চাঁদপুর। মঙ্গলবার ১৩ নভেম্বর ২০১৮। ২৯ কার্তিক ১৪২৫। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫১-সূরা সূরা তূর

৪৯ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

১৭। মুত্তাকীরা তো থাকিবে জান্নাতে ও আরাম-আয়েশে,

১৮। তাহাদের প্রতিপালক তাহাদিগকে যাহা দিবেন তাহারা তাহা উপভোগ করিবে এবং তাহাদের রব তাহাদিগকে রক্ষা করিবেন জাহান্নামের ‘আযাব হইতে’।


assets/data_files/web

নতুন দিনই নতুন চাহিদা এবং নতুন দৃষ্টিভঙ্গীর উদয় করে। -জন লিডগেট।


ক্ষমতায় মদমত্ত জালেমের জুলুমবাজির প্রতিবাদে সত্য কথা বলা ও মতের প্রচারই সর্বোৎকৃষ্ট জেহাদ।


ফটো গ্যালারি
প্রথম দিনে ক্লাসে কান্না করি
জয় ঘোষ
১৩ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


স্কুলজীবনের প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা স্কুলজীবনের অন্যান্য দিনের চাইতে ব্যতিক্রম ছিলো। সেদিন সকালে ঠাকুমা জানালো আমাকে নাকি স্কুলে ভর্তি করাবে। তখনও স্কুল কি জিনিস বুঝতাম না। ঠাকুমা বলছিলো আমাদের এলাকার পাশেই নাকি একটা ফ্রি স্কুল ও একটা গাড়ি স্কুল আছে। আমাকে জানালো আমাকে গাড়ি স্কুলেই ভর্তি করাবে। মনে অজানা এক ভয় থাকলেও সকালে মা স্কুলের জন্যে রেডি করে কাঁধে ছোট্ট একটা ব্যাগ ঝুলিয়ে দিলো। তারপর ঠাকুমার কোলে করে স্কুলে পেঁৗছে গেলাম। অবশ্য স্কুলে পেঁৗছাতে বেশি সময় লাগলো না।



স্কুলে পেঁৗছে প্রথমেই মনে মনে গাড়ি খুঁজছিলাম। কারণ বাসা থেকে মনে করেছি স্কুল মনে হয় একটা গাড়ি! স্কুলের সামনে এসে দেখলাম একটা হলুদ রঙের লম্বা দ্বি-তল বিল্ডিং। ঠাকুমাকে জিজ্ঞেস করলাম, গাড়ি স্কুলের কথা! ঠাকুমা জানালো, সেই ভবনটি নাকি গাড়ি স্কুল। স্কুলটি একটা লম্বা গাড়ির (বাস) মতো মনে হলেও গাড়ির চাক্কার কথা জিজ্ঞেস করলে ঠাকুমা কিছু বলেনি। যদিও তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত এই গাড়ির রহস্য বুঝিনি। স্কুলের সামনেই পাশের বাসার হৃদয় নামের এক বন্ধুকে তার মায়ের সাথে দেখে আনন্দিত হলাম।



অতঃপর, আমাকে একটি রুমে নিয়ে গেলো। সেখানে একটা জটলা ছিলো। ভেতরে প্রবেশ করে দেখলাম একজন চশমাপরা মধ্যবয়সী লোক বসে আছেন। তিনি ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তখন বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক ছিলেন বাদল মজুমদার। আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে টক টক আওয়াজ করা একটি মেশিনের (টাইপ রাইটার) দিকে তাকিয়ে আছি হঠাৎ করে তিনি আমার নাম জানতে চাইলেন। চমকে গেলাম তাছাড়া ভয়ও লাগছিলো তাই কিছু বলতে পারিনি। তখন তিনি হাসিমুখে বললেন, ভয় নেই। আমি আমার নাম বললাম জয়। তারপর আমাকে একটি রুমে নিয়ে আসলো। রুমে পর্যাপ্ত আলো ছিলো না। সেখানে অনেক বাচ্চাদের সাথে আমাকে বসানো হলো। আমার পাশে একটা ছেলে বসেছিলো। তার সাথে পরিচিত হয়েছিলাম। মজার ব্যাপার হচ্ছে, তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম 'আমার বন্ধু হবে?'। তার নাম ছিলো এমরান। এই স্মৃতি এখনো মনে পড়লে নিজে নিজে অবাক হই। কিছুক্ষণ পর লম্বা করে দাড়িওয়ালা একজন লোক শ্রেণিকক্ষে ঢুকলেন। তখন ভয় লাগছিলো খুব তাই কান্না করে দিই। সাথে সাথে আরো কয়েকজন কান্না শুরু করে। যার ফলে ঠাকুমাও আমার সাথে ক্লাসে বসেছিলো। এভাবেই চলে যায় স্কুলের প্রথম দিন।



ছোটবেলার সেই স্কুলটি এলাকার পাশেই একটি বিশাল পুকুর ছিলো। ছোটবেলার সেই বিদ্যালয়ের নাম ছিলো পুরাণবাজার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টিতে প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েরা পড়াশোনা করার সুযোগ পেলেও ছেলেদের ক্ষেত্রে তা পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সীমাবদ্ধ ছিলো। আর এটাই ছিলো আমার ছোটবেলার গাড়ি স্কুল।



 



লেখক : শিক্ষার্থী, হিসাববিজ্ঞান বিভাগ, চাঁদপুর সরকারি কলেজ।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৪১৬৯৯
পুরোন সংখ্যা