চাঁদপুর। মঙ্গলবার ১৩ নভেম্বর ২০১৮। ২৯ কার্তিক ১৪২৫। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৫-সূরা রাহ্মান


৭৮ আয়াত, ৩ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৬৩। সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ অনুগ্রহ অস্বীকার করিবে ?


৬৪। ঘন সবুজ এই উদ্যান দুইটি।


৬৫। সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ অনুগ্রহ অস্বীকার করিবে ?


 


 


 


assets/data_files/web

শিক্ষা আর অভিজ্ঞতার সমন্বয়েই জীবনে পরিপূর্ণতা আসে।


-টমাস হুড।


 


 


মানবতাই মানুষের শ্রেষ্ঠতম গুণ।


 


 


 


 


ফটো গ্যালারি
ফেলে আসা সেই স্মৃতি
নিঝুম খান
১৩ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


প্রাইমারি শেষ করেছি অনেক বছর পার হয়ে গেলো। এখন আমি অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। আমার মতে, মানুষের বর্তমান বলতে কিছু নেই। আছে অতীত, ভবিষ্যৎ আছে কিনা তার নিশ্চয়তা দিতে পারছি না। অতীতের স্মৃতিচারণের দুটি দিক রয়েছে। প্রথমটি আনন্দ আর দ্বিতীয়টি বেদনা। মানুষ যখন জীবনের পথে যখন হোঁচট খায় তখন বসে বসে অতীতের স্মৃতিচারণ করতে ভালো লাগে, আবার খারাপও লাগে। কিছু কিছু স্মৃতি মনের ভেতর গভীর দাগ কেটে যায়, যা চাইলেও মুছে ফেলা সম্ভব হয় না। যেমন আমার স্কুলের প্রথম দিনটি। বেশ কয়েকটি ঘটনার কারণে স্কুলের প্রথম দিনটির কথা আজও মনে গেঁথে আছে। তবে স্মৃতির পাতায় কিছুটা ধুলোও জমেছে। আজ সেই ধুলো মুছতে বসেছি। আমার জীবনের প্রথম বিদ্যাপীঠের নাম হাসান আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। চাঁদপুরের বেশ কয়েকটি নামকরা প্রাইমারি স্কুলের মধ্যে এটি অন্যতম। প্রাকৃতিক অবস্থার কথা বলতে গেলে স্কুলের সামনে মেহগনি গাছগুলোর সারি আর লেকেরপাড় সংলগ্ন বলেই যেনো স্কুলটির সৌন্দর্য এখনোও চিরসবুজ হয়ে আছে। সময়টা ছিলো শীতকাল। কিছুটা তীব্রভাবেই শীত পড়ছিলো। খুব সকালে মা ঘুম থেকে জাগিয়ে ব্রাশ হাতে পাঠিয়ে দিলেন। আসার পর দেখলাম আলমারি থেকে আমার নতুন জামা নামানো হয়েছে। মাকে জিজ্ঞেস করতেই বললো, যে আজকে নাকি আমায় স্কুলে নিয়ে যাবে। আমার মনে পড়ে গেলো যে আগেরদিন আমায় সেতু আন্টি স্কুলের সম্পর্কে বলেছিলো। ওহ সেতু আন্টির কথা তো বলাই হয়নি। তিনি আমার বর্ণমালা শিক্ষার প্রথম শিক্ষিকা। স্কুলে যাবো শুনে আমিতো বেজায় খুশি। তাড়াতাড়ি করে জামা-কাপড় গায়ে দিয়ে নাস্তা করতে বসে পড়লাম। মা একটি টুপিওয়ালা সোয়েটারও পরিয়ে দিলেন। অদ্ভূত রকমের সোয়েটার। টুপিটা খুলে ফেললে পিঠের ওপর পড়ে থাকে। শীত বেশি লাগলে টুপি পড়ে কান ও মাথা ঢেকে রাখা যায়। সকালের নাস্তা সেরে মায়ের সাথে বেরিয়ে পড়লাম। হাঁটতে হাঁটতে মা আমায় ইংরেজি বর্ণমালা এবং বাংলা বর্ণমালা জিজ্ঞেস করতে লাগলেন। আমার বাসা থেকে স্কুলটি খুব বেশি দূরে না হওয়ায় হেঁটেই চলে আসলাম। এসে দেখি আমার মতো অনেক ছেলে-মেয়ে তাদের বাবা-মায়ের সাথে স্কুলে এসেছে। একজন শিক্ষিকা এসে অভিভাবকদের বললো যে তিনটি লাইনে ভাগ করে শিক্ষার্থীদের দাঁড় করিয়ে দিতে। তারপর সেই শিক্ষিকা হাতে একটি খাতা নিয়ে আমাদের নাম ডেকে আলাদা আলাদা শাখায় ভাগ করে ক্লাসে নিয়ে গেলো। আমাদের সাথে অভিভাবকদের আসতে দিচ্ছিলো না। আমি কিছুটা ভয় পেয়ে গেলাম। আমি যে শিক্ষিকার ক্লাসে পড়লাম তিনি ছিলেন শাহিনা ম্যাডাম। খুব আন্তরিক একজন শিক্ষিকা। সবার সাথে সন্তানসুলভ আচরণ করতেন। তিনি আমাদের সবাইকে এক এক করে নিজের নাম, বাবার নাম, মায়ের নাম, বাবার পেশা ইত্যাদি বিষয় জিজ্ঞেস করতে লাগলেন। আমায় জিজ্ঞেস করায় টপটপ করে সব বলে দিলাম। এভাবে বেশ কিছুক্ষণ চলার পরে স্কুলের নিচ থেকে বেশ কয়েকবার ঘণ্টা বাজানোর শব্দ পেলাম। ম্যাডাম বললেন যে আজ আমাদের ছুটি। কাল সকলকে প্রথম শ্রেণির বই দেয়া হবে। সবাই একে একে লাইন ধরে ক্লাস থেকে বের হচ্ছে দেখো তাদের সাথে আমিও বের হয়ে গেলাম। বাইরে বের হতেই আমার বুকটা ধক করে উঠলো। চারপাশ থেকে সব অভিভাবকরা হুড়োহুড়ি করে তাদের সন্তানদের খুঁজছিলো। এর মাঝখানে পড়ে আমার যে কি অবস্থা হয়েছিলো সে-কথা না বলাই শ্রেয়। হঠাৎ ভীড়ের মধ্যে থেকে কে যেনো আমার হাত ধরে টান দিয়ে একপাশে খোলা জায়গায় নিয়ে গেলো। তাকিয়ে দেখি মা। আমার হাতে একটি চিপসের প্যাকেট দিয়ে আমায় জিজ্ঞেস করলো যে, স্কুল কেমন লাগলো। আমি উত্তরে কী বলেছিলাম সেটা মনে করতে পারছি না। তারপর মায়ের হাত ধরে বাসায় চলে আসলাম। আসতে আসতে মাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম যে, আমি এখন কোন্ শ্রেণিতে পড়ি? মা বলেছিলেন, প্রথম শ্রেণিতে। আমি ভেবেছিলাম যে, দ্বিতীয় দিন ক্লাসে গেলে মনে হয় আমি দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র হয়ে যাবো। যদিও সেটা অবুঝ মনের ভ্রান্ত ধারণা ছিলো। তবুও সেই অবুঝ দিনগুলোর কথা আজ খুব মনে পড়ে, মায়ের হাত ধরে প্রথম স্কুলে যাওয়ার দিনটার কথা মনে পড়ে। মনে পড়ে ভীড়ের মধ্যে মাকে খোঁজার দিনটার কথা, মনে পড়ে প্রথম ক্লাস করার অব্যক্ত অনুভূতির কথা, সেই প্রিয় শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পিতা-মাতার মতো ব্যবহারের কথা মনে পড়ে। নদীর ঢেউয়ের মতো এগিয়ে চলা বয়সের সাথে বদলে যায় অনেক কিছুই। বদলে যায় পরিচিত মুখ, পরিচিত বৃক্ষ। সুঠাম দেহ ঝুঁকে পড়ে, এক সময়ের টানটান চামড়াও কুঁচকে যায়। কিন্তু ভালোবাসা থাকে অপরিবর্তিত, অমলীন। জীবনের সুন্দর সময়গুলো মনের কোনো এককোণে জড়সড় হয়ে পড়ে থাকে। সুন্দর সময়গুলো মনের ভেতর বাঁচিয়ে রাখা জরুরি, রাখবো। স্মৃতির পাতায় জমে থাকা ধুলো সরিয়ে যাবো, যতোদিন বেঁচে থাকি এভাবেই মনের গভীরে জমিয়ে রাখবো এমন সহস্র স্মৃতি।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৬৬৩৬৪৬
পুরোন সংখ্যা