চাঁদপুর। মঙ্গলবার ১৩ মার্চ ২০১৮। ২৯ ফাল্গুন ১৪২৪। ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৩৯
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩৬-সূরা ইয়াসিন

৮৩ আয়াত, ৫ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৩৩। তাদের জন্যে একটি নিদর্শন মৃত পৃথিবী। আমি একে সঞ্জীবিত করি এবং তা থেকে উৎপন্ন করি শস্য, তারা তা থেকে ভক্ষণ করে।

৩৪। আমি তাতে সৃষ্টি করি খেজুর ও আঙ্গুরের বাগান এবং প্রবাহিত করি তাতে নির্ঝরণী।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


অন্ধ ব্যক্তিরাই পৃথিবীর বেশি ভাগ্যাহত।

-ডিকেন্স।

 


যে লোক কম কথা বলে বা চুপ থাকে সে অনেক বিপদ আপদ থেকে বেঁচে যায়।


ফটো গ্যালারি
বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় প্রস্তুতি
সুধির বরণ দাস
১৩ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


অষ্টম অধ্যায়



সৃজনশীল অনুশীলন



 



১। ঘটনা-১ : গতকাল রিফাত ঞঠ-র সংবাদে জানতে পারলো যে, ঢাকার একটি নামকরা শপিংমলের ১১ ও ১২ তলায় সংগঠিত একটি দুর্ঘটনায় বেশ কিছু দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বহু মানুষ হতাহত হয়। একটি বিশেষবাহিনীর সদস্যরা এসে উক্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।



 



ঘটনা-২ : গত ২৫ এপ্রিল ২০১৫ বেলা ১১ : ৫৬ মিনিটে বাংলাদেশসহ সমগ্র নেপাল একযোগে কেঁপে ওঠে। এতে অনেক ঘর-বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বহুলোকের হতাহতের খবরও পাওয়া যায়। আমরা যদি একটু সাবধান হই তাহলে এ ক্ষতির পরিমাণ কমানো যেতে পারে।



ক) বায়ুম-লের ওজোন স্তর ক্ষয়কারী গ্যাসটির নাম কি?



খ) গ্রীনহাউস প্রতিক্রিয়া বলতে কী বোঝ?



গ) উদ্দীপকে ঘটনা-১-এর দুর্যোগের কারণ ব্যাখ্যা কর।



ঘ) ঘটনা-২-এর দুর্যোগের ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনতে তুমি কী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারো? মতামত দাও।



ক) উত্তর : বায়ুম-লের ওজন স্তর ক্ষয়কারী গ্যাসটির নাম হাইড্রো ক্লোরো ফ্লোরো কার্বন (এইচসিএফসি) গ্যাস।



খ) উত্তর : গ্রীনহাউস প্রতিক্রিয়া বলতে গ্রীনহাউস গ্যাসসমূহের পরিমাণ বৃদ্ধির কারণে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পাওয়াকে বোঝায়। কার্বন-ডাই-অঙ্াইড, নাইট্রাস অঙ্াইড, সিএফসি ইত্যাদি গ্রীনহাউস গ্যাস পৃথিবীর বায়ুম-লকে ঘিরে একটি আচ্ছাদন তৈরি করে। তাপ এই আচ্ছাদন ভেদ করে পৃথিবীতে আসতে পারে; কিন্তু বিকিরিত তাপ বায়ুমন্ডলে আটকা পড়ে। এভাবে তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে গ্রীনহাউস প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।



গ) উত্তর : উদ্দীপকে ঘটনা-১-এর দুর্যোগটি হলো অগি্নকান্ড। অগি্নকান্ড যেমন প্রাকৃতিক কারণে ঘটে আবার অসাবধানতা ও দুর্ঘটনাজনিত কারণেও ঘটতে পারে। প্রচ- দাবদাহের কারণে কোনো কোনো দেশের বনাঞ্চালে অগি্নকান্ড ঘটতে দেখা যায়। একে দাবানল বলে। আমাদের দেশে সাধারণত দাবানলের ঘটে না। এখানে অসাবধানতা ও দুর্ঘটনাই অগি্নকা-ের মূল কারণ। অসাবধানতা ও দুর্ঘটনাজনিত অগি্নকা- সাধারণত শিল্পকারখানা, তেলশোধনাগার, গার্মেন্টস্ শিল্প, পাটকল, পাটের গুদাম, রাসায়নিক গুদাম বা কারখানা এমনকি বসতবাড়ি, দোকানপাট, শপিংমল, অফিস ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে ঘটতে দেখা যায়। এছাড়াও গ্রাম ও শহরাঞ্চালে জলন্ত চুলা, কুপি, মশার কয়েল, সিগারেটের আগুন, হারিকেন প্রভৃতি থেকেও অসাবধানতাবশত অগি্নকা-ের সূত্রপাত ঘটে। উদ্দীপকের ঘটনা-উদ্দীপকে ঘটনা-১-এর দুর্যোগ অর্থাৎ অগি্নকা-ের কারণও ছিলো মানুষের অসাবধানতা।



ঘ) উত্তর : ঘটনা-২-এর দুর্যোগেটি হলো ভূমিকম্প। পৃথিবীতে যতোরকম প্রাকৃতিক দুযর্োগ ঘটে তার মধ্যে ভূমিকম্পই সবচেয়ে অল্পসময়ে সবচেয়ে বেশি ধ্বংসযজ্ঞ ঘটায়। ভূমিকম্পের ব্যাপারে আগাম কোনো সর্তক সংকেত দেয়া সম্ভব হয় না। ভূমিকম্পের ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনতে যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে তা হলো : বাড়তি দরজা থাকা প্রয়োজন। প্রাথমিক চিকিৎসাসামগ্রী, হেলমেট, টর্চলাইট প্রভৃতি মজুত রাখতে হবে। ভূমিকম্পের সময় আশ্রয় নেয়ার জন্যে একটি মজবুত টেবিল রাখতে হবে। ভারি আসবাবপত্র মেঝের ওপরে রাখতে হবে। ব্যবহারের পর বৈদ্যুতিক বাতি ও গ্যাসের চুলা বন্ধ রাখতে। সে সাথে ভূমিকম্প শুরু হলে শক্ত টেবিল বা শক্ত কাঠের আসবাবপত্রের নিচে অবস্থান নিতে হবে। দ্রুততার সাথে বৈদ্যুতিক সুইচ ও গ্যাসের সংযোগ বন্ধ করে দিতে হবে। বাড়ির আশপাশে খোলা জায়গা থাকলে দ্রুত ঘর থেকে বের হয়ে খোলা জায়গায় যেতে হবে। ভূমিকম্পের সময় লিফট ব্যবহার করা উচিত না। সেই সাথে ভূমিকম্পের পরে আহত লোকজনকে হাসপাতালে নিতে প্রয়োজনীয় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থাগ্রহণ করতে হবে। দুর্গত মানুষের জন্যে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র, খাবার ও পানির ব্যবস্থা করতে হবে। তবে ভূমিকম্পের সময় আত্মরক্ষা এবং ভূমিকম্পের পর উদ্ধার কাজ ও ত্রাণ কাজ সম্পর্কে মানুষকে ধারণা দিতে হবে। তাই বলা যায়, ঘটনা-২-এর দুর্যোগ অর্থাৎ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনতে উপরোক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা যেতে পারে।



 



২। সাজিদের গ্রামটি ধলেশ্বরী নদীর তীরে অবস্থিত। সকালে খেলার মাঠে গিয়ে দেখল নদী পানিতে পূর্ণ। কিন্তু বিকেল বেলায় গ্রামের লোকজনের ছোটাছুটি, গবাদি পশু ও মালামাল অন্যত্র নিয়ে যাওয়া, ফসল সংরক্ষণের ব্যাপক প্রস্তুতি দেখে সে বুঝলো তাদেরও এখন গ্রাম ছেড়ে যেতে হবে। তার পরিবারের সদস্যরা সাজিদের দাদি ও ৩ বছরের ছোট বোনকে নিয়ে বেশি চিন্তা করছিলো।



ক) গ্রীনহাউস গ্যাস কী?



খ) ভূমিধস কেন হয়?



গ) সাজিদের এলাকায় কোন্ দুর্যোগ দেখা দিয়েছে? ব্যাখ্যা করো।



ঘ) উক্ত দুর্যোগ সাজিদের পরিবারের ওপর যে প্রভাব ফেলেছে তা নিরূপণ করো।



ক) উত্তর : গ্রীনহাউস গ্যাস হলো বায়ুম-লের কার্বন-ডাই-অঙ্াইড, মিথেন, নাইট্রাস অঙ্াইড, সিএফসিসহ গৌন গ্যাসগুলোকেই একত্রে গ্রীনহাউস গ্যাস বলা হয়।



খ) উত্তর : ভূমিধস এক ধরনের দুর্যোগ। পাহাড়ের মাটি ধসে পড়াকেই ভূমিধস বলে। সাধারণত দীর্ঘমেয়াদী ও ভারি বৃষ্টিপাতের কারণেই ভূমিধস ঘটে থাকে। বন উজার করে এবং পাহড়ের মাটি কেটে ফেলার কারণে ভূমিধসের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। আমাদের দেশে নেত্রকোনা, সিলেট, চট্টগ্রাম, বান্দরবন, খাগড়াছড়ি, কঙ্বাজার প্রভৃতি জেলায় প্রায়শ ভূমিধস হয়ে মানুষের প্রাণহানি ঘটে ও বাড়িঘর নষ্ট হয়।



গ) উত্তর : সাজিদের এলাকায় বাংলাদেশের অন্যতম প্রাকৃতিক দুর্যোগ নদীভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। এদেশের ওপর দিয়ে অসংখ্য নদী-নালা অাঁকাবাঁকা হয়ে প্রবাহিত হওয়ায় এখানে নদীভাঙ্গন একটি পরিচিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ। উদ্দীপকে ধলেশ্বরী নদীকে কেন্দ্র করে উক্ত দুর্যোগের সূত্রপাত ঘটেছে। সাজিদের গ্রামের লোকজন গবাদিপশু ও মালামাল অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার জন্যে তৎপর হয়ে ওঠেছে। তারা ফসল সংরক্ষণের প্রস্তুতিও গ্রহণ করেছে। গ্রামটি যেহেতেু ধলেশ্বরী নদীর তীরে এবং নদীর পানি কানায় কানায় পূর্ণ তাই নদীভাঙ্গনের আশঙ্কায় গ্রামবাসীর এই প্রস্তুতির কারণ। প্রকৃতপক্ষে জীবন ও সম্পদ রক্ষার প্রস্তুতি নদীভাঙ্গন মোকাবেলারই অংশ। নদীভাঙ্গনের আশঙ্কা দেখা দিলে বাড়ি-ঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না। সাজিদের পরিবারও গ্রাম ছেড়ে অনত্র চলে যাওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। তাই বলা যায়, সাজিদের গ্রামটি নদীভাঙ্গনের সম্মুখীন হয়েছে।



ঘ) উত্তর : উক্ত দুর্যোগ সাজিদের পরিবারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। যে কোন দুর্যোগে জীবন ও জনপদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যপ্ত হয়। নদীভাঙ্গনও এর ব্যতিক্রম নয়। আমাদের দেশে নদীর তীরবর্তী অঞ্চলগুলো প্রতিবছর নদীভাঙ্গনের কবলে পড়ে এলাকার লোকজন সর্বশান্ত হয়ে পড়ে। নদীভাঙ্গনের ফলে সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। বিশেষ করে এই দুর্যোগটির কারণে মানুষ গৃহহীন ও আশ্রয়হারা হয়ে উদ্বাস্তুতে পরিণত হয়। নদীভাঙ্গনের ফলে অন্যান্য পরিবারের মতো সাজিদের পরিবারকেও গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে হবে। কারণ, তাদের জমিজমা, ঘরবাড়ি সব নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। এর ফলে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং এক ধরনের চরম অনিশ্চয়তার সম্মুখীন হবে। এখন তাদের নতুন আশ্রয়ের খোঁজ করতে হবে। এক্ষেত্রে পরিবারের বৃদ্ধ ও শিশুদের নিয়ে বেশি ভাবতে হয়। অর্থাৎ সব হারিয়ে পরিবারের সবাইকে নিয়ে আশ্রয়হীন জীবনের পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে সাজিদের পরিবার চিন্তিত।



উল্লেখ্য, নদীভাঙ্গনের ফলে সাজিদের পরিবার অর্থনৈতিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা তাদের জীবনযাত্রার মানকে প্রভাবিত করেছে। পরিশেষে বলা যায়, সাজিদের পরিবার নদীভাঙ্গনে করুণ পরিস্তিতির শিকার হয়েছে।



 



৩। আরো অনেকের সাথে মোশারফ মিয়া পাহাড়ের নিচে বসবাস করেন। বর্ষায় পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে ভেঙ্গে পড়ে। এতে মোশারফ মিয়া কোনোমতে বেঁচে গেলেও অনেকেরই প্রাণহানি ঘটে এবং এ নিয়ে অন্যান্যদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এই দুর্ঘটনায় অনেক সংগঠন ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসে।



ক) পরিবেশ দূষণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ কোনটি?



খ) বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বলতে কী বোঝায়?



গ) উদ্দীপকে কোন্ প্রাকৃতিক দুর্যোগের ইঙ্গিত রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।



ঘ) উদ্দীপকে বর্ণিত দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতির জন্যে মোশারফ মিয়ার অসচেতনতাই দায়ী-মূল্যায়ন করো।



ক) উত্তর : পরিবেশ দূষণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো বন উজারকরণ।



খ) উত্তর : বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বলতে গ্রীনহাউস গ্যাসের প্রভাবে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়াকে বোঝায়। গ্রীনহাউস গ্যাস পৃথিবীকে ঘিরে চাদরের মতো একটি আচ্ছাদন তৈরি করে। সূর্যের তাপ এই আচ্ছাদনটি শোষণ করে এবং তা পৃথিবী পৃষ্ঠে ছড়িয়ে দেয়। পৃথিবী পৃষ্ঠ দ্বারা গৃহীত এই তাপমাত্রা স্বাভাবিকভাবে রাতের বেলা প্রতিফলিত হয়ে মহাশূন্যে মিলিয়ে যায় এবং এভাবেই পৃথিবী ঠান্ডা হয়। কিন্তু বায়ুম-লে নির্দিষ্ট কিছু গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিফলিত তাপ মহাশূন্যে না মিলিয়ে গিয়ে বায়ুম-লকে উত্তপ্ত করে। এইভাবে পৃথিবীর তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়াকে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বলে।



গ) উত্তর : উদ্দীপকে উলি্লখিত প্রাকৃতিক দুর্যোগটি হচ্ছে ভূমিধস। পাহাড়ের মাটি ধসে পড়াকেই ভূমিধস বলে। যেসব পাহাড় বেলে পাথর বা শেল কাদা দিয়ে গঠিত ভারি বৃষ্টিপাতের কারণেই সেসব পাহাড়েই ভূমিধসের ঘটনা ঘটে থাকে। তবে ব্যাপক হারে বৃক্ষনিধন ও পাহাড় কাটার কারণেও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে থাকে। এর ফলে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী লোকজন মাটিচাপা পড়ে এবং প্রাণ হারায়।



২০১৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে বহুলোক প্রাণ হারায় এবং এলাকাটি যাতায়াত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং উদ্ধারকাজ ও ত্রাণকাজ ব্যাহত হয়। উদ্দীপকে বর্ণিত অনেকের সাথে মোশারফ মিয়া পাহাড়ের নিচে বসবাস করেন। বর্ষায় পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে ভেঙ্গে পড়ে। এতে মোশারফ মিয়া কোনোমতে বেঁচে গেলেও অনেকেরই প্রাণহানি ঘটে।



ঘ) উত্তর : ভূমিধসে ক্ষয়ক্ষতির জন্যে মোশারফ মিয়াদের অসচেতনতাই দায়ী। পাহাড়ের মাটি ধসে পড়াকেই ভূমিধস বলা হয়। যেসব পাহাড় বেলে পাথর বা শেল কাদা দিয়ে গঠিত ভারি বৃষ্টিপাতের কারণেই সেসব পাহাড়েই ভূমিধসের ঘটনা ঘটে থাকে। সাধারণত দীর্ঘমেয়াদী ও ভারি বৃষ্টিপাতের কারণেই ভূমিধস ঘটে থাকে। তবে ব্যাপকহারে বৃক্ষনিধন ও পাহাড় কাটার কারণেও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে থাকে। এর ফলে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী লোকজন মাটিচাপা পড়ে এবং প্রাণ হারায়। ব্যক্তিস্বার্থকে কেন্দ্র করে পাহাড়ের গাছকাটা ও মাটিকাটার কারণে আমাদের পাহাড়গুলো মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ভূমিধসে ক্ষয়ক্ষতির জন্যে আমাদের অসচেতনতাই দায়ী। ভারী বৃষ্টিপাতের সময় নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নেয়া, পাহাড়ের গাছকাটা ও মাটিকাটা বন্ধ করতে পারলেই ভূমিধসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ কমে যাবে। সচেতনতার অভাবে ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। লোকজনের মধ্যে ভূমিধস সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।



উদ্দীপকে মোশারফ মিয়া পাহাড়ের নিচে ঘরবাঁধে এবং বর্ষার সময়ও সে এখানে বসবাস করে। তার অজ্ঞতা ও অসচেতনতা কারণে ভূমিধসে ক্ষয়ক্ষতি এবং প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে।



লেখক : শিক্ষক, হাইমচর।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৯৫৪৯৭৪
পুরোন সংখ্যা