চাঁদপুর। মঙ্গলবার ১৩ নভেম্বর ২০১৮। ২৯ কার্তিক ১৪২৫। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪৪-সূরা দুখান

৫৯ আয়াত, ৩ রুকু, ‘মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৩৯। আমি এই দুইটি অযথা সৃষ্টি করি নাই, কিন্তু উহাদের অীধকাংশই ইহা জানে না।

৪০। নিশ্চয়ই সকলের জন্য নির্ধারিত রহিয়াছে উহাদের বিচার দিবস।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন



 


assets/data_files/web

অন্যের নিকট হাত পাতার ফলে মানুষের সর্বোত্তম সম্পদ বিনষ্ট হয়ে যায়। সে সম্পদ হচ্ছে আত্মমর্যাদাবোধ। 


-হযরত আলী (রাঃ)।


যে ব্যক্তি কোনে বিদ্বান, বিদ্যার্থীকে সাহায্য করে এবং সে সাহায্য যদি একটি ভাঙা কলম বা একটি কাগজ দ্বারাও হয়, তবে সে কাবাগৃহ সত্তর বার নির্মাণ করে দেওয়ার সওয়াব (পুণ্য) লাভ করবে।

 


ফটো গ্যালারি
মায়ের পাঠশালা থেকে স্কুলের প্রথম দিনে
আনিস আরমান
১৩ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


১৯৯৮ সাল। জানুয়ারি মাস। নতুন বছর শুরু। বয়স তখন ছয় ছুঁইছুঁই করছে। শৈশবকাল। সবেমাত্র মায়ের পাঠশালায় পড়ি। আদর্শলিপি আর বর্ণমালা পরিচয় বই দুটি লাল ব্যাগে ঘুরে বেড়ায়। স্বরে অ, স্বরে আ, ক, খ, এ, বি, সি, এক, দুই, তিন শিখেছি মাত্র। সকাল-সন্ধ্যা মায়ের পাশে বসতে হয়। পড়তে হয়, লিখতে হয়। কিন্তু আমার মন পড়ে থাকতো খেলার আঙিনায়, দুষ্টু শিশুদের ভিড়ে।



একদিন সন্ধ্যায় বাবা মাকে বল্তেছেন, আনিসুলকে এবার স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিতে হবে। বাড়িতে সারাদিন খেলাধুলা করে বেড়ায়। তাছাড়া ওর বয়সও তো ছয় বছর হতে চলেছে। বাবার কথা শুনে মা বললো, ও কি এখনও কিছু শিখেছে? ভালো করে তো লিখতেও পারে না। বাবা বললো, স্কুলে গেলে সবকিছু ভালোভাবে শিখতে পারবে, লিখতে পারবে।



পরের দিন সকাল। স্কুল যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে। মা সাবান দিয়ে গোসল করিয়ে দিয়েছে। বাবা রাতেই পাশের বাজার থেকে একটা লাল শার্ট আর একটা নীল রঙের প্যান্ট কিনে এনে রেখেছেন। পরম যত্নে মা সেই শার্ট আর প্যান্টটা পরিয়ে দিলেন মুখে তুলে ভাত খাইয়ে দিলেন। বাড়িতে সবার মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। বাড়ির ছোট ছেলেটা আজ স্কুলে যাবে। বোনরা কোলে তুলে নিয়ে দু' গাল ভরে আদর দিচ্ছে। কিন্তু আমার মন খারাপ। সারাদিনের খেলাধুলা ছেড়ে আজ থেকে স্কুল যেতে হবে। ভাবতেই যেনো গা শিউরে উঠছে।



বাবা এসে আমাকে ডাক দিলেন। কাছে এসে হাত ধরে গ্রামের কাঁচাপথ বেয়ে হাঁটা শুরু করলেন স্কুলের দিকে। একদিকে মনে মনে নতুন লাল শার্ট গায়ে দেয়ার আনন্দ, অন্যদিকে স্কুলের পথ ধরে হাঁটা! মনটা খুব খারাপ লাগছিলো।



না জানি স্কুলের পরিবেশ কেমন! সেখানে কি খেলতে পারবো? ফড়িং ধরতে পারবো? নানারকম জল্পনা-কল্পনা মনের মাঝে ভাসছে, আর বাবার পিছুপিছু হাঁটছি। স্কুল এসে পেঁৗছলাম। বাড়ি থেকে মাত্র দশ মিনিটের পথ। বাবা সরাসরি হেডস্যারের রুমের দিকে গেলেন। দরজার পাশে গিয়ে স্যারকে জোরেশোরে সালাম দিলেন। স্যার মনে হয়, চেয়ার-টেবিলে বসে বসে কী যেনো লিখছিলেন। হঠাৎ বাবার সালাম শুনে এগিয়ে এলেন। বাবা বললেন, এই যে আপনার ছাত্রকে নিয়ে এসেছি। আপনার হাতে তুলে দিলাম। প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি করে নিন। এখন থেকে আপনি ওকে দেখেশুনে রাখবেন।



হেড স্যার আমাকে কাছে নিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন। একটা আপেল হাতে দিয়ে বললেন, এটা বসে বসে খাও। আমি চুপচাপ বসে আছি। আর এদিক-সেদিক তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছি। আমার চেয়েও ছোট ছোট ছেলে-মেয়ে মাঠে দৌড়ে বেড়াচ্ছে, খেলা করছে, স্কুলের বারান্দায় লাফালাফি করছে।



একটু পর স্যার এলেন। এসে বললেন, এই নাও তোমার বই। এখন থেকে ভালোমতো পড়তে হবে। প্রতিদিন স্কুলে আসতে হবে। আর বইগুলোর খুব যত্ন করে গুছিয়ে রাখবে। বাড়ি গিয়ে তোমার ভাইকে বলবে, হেড স্যার বইগুলোতে মলাট লাগিয়ে দিতে বলছে। এই বলে স্যার আমার হাত ধরে বললেন, এসো, তোমার ক্লাসরুমটা দেখে যাও। স্যারের সাথে এগিয়ে গেলাম। ক্লাসরুমে প্রবেশ করলাম। স্যার একটা বেঞ্চে বসিয়ে দিয়ে চলে আসলেন। আমি ক্লাসরুম চারপাশে নজর বুলিয়ে দেখতেছি। কত ছেলে-মেয়ে! কেউ আমার সমবয়সী, কেউ আমার চেয়ে বড়, কেউ আমার চেয়ে ছোটো। দেয়ালের গায়ে সুন্দর সুন্দর কত চিত্র অাঁকা। স্কুলের পরিবেশ দেখে বারবার মুগ্ধ হচ্ছি, আর হাতের রঙিন বইগুলোর প্রতি তাকাচ্ছি।



স্কুলের সামনে একটি বড় মাঠ। মাঠের এককোণে একটি বকুল গাছ। ছেলে-মেয়েরা দৌড় দিয়ে গিয়ে গাছটাতে চড়ছে। আমি একপাশে দাঁড়িয়ে আছি। তখনই আমার পাশে ছুটে এলো বাবু, মনির, আয়েশা। ওদের বাড়ি আমাদের বাড়ির পাশেই। ওরা দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে। ওরা আমার হাতের বই দেখে বললো, তুমি কি প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছো? গত বছর ভর্তি হলে আমরা একই ক্লাসে পড়তে পারতাম। তুমি আমাদের সাথে খেলা করবে। আরও অনেক কথা হলো ওদের সাথে।



স্কুল ছুটি হলো। ওদের সাথে বাড়ি ফিরে এলাম। নতুন বই হাতে দেখে মা এসে বুকে জড়িয়ে নিলেন।



সেদিন থেকে স্কুলের সুন্দর পরিবেশ, ছেলে-মেয়েদের আন্তরিকতা, স্যারদের স্নেহমমতা পেয়ে স্কুলে যাওয়ার প্রতি আমার আগ্রহ বেড়ে গেলো। আমার ধারণা পুরোটাই পাল্টে গেলো। আমি ভাবতাম, স্কুলে হয়তো স্যারেরা খুব মারধর করে। কিন্তু তা নয়, স্যারদের আদর, স্নেহ আমাকে বড় হতে উৎসাহ জাগিয়েছে। স্যারদের বাহ্বা, মারহ্াবা আমাকে মানুষ হতে পথ দেখায়। স্কুলের প্রথম দিন ছিলো আমার আনন্দের দিন। প্রিয়দের সাথে মিলিত হওয়ার দিন।



খুব খুব মনে পড়ে আজও সেদিনের স্মৃতি। কোনোদিন ভুলতে পারবো না স্কুলের প্রথম দিনটিকে। হৃদয়ের মাঝে গেঁথে থাকবে আমরণ।



 



লেখক : হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর। মোবাইল : ০১৮৭৪১৬৮৭১২



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৬২৪২২
পুরোন সংখ্যা