চাঁদপুর। মঙ্গলবার ১৩ নভেম্বর ২০১৮। ২৯ কার্তিক ১৪২৫। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৫-সূরা রাহ্মান


৭৮ আয়াত, ৩ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৬৩। সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ অনুগ্রহ অস্বীকার করিবে ?


৬৪। ঘন সবুজ এই উদ্যান দুইটি।


৬৫। সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ অনুগ্রহ অস্বীকার করিবে ?


 


 


 


assets/data_files/web

শিক্ষা আর অভিজ্ঞতার সমন্বয়েই জীবনে পরিপূর্ণতা আসে।


-টমাস হুড।


 


 


মানবতাই মানুষের শ্রেষ্ঠতম গুণ।


 


 


 


 


ফটো গ্যালারি
স্কুলে যাবার কথা শুনে খুশির ঘণ্টা বাজলো
মকবুল হামিদ
১৩ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


প্রায় ২০ বছর আগের কথা। তখন আমার বয়স মাত্র ৬ বছর পূর্ণ হলো। দিনটি ছিলো শনিবার। চারিদিকে সূর্যের উজ্জ্বল আলো ঝল্মল্ করছে। ঠিক আগের দিন রাতে বাবা-মায়ের সাথে খাবার খাওয়ার সময় বাবা আমাকে বললো, আব্বু আগামীকাল সকাল ৯টায় তোমাকে স্কুলে ভর্তি করাতে নিয়ে যাবো। বাবার মুখে কথাটা শুনার পর আমার মনে খুশির ঘণ্টা বাজতে শুরু করলো। তাড়াতাড়ি করে রাতের খাবার খাওয়া শেষ করে আলমারির কাছে গিয়ে আলমারিটা খুললাম। খুলেই আমার ভালো পোশাকগুলো থেকে বেছে সেরা পোশাকটি আমার বিছানার পাশে রেখে দিলাম। দেরি না করে তাড়াতাড়ি করে ঘুমোতে গেলাম। ঘুমোনোর আগে মাকে বললাম, মা, আমাকে ভোরবেলায় জাগিয়ে দিও। সকালে ঘুম থেকে উঠে চোখ মুছতেই দেখি মা আমার পাশে বসে আছে। মাকে দেখে জিজ্ঞেসা করলাম, কয়টা বাজে? মা উত্তর দিলেন ৭টা। মায়ের কথা শুনে বিছানা থেকে একটা লাফ দিয়ে ওয়াসরুমে গিয়ে হাত-মুখ ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে এসে মাকে বললাম, মা তাড়াতাড়ি নাস্তা তৈরি করো, স্কুলে যেতে হবে। মা তাড়াতাড়ি করে রুটি-ভাজি বানিয়ে এনে আমাকে দিলেন। নাস্তা খেয়ে প্রায় ঘণ্টাখানিক দেরি করে গোসল করতে গেলাম। গোসল শেষ করে রুমে এসে নতুন পোশাক পরে বাবার জন্যে অপেক্ষায় রইলাম। পাঁচ মিনিট পর বাবার আমার রুমে আসলো। বাবাকে দেখে জিজ্ঞেসা করলাম, বাবা স্কুলে যাবা না? কখন থেকে তৈরি হয়ে বসে রইলাম। বাবা বললো এখনো তো স্কুল খুলে না। আচ্ছা আব্বু, তুমি বসো আমি গোসল সেরে তৈরি হয়ে আসছি। বাবার জন্যে প্রায় ২০ মিনিট অপেক্ষার পর বাবা আসলেন। মার কাছ থেকে দোয়া নিয়ে স্কুলের যাওয়ার হাঁটা শুরু করলাম। স্কুলটি আমাদের গ্রামের শেষ মাথায়। বাবার সাথে কথা বলতে বলতে স্কুলে পেঁৗছে গেলাম। অফিস প্রবেশ করে দেখি শিক্ষকেরা আছে কিন্তু হেড মাস্টার এখনো আসেনি। পাঁচ মিনিট পর হেডমাস্টার তাঁর রুমে প্রবেশ করলো। বাবা আমাকে নিয়ে সোজা উনার রুমে নিয়ে গেলো। ভয়ে আমার হাত পা কাঁপতে শুরু করলো। হেড মাস্টার আমার অবস্থা দেখে মুছকি হাসছে। আমাকে তিনি নাম, শতকিয়া, ইংরেজি, অন্যসব প্রশ্ন করলো। আলহামদুলিল্লাহ আমি সবগুলো প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিলাম। তিনি আমাকে বললো, তুমিতো সবকিছু পারো। তুমি ভর্তি হওয়ার পর নিয়মিত স্কুলে আসবে, নিয়মিত পড়া শিখে আসতে হবে, গুরুজন ও শিক্ষকদের কথা সবসময় মানতে হবে। অন্যেদের সাথে কোনোপ্রকার ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হবে না। আমার রোল নম্বর ৫ দিয়েছিলো। আমার খুব ভালো লাগলো। ভর্তি হওয়ার পর আমাকে ক্লাসের এবং শিক্ষকদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলো। পরে বই নিয়ে বাবার সাথে বাড়িতে চলে এলাম। ওই সময়ে কি যে আনন্দ লেগেছিলো তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। পরের দিন থেকে নিয়মিত স্কুলে যেতে শুরু করে দিলাম। উক্ত ঘটনাটি আজীবন স্মৃতি হয়ে থাকবে।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৬৬৭৭৭৩
পুরোন সংখ্যা