চাঁদপুর । মঙ্গলবার ১৭ জুলাই ২০১৮ । ২ শ্রাবণ ১৪২৫ । ৩ জিলকদ ১৪৩৯
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • এক কিংবদন্তীর প্রস্থান চাঁদপুরবাসী শোকাহত
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩৯-সূরা আয্-যুমার

৭৫ আয়াত, ৮ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৫১। তাদের দুস্কর্ম তাদেরকে বিপদে ফেলেছে, এদের মধ্যেও যারা পাপী, তাদেরকেও অতি সত্বর তাদের দুস্কর্ম বিপদে ফেলবে। তারা তা প্রতিহত করতে সক্ষম হবে না।

৫২। তারা কি জানেনি, আল্লাহ যার জন্যে ইচ্ছা রিজিক বৃদ্ধি করেন এবং পরিমিত দেন। নিশ্চয় এতে বিশ^াসী সম্প্রদায়ের জন্যে নিদর্শনাবলি রয়েছে।  

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


আস্থা ছাড়া বন্ধুত্ব থাকতে পারে না।

 -ত্রপিকিউরাস।


যে পরনিন্দা গ্রহণ করে সে নিন্দুকের অন্যতম।



 


ফটো গ্যালারি
নবম-দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়
সুধীর বরণ মাঝি
১৭ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


প্রথম অধ্যায় প্রস্তুতি



৩। এশিয়া মহাদেশের 'এ' রাষ্ট্রের একটি প্রদেশের জনগণ পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলন করে আসছে। তাই আগামী প্রাদেশিক নির্বাচনে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের বিপক্ষে কয়েকটি দল জোটবদ্ধ হয়ে অংশ নিতে যাচ্ছে। সংবাদপত্রে এ ধরনের একটি সংবাদ পড়ে দশম শ্রেণির ছাত্রী সাদিয়া তার পাঠ্যবইয়ের পড়া একটি নির্বাচনের সাথে এ নির্বাচনের মিল খুঁজে পেল। সেই সাথে প্রত্যাশা করলো এ নির্বাচনের পরিণতি যেন পাঠ্যপুস্তকের সেই নির্বাচনের মতো না হয়।



ক) কোন সাল থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস হিসেবে পালন করা হয়?



খ) আইয়ুব খান প্রবর্তিত মৌলিক গণতন্ত্রের ধারণাটি ব্যাখ্যা কর।



গ) সাদিয়া তার পড়া কোন নির্বাচনের সাথে সাদৃশ্যকল্পের নির্বাচনের মিল খুঁজে পেল? ব্যাখ্যা কর।



ঘ) 'উক্ত নির্বাচন বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিকে সুদৃঢ় করে।' উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।



উত্তর : ক) ১৯৫৩ সাল থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবস হিসেবে পালন করা হয়।



উত্তর : খ) আইয়ুব খান প্রবর্তিত মৌলিক গণতন্ত্র নামক পদ্ধতিটি ছিল তার সামরিক শাসনকে দীর্ঘায়িত করার একটি অগণতান্ত্রিক পদ্ধতি। এতে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানে মোট ৮০ হাজার নির্বাচিত কাউন্সিল সদস্য নিয়ে নির্বাচকম-লী গঠন করা হয়। যারা প্রেসিডেন্ট, সংসদ সদস্য ও গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচনের ভোটার হিসেবে ভোট দিতো। এটি ছিলো গুরুত্বপূর্ণ পদের নির্বাচনের ক্ষেত্রে এক পরোক্ষ বা মধ্যস্থতাকারী ব্যবস্থা, যেখানে জনগণের ইচ্ছা অনিচ্ছার কোনো মূল্য থাকতো না। ১৯৮০ সালে ৮০ হাজার নির্বাচিত কাউন্সিল সদস্যের ভোটে আইয়ুব খান প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।



উত্তর : গ) উদ্দীপকের নির্বাচনের সাথে ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনের মিল দেখা যায়। পূর্ব পাকিস্তান তথা পূর্ব বাংলার মানুষের স্বাধীকার আদায়ের প্রথম আনুষ্ঠানিক ভিত্তি ছিল যুক্তফ্রন্টের এ নির্বাচন। পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মের পর পাকিস্তানি শাসকদল মুসলিম লীগ ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য দীর্ঘদিন কোন নির্বাচনের ব্যবস্থা করেনি। এছাড়া প্রাদেশিক সরকার নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের টালবাহানা পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের নিকট স্পষ্ট হয়ে উঠে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকদের চরিত্র। পূর্ব পাকিস্তানে মুসলিম লীগের পরাজয় ঘটানোর জন্য ৪টি বিরোধী রাজনৈতিক দল যুক্তফ্রন্ট গঠন করে। যুক্তফ্রন্ট ২১ দফার ভিত্তিতে প্রচারণা চালায়। এ নির্বাচনে জনগণ যুক্তফ্রন্টের ২১ দফাকে তাদের স্বার্থরক্ষার সনদ বলে বিবেচনা করে। ১৯৫৪ সালের মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২৩৭টি মুসলিম আসনের মধ্যে ২২৩টি আসন লাভ করে। ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ পায় মাত্র ৯টি আসন। এ নির্বাচনে মুসলিম লীগের অবসান ঘটে।



উত্তর : ঘ) বাংলা ইতিহাসের পথপরিক্রমায় ১৯৫৪ সালের নির্বাচন একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। পাকিস্তান স্বাধীন হওয়ার পর থেকে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের আচরণ ছিল বিমাতাসুলভ। তারা প্রথমেই আঘাত হানে বাঙালির ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর। উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা দিয়ে চালিয়ে দেওয়ার পাঁয়তারা করে। কিন্তু বাঙালিরা এর বিরুদ্ধে প্রবল আন্দোলন গড়ে তোলে এবং দাবি মানতে বাধ্য করে। ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে জাতীয়তাবাদী যে চেতনার উন্মেষ ঘটে তাতে সমর্থন যোগায় যুক্তফ্রন্টের নির্বাচন। যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনি ইশতেহারের ২১ দফার প্রথম দাবিটি ছিল বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যমত রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা করা। এরূপ দাবি বাঙালি জাতিকে যুক্তফ্রন্টের প্রতি সমর্থন জোগাতে সহায়তা করে। বাঙালিদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে সহায়তা করে। সবাইকে জাতীয়তাবাদী ধ্যানধারণায় প্রলুব্ধ করে। বাঙালিদেরকে শাসন কায়েম করতে উৎসাহিত করে। স্বাধীকার আদায়ের পথকে মসৃণ করে তোলে। বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার অনুপ্রেরণা দেয়। পাকিস্তানি কেন্দ্রীয় সরকারের শাসন শোষণ থেকে মুক্ত হওয়ার পথে আশার আলো জাগায়। অর্থাৎ বলা যায়, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালি জাতীয়তাবাদের যে ভিত্তির সূচনা হয়েছিল, যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনের মাধ্যমে তা আরও সুদৃঢ় হয়েছিল।



প্রথম অধ্যায় প্রস্তুতি-২



জনাব আব্দুল্লাহ সরকার একজন জনপ্রিয় আঞ্চলিক নেতা। তিনি জনগণের অধিকার আদায়ে বেশকিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তিনি শাসকগোষ্ঠীর নিকট থেকে তাঁর অঞ্চলের জন্য দাবি করেন ব্যবসায় বাণিজ্য, ব্যাংক পরিচালনার ক্ষমতা প্রতিরক্ষা ও অন্যান্য দেশের সাথে সম্পর্ক, সর্বজনীন ভোটধিকারের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ও আইনসভা গঠন, রাজস্ব আদায়ের ক্ষমতা ইত্যাদি।



ক) কোন সাল পাকিস্তানের নতুন সংবিধান গৃহীত হয়?



খ) বঙ্গবন্ধুর 'দ্বিতীয় বিপ্লব কর্মসূচি' বলতে কী বোঝায় ?



গ) জনাব আব্দুল্লাহ সরকারের দাবিনামায় বঙ্গবন্ধুর কোন কর্মসূচির প্রতিফলন ঘটেছে? ব্যাখ্যা কর।



ঘ) 'উক্ত দাবিনামা বাংলাদেশের স্বাধিকার আন্দোলনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছিল।' উক্তিটি মূল্যায়ন কর।



উত্তর : ক) ১৯৫৬ সাল পাকিস্তানের নতুন সংবিধান গৃহীত হয় ।



উত্তর : খ) শোষণহীন সমাজ গঠনের লক্ষ্যে 'দ্বিতীয় বিপ্লব কর্মসূচি'। মুক্তিযুদ্ধে সীমাহীন ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে বাংলাদেশ যখন ব্যস্ত, তখন আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্য ও তেলের দাম বৃদ্ধি পায়। ১৯৭৩-১৯৭৪ সালে বন্যায় দেশের খাদ্যোৎপাদন দারুণভাবে ব্যাহত হয়। দেশের অভ্যন্তরে মজুদদার, দুর্নীতিবাজ এবং ষড়যন্ত্রকারী গোষ্ঠী তৎপর হতে থাকে। বঙ্গবন্ধুর সরকার জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি এবং শোষণহীন সমাজ গঠনের লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ, ন্যাপ, কমিউনিস্ট পার্টিসহ বিভিন্ন দল নিয়ে বাংলাদেশের কৃষক-শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) গঠন করে। গণমানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে দেশের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু নতুন একটি ব্যবস্থা প্রবর্তনের উদ্যোগ নেন। এটিকে জাতির জনক 'দ্বিতীয় বিপ্লব' বলে অভিহিত করেন।



উত্তর : গ) উদ্দীপকের জনাব আব্দুল্লাহ সরকারের দাবিনামায় বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা কর্মসূচির প্রতিফলন ঘটেছে। উদ্দীপকের জনাব আব্দুল্লাহ সরকার আঞ্চলিক নেতা হিসেবে জনগণের অধিকার আদায়ে সংগ্রাম করেছেন। আঞ্চলিক সরকার অনেক সময় কেন্দ্রের শোষণ-নির্যাতনের শিকার হয়। কেন্দ্রীয় সরকার আঞ্চলিক সম্পদ,ব্যবসায়-বাণিজ্য ইত্যাদি ক্ষেত্রে অযাচিত হস্তক্ষেপ করে। যা আঞ্চলিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে বাধার সৃষ্টি করে। এরূপ পরিস্থিতিতে বলিষ্ঠ আঞ্চলিক নেতৃত্ব থাকলে তা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানী কেন্দ্রীয় সরকারের অন্যায় আচরণ, শাসন-শোষণ ও বৈষম্যমূলক



 



নীতির বিরুদ্ধে বাঙালির ন্যায্য দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ছয় দফা কর্মসূচি ঘোষণা



করেন। ১৯৬৬ সালের ঘোষিত এ ছয় দফা দাবি ছিল বাঙালির স্বাধিকার আদায়ের দাবি, আত্মধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি। এ ছয় দফা কর্মসূচি হলো বাঙালির মুক্তির সনদ।



উত্তর : ঘ) উক্ত দাবিনামা অর্থাৎ ছয় দফা ছিল পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর বিমাতাসুলভ আচরণ এবং নির্যাতন-নিপীড়ন ও শোষণের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতির প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ ছয় দফা দাবিতে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামরিকসহ সব অধিকারের কথা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য ছিল ছয় দফা দাবি মেনে নেয়া হলে পাকিস্তান সত্যিকার অর্থে শক্তিশালী কনফেডারেশনে পরিণত হবে। এ দাবি বাঙালির জাতীয় চেতনার মূলে বিস্ফোরণ ঘটায়। বাঙালিদের স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করে। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী যখন এ আন্দোলনকে 'বিচ্ছন্নতাবাদী' কর্মসূচি হিেেসবে আখ্যায়িত করে তখন তা সমগ্র জাতিকে ক্ষুদ্ধ করে তোলে। এ দাবির সমর্থনে আন্দোলনকারীদের ওপর নির্যাতন ও দমন-পীড়ন চালাতে থাকে। কিন্তু এ নির্যাতন ও দমন-পীড়ন ছয় দফার আন্দোলনের জনপ্রিয়তাকে আরো বাড়িয়ে তোলে। জনগণ ঐক্যবদ্ধ হওয়ার মন্ত্রে দীক্ষিত হয়। এমতাবস্থায় বাঙালিদের উপলদ্ধি হয়, পশ্চিম পাকিস্তানিরা পূর্ব পাকিস্তান তথা বাঙালিদের আত্মাধিকার ও ন্যায্য দাবি থেকে বঞ্চিত করছে। সংগ্রাম ছাড়া আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। আর পূর্ণ স্বাধীনতা ব্যতীত পূর্ণ অধিকারও পাওয়া যাবে না। এরূপ মনোভাব ও উপলব্ধি আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলনকে বেগবান করে। তাই নিঃসন্দেহে বলা যায়, বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা কর্মসূচিই বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছিল।



প্রথম অধ্যায় প্রস্তুতি-৩



'বাংলা আমার প্রাণের ভাষা



এ ভাষাতে কথা বলে জুড়ায় মনের সকল আশা।'



আগামীকাল আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে সৌমেন কবিতা আবৃত্তি করবে। তার বাবা কবিতাটি শেখাচ্ছেন। সৌমনের আবৃত্তি শুনে বড় ভাই মিলুর তার ছাত্র জীবনের কথা মনে পড়ে যায়। ফেব্রুয়ারি মাসের এই দিনে ঢাকা শহরের ছাত্রজনতা বিশাল মিছিল নিয়ে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করতে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে। শুরু হয় পুলিশের সাথে সংঘর্ষ। সেই গোলাগুলিতে অনেকে শহীদ হন।



ক) ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের অবসান হয় কত সালে ?



খ) 'তমদ্দুন মজলিস' সংগঠনটির উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা কর।



গ) উদ্দীপকে মিলু ভাইয়ের মনে পড়া আন্দোলনটির প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা কর।



ঘ) 'বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিকাশে উক্ত আন্দোলন সকলে ঐক্যবদ্ধ করেছে।' তোমার মতামত বিশ্লেষণ কর।



উত্তর : ক) ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের অবসান হয় ১৯৪৭ সালে।



উত্তর : খ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল কাসেমের নেতৃত্বে ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর তমদ্দুন মজলিস গঠিত হয়। এটি একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান। এ সংগঠনটির উদ্দেশ্য ছিল বাংলাভাষাকে রক্ষা করার জন্য আন্দোলন গড়ে তোলা এবং বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা। তাইতো ৬-৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত যুবকর্মী সম্মেলনে 'বাংলাকে শিক্ষা ও আইন আদালতের বাহন' করার প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। ১৫ সেপ্টেম্বর এ সংগঠন 'পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু' নামে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে। এ সময় তমদ্দুন মজলিস 'ভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠন করে।



উত্তর : গ) উদ্দীপকের মিলু ভাইয়ের মনে পড়া আন্দোলনটি ভাষা আন্দোলনের নির্দেশ করে। বাংলাদেশের ইতিহাসে ভাষা আন্দোলন খুবই গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে করাচিতে অনুষ্ঠিত এক শিক্ষা সম্মেলনে উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার সিন্ধন্ত গৃহীত হলে পূর্ব বাংলায় তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয়। বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি ওঠে, লেখালেখি শুরু হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সচিবালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মিছিল, সভা-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পাকিস্তান সরকার ১৪৪ ধারা জারিসহ সভাসমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। পরবর্তীতে ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদ সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত গণপরিষদের ভাষা হিসেবে উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলা ব্যবহারের দাবি জানান। কিন্তু তা অগ্রাহ্য হয়। একই সালের ১৯ মার্চ গর্ভনর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং ১৯৫২ সালের ২৬ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমউদ্দীন উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা দেন। এর প্রতিবাদে ছাত্রসমাজ ৩০ জানুয়ারি ধর্মঘট পালন করে। ২১ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘট এবং ওইদিন রাষ্ট্রভাষা দিবস পালন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। কিন্তু ২০ ফেব্রুয়ারি সরকারি এক ঘোষণায় ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪৪ ধারা জারিসহ সভা-সমাবেশ ও মিছিল এক মাসের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় (ঢাকা মেডিকেল কলেজের সম্মুখ চত্বর) একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সিদ্ধান্ত হয় ১০ জন করে মিছিল শুরু করা হবে। ঢাকা মেডিকেল কলেজের দিক থেকে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল এগিয়ে চলে। পুলিশ প্রথমে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে, মিছিলে লাঠিচার্জ ও কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করে। এক পর্যায় পুলিশ গুলিবর্ষণ করলে আবুল বরকত, রফিক, জাব্বার, সালামসহ আরও কয়েকজন শহিদ হন এবং অসংখ্য লোক আহত হন। ১৯৪৭ সালে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ সালে প্রতিবাদ ও রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে পরিণত হয়।



উত্তর : ঘ) বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিকাশে উক্ত আন্দোলন সকলে ঐক্যবদ্ধ করেছে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। পাকিস্তান রাষ্ট্রের বৈষম্যমূলক আচরণের বিরুদ্ধে এটি ছিল বাঙালি জাতির প্রথম প্রতিবাদ ও বিদ্রোহ, বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রথম প্রেরণা। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই বাঙালি জাতি পশ্চিম পাকিস্তানি সরকারের অবহেলা, বঞ্চনা ও শোষণের জাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছিল। মাতৃভাষা বাংলার প্রতি অবমাননা বাঙালির মনকে প্রবলভালে নাড়া দিয়েছিল। তারা বুঝতে পেরেছিল পাকিস্তানের হাতে তাদের ভাষা, সংস্কৃতি, অর্থনীতি কোনকিছুই নিরাপদ নয়। তাই পাকিস্তানের প্রতি আগে যে মোহ ছিল তা দ্রুত কেটে যেতে থাকে নিজস্ব জাতিসত্তা সৃষ্টিতে ভাষা ও সংস্কৃতির সম্পর্ক এবং গুরুত্ব পূর্ব বাংলার মানুষের কাছে অধিকতর স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বাঙালি হিসেবে নিজেদের আত্মপরিচয়ে রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা ও সংস্কৃতি গড়ে তোলার গুরুত্ব উপলব্ধি করতে থাকে। এরই ভিত্তিতে বাঙালি জাতি এক হতে থাকে এবং ভাষা আন্দোলন গড়ে তোলে। প্রথমে এ আন্দোলন শিক্ষিত ও ছাত্রসমাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে পূর্ব বাংলার সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশগ্রহণ করে। আর ভাষা কেন্দ্রিক এ ঐক্যই জাতীয়তাবাদের মূল ভিত্তি রচনা করে। ভাষা আন্দোলন ছিল বাঙালি জাতির জীবনে এমন একটি অধ্যায় যার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতীয়তাবাদের চেতনা জাগ্রত হয় এবং বিকাশ ঘটে। এ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালিরা সর্বপ্রথম নিজেদেরকে একটি স্বতন্ত্র সত্তা,স্বতন্ত্র জাতি হিসেবে ভাবতে শুরু করে। যা পরবর্তী সময়ে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সুতরাং বাঙালির জাতীয়তাবাদের বিকাশ ভাষা আন্দোলন সকলকে ঐক্যবদ্ধ করেছে।



লেখক : শিক্ষক, হাইমচর মহাবিদ্যালয়।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৮৭৬০৬৯
পুরোন সংখ্যা