চাঁদপুর। মঙ্গলবার ১৪ আগস্ট ২০১৮। ৩০ শ্রাবণ ১৪২৫। ২ জিলহজ ১৪৩৯
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪০-সূরা আল মু’মিন

৮৫ আয়াত, ৯ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৪৩। এতে সন্দেহ নেই যে, তোমরা আমাকে যার দিকে দাওয়াত দাও, ইহকালে ও পরকালে তার কোন দাওয়াত নেই! আমাদের প্রত্যাবর্তন আল্লাহর দিকে এবং সীমা লঙ্ঘনকারীরাই জাহান্নামী।

৪৪। আমি তোমাদেরকে যা বলছি, তোমরা একদিন তা স্মরণ করবে। আমি আমার ব্যাপার আল্লাহর কাছে সমর্পণ করছি। নিশ্চয়ই বান্দারা আল্লাহর দৃষ্টিতে রয়েছে।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


মনের বেদনা দৈহিক বেদনা থেকে আরও খারাপ।                           


-সাইরাস।


ধনের যদি সদ্ব্যবহার করা হয় তবে তা সুখের বিষয় এবং সদুপায়ে ধন বৃদ্ধির জন্যে সকলেই বৈধভাবে চেষ্টা করতে পারে।


ফটো গ্যালারি
শিক্ষার্থী সাক্ষাৎকার : সালমা আক্তার নূর
পড়াশোনা শেষ করে জনবান্ধব পুলিশ কর্মকর্তা হতে চাই
১৪ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


তিনি ফরিদগঞ্জ এআর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী থাকাকালে আন্তঃস্কুল ফুটবল টুর্নামেন্টে স্কুল ফুটবল টিমের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। সেই টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরবও অর্জন করে তার দল। সেই সালমা আক্তার (নূর) এখন চাঁদপুর ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। তিনি মানবিক বিভাগে পড়াশোনা করছেন। স্বপ্ন দেখছেন একজন ভালো মানুষ হয়ে দেশের সেবা করার। সম্প্রতি তিনি চাঁদপুর কণ্ঠের শিক্ষাঙ্গন বিভাগের প্রশ্নোত্তরের মুখোমুখি হয়ে অকপটে বলেন তার চিন্তাধারার কথা। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সংগঠক এইচএম জাকির।



 



শিক্ষাঙ্গন : কেমন আছেন?



সালমা আক্তার (নূর) : আলহামদুলিল্লাহ্, অনেক ভালো।



 



শিক্ষাঙ্গন : আপনার স্কুল জীবনের প্রথম দিন সম্পর্কে জানতে চাই।



সালমা আক্তার (নূর) : প্রাথমিক লেবেলে আমি ছোট ছিলাম। তেমন কিছুই জানতাম না। আম্মুর হাত ধরে স্কুলে গিয়েছি। আম্মু টেবিলে বসিয়ে রেখে ক্লাসের বাইরে অপেক্ষায় ছিলেন। স্যার ক্লাসে আসার আগে সহপাঠীদের সাথে পরিচিত হই। স্যার ক্লাসে আসার পর হাবাগোবার মতো বসে থাকি। ক্লাস শেষে আম্মুর সাথে বাড়িতে চলে যাই। আর মাধ্যমিকে চতুর প্রকৃতির ছিলাম। সাহস ছিলো মনে। একটু দুষ্টু মনের ছিলাম, তাই স্কুলে গিয়েই প্রাথমিক থেকে আসা সহপাঠীদের সাথে আড্ডা শুরু করি। ক্লাসের প্রথম টেবিলেই বসি। চেনা বন্ধুরা সবাই কাছে এসে পরিচিত হয়। অন্য বন্ধুরাও জড়ো হয়। প্রথমদিনেই ক্লাসে ফেভারিট হয়ে যাই। প্রথম ক্লাস ছিলো বাংলা। স্যার ক্লাস ঢুকেই কৌতুক দিয়ে শুরু করলেন। আমিও স্যারের সাথে তাল মিলাই। মোট ৩টা ক্লাস হয় প্রথম দিন। প্রত্যেক ক্লাসেই স্যাররা পরিচয়পর্ব শেষে পড়াশোনার প্রতি তাগিদ দেন। এটা আমার কাছে খুবই ভালো লাগে। সবমিলিয়ে প্রথম দিনটা ভালোই ছিলো।



 



শিক্ষাঙ্গন : আপনার প্রিয় শিক্ষক কে? কেনো প্রিয়?



সালমা আক্তার (নূর) : আমার প্রিয় শিক্ষক চাঁদপুর ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজের ইব্রাহীম খলিল হেলাল স্যার। প্রিয় হওয়ার কারণ হলো তিনি অত্যন্ত হাসিখুশি মনে ক্লাস জমিয়ে তোলেন এবং কৌশলী ও সাবলীল ভাষায় শিক্ষাদান করেন। এতে খুব সহজেই তার কাছ থেকে শিক্ষাগ্রহণ করতে পারি।



 



শিক্ষাঙ্গন : আপনার বর্তমান শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বলুন।



সালমা আক্তার (নূর) : বর্তমানে চাঁদপুর ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজে একাদশ শ্রেণির মানবিক বিভাগে পড়াশোনা করছি। এ কলেজটি যদিও নতুন তবুও এর প্রথম ফলাফলেই ঈর্ষণীয় সাফল্য এসেছে। প্রথম ফলাফলে কলেজটি জেলার সেরা দশের ১টি হয়। এর পেছনে স্যারদের নিরলস পরিশ্রম আর কলেজের নিয়মনীতির অবদান রয়েছে। কলেজের পরিবেশ ও শিক্ষকদের ব্যবহারে আমি মুগ্ধ। আমি এ কলেজের একজন ছাত্রী হিসেবে নিজেকে ধন্য মনে করছি।



 



শিক্ষাঙ্গন : শিক্ষাজীবনের একটি মজার স্মৃতি সম্পর্কে বলুন।



সালমা আক্তার (নূর) : মজার স্মৃতি বলতে অনেক কিছুকেই বোঝায়। তবে আমার কাছে সবচেয়ে ভালো লাগার বিষয়টি ছিলো আমি একজন ফুটবল খেলোয়াড়। আমি তখন ফরিদগঞ্জ এআর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। উপজেলা আন্তঃস্কুল ফুটবল টুর্নামেন্টে আমি আমার স্কুল ফুটবল টিমের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করি এবং সেই টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করি_এটাই আমার কাছে মজার বিষয়।



 



শিক্ষাঙ্গন : আপনার বন্ধু কারা? তাদের সম্পর্কে কিছু বলুন।



সালমা আক্তার (নূর) : শিক্ষাজীবনের ১১তম বছর পর্যন্ত অনেক বন্ধুর সাথেই চলেছি। তবে তাদের মধ্যে কজনের নাম না বললেই নয়। স্কুল বন্ধুদের মধ্যে জান্নাতুল মাওয়া, সাদিয়া নূর মিমফা, নাজমুন নাহার অন্যতম। এরা সবাই



 



আমাকে পড়াশোনা নিয়ে সবসময় তাগিদ দিতো। বলতো পড়াশোনা করে বড় হলে জীবনে সবকিছুই পাওয়া সম্ভব। পরিবারের ছোট সন্তান হওয়ায় বাল্যবিয়ের একটা চাপ ছিলো মাথায়। আমার এই বন্ধুরা আমাকে নানাভাবে উৎসাহ দিয়ে বলতো, পড়াশোনায় ভালো হলে পরিবারের মাথা থেকে বিয়ের ভূত চলে যাবে। তাদের এমন উৎসাহে আমিও পড়ার প্রতি আগ্রহী হই। যার ফলে আজ আমি গ্রাম ছেড়ে শহরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ছি। উচ্চ মাধ্যমিকে আমার দুই মাস চলমান। এই দুই মাসে ভালো বন্ধু বাছাই করা দুরূহ। তারপরেও যাদের ভালো মনে হচ্ছে তাদের মধ্যে মিথি, মিহা, সেতু, শ্যামলী, মুনতাহা, শাকিলা অন্যতম। এরাও পড়াশোনার প্রতি আমাকে সহযোগিতা করছে।



 



শিক্ষাঙ্গন : শিক্ষকদের কাছে আপনার প্রত্যাশা কী?



সালমা আক্তার (নূর) : শিক্ষকদের কাছে আমার প্রত্যাশা হলো একজন ভালো ছাত্রী হিসেবে আমাকে গড়ে তোলা। আমার মন্দ বা খারাপ দিকটা সরাসরি আমাকে জানিয়ে তার থেকে উত্তরণে আমাকে সহযোগিতা করা। পড়াশোনায় সৃজনশীল ও ইনোভেটিভ আইডিয়া দিয়ে আমাকে সাফল্য অর্জনে সহযোগিতা করা। সর্বোপরি একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে আমার পাশে থাকা।



 



শিক্ষাঙ্গন : পড়াশোনা শেষ করে কী করতে চান?



সালমা আক্তার (নূর) : পড়াশোনা শেষ করে আমি একজন সৎ ও জনবান্ধব পুলিশ কর্মকর্তা হতে চাই।



 



শিক্ষাঙ্গন : অনেকে মনে করেন, প্রযুক্তির কারণে শিক্ষার্থীরা বই বিমুখ হচ্ছে। আপনার কী মনে হয়?



সালমা আক্তার (নূর) : কথাটির সাথে আমিও একমত। প্রযুক্তির ভালো মন্দ দুটো দিকই রয়েছে। যে যেভাবে ব্যবহার করবে, সে সেভাবেই ফল পাবে। শিক্ষার্থীদের বই বিমুখের বিষয়ে আমি বলবো, প্রযুক্তি ব্যবহার করে বর্তমানে শিক্ষার্থীরা তাদের পড়াশোনার লেসন নিচ্ছে ইন্টারনেট থেকে। কোনো তথ্যের প্রয়োজন হলেই গুগল সার্চ করে তার উত্তর খুঁজে নিচ্ছে। এর জন্যে বইয়ের পাতা উল্টাতে হচ্ছে না। এর যেমন সুফল রয়েছে তেমন কুফলও রয়েছে। ইন্টারনেট, গুগল, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইত্যাদি ব্যবহার করে শিক্ষার্থীরা অনেক সময় নষ্ট করে থাকে। যার ফলে পড়াশোনার অনেক মূল্যবান সময় নষ্ট হয়, এটাও বই বিমুখের কারণ বলে আমি মনে করি।



 



শিক্ষাঙ্গন : অবসর সময়ে কী করেন?



সালমা আক্তার (নূর) : অবসর সময় আমি টিভি দেখি, গল্পের বই পড়ি, বাসায় ছোটদের সাথে মজা করি আর ঘুমাই।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৫৭৪০৯০
পুরোন সংখ্যা