চাঁদপুর। মঙ্গলবার ১৩ মার্চ ২০১৮। ২৯ ফাল্গুন ১৪২৪। ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৩৯
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩৬-সূরা ইয়াসিন

৮৩ আয়াত, ৫ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৩৩। তাদের জন্যে একটি নিদর্শন মৃত পৃথিবী। আমি একে সঞ্জীবিত করি এবং তা থেকে উৎপন্ন করি শস্য, তারা তা থেকে ভক্ষণ করে।

৩৪। আমি তাতে সৃষ্টি করি খেজুর ও আঙ্গুরের বাগান এবং প্রবাহিত করি তাতে নির্ঝরণী।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


অন্ধ ব্যক্তিরাই পৃথিবীর বেশি ভাগ্যাহত।

-ডিকেন্স।

 


যে লোক কম কথা বলে বা চুপ থাকে সে অনেক বিপদ আপদ থেকে বেঁচে যায়।


ফটো গ্যালারি
ইবতেদায়ী শিক্ষকরা পাচ্ছেন প্রাথমিকের সমমর্যাদা
শিক্ষাঙ্গন ডেস্ক
১৩ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড অবশেষে ভাগ্য খুলছে দেশের স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষকদের। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সমান মর্যাদা দেয়া হচ্ছে তাদের। নীতিমালা পরিবর্তন করে বেতন কাঠামোর আওতায় নেয়া হচ্ছে এই বঞ্চিত শিক্ষকদের। আগামী বৃহস্পতিবার এ নীতিমালা চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।



এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (মাদ্রাসা) রওনক মাহমুদ ১১ মার্চ বিকেলে বলেন, 'নীতিমালাটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। খসড়ায় ইবতেদায়ী ও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষকদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সমান মর্যাদা দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, নিয়োগ, মাদ্রাসা পরিচালনা সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে। আগামী ১৫ মার্চ বৃহস্পতিবারের বৈঠকে নীতিমালাটি চূড়ান্ত হবে।'



 



সূত্রমতে, ১৯৯৪ সালের একই পরিপত্রে নিবন্ধিত হয় বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সমমানের স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা। শুরু থেকেই ৫শ' টাকা করে ভাতা পান এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা। তবে পরে প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারি হলেও ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষকরা বঞ্চিত থেকে যান। শুধু তা-ই নয়, একই শিক্ষাব্যবস্থায় দাখিল মাদ্রাসার সঙ্গে সংযুক্ত ইবতেদায়ীর শিক্ষকরা ৯ হাজার ৯শ' ১৮ টাকা বেতন পেলেও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক পাচ্ছেন আড়াই হাজার টাকা এবং সহকারী শিক্ষকরা পাচ্ছেন মাত্র দুই হাজার ৩শ' টাকা।



এই বৈষম্য দূর করতে গত বছর ৭ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন স্বতন্ত্র ইবতেদায়ীর চার শিক্ষক। ওই রিটের প্রাথমিক শুনানিতে আদালত বৈষম্য দূর করতে নির্দেশ দেন। পরে ৯০ দিনের মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে দেয়া শিক্ষকদের আবেদন নিষ্পত্তি করতে বলেন আদালত। হাইকোর্টের ওই নির্দেশের পর গত বছর ৪ অক্টোবর মাদ্রাসা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (মাদ্রাসা) রওনক মাহমুদকে আহ্বায়ক করে ১১ সদস্যের একটি কমিটি করে মন্ত্রণালয়।



 



এরই মধ্যে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা সরকারি করার দাবিতে গত ১ জানুয়ারি থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনশনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষকরা। মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বিভাগের সচিব মোঃ আলমগীর শিক্ষকদের দাবি পূরণের আশ্বাস দিলে ১৬ জানুয়ারি আন্দোলন স্থগিত করেন তারা। সরকারের এই আশ্বাসের পর নতুন নীতিমালা চূড়ান্তকরণের কাজ শুরু করে মন্ত্রণালয়।



খসড়া নীতিমালা বলা হয়, মহানগর, পৌরসভা ও শহর এলাকার একটি মাদ্রাসায় কমপক্ষে ২শ' এবং মফস্বল এলাকায় ১শ' ৫০ জন শিক্ষার্থী থাকতে হবে। প্রতিটি মাদ্রাসায় একজন প্রধান শিক্ষক, চারজন সহকারী শিক্ষক ও একজন অফিস সহায়ক থাকবেন। প্রধান শিক্ষকের শিক্ষাগত যোগ্যতা হবে ফাযিল আর সহকারী শিক্ষকদের এইচএসসি পাস। চারজন সহকারী শিক্ষকের মধ্যে একজন ক্বারী নিয়োগ দিতে হবে। তার শিক্ষকতা যোগ্যতা হবে আলিম পাস। অফিস সহায়কের শিক্ষাগত যোগ্যতা হবে এসএসসি পাস। শিক্ষকদের কারও তৃতীয় বিভাগ গ্রহণযোগ্য হবে না।



 



নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) অনুমোদিত পাঠ্যবই ও সিলেবাসে পাঠদান করাতে হবে। সহশিক্ষা হিসেবে কেরাত, হামদ, নাত প্রতিযোগিতা, বার্ষিক ক্রীড়া, খেলাধুলা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চা, বৃক্ষরোপণ, কাব দল (স্কাউটিং) ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম থাকবে।



মাদ্রাসা নিয়ন্ত্রণ করতে পাঁচ সদস্যের একটি উপজেলা ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক কমিটি গঠিত হবে। এই কমিটির সভাপতি হবেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা; মেট্রোপলিটন এলাকায় জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা। সদস্য সচিব হবেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। কমিটির অন্য সদস্যরা হবেন উপজেলা বা থানা সদরের এমপিওভুক্ত একটি ইবতেদায়ী মাদ্রাসার প্রধান, স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের একজন প্রতিনিধি।



 



মাদ্রাসা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইবতেদায়ী মাদ্রাসা আছে ৬ হাজার ৯শ' ৯৮টি। তবে ২০১৬ সালের ব্যানবেইসের তথ্য অনুযায়ী ইবতেদায়ী মাদ্রাসার ৩ হাজার ৪শ' ৩৩টি। এর মধ্যে অনুদান পাওয়া মাদ্রাসা এক হাজার ৫শ' ১৯টি। এসব মাদ্রাসায় ১৫ হাজার ২শ' ৪৩ জন শিক্ষক এবং ৫১ হাজার ৯শ' ৯৭ জন ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। তবে এর বাইরেও আরও অনেক মাদ্রাসা রয়েছে বলে দাবি শিক্ষক নেতাদের।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৯২৭১৮১
পুরোন সংখ্যা