চাঁদপুর । মঙ্গলবার ৩১ জুলাই ২০১৮ । ১৬ শ্রাবণ ১৪২৫ । ১৭ জিলকদ ১৪৩৯
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪০-সূরা আল মু’মিন

৮৫ আয়াত, ৯ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

১০। যারা কাফের তাদেরকে উচ্চঃস্বরে বলা হবে, তোমাদের নিজেদের প্রতি তোমাদের আজকের এ ক্ষোভ অপেক্ষা আল্লাহর ক্ষোভ অধিক ছিল, যখন তোমাদেরকে ঈমান আনতে বলা হয়েছিল, অতঃপর তোমরা কুফরী করছিলে।

১১। তারা বলবে, হে আমাদের পালনকর্তা আপনি আমাদেরকে দু’বার মৃত্যু দিয়েছেন এবং দু’বার জীবন দিয়েছেন । এখন আমাদের অপরাধ স্বীকার করছি। অতঃপর এখনও নিষ্কৃতির কোন উপায় আছে কি?

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন

 


যার পেটে ক্ষুধা সে কখনো রাজনৈতিক উপদেষ্টা হতে পারে না।            


 -আইনস্টাইন।

                         


যে ব্যক্তি মুসলমান, তার হৃদয় ভালোবাসায় পূর্র্ণ। যে অন্যকে ভালোবাসে না এবং অন্যেও যাকে ভালোবাসে না, তাকে কখনও মুসলমান বলা যেতে পারে না।



 


নবম ও দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়
সুধীর বরণ মাঝি
৩১ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

প্রথম অধ্যায়

এশিয়া মহাদেশের 'এ' রাষ্ট্রের একটি প্রদেশের জনগণ পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলন করে আসছে। তাই আগামী প্রাদেশিক নির্বাচনে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের বিপক্ষে কয়েকটি দল জোটবদ্ধ হয়ে অংশ নিতে যাচ্ছে। সংবাদপত্রে এ ধরনের একটি সংবাদ পড়ে দশম শ্রেণির ছাত্রী সাদিয়া তার পাঠ্যবইয়ের পড়া একটি নির্বাচনের সাথে এ নির্বাচনের মিল খুঁজে পেল। সেই সাথে প্রত্যাশা করল এ নির্বাচনের পরিণতি যেন পাঠ্যপুস্তকের সেই নির্বাচনের মতো না হয়।

ক) কোন সাল থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস হিসেবে পালন করা হয় ?

খ) আইয়ুব খান প্রবর্তিত মৌলিক গণতন্ত্রের ধারণাটি ব্যাখ্যা কর।

গ) সাদিয়া তার পড়া কোন নির্বাচনের সাথে সাদৃশ্যকল্পের নির্বাচনের মিল খুঁজে পেল? ব্যাখ্যা কর।

ঘ) 'উক্ত নির্বাচন বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিকে সুদৃঢ় করে।'_উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।

উত্তর :

ক) ১৯৫৩ সাল থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

খ) আইয়ুব খান প্রবর্তিত মৌলিক গণতন্ত্র নামক পদ্ধতিটি ছিল তার সামরিক শাসনকে দীর্ঘায়িত করার একটি অগণতান্ত্রিক পদ্ধতি। এতে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানে মোট ৮০ হাজার নির্বাচিত কাউন্সিল সদস্য নিয়ে নির্বাচকম-লী গঠন করা হয়। যারা প্রেসিডেন্ট, সংসদ সদস্য ও গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচনের ভোটার হিসেবে ভোট দিতো। এটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ পদের নির্বাচনের ক্ষেত্রে এক পরোক্ষ বা মধ্যস্থতাকারী ব্যবস্থা, যেখানে জনগণের ইচ্ছা অনিচ্ছার কোন মূল্য থাকত না। ১৯৬৫ সালে ৮০ হাজার নির্বাচিত কাউন্সিল সদস্যদের ভোটে আইয়ুব খান প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

গ) উদ্দীপকের নির্বাচনের সাথে ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনের মিল দেখা যায়। পূর্ব পাকিস্তান তথা পূর্ব বাংলার মানুষের স্বাধিকার আদায়ের প্রথম আনুষ্ঠানিক ভিত্তি ছিল যুক্তফ্রন্টের এ নির্বাচন। পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মের পর পাকিস্তানি শাসকদল মুসলিম লীগ ক্ষমতা ধরে রাখার জন্যে দীর্ঘদিন কোন নির্বাচনের ব্যবস্থা করেনি। এছাড়া প্রাদেশিক সরকার নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের টালবাহানা পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের নিকট স্পষ্ট হয়ে উঠে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকদের চরিত্র। পূর্ব পাকিস্তানে মুসলিম লীগের পরাজয় ঘটানোর জন্যে ৪টি বিরোধী রাজনৈতিক দল যুক্তফ্রন্ট গঠন করে। যুক্তফ্রন্ট ২১ দফার ভিত্তিতে প্রচারণা চালায়। এ নির্বাচনে জনগণ যুক্তফ্রন্টের ২১ দফাকে তাদের স্বার্থরক্ষার সনদ বলে বিবেচনা করে। ১৯৫৪ সালের মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২৩৭টি মুসলিম আসনের মধ্যে ২২৩টি আসন লাভ করে। ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ পায় মাত্র ৯টি আসন। এ নির্বাচনে মুসলিম লীগের অবসান ঘটে।

ঘ) বাংলা ইতিহাসের পথপরিক্রমায় ১৯৫৪ সালের নির্বাচন একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। পাকিস্তান স্বাধীন হওয়ার পর থেকে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের আচরণ ছিল বিমাতাসুলভ। তারা প্রথমেই আঘাত হানে বাঙালি ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর। উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা দিয়ে চালিয়ে দেওয়ার পাঁয়তারা করে। কিন্তু বাঙালিরা এর বিরুদ্ধে প্রবল আন্দোলন গড়ে তোলে এবং দাবি মানতে বাধ্য করে। ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে জাতীয়তাবাদী যে চেতনার উন্মেষ ঘটে তাতে সমর্থন যোগায় যুক্তফ্রন্টের নির্বাচন। যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী ইশতেহারের ২১ দফার প্রথম দাবিটি ছিল বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যমত রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা করা। এরূপ দাবি বাঙালি জাতিকে যুক্তফ্রন্টের প্রতি সমর্থন যোগাতে সহায়তা করে। বাঙালিদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে সহায়তা করে। সবাইকে জাতীয়তাবাদী ধ্যানধারণায় প্রলুব্ধ করে। বাঙালিদেরকে শাসন কায়েম করতে উৎসাহিত করে। স্বাধীকার আদায়ের পথকে মসৃণ করে তোলে। বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার অনুপ্রেরণা দেয়। পাকিস্তানি কেন্দ্রীয় সরকারের শাসন শোষণ থেকে মুক্ত হওয়ার পথে আশার আলো জাগায়। অর্থাৎ বলা যায়, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালি জাতীয়তাবাদের যে ভিত্তির সূচনা হয়েছিল, যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনের মাধ্যমে তা আরও সুদৃঢ় হয়েছিল।

তৃতীয় অধ্যায়

মাইশা সুইডেনে (৬৬.৫ক্কউত্তর অক্ষরেখা ও ১৫ক্কপূর্ব দ্রাঘিমারেখা) বসবাস করে। ২৫ সেপ্টেম্বর তারিখে তিনি সুইডেনের স্থানীয় সময় ভোর ৬টা ক্যানবেরায় (৩৫ক্কদক্ষিণ অক্ষরেখা ও ১৫০ক্কপূর্ব দ্রাঘিমারেখা) বসবাসরত ছোট বোন মালিহাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানায়। মাহিলা কথা প্রসঙ্গে তাকে জানায়, আগামী ২৮ শে ডিসেম্বর তারিখে সে সুইডেনে বেড়াতে যাবে।

ক) সৌর দিন কাকে বলে ?

খ) অধিবর্ষ কী? ব্যাখ্যা কর।

গ) ক্যানবেরার স্থানীয় সময় কয়টায় মাইশা টেলিফোন করেছিল? ব্যাখ্যা কর।

ঘ) মাহিলার বেড়াতে যাওয়ার তারিখে দুটি স্থানে কী একই ঋতু বিরাজ করবে? উদ্দীপকের আলোকে যুক্তি দাও।

উত্তর

ক) নিজ অক্ষের ওপর পৃথিবীর একটি পূর্ণ আবর্তনের সময়কে সৌরদিন বলে।

খ) সূর্যকে পরিভ্রমণ করতে পৃথিবীর এক বছর সময় লাগে। এ সময়কে সৌরবছর বলা হয়। ঠিক হিসেবে এ সময় হলো ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড। কিন্তু ৩৬৫ দিনে সৌরবছর গণনা করা হয়। তাই প্রতি চার বছরে একদিন বাড়িয়ে খ্রিস্টীয় চতুর্থ বছর ৩৬৬ দিনে বছর গণনা করা হয়। সে বছর ফেব্রুয়ারি মাস ২৮ দিনের পরিবর্তে ২৯ দিন ধরা হয়। এরূপ বছরকে অধিবর্ষ বা লিপিয়ার বলা হয়।

গ) উদ্দীপকে উলি্লখিত মাইশা সুইডেনে থাকে এবং মালিহা অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায় থাকে। দেওয়া আছে, সুইডেনের দ্রাঘিমা=১৫ক্কপূর্ব দ্রাঘিমা এবং ক্যানবেরার দ্রাঘিমা রেখা=১৫০ক্কপূর্ব দ্রাঘিমা দুটি স্থানের দ্রাঘিমার ব্যবধান=(১৫০ক্ক-১৫ক্ক)= ১৩৫ক্ক

১ক্কদ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য = ৪ মিনিট ? ১৩৫ক্ক দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য=৪?১৩৫ মিনিট= ৫৪০ মিনিট=৯ ঘণ্টা। মাইশা সুইডেনের স্থানীয় সময় ভোর ৬টায় মালিহাকে ফোন করেছিল। সুইডেন ক্যানবেরার পশ্চিমে অবস্থিত। এ কারণে ক্যানবেরার স্থানীয় সময় সুইডেনের স্থানীয় সময় থেকে বেশি হবে। অর্থাৎ ক্যানবেরার স্থানীয় সময় =ভোর ৬টা+৯ ঘণ্টা। = ১৫ ঘণ্টা=(১৫-১২)=বিকেল ৩টা। ? মাইশা ক্যানবেরার স্থানীয় সময় বিকেল ৩টায় ফোন করেছিল।

ঘ) উদ্দীপকে উলি্লখিত মাহিলা ক্যানবেরা থেকে ২৮ ডিসেম্বর তারিখে সুইডেনে বেড়াতে যাবে। সুইডেন যেহেতু উত্তর গোলার্ধে এবং ক্যানবেরা দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থিত। সে কারণে দুটি স্থানে একই সময়ে একই ধরনের ঋতু বিরাজ করবে না। ২৮ ডিসেম্বর তারিখে উত্তর গোলার্ধে তথা সুইডেনে শীতকাল। অন্যদিকে দক্ষিণ গোলার্ধে তথা ক্যানবেরায় গ্রীষ্মকাল বিরাজ করবে। ২২ ডিসেম্বর সূর্যের দক্ষিণায়নের শেষ দিন। এসময় সূর্য মকরক্রান্তি রেখায় লম্বভাবে (৯০ক্ককোণে) কিরণ দেয় বলে দিন বড় হয় এবং রাত ছোট হয়। দিন বড় হওয়ায় আলো ও তাপ বেশি পায়। ফলে ২২ ডিসেম্বরের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী দেড়মাস দক্ষিণ গোলার্ধে তথা ক্যানবেরায় গ্রীষ্মকাল বিরাজ করে। কিন্তু উত্তর গোলার্ধে ওই সময় সূর্য থেকে অনেক দূরে অবস্থান করায় সূর্য তীর্যকভাবে আলো দেয়। ফলে দিনের দৈর্ঘ্য ছোট হয়। এতে আলো ও তাপ কম পায়। যার ফলশ্রুতিতে উত্তর গোলার্ধে তথা সুইডেনে ২২ ডিসেম্বরের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী দেড়মাস শীতকাল বিরাজ করে। সুতরাং আমরা বলতে পারি স্থান দুটি দুই গোলার্ধে অবস্থান করায় দিন-রাত্রি বিপরীত হয় এবং ঋতুও বিপরীত হয়। উত্তর গোলার্ধে শীতকাল হলে দক্ষিণ গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল বিরাজ করে।

তৃতীয় অধ্যায়-২

সিনথিয়া বাবা-মায়ের সাথে কঙ্বাজার বেড়াতে যায়। সন্ধ্যাবেলা পূর্ণিমার আলোয় সমুদ্রের শান্তরূপ দেখে তারা মুগ্ধ হয়। কিছুক্ষণ পরে তারা লক্ষ্য করে, সমুদ্রের পানি ফুলে উঠেছে এবং তীরে প্রচ-বেগে আছড়ে পড়ছে। বাবা তাকে ভীত হতে নিষেধ করেন এবং বলেন যে, সমুদ্রে এরূপ অবস্থা নিয়মিত ঘটে।

ক) জোয়ার-ভাটা কয়টি?

খ) কেন্দ্রাতিগ শক্তি কী? ব্যাখ্যা কর।

গ) সমুদ্রের পানিতে উক্ত সময়ে যে প্রতিক্রিয়া হয়েছিল তার কারণ ব্যাখ্যা কর।

ঘ) মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকা-ের ওপর সিনথিয়ার দেখা ঘটনাটির প্রভাব আছে কি? বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

ক) জোয়ার-ভাটা ২টি।

খ) পৃথিবী তার অক্ষরেখা বা মেরুদ-ের ওপর থেকে চারিদিকে দ্রুতবেগে ঘুরছে বলে তার পৃষ্ঠ থেকে তরল জলরাশি চতুর্দিকে ছিটকে যাওয়ার প্রবণতা রয়েছে। একেই কেন্দ্রাতিগ শক্তি বলে। পৃথিবী ও চন্দ্রের আবর্তনের জন্যে ভূপৃষ্ঠের তরল ও হালকা জলরাশির ওপর কেন্দ্রাতিগ শক্তির প্রভাব অধিক হয়। এর ফলেই জলরাশি সর্বদা বাইরে নিক্ষিপ্ত হয় এবং তরল জলরাশি কঠিন ভূ-ভাগ হতে বিচ্ছিন্ন হতে চায়। এমনিভাবে কেন্দ্রাতিগ শক্তিও জোয়ার-ভাটা সৃষ্টিতে সহায়তা করে।

গ) সিনথিয়া বাবা-মায়ের সাথে কঙ্বাজার বেড়াতে যায়। সন্ধ্যাবেলা পূর্ণিমার আলোয় সমুদ্রের শান্তরূপ দেখে তারা মুগ্ধ হয়। কিছুক্ষণ পরে তারা লক্ষ করে, সমুদ্রের পানি ফুলে উঠেছে এবং তীরে প্রচ-বেগে আছড়ে পড়ছে। উক্ত সময়ে পানিতে যে প্রতিক্রিয়া হয়েছিল তা জোয়ারের তা-ব ব্যতিত অন্যকিছুই নয়। প্রাচীনকালে জোয়ার-ভাটা সম্পর্কে নানা ধরনের অবাস্তব কল্পকাহিনী প্রচলিত ছিল। কিন্তু বর্তমানে বিজ্ঞানীগণ মনে করেন যে, পৃথিবীর আবর্তনের ফলে সৃষ্ট কেন্দ্রাতিগ শক্তি এবং পৃথিবীর উপর চন্দ্র-সূর্যের আকর্ষণে

জোয়ার-ভাটা হয়। অমাবস্যা তিথিতে চন্দ্র ও সূর্য পৃথিবীর এক পাশে এবং পূর্ণিমা তিথিতে পৃথিবীর এক পাশে চন্দ্র ও অপর পাশে সূর্য অবস্থান করে। ফলে দুই তিথিতে চন্দ্র ও সূর্য সমসূত্রে থাকে এবং উভয়ের মিলিত আকর্ষণে প্রবল জোয়ারের সৃষ্টি হয়। আর সিনথিয়া যখন বাবা-মায়ের সাথে কঙ্বাজারের সমুদ্র তীরে যায় তখনও ছিল পূর্ণিমা তিথি। তাই পূর্ণিমার জোয়ারই ছিল সমুদ্রের পানিতে প্রতিক্রিয়ার কারণ।

ঘ) পৃথিবী তথা স্থলভাগ, পানিরাশি ও মানুষের অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপের ওপর জোয়ার-ভাটার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব রয়েছে। দৈনিক দুবার জোয়ার_ভাটার ফলে নদীর আবর্জনা পরিষ্কার হয়ে পানি নির্মল হয় এবং নদীর মোহনায় পলি সঞ্চিত হয় না। ফলে নদীর মুখ বন্ধ হতে পারে না। জোয়ার-ভাটার স্রোতে নদীখাত গভীর হয়। অনেক নদীর পাশে খাল খনন করে জোয়ারের পানি আটকে জমিতে সেচ দেওয়া হয়। পৃথিবীর বহু নদীতে ভাটার স্রোতকে কাজে লাগিয়ে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। যেমন-ফ্রান্সের লার‌্যান্স বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ভারতের বা-ালা বন্দরেও এরূপ একটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে। সমুদ্রের লবণাক্ত জলকে আটকে রেখে লবণ চাষ করা হয়। জোয়ার-ভাটায় সমুদ্রের লবণাক্ত জল দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করার ফলে শীত প্রধান দেশে নদীর পানি চলাচলের অনুকূলে থাকে। জোয়ারের সময় নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে সমুদ্রগামী বড় বড় জাহাজ অনায়াসেই নদীতে প্রবেশ করে আবার ভাটার টানে সমুদ্রে চলে আসে। বন্দরে প্রবেশের পূর্বে জোয়ারের অপেক্ষায় জাহাজগুলো নদীর মোহনায় নোঙর করে থাকে। জোয়ার-ভাটার ফলে জমিতে পলি সঞ্চিত হয়ে জমিকে উর্বর করে তোলে এবং ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। জোয়ার-ভাটার ফলে মাছের উৎপাদনও বৃদ্ধি পায়। অতএব মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকা-ের ওপর সিনথিয়ার দেখা ঘটনাটি অর্থাৎ সামুদ্রিক জোয়ারের সহায়ক প্রভাব রয়েছে।

তৃতীয় অধ্যায়-৩

ক) অক্ষাংশ কাকে বলে?

খ) ঋতু পরিবর্তনের কারণগুলো কী কী?

গ) সমুদ্রের পানিতে উক্ত সময়ে যে প্রতিক্রিয়া হয়েছিলো তার কারণ ব্যাখ্যা কর।

ঘ) মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকা-ের ওপর সিনথিয়ার দেখা ঘটনাটির প্রভাব আছে কি? বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

ক) নিরক্ষরেখা হতে উত্তরে বা দক্ষিণে কোন স্থানের কৌণিক দূরত্বকে ঐ স্থানের অক্ষাংশ বলা হয়।

খ) পৃথিবীর বার্ষিক গতির ফলে সূর্যরশ্মি কোথাও লম্বভাবে আবার কোথাও তীর্যকভাবে পতিত হয়। ফলে তাপমাত্রার পার্থক্য ঘটে এবং ঋতু পরিবর্তিত হয়। বার্ষিক গতির ফলে দিন ও রাত্রের হ্রাসবৃদ্ধি ঘটে। কোন স্থানের দিন বড় রাত ছোট হলে সেই স্থানের বায়ুম-ল অধিকতর উষ্ণ থাকে। এভাবে বছরের বিভিন্ন সময় ভূ-পৃষ্ঠের সর্বত্র তাপের তারতম্য হয় এবং ঋতু পরিবর্তন ঘটে। তাছাড়া সূর্যরশ্মি পতনে কৌণিক তারতম্য ঘটার কারণেও ঋতু পরিবর্তন ঘটে।

গ) উদ্দীপকের চিত্রের প্রথম স্থরটি হলো ভূত্বক। পৃথিবী সৃষ্টির সময় বাষ্পীয় অবস্থায় ছিল। কোটি কোটি বছরের ঘূর্ণনের মধ্য দিয়ে তাপ বিকিরণ করতে করতে পৃথিবী শীতল ও ঘনীভূত হতে বহু বছর লেগে যায়। এভাবে পৃথিবীর উপরিভাগে কঠিন আবরণের সৃষ্টি হয়। এ কঠিন আবরণই ভূত্বক। পৃথিবীর উপরি ভাগ কঠিন হলেও অভ্যন্তর ভাগ উত্তপ্ত ও গলিত অবস্থায় আছে। উত্তপ্ত পদার্থ শীতল হলে সংকোচিত হয়ে যায়। ক্রমাগত সংকোচিত হবার ফলে উপরের পাতলা আবরণের উপরিভাগে কুঁচকে, উঁচু-নিচু হয়ে বিভিন্ন ভূমিরূপের সৃষ্টি হয়েছে। ভূপৃষ্ঠের অবনত অংশে সাগর ও মহাসাগরের সৃষ্টিহ য়েছে। পানির উপরের অংশে মহাদেশ এবং উঁচু-নিচু অংশে পর্বতশৃঙ্গের সৃষ্টি করেছে।

ঘ) প্রথম স্তরটি পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠ। এ ভূপৃষ্ঠের উপরিভাগ নানা রকম গ্যাসীয় উপাদান দ্বারা বেষ্টিত। একে বায়ুম-ল বলে। প্রাণির জীবনধারণ উপযোগী উপাদানসমূহ থাকার কারণে পৃথিবীতে জীবনের অস্তিত্ব সম্ভব হয়েছে। আর এ বায়ুম-লটি সম্পূর্ণ রূপেই একটি অদৃশ্য আবরণ। জীবনধারণের মৌলিক উপাদান হলো অঙ্েিজন, যা প্রাণি পেয়ে থাকে বায়ুম-ল থেকে। বায়ুমন্ডলের উপাদানসমূহের মধ্যে আরও আছে নাইট্রোজেন, কার্বন-ডাই-অঙ্াইড, হিলিয়াম, জলীয় বাষ্পসহ বিভিন্ন উপাদান। এসব উপাদানের প্রভাবে বায়ুম-ল প্রাণির জীবনধারণের উপযোগী হয়েছে, প্রয়োজনীয় তাপ ধরে রাখার মতো অবস্থা সৃষ্টি করেছে। আবার বায়ুম-লের ঊর্ধ্বভাগে রয়েছে ওজোন স্তর। এ স্তর সূর্য থেকে আগত অতিবেগুণী রশ্মিকে শোষণ করে নেয়। অতিবেগুণী রশ্মি মানুষসহ প্রাণিজগতের জন্যে চরম হুমকিস্বরূপ। ওজোন স্তর প্রাণিজগতের অস্তিত্বের জন্যে গুরুত্বপূর্ণ। আবার একইভাবে বায়ুম-লের জলীয়বাষ্প ও কার্বন-ডাই-অঙ্াইড পৃথিবীকে তাপ ধরে রাখতে সহায়তা করে যা প্রাণের জন্যে দরকারী।

চতুর্থ অধ্যায়

সাজ্জাদ সাহেব টেলিভিশনে দুর্যোগের ওপর প্রতিবেদন দেখছিলেন। প্রতিবেদনটিতে দেখাচ্ছিল, জাপানের একটি শহর হঠাৎ কেঁপে ওঠায় শহরটির বেশকিছু বাড়িঘর ভেঙ্গে গিয়ে কয়েকটি এলাকার বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। প্রতিবেদন দেখে সাজ্জাদ সাহেব নিজের দেশে এর ভয়াবহতা প্রতিরোধে পূর্বপ্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন।

ক) চিকনাগুল কী?

খ) কালবৈশাখী ধারণাটি ব্যাখ্যা কর।

গ) উক্ত প্রতিবেদনটিতে সাজ্জাদ সাহেবের দেখা দুর্যোগটি সৃষ্টির কারণ ব্যাখ্যা কর।

ঘ) সাজ্জাদ সাহেবের দেখা দুর্যোগটির ঝুঁকি মোকাবেলায় কী ধরনের পূর্ব প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন-তোমার পঠিত বিষয়বস্তুর আলোকে কর।

উত্তর

ক) বাংলাদেশের উত্তর-পুর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহের মধ্যে একটি অন্যতম পাহাড় হচ্ছে চিকনাগুল।

খ) গ্রীষ্মকালে সূর্য উত্তর গোলার্ধের কর্কটক্রান্তি রেখার নিকটবর্তী হওয়ায় বায়ুর চাপের পরিবর্তন হয় এবং বাংলাদেশের উপর দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু প্রবাহিত হয়। একই সময়ে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে শুষ্ক ও শীতল বায়ু প্রবাহিত হয়। এর ফলে এক ধরনের ঝড়ের সৃষ্টি হয়। এ ঝড়কে কালবৈশাখী ঝড় বলে।

গ) প্রদত্ত প্রতিবেদনটিতে সাজ্জাদ সাহেবের দেখা দুর্যোগটি হলো ভূমিকম্পনজনিত দুর্যোগ। ভূমিকম্পনের কারণ অনুসন্ধানকালে বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করেন পৃথিবীর বিশেষ কিছু এলাকায় ভূমিকম্প বেশি হয়। এ সমস্ত এলাকায় নবীন পর্বতমালা অবস্থিত। তাদের মতে ভিত্তিশীলা চ্যুতি বা ফাটল বরাবর ভূ-আলোড়ন হলে ভূমিকম্প হয়। যা মাত্র কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হয় এবং ভূপৃষ্ঠের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। এছাড়া আগ্নেয়গিরির লাভা প্রচ- শক্তিতে ভূ-অভ্যন্তর থেকে বের হয়ে আসার সময়ও ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়। ভূ-ত্বক তাপ বিকিরণ করে সংকোচিত হলে ভূ-নিম্নস্থ শিলাস্তরে ভারের সামঞ্জস্য রক্ষার্থে ফাটল ও ভাঁজের সৃষ্টির ফলে ভূ-কম্পন অনুভূত হয়। ভূ-আলোড়নের ফলে ভূ-ত্বকের কোন স্থানে শিলা ধসে পড়লে বা শিলাচ্যুতি ঘটলে ভূকম্পন হয়। প্লেটের একটি অপরটির সীমানা বরাবর তলদেশে ঢুকে পড়ে অথবা আগেপিছে সরে গেলে এ ধরনের সংঘাতপূর্ণ পরিবেশে ভূমিকম্প সংঘটিত হয়। এভাবেই মূলত ভূমিকম্প সংঘটিত হয়। বিজ্ঞানীরা ভূমিকম্পের দুটি কারণ চিহ্নিত করেছেন-প্লেটসমূহের সংঘর্ষের ফলে ভূত্বকে যে ফাটলের সৃষ্টি হয় তা ভূমিকম্পন ঘটিয়ে থাকে। ভূঅভ্যন্তরে ম্যাগমার সঞ্চারণ বা চ্যুতি রেখা বরাবর চাপমুক্ত হওয়ার কারণে ভূমিকম্প হয়।

ঘ) উদ্দীপকের আলোকে বলা যায় সাজ্জাদ সাহেবের দেখা দুর্যোগটির সাথে ভূমিকম্পের মিল রয়েছে। তাই সাজ্জাদ সাহেবের দেখা দুর্যোগটির ঝুঁকি মোকাবেলায় ভূমিকম্পের পূর্ব প্রস্তুতিস্বরূপ একজন ব্যক্তির যা করণীয় সে ধরনের প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। যেমন, বাড়িতে ব্যাটারিচালিত রেডিও এবং টর্চলাইট সবসময় রাখা। প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা। গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের মেইন সুইচ কোথায় তা জেনে রাখা এবং এগুলো কিভাবে বন্ধ করতে হয় তাও জেনে রাখা। বাড়ির সবচেয়ে সুরক্ষিত স্থানটি চিহ্নিত করা। হাসপাতাল, অ্যামবুলেন্স এবং ফায়ার ব্রিগেডের নাম্বার সংগ্রহ করে হাতের কাছে রাখা। স্কুলে বাচ্চাদের ভূমিকম্প সম্পর্কে ধারণা দেওয়া। ভূমিকম্পের সময় কী করতে হবে তা শিখিয়ে দেওয়া। খেলার মাঠে থাকাকালীন সময়ে দালানকোঠা থেকে দূরে থাকা ইত্যাদি। আর ভূমিকম্পের প্রস্তুতি স্বরূপ একজন ব্যক্তির করণীয় এসব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে ভূমিকম্প ঘটে যাওয়া সত্ত্বেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়া সহজ হবে।

লেখক : সুধীর বরণ মাঝি, শিক্ষক, হাইমচর মহাবিদ্যালয়।

মোবাইল ০১৭৯৪৭৭৭৫৩৫।

আজকের পাঠকসংখ্যা
৭৮৪৫৭
পুরোন সংখ্যা