চাঁদপুর। মঙ্গলবার ৩ জুলাই ২০১৮। ১৯ আষাঢ় ১৪২৫। ১৮ শাওয়াল ১৪৩৯
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • হাজীগঞ্জে আটককৃত বিএনপি'র ১৭ নেতাকর্মীকে জেলহাজতে প্রেরন
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩৯-সূরা আয্-যুমার


৭৫ আয়াত, ৮ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


২২। আল্লাহ যার বক্ষ ইসলামের জন্যে উন্মুক্ত করে দিয়েছেন, অতঃপর সে তার পালনকর্তার পক্ষ থেকে আগত আলোর মাঝে রয়েছে। (সে কি তার সমান, যে এরূপ নয়) যাদের অন্তর আল্লাহ স্মরণের ব্যাপারে কঠোর, তাদের জন্যে দূর্ভোগ। তারা সুস্পষ্ট গোমরাহীতে রয়েছে।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


 


যারা দুশ্চিন্তাকে প্রতিরোধ করতে পারে, তারা দীর্ঘজীবী হতে পারে। -এলিশবার্গ।


 


 


 


সেই শরীর বেহেস্তে যাবে না যা হারাম জীবিকা দ্বারা পরিপুষ্টি লাভ করেছে।


 


 


 


 


 


ফটো গ্যালারি
শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ান
সুধীর বরণ মাঝি
০৩ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


সারাদেশ যখন ঈদের আনন্দে মাতোহারা আমাদের এমপিওবিহীন শিক্ষকরা তখন ঢাকার রাজপথের লড়াইয়ে আছেন এমপিও ভুক্তি ও মাসিক বেতনের স্বীকৃতির জন্যে। বিনা বেতনে চাকরি করার কারণে জাতি গঠনের কারিগর এমপিওবিহীন শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের ঈদের আনন্দ মাটি হয়ে যায়। যা জাতির জন্য কলঙ্কজনক ও উদ্বেগজনক। এমন অবস্থা কোনো ভাবেই কাম্য নয়। অনাহারে থাকলে আনন্দও বিষাদ হয়ে ওঠে। আমরা সবই জানি, বুঝি কিন্তু মানি না। তাই শিক্ষা ও শিক্ষকদের বেলাই আমরা একটু বেশি হিসেবি। শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত করতে না পারলে শিক্ষা, শিক্ষক ও জাতীয় উন্নয়ন কোনটাতেই পূর্ণতা আসবে না। তাই শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই। এর জন্যে প্রয়োজন রাষ্ট্রের আরেকটু বেশি আন্তরিকতা ও সদিচ্ছা। আমাদের টাকা কোনো সমস্যা নয়। ব্রিটিশরা আমাদেরকে দুইশ' বছর লুটপাট করেছে, পাকিস্তানিরা চবি্বশ বছর। বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সাতচলি্লশ বছরে ঋণখেলাপি ও কালো টাকার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ছিয়ানব্বই হাজার কোটি টাকা। হলমার্কের চার হাজার কোটি টাকা, ডেসটিনির প্রায় কয়েক হাজার কোটি টাকা, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পাচার হওয়া অর্থ, ঋণখেলাপি এবং কালো টাকার পরিমাণ আমাদের বাজেটের তিন ভাগের একভাগ। গত দশ বছরে শুধুমাত্র চালের বাজার থেকে দেশীয় লুটেরা হাতিয়ে নিয়েছে প্রায় ৬ লাখ কোটি টাকা। এই টাকা উদ্ধার করতে পারলে গোটা দেশের অর্থনীতির চিত্র পাল্টে যাবে। শিক্ষাই একমাত্র বিনিয়োগের নিশ্চিত মাধ্যম যেখানে এক টাকা বিনিয়োগ করলে শত টাকা রিটার্ন পাওয়ার নিশ্চয়তা আছে। শিক্ষা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক অধিকার। তাই শিক্ষকের অধিকারও রাষ্ট্রের সাংবিধানিক অধিকার। শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই তাদের মজুরি পরিশোধ করতে হয়। এটা আমরা জানি কিন্তু মানি না। সেই বাণীও অকার্যকর বেসরকারি এমপিওবিহীন শিক্ষকদের বেলায়। তাই দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে বিনা বেতনে অর্ধাহারে-অনাহারে থেকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ পেশা শিক্ষকতা করে যাচ্ছেন। কিন্তু এইভাবে আর কত দিন? পেট যেহেতু আছে খেতে তো হবে। তাই বেতনের নিশ্চয়তা চাই। আর কোনো অবহেলা নয়। নয় কোনো প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ। শিক্ষকদের কোনো জমিদারি নেই, ঠিকাদারি ব্যবসাও নেই, নেই আয়ের অন্য কোনো উৎস_যার উপর নির্ভর করে বিনাবেতনে শিক্ষকতা করে যাবেন। কর্তা ব্যক্তিদের কথা শুনে মনে হয় শিক্ষকদের বেঁচে থাকার জন্য খাওয়া-দাওয়ার প্রয়োজন নেই। শিক্ষকদের জীবন আছে কিন্তু তারা জড় বস্তু! সভ্য পৃথিবীর এমন কোনো দেশ আছে বলে আমার জানা নেই, যেখানে শিক্ষকদেরকে দীর্ঘদিন বিনাবেতনে চাকরি করতে হয়। কিন্তু এইটুকু জানা আছে পৃথিবীর সকল সভ্যদেশেই শিক্ষকদের সবোচ্র্চ সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা হয়েছে। আমলাদের মোবাইল কেনার জন্য জনপ্রতি পঁচাত্তর হাজার টাকা বরাদ্ধ হয়। কিন্তু শিক্ষকদের বেতনের প্রশ্ন আসলেই কর্তৃপক্ষ টাকার সংকট বিষয়টি জোরালোভাবে উপস্থাপন করেন। যা অনেকটাই হাস্যকর। আসলে টাকার সংকট নয়, সংকটটা মূলত নৈতিকতার। শিক্ষা ও শিক্ষকবান্ধব প্রধানমন্ত্রী এই হতদরিদ্র শিক্ষকদের দুঃখ-কষ্ট আপন করে বুঝে নিয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আমরা আশাবাদী। শিক্ষা সমাজ ও সভ্যতার বিবেক। আর এই বিবেক তৈরির কারিগর হলেন শিক্ষক। যাঁরা সর্বজন সমাদৃত এবং পূজনীয়। পানি ছাড়া যেমন মাছ বাঁচতে পারে না, তেমনি শিক্ষক ছাড়াও শিক্ষা আলোকিত হতে পারে না। শিক্ষককে পশ্চাতে রেখে দেশের কোনো অগ্রগতিই সম্ভব নয়। আমাদের অনেক কর্তাব্যক্তিরাই বলেন শিক্ষকতা সম্মানের পেশা। আমরা তাদের সাথে শতভাগ একমত। তাই বলে বিনা বেতনে শিক্ষকতা! কয়েক হাজার শিক্ষক প্রায় ১০ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত বিনা বেতনে জ্ঞান বিতরণ করে যাচ্ছেন। শিক্ষকতা সম্মানের পেশা হলে আপনারাও আসেন এই সম্মানিত পেশায় এবং বিনা বেতনে পাঠদান করুন।



আর নয় অবহেলা, অযত্ন কিংবা অসম্মান। শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করার সময় এসেছে। জাতিকে শক্ত মেরুদ-ের উপর দাঁড় করাতে হলে শিক্ষা ও শিক্ষকের সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই। কারিগর যদি মেধাবী এবং দক্ষ না হয় তাহলে তার উৎপাদনও আশানুরূপ হবে না। শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার মধ্য মেধাবীদেরকে এই পেশায় আকৃষ্ট করতে না পারলে উন্নত দেশ ও জাতি গঠন কখনই সম্ভব নয়। জার্মানিতে একজন শিক্ষককে চ্যান্সেলর পদমর্যাদা দেয়া হয়। শিক্ষকের সামাজিক মর্যাদা ও স্বতন্ত্র্য বেতন স্কেল এখন সময়ের দাবি। যা কোনো অজুহাতেই অগ্রাহ্য হতে পারে না। শিক্ষার অধিকার, শিক্ষকের সামাজিক মর্যাদা এবং স্বতন্ত্র বেতন স্কেল প্রতিষ্ঠিত করতে না পারলে তা হবে সময়ের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা। যেই শিক্ষকরা আজকে আন্দোলনে আছেন তারা কেউ আমাদের ভাই, কারো বোন, কারো পিতা, কারো মা, আবার তারা সবারই শিক্ষক। তাই আমরা আশা করি, শিক্ষকদের যৌক্তিক ও ন্যায়সঙ্গত দাবি মেনে নেয়ার ক্ষেত্রে শুভবুদ্ধির পরিচয় দিয়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।



 



লেখক : শিক্ষক, হাইমচর।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
১১৬১৯৮২
পুরোন সংখ্যা