চাঁদপুর। মঙ্গলবার ৩ জুলাই ২০১৮। ১৯ আষাঢ় ১৪২৫। ১৮ শাওয়াল ১৪৩৯
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • কচুয়ায় স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছে জেলা দায়রা জজ আদালত
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩৯-সূরা আয্-যুমার


৭৫ আয়াত, ৮ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


২২। আল্লাহ যার বক্ষ ইসলামের জন্যে উন্মুক্ত করে দিয়েছেন, অতঃপর সে তার পালনকর্তার পক্ষ থেকে আগত আলোর মাঝে রয়েছে। (সে কি তার সমান, যে এরূপ নয়) যাদের অন্তর আল্লাহ স্মরণের ব্যাপারে কঠোর, তাদের জন্যে দূর্ভোগ। তারা সুস্পষ্ট গোমরাহীতে রয়েছে।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


 


যারা দুশ্চিন্তাকে প্রতিরোধ করতে পারে, তারা দীর্ঘজীবী হতে পারে। -এলিশবার্গ।


 


 


 


সেই শরীর বেহেস্তে যাবে না যা হারাম জীবিকা দ্বারা পরিপুষ্টি লাভ করেছে।


 


 


 


 


 


ফটো গ্যালারি
শিক্ষার ভিত্তিকে অবহেলা নয়
মোঃ মইনুল ইসলাম
০৩ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


বলার অপেক্ষা রাখে না যে শিক্ষাই উন্নয়নের চাবিকাঠি। শিক্ষিত মানুষই উন্নয়নের মূল কারিগর। শিক্ষার শুরু প্রাথমিকে। তাই প্রাথমিক শিক্ষাকে সরকার জাতীয়করণ করেছে। ফলে এর শিক্ষা এবং শিক্ষকের সামগ্রিক দেখভাল করার দায়িত্ব সরকারের। কিন্তু এখানেও বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে। শিক্ষকস্বল্পতা এ স্তরে একটি বড় সমস্যা। বিশেষ করে প্রধান শিক্ষকের অভাবের কথা প্রায়ই পত্রপত্রিকায় দেখা যায়। প্রধান শিক্ষকহীন বিদ্যালয়ে স্বল্পসংখ্যক শিক্ষকের দ্বারা প্রশাসন ও শ্রেণিকক্ষে শিক্ষাদানের মতো দুটি কাজ যে দুরূহ হয়ে পড়ে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তদুপরি শিক্ষাদান ছাড়াও প্রাথমিক শিক্ষকদের শিক্ষাবহির্ভূত কিছু কাজ যথা, ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও ইপিআই টিকাদানে সহায়তা প্রদানের মতো কাজ করতে হয়। ফলে শিক্ষাদানের মতো মূল কাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্লাসরুমের স্বল্পতা এবং কোনো কোনো বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণতার সমস্যাও কম নয়। স্থানীয় কিছু শিক্ষকের গ্রাম্য রাজনীতি-সংশ্লিষ্টতা এবং কাজে ফাঁকি দেয়ার প্রবণতাও দেখা যায়। যথাযথভাবে শিক্ষাদান হচ্ছে কি না সে ব্যাপারে অভিভাবকদের অসচেতনতাও সমস্যার একটি কারণ।



 



উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে শিক্ষা কর্মকর্তাদের পদায়ন ও বদলি বাণিজ্যও প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে একটি বড় সমস্যা। চর ও হাওরাঞ্চলে যেমন আছে বিদ্যালয়ের অভাব, তেমনি আছে শিক্ষকের অপ্রতুলতা। কচি-কাঁচাদের শিক্ষাদানের জন্য যথাযথ প্রশিক্ষিত শিক্ষকের অভাবের কথাও উল্লেখ করা দরকার। তাই এর গুণগত মান নিয়েও কিছু প্রশ্ন আছে। যার একটি প্রকাশ দেখি শহরাঞ্চলে শিক্ষিত মধ্যবিত্তদের এসব বিদ্যালয়কে এড়িয়ে চলার মধ্যে। সাধারণ মানুষের ছেলে-মেয়েদের কাছ থেকে তাদের সন্তানদের দূরে রাখার মানসিকতাও এখানে কাজ করতে পারে। এসব সত্ত্বেও প্রাথমিক শিক্ষার ব্যাপারে অনেকটা সন্তুষ্টি প্রকাশ করা যায়।



প্রাথমিকের পরবর্তী পর্যায় এবং গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তিটি হচ্ছে মাধ্যমিক। প্রাথমিকে ভাষাজ্ঞান ও সংখ্যাজ্ঞানের স্ফুরণ ঘটে। আর মাধ্যমিকে তার বিকাশ ঘটতে থাকে। এ বছর মাধ্যমিকে পাসের হার ৯ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। অঙ্ক ও ইংরেজিতে খারাপ করার কারণেই এই ফল বিপর্যয়। এটা দেশের শিক্ষিত-সচেতন মানুষ ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের খুবই জানা যে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার বড় দুর্বলতা মাধ্যমিক পর্যায়ে। শিক্ষাব্যবস্থাটি তলার পর তলায় সাজানো একটি ইমারত বা অট্টালিকার মতো। যদি নিচের তলাগুলো তথা ভিত্তি দুর্বল হয়, তাহলে ওপরের তলাগুলোও দুর্বল হতে বাধ্য। আমাদের উচ্চ শিক্ষার দুর্বলতার বড় কারণ হলো মাধ্যমিক তথা হাই স্কুল শিক্ষার দুর্বলতা।



 



শিক্ষার মূল কারিগর হলেন শিক্ষক। মাধ্যমিক শিক্ষার বেহাল অবস্থার বড় কারণ হলো পর্যাপ্তসংখ্যক উপযুক্ত শিক্ষকের অভাব। মাধ্যমিক স্কুলগুলোতে উপযুক্ত শিক্ষকের অভাবের বেশ কয়েকটি বড় কারণ আছে। এ রকম একটি কারণ হচ্ছে আর্থিক। এসব স্কুলের বিরাট সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশই বেসরকারি এবং তাদের শিক্ষকদের বেতন-ভাতা খুবই কম। কর্মজীবনে উন্নতি নেই বললেই চলে। এমনকি স্বল্পসংখ্যক সরকারি হাইস্কুলের শিক্ষকের কর্মজীবনে আয়-উন্নতি খুবই কম। সহকারী শিক্ষক হিসেবেই ১২ থেকে ১৪ বছর চাকরি করার পরও পদোন্নতির সম্ভাবনা তেমন দেখা যায় না। তা ছাড়া বিদ্যমান সমাজব্যবস্থায় চাকরির অন্যতম প্রধান দুটি আকর্ষণ হচ্ছে ক্ষমতা ও অবৈধ অর্থ উপার্জনের সুযোগ। শিক্ষকতার চাকরিতে এ দুটিরই অভাব। কিছুসংখ্যক শিক্ষক অবশ্য টিউশনি ও কোচিং বাণিজ্য করে থাকেন। তবে সব বিষয়ে এগুলো চলে না এবং গ্রামাঞ্চলের গরিব অভিভাবকদের সে টাকা দেওয়ার সংগতিও নেই বললেই চলে।



 



মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার দুর্গতির আরো একটি বড় কারণ হচ্ছে ম্যানেজিং কমিটি বা এমসি (মাধ্যমিকে) এবং গভর্নিং বডি বা জিবির (উচ্চ মাধ্যমিকে) দুর্নীতি। এই কমিটি এবং বডির মূল কাজ হলো প্রতিষ্ঠানের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, ভৌত অবকাঠামো এবং শিক্ষার মানোন্নয়ন। কিন্তু তা না করে তাদের নিজেদের পকেট ভারী করতেই বেশির ভাগ সময় ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। একসময় টাকার বিনিময়ে শিক্ষক নিয়োগদান নিয়মিত ব্যাপার ছিল। অবৈধ অর্থ প্রদানের মাধ্যমে যেসব শিক্ষক নিয়োগ পান, তাঁরা শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং নীতি-নৈতিকতায় খুবই দুর্বল। এ ধরনের শিক্ষক কতটা মানসম্পন্ন শিক্ষা দেবেন তা সহজেই অনুমেয়। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে উপযুক্ত শিক্ষকের নিদারুণ অপ্রতুলতার কারণ ওপরে আলোচিত সমস্যাগুলো থেকে স্পষ্টতই ফুটে উঠবে।



 



দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও কল্যাণের জন্য সত্যিকার শিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে হবে। তার জন্য দরকার মানসম্পন্ন শিক্ষা এবং শিক্ষক। শিক্ষার ভিত্তি হলো প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা। এই ভিত্তি দুটিকে বিশেষ করে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাকে শক্তিশালী করতে হবে। আর তার জন্য দরকার পর্যাপ্তসংখ্যক উপযুক্ত শিক্ষক। এর জন্য আর্থিক ও অনার্থিক প্রেষণার ব্যবস্থা থাকতে হবে। মাধ্যমিক শিক্ষাকে জাতীয়করণ করার কথা অর্থমন্ত্রী মহোদয় বলেছেন। এ কাজটি দ্রুত করতে হবে। এর সঙ্গে শিক্ষকদেরও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। শিক্ষকরা তাঁদের কাজ দ্বারাই শিক্ষকতা পেশাকে একটি মহান পেশা রূপে প্রমাণ করতে পারেন। মজবুত ভিত্তি ছাড়া শিক্ষার সংকট মোচন সম্ভব নয়। সূত্র : কালের কণ্ঠ।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
১২৮৫০৮
পুরোন সংখ্যা