেই। সোজা-সাপ্টা একখানা চাকুরি হলেই হবে। সরকারি চাকুরি হচ্ছে প্রথম পছন্দ। ফ্যাশন ডিজাইনিং নিয়ে চমৎকার রেজাল্ট করে শিক্ষাজীবন শেষ করা এক তরুণের মা আমার সহকর্মী ছিলেন। তিনি খুব মন খারাপ করে বলছিলেন, ছেলে যে কী আবোল-তাবোল বলে! সরকারি একটা চাকুরি যদি হতো! এই ধরুন, অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসার...!



 



কম্পিউটার সায়েন্স পড়া তরুণ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসার পোস্টে আবেদন করেন, কোন্ চাপে করেন, তা বলাই বাহুল্য। এরপরও দেখা হয় বাঁধ ভেঙে দেয়া তরুণদের সাথে। সেই ফ্যাশন ডিজাইনার তরুণ যেমন মায়ের কথা মতো নিজের গলা নিজে টিপে বসেননি। ফ্রিল্যান্সার আহমদ আকবর শুভ তৈরি করে দিয়েছেন 'নবারুণ মোবাইল অ্যাপ'। সামাজিক নিরীক্ষণে তার এই কাজ কোনো কাজ নয় বলে মানসিক চাপ নিতে হয়, সে কথাও জেনেছি তার কাছ থেকে। এতোসব চাপ মেনে নিয়ে বাংলাদেশের তারুণ্য ফ্রিল্যান্সিং-এ বিশ্বের মাঝে প্রথম সারির দেশ হতে পেরেছে, তা কেবল এই অদম্য তারুণ্যের কৃতিত্বেই।



কাজেই, ভয় করো না বন্ধু। বরং কণ্ঠ ছাড়ো জোরে!



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
২২৫৫১৪৭
পুরোন সংখ্যা