চাঁদপুর। মঙ্গলবার ৩ জুলাই ২০১৮। ১৯ আষাঢ় ১৪২৫। ১৮ শাওয়াল ১৪৩৯
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩৯-সূরা আয্-যুমার


৭৫ আয়াত, ৮ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


২২। আল্লাহ যার বক্ষ ইসলামের জন্যে উন্মুক্ত করে দিয়েছেন, অতঃপর সে তার পালনকর্তার পক্ষ থেকে আগত আলোর মাঝে রয়েছে। (সে কি তার সমান, যে এরূপ নয়) যাদের অন্তর আল্লাহ স্মরণের ব্যাপারে কঠোর, তাদের জন্যে দূর্ভোগ। তারা সুস্পষ্ট গোমরাহীতে রয়েছে।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


 


যারা দুশ্চিন্তাকে প্রতিরোধ করতে পারে, তারা দীর্ঘজীবী হতে পারে। -এলিশবার্গ।


 


 


 


সেই শরীর বেহেস্তে যাবে না যা হারাম জীবিকা দ্বারা পরিপুষ্টি লাভ করেছে।


 


 


 


 


 


ফটো গ্যালারি
স্বপন কুমার মজুমদার স্যার
রুহুল আমিন
০৩ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


স্বর্গীয় শ্রী স্বপন কুমার মজুমদার একাধারে একজন দক্ষ, যোগ্য ও বিচক্ষণ শিক্ষক ছিলেন। সত্তর দশকের শেষ দিকে তিনি শিক্ষকতার মতো মহান পেশায় যোগ দেন। তিনি চাইলে তখনকার দিনে অনেক ভালো সরকারি চাকুরি নিতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। তৎকালীন বৃহত্তর কুমিল্লা জেলার কচুয়া থানার জগৎপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৯৭০ সালে সহকারী শিক্ষক হিসেবে শিক্ষকতা শুরু করেন। পরবর্তীতে ১৯৭৪ সালে তিনি শাহরাস্তি থানার মেহার উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। সব শেষে ১৯৭৯ সালের ১ জুন তিনি নাওড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে (বর্তমানে পঞ্চগ্রাম আজিজুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়) প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করে (দীঘ ৩১ বছর) ৩০ জুন ২০১০ সালে অবসরে যান। শিক্ষকতা জীবনে তার হাতে গড়া ছাত্ররা দেশে-বিদেশে স্ব-স্ব ক্ষেত্রে আজ প্রতিষ্ঠিত। একজন শিক্ষক হিসেবে তিনি নিজেকে যতটা প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন আর্থিকভাবে ঠিক উল্টা দিকে তাঁর অবস্থান ছিলো। অবসর জীবনে আর্থিক অনটনের মধ্যেই কেটেছে তাঁর বেশির ভাগ সময়। অন্যের সন্তানকে মানুষ করতে গিয়ে নিজের সন্তান-পরিবারকে বঞ্চিত করেছেন তিনি। অনেক অবহেলা অনাদরে কেটেছে সন্তান-পরিবার পরিজন ও তাঁর জীবন। বিদ্যালয়কে তিনি মনে করতেন তাঁর সন্তান-পরিবার।



পঞ্চগ্রাম আজিজুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়টি ছিল তাঁর বাড়ির কাছাকাছি। যার ফলে দিনের বেশিরভাগ সময় তিনি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিকসহ অন্য সব কাজে অনেক ব্যস্ত সময় কাটাতেন। দিন শেষে বাড়ি না গিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের বাড়ি-বাড়ি গিয়ে রাতে কে কখন পড়াশোনা বাদদিয়ে অন্য কাজে ব্যস্ত কিনা তার খোঁজখবর নিতেন খুব কম দিনই রাত ১২/১টার আগে তিনি বাড়ি ফিরতেন। এভাবেই তাঁর চাকুরির সারাজীবনই কাটিয়ে দিয়েছেন। ১৯৭৯ সালে পঞ্চগ্রাম আজিজুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয় জুনিয়ার স্কুল থেকে হাই স্কুলে উন্নীত হয় তাঁর হাত ধরে। আমি পঞ্চগ্রাম আজিজুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয় হতে ১৯৮১ সালে প্রথম ব্যাজের একজন ছাত্র হিসেবে প্রথমবারের মতো এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়টি অংশগ্রহণ করে। ওই বছর ৬ জন ছেলে ৯ জন মেয়েসহ মোট ১৫ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ১ জন ছেলে ১ জন মেয়ে বাদে বাকি ১৩ ছাত্র-ছাত্রী উত্তীর্ণ হয়। ১৯৭৯ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত প্রায় ১৫ সহস্রাধিক ছাত্র-ছাত্রী তাঁর তত্ত্বাবধানে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে দেশে-বিদেশে আজ প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু হাতে গোনা ২/১ জন ছাড়া তেমন কেউ তাঁর খোঁজ-খবর আমরা রাখিনি, এটা ছিল তাঁর অবসরকালীন জীবনে বড় আক্ষেপ। চাকুরি জীবনের শেষের দিকে এসে তিনি বিদ্যালয়ের কতিপয় সহকর্মীর বিরাগভাজন হয়ে পড়েন তাঁর কঠোর অনুশাসনের ও শৃংখলার জন্যে। যার ফলে একটা সময় তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানের দায়িত্বে যাঁরা থাকেন তাঁদেরকে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ, রাজনৈতিক দল, স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষার্থীর অভিভাবক, প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সহকর্মীদের ম্যানেজ করে তাঁদের দায়িত্ব পালন করতে হয়। তা না হলে সুষ্ঠুভাবে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। এর ব্যত্যয় হলে অপমানিত ও নিগৃহীত হয়ে প্রতিষ্ঠান ত্যাগ করতে হয়। বর্তমান সময়েও এমনটি রয়েছে বলে আমি মনে করি। তবে পূর্বের তুলনায় বর্তমানে বেতন বা সম্মানিটা বেড়েছে অনেক আর সবই আগের মতই আছে বলে আমি মনে হয়।



সে যাই হোক স্বর্গীয় শ্রী স্বপন কুমার মজুমদার এতোসব প্রতিকূলতা অতিক্রম করে প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে গিয়েছেন। একবার কোনো এক কাজে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে তাঁকে ডাকা হয়েছে। সেদিন আমি আমার প্রাতিষ্ঠানিক কাজে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে গিয়ে তাঁর সাথে আমার দেখা হলো। যতদূর মনে পড়ে ওই সময় মোঃ সালাউদ্দিন নামের একজন নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছিলেন। স্যারের সাথে দেখা হতেই তিনি আমাকে অনুরোধের সুরে বলেন, আমি যেন তাঁর বিষয়ে নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয়কে বিস্তারিত বলি। তাঁর অনুরোধ অনুযায়ী যথারীতি নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয়কে বিস্তারিত বলার পর তিনি শুনে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার অভয় দেন। এবিষয়ে পরবর্তীতে জানার চেষ্টা করে জানি, কোনো এক স্থানীয় প্রভাবশালীকে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব অনুষ্ঠানে দাওয়াত না করায় তিনি স্যারের বিরুদ্ধে নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয়ের কাছে বিভিন্ন অভিযোগ করেন। যার সাথে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত তাঁর সহকর্মীরাও জড়িত ছিলেন।



একজন ছাত্র হিসেবে যে কয়জন শিক্ষক আমার জীবনে এসেছে তাঁদের মধ্যে স্বপন কুমার মজুমদার আমার জীবনের মণিকোঠায় অমস্নান হয়ে থাকবেন।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
১৪৩৮৬০৪
পুরোন সংখ্যা