চাঁদপুর। মঙ্গলবার ৩০ অক্টোবর ২০১৮। ১৫ কার্তিক ১৪২৫। ১৯ সফর ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • --
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪৩-সূরা যূখরুফ

৮৯ আয়াত, ৭ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৩০। যখন তাদের নিকট সত্য আসলো তখন তারা বললো : এটা তো যাদু এবং আমরা অবশ্যই এর প্রতি কুফরী করি।

৩১। এবং তারা বলে : এই কুরআন কেন অবতীর্ণ করা হলো না দুই জনপদের কোন প্রতিপত্তিশালী ব্যক্তির উপর?

৩২। তারা কি তোমার প্রতিপালকের রহমত বণ্টন করে? আমিই তাদের মধ্যে জীবিকা বণ্টন করি তাদের পার্থিব জীবনে এবং একজনকে অপরের উপর মর্যাদায় উন্নত করি যাতে একে অপরের দ্বারা খেদমত করিয়ে নিতে পারে এবং তারা যা জমা করে তা হতে তোমার প্রতিপালকের রহমত উৎকৃষ্টতর।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন



 


শিক্ষার শেকড় তেতো হলেও এর ফল মিষ্টি।                   

-এরিস্টটল।


বিদ্যার মতো চক্ষু আর নেই, সত্যের চেয়ে বড় তপস্যা আর নেই, আসক্তির চেয়ে বড় দুঃখ আর নেই, ত্যাগের চেয়ে সুখ আর কিছুতেই নেই।



 


ফটো গ্যালারি
শিক্ষকতা ও রাজনীতি
জয়দীপ দে শাপলু
৩০ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


কাল স্টাফরুমে বসে সহকর্মীদের সাথে আড্ডা দিচ্ছিলাম। কথায় কথায় শিক্ষকদের অধিকার ও অপ্রাপ্তির কথা উঠে এসেছিলো। আমি তখন কিছু তীর্যক মন্তব্য করলাম। বললাম, 'আপনাকে এতো সুযোগ-সুবিধা দিয়ে কী হবে। রাষ্ট্রের অস্তিত্বের সাথে আপনার পেশার যোগাযোগ কতটুকু। শিক্ষক ছাড়া দেশ রক্ষা করা যায়, কিন্তু আর্মি-পুলিশ ছাড়া সম্ভব। আর সরকারি উচ্চ বেতনের শিক্ষকেরই বা কি দরকার। বেসরকারি শিক্ষক অনেক কম বেতন ও সুবিধা নিয়ে আপনার আমার মতো ছাত্র পড়াচ্ছে না?' আমার আক্রমণের মুখে সবাই দেখি মিইয়ে গেলো। কেউ নিজের পেশাকে ডিফেন্ড করলো না। আমি মনে মনে হাসলাম। একটা রাষ্ট্র বা জাতির সবচেয়ে বড় পাহারাদার শিক্ষা। যদি শিক্ষা 'বিনাসুতা' দিয়ে একটি জাতি বিনির্মাণ করতে না পারে, সেই জাতি অন্তর্ঘাতেই শেষ হয়ে যাবে। তার উদাহরণ লিবিয়া। এতো সম্পদ ও ঐশ্বর্য্যের পরও তারা আজ ধুঁকে ধুঁকে মরছে। যতদিন গাদ্দাফি লাঠির ভয়ে ছোটো নৃগোষ্ঠীগুলোকে ঠা-া রেখেছিলো, ততদিন দেশ ঠা-া ছিলো। কিন্তু যেই বন্ধন আলগা হয়ে গেছে, ওমনি সব শেষ।



লাঠির ভয় না দেখিয়ে সব নাগরিককে উন্নত শিক্ষা দেয়া গেলে লিবিয়ার আজ এ অবস্থা হতো না। পাকিস্তান জন্মের পর থেকে বাজেটে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ প্রতিরক্ষায় দিয়ে আসছে। কিন্তু এতো বরাদ্দে কি সে তার প্রতিরক্ষা সুসংহত করতে পেরেছে? ২৪ বছরের মাথায় এক টুকরো খসে পড়ে আপনা থেকেই। বলা হয় দিনের বেলা পাকিস্তানের দুই তৃতীয়াংশ সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকে, রাতের বেলা সেটা হয় এক তৃতীয়াংশ। পাকিস্তান ব্যর্থ হওয়ার মূল কারণ তার জাতিগত গঠন হয়নি। শিক্ষার মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য নির্মাণ সম্ভব হয়নি। অথচ দেখুন অল্প জায়গায় সবচেয়ে বেশি জাতিগোষ্ঠী পাশাপাশি থাকার উদাহরণ ইংল্যান্ড। তাদের কিন্তু এ সমস্যা নেই। যুক্তরাষ্ট্রের কথাও বলা যায়। মূল কথা হচ্ছে শিক্ষা দিয়ে যদি জনগণের মধ্যে ঐক্যের চেতনা আর ন্যায় অন্যায়ের বিভেদ তৈরি করা না যায়, তাহলে সে রাষ্ট্র টিকে না। টিকবে না। লক্ষ্য করে দেখবেন, বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটির আতুড়ঘর একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। পৃথিবীর সবচেয়ে রাজনীতিসচেতন ছাত্র-শিক্ষক এই দেশেই ছিলো। বঙ্গবন্ধু এই সচেতনতাকে সম্মান জানিয়ে ১৯৭৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে স্বায়ত্ত্বশাসন ও শিক্ষকদের মতামত প্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছিলেন। বাংলাদেশের প্রথম বাজেটে জাতির জনক পাকিস্তানের ধারাবাহিকতা অগ্রাহ্য করে প্রতিরক্ষা খাতের চেয়ে শিক্ষা খাতে আড়াই কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ দিয়েছিলেন। অনেকে অবশ্য এটাই তার কাল হয়েছিলো বলে ধারণা করেন। আমরা অনেকেই মনে করি শিক্ষকের কাজ হলো 'এ ফর আপেল, বি ফর ব্যানানা' পড়ানো। সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। শিক্ষক যদি রাজনীতি সচেতন না হোন, শিক্ষার্থীরাও হবে না।



তাই শিক্ষা হলো একটি জাতির প্রতিরক্ষা ও উন্নয়নের ফার্স্ট ফ্রন্টলাইন। রাজনীতির সাথে শিক্ষার সম্পর্ক মৌলিক ও নিবিড়। যে শিক্ষক ক্লাসে তোঁতাপাখির মতো বইয়ের পড়া আওড়ে যান, তিনি আদতে মৃত শিক্ষক। তার রাজনীতিতে মাথা না ঘামালেও চলবে। তাকে বেতন দেয়া জাতির অনেক অপব্যয়ের মধ্যে একটা। যে শিক্ষক মনে করেন তিনি তার শিক্ষার্থীর মধ্যে উন্নত জীবনের দীপশিখা জ্বালিয়ে যাবেন, তার রাজনীতি সম্পর্কে জানা জরুরি। তার রাজনৈতিক মতপ্রকাশের অধিকার থাকা আবশ্যক। এটা ব্যক্তিমানুষের স্বার্থে নয়, একটি জাতির স্বার্থে।



লেখক : শিক্ষক প্রশিক্ষক।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৫৩৫৩৪৪
পুরোন সংখ্যা