চাঁদপুর । মঙ্গলবার ১৭ জুলাই ২০১৮ । ২ শ্রাবণ ১৪২৫ । ৩ জিলকদ ১৪৩৯
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩৯-সূরা আয্-যুমার

৭৫ আয়াত, ৮ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৫১। তাদের দুস্কর্ম তাদেরকে বিপদে ফেলেছে, এদের মধ্যেও যারা পাপী, তাদেরকেও অতি সত্বর তাদের দুস্কর্ম বিপদে ফেলবে। তারা তা প্রতিহত করতে সক্ষম হবে না।

৫২। তারা কি জানেনি, আল্লাহ যার জন্যে ইচ্ছা রিজিক বৃদ্ধি করেন এবং পরিমিত দেন। নিশ্চয় এতে বিশ^াসী সম্প্রদায়ের জন্যে নিদর্শনাবলি রয়েছে।  

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


আস্থা ছাড়া বন্ধুত্ব থাকতে পারে না।

 -ত্রপিকিউরাস।


যে পরনিন্দা গ্রহণ করে সে নিন্দুকের অন্যতম।



 


ফটো গ্যালারি
স্নাতকে কোন বিষয়ে পড়বেন?
মোহসেনা জয়া
১৭ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


হে-হুল্লোড়, আনন্দ, খেলাধুলা আর পড়ালেখা কখনওবা স্যারের বকুনি খেয়ে স্কুলজীবনের যেন সমাপ্ত ঘটে। নতুন পরিবেশ আর রঙিন স্বপ্ন পাড়ি দেয় কলেজজীবন। কেউ প্রত্যাশিত কিংবা তার চেয়ে কিছুটা কম ফল নিয়ে ভর্তি হয় বিশ্ববিদ্যালয়ে। মনের মতো বিষয় না পেলেও অন্য বিষয়ে মনোনিবেশ করে চারটা বছর ক্লাস আর পরীক্ষা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাজীবনের ইতি ঘটে। এরপরই চলে আসে একজন শিক্ষার্থীর কাছে পারিপাশ্বর্িক প্রত্যাশার চাপ। এই প্রত্যাশার চাপের মাঝেও কেউবা উচ্চশিক্ষা শেষ করে কেউবা জীবিকার তাগিদে নিজেকে কর্মজীবনে নিয়োজিত করেন। কিন্তু তৃতীয় বিশ্বের এই দেশে প্রচুর জনসংখ্যার ভিড়ে হাজারো শিক্ষিত চাকরিপ্রত্যাশীর মাঝে তখন সদ্য পাসকৃত তরুণকে বেশ হিমশিম খেতে হয় একটা ভালো চাকরির জন্য। আর ভালো রেজাল্ট করেও অনেকে ভালো বিষয়ে না পড়ার কারণে চাকরির বাজার থেকে পিছিয়ে পড়েন। চলুন, দেখা যাক_



 



ঘটনা-১



সাদিফের কথাই ধরা যাক। মা-বাবার একমাত্র ছেলে। প্রত্যাশার চাপ একটু বেশিই। স্কুলজীবনে ফার্স্ট বয়, কলেজে লেটার মার্ক আর ভার্সিটিতে মেধাবী সাদিফের জয়জয়কার। মা-বাবা, বন্ধু-বান্ধবের প্রত্যাশাও তাই সাদিফকে নিয়ে একটু বেশিই বৈকি। কিন্তু এমবিএ সম্পন্ন করার পরও কোথাও চাকরি হচ্ছে না সাদিফের। শত অ্যাপ্লাই করা সত্ত্বেও তা ইন্টারভিউ বোর্ড পর্যন্তই, চাকরি হচ্ছে না। মা-বাবাও হতবাক। এখন সাদিফকে প্রায়ই শুনতে হয় সবাই তোমার থেকে খারাপ ফল করেও চাকরি পায়। কিন্তু এত পড়েও তুমি কেন পাও না? হতাশ হয়ে পড়েন সাদিফ, নিজেকে এখন খুব একা লাগে সাদিফের।



 



ঘটনা-২



দ্বিতীয় ঘটনাটি নুসরাতের। মা-বাবার বড় মেয়ে। শৈশব থেকেই পড়ালেখায় খুব ভালো। বাবা-মায়ের ইচ্ছা মেয়ে ইঞ্জিনিয়ার হবে। যথারীতি কলেজের গ-ি পেরিয়ে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হয়। এখানেও খুব ভালো ফল করেন। ভার্সিটি জীবনের সমাপ্তি টেনে দৌড়ঝাঁপ শুরু জীবিকার প্রতিযোগিতায়। প্রথমে কিছুটা সময় নিলেও অল্প সময়ের মধ্যেই চাকরির একটা অফার পান। কিন্তু প্রত্যাশিত বেতন না হওয়ায় নুসরাত এই অফার ফিরিয়ে দেন। নুসরাত বেশকিছু চাকরি পেলেও প্রত্যাশিত বেতন বা সবকিছুতে না মেলার কারণে সব অফার ফিরিয়ে দেন। একটা পর্যায়ে দীর্ঘ সময়ের ধারাবাহিকতার মাঝে নুসরাত আগের মতো আর কোনো চাকরির অফার পান না। সময় গড়িয়ে গেছে অনেকটা। এখন বেতন যাই হোক নুসরাতের প্রয়োজন শুধুই একটা চাকরি।



 



ঘটনা-৩



এবারের ঘটনাটি একটু ব্যতিক্রম। ফয়সাল মোটামুটি ভালো ছাত্র। শৈশব থেকেই শুধু ভালো ফল নয়, ভালো খেলাধুলার জন্যও বেশ সুপরিচিত ছিল। সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের বেশ ফুর্তিবাজ। বন্ধু-আড্ডা বাদ দেয় না। সামাজিক কার্যক্রম সবার আগে। পড়ালেখার সময় পড়ালেখা ঠিকই আছে। সমুদ্র বিজ্ঞানে গ্র্যাজুয়েশন সদ্য শেষ করল। বেশকিছু জায়গায় অ্যাপ্লাই করার পর চাকরি একটা জুটে গেল। তাও সেটা প্রত্যাশার চেয়ে একটু বেশিই।



তিনটি চরিত্র, কিন্তু তিনজনেরই লক্ষ্য এক। শিক্ষাজীবনে আমাদের ফলাফলের মূল লক্ষ্যই থাকে ভালো ও সুন্দর একটি ক্যারিয়ার গড়ে তোলার। সবার প্রত্যাশার চাপ থাকে। কিন্তু এই প্রত্যাশার চাপ একটু বোঝাই মনে হয় শিক্ষাজীবন শেষে চাকরি পাওয়া না গেলে। একটা সময় শিক্ষার্থীরা হতাশ হয়ে পড়েন। এই হতাশা কাটিয়ে উঠতে পারেন পছন্দের বিষয় বাছাই করে।



 



কোন বিষয়ে পড়তে চান



শিক্ষাজীবনে ভালো ফল করতে পাঠ্যপুস্তকে মনোযোগী হওয়া আবশ্যক। কিন্তু যে শিক্ষার্থী শুধুই এর মাঝে নিজেকে আবদ্ধ করে রেখেছেন, ক্যারিয়ার গড়ার ক্ষেত্রে সে শুধুই পিছিয়ে পড়েছেন। তাছাড়া আপনি কোন বিষয়ে পড়তে চান; সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। আপনি ক্যারিয়ারের কথা নাইবা ভাবলেন। তবু পছন্দের বিষয়টাকে গুরুত্ব দিন। আর যারা ক্যারিয়ারিস্ট, তারা ক্যারিয়ার সম্পর্কিত বিষয় পড়তে পারেন। এর পাশাপাশি নিজেকেও গড়ে তুলতে পারেন বিভিন্নভাবে। যে কোনো শিক্ষার্থী পরীক্ষা শেষে কিছুটা অবসর সময় পান। এই সময়ে কম্পিউটার সম্পর্কে নিজের দক্ষতা বাড়িয়ে নিতে পারেন।



মনে রাখবেন, অনেকেই শুধু এই একটি বিষয়ে নিজের দক্ষতা প্রমাণে ব্যর্থ হওয়ায় ইন্টারভিউ বোর্ড থেকে হয়তো অসংখ্যবার ফেরত এসেছেন। পাশাপাশি বাড়িয়ে নিতে পারেন ইংরেজি বলার দক্ষতাও। শিক্ষাজীবনে ইংরেজি হয়তো অনেকে মুখস্থই শুধু করেছেন। কিন্তু শেখেননি। কেউবা কম পারেন বলে দূরে সরিয়ে রেখেছেন। সেই বন্ধুরাই চাকরি জীবনে সবচেয়ে বেশি মনে মনে বলেন, ইস্ ইংরেজিটা যদি শিখে ফেলতাম!



প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি



মানুষের জীবনে প্রত্যাশা থাকাটা খুবই স্বাভাবিক। এটাও স্বাভাবিক পারিপাশ্বর্িক প্রত্যাশার চাপ। কিন্তু একটু ভেবে দেখা উচিত, সেই প্রত্যাশা কতটুকু বাস্তবিক। বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতি না রেখে প্রত্যাশা থাকলে প্রাপ্তি খাতায় তো অসঙ্গতি ধরা পড়বেই। বরং বন্ধুরা স্বপ্ন বা লক্ষ্য স্থির করতে নিজেকে প্রস্তুত করুন। বাধা-বিপত্তি আসবে। কখনও এটা ভাবা উচিত নয়, আমার স্বপ্ন এখনই পূরণ হতে হবে। প্রাপ্তি কতটুকু এটা না ভেবে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাওয়াই শুভবুদ্ধির লক্ষণ। নয়তো সময় নষ্ট ছাড়া আর কিছুই হবে না। এতে বরং হতাশাই বাড়বে।



 



মূলমন্ত্রে গলদ



এত্ত পড়ালেখা আর ভালো ফল সত্ত্বেও অনেকে পাচ্ছে না কাঙ্ক্ষিত সাফল্য। তাহলে সাফল্যের মূলমন্ত্রটা ভাই কিসে? খুব সোজা। অল্প কিছু কথাতেই সাফল্যের মূলমন্ত্র অন্তর্নিহিত রয়েছে। প্রথমেই খুঁজে নিতে হবে কিসে আপনি সাফল্য পাবেন এবং আপনার আত্মবিশ্বাস কোথায়। অনুকরণ নয় বরং অনুসরণ করে দেখতে পারেন প্রিয় আদর্শকে। হতে পারে তিনি আপনার বাবা-মা, বন্ধু, মহামানব যে কেউ। চাই স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্বের অধিকারী। অনেকে মনে করেন, সুন্দর মুখশ্রী আর দৈহিক কাঠামো সাফল্যের পথে একধাপ এগিয়ে নিয়ে যায়। এটা ভুল কথা। নির্দিষ্ট বিষয়, আত্মবিশ্বাস আর আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বই পারে একজন মানুষকে সাফল্যের পথে একধাপ এগিয়ে নিতে। অনেকেই আছে নিজের কী নেই তা নিয়েই বেশি হতাশ। নিজের কী নেই তা নিয়ে হতাশ না হয়ে কী আছে সেটা নিয়েই বরং এগিয়ে চলুন।



 



স্বপ্ন পূরণের পথে



পছন্দের বিষয় পড়তে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আত্মবিশ্বাস। নিজের লক্ষ্য জানা থাকলে সেটা স্থির করে সেদিকে এগিয়ে যেতে হবে আত্মবিশ্বাস নিয়ে। নির্দিষ্ট বিষয় ঠিক করে, শিক্ষাজীবনে নিজেকে বদ্ধঘরে পাঠ্যপুস্তকে আটকে না রেখে নিজের জগৎটাকে আবিস্কার করার পথে হাঁটুন। আর নিজের জগৎটাকে আবিস্কার করতে পারলেই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে লক্ষ্য এবং স্বপ্নপূরণের পথেও এগিয়ে যেতে পারবেন।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
১২৬০১৫৭
পুরোন সংখ্যা