চাঁদপুর। মঙ্গলবার ১৩ নভেম্বর ২০১৮। ২৯ কার্তিক ১৪২৫। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৫-সূরা রাহ্মান


৭৮ আয়াত, ৩ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৪০। সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ অনুগ্রহ অস্বীকার করিব?


৪১। অপরাধীদের পরিচয় পাওয়া যাইবে উহাদের লক্ষণ হইতে, উহাদিগকে পাকড়াও করা হইবে মাথার ঝুঁটি ও পা ধরিয়া।


 


 


 


 


assets/data_files/web

একজন ভাগ্যবান ব্যক্তি সাদা কাকের মতোই দুর্লভ। -জুভেনাল।


 


 


মানুষ যে সমস্ত পাপ করে আল্লাহতায়ালা তার কতকগুলো মাপ করে থাকেন, কিন্তু যে ব্যক্তি মাতা-পিতার অবাধ্যতাপূর্ণ আচরণ করে, তার পাপ কখনো ক্ষমা করেন না।


 


 


ফটো গ্যালারি
স্যার আম বানান করতে বললেন
রাসেল ইব্রাহীম
১৩ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


ছাত্রজীবন একটি চলমান যুদ্ধের নাম। জীবনের এই সময়টাতেই মানুষ প্রকৃতভাবে তার ব্যক্তিত্ব গড়ে তোলার সুযোগ পায়। শিক্ষার্থী অবস্থায় অনেকটাই নির্ধারিত হয়ে যায় ভবিষ্যতের অবস্থান। তাছাড়া ছাত্রজীবন জীবনের সোনালি সময়। রঙিন স্বপ্ন দেখার উজ্জ্বল মুহূর্ত। আর স্কুল লাইফেই বিচিত্র স্বপ্ন দেখার পাশাপাশি স্বপ্নপূরণের বীজবপন করা হয়ে থাকে। তাছাড়া পারিবারিক শিক্ষার পাশাপাশি সততা, অধ্যবসায়, সহানুভূতি, উদারতা এবং আনুগত্য চর্চার উর্বরক্ষেত্র স্কুল। এমনকি এটি মানুষের জানার পরিধিকে বর্ধিত করার উত্তম স্থান।



ঠিক ২০০১ সালের ডিসেম্বর মাস। স্কুলে ভর্তির মৌসুম। ছয় বছর পূর্ণ শিশুরা কে, কোথায় ভর্তি হবে তা নিয়ে



অভিভাবকমহলে শুরু হল আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। আমার মা-বাবাও তা থেকে বাদ পড়েননি। তবে আমার ছয় বছর পূর্ণ হওয়ায় শেষপর্যন্ত উপজেলায় বিভিন্ন স্কুল থাকা সত্ত্বেও যাতায়াতের সুবিধার্থে আমার মা-বাবা সবচেয়ে নিকটতম স্কুলে আমাকে ভর্তি করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হলেন। আর ছোটবেলায় সেসময় যখন আমি স্পষ্টভাবে অ, আ, ক, খ, বলতে ও লিখতে শিখলাম তখন তা দেখে আমার চাচা জসিম উদ্দিন নিজেই আমাকে নিকটস্থ স্কুল কড়ৈতলী জুবলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়ে গেলেন। স্কুলের মাঠে অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রীকে দৌড়াদৌড়ি করতে দেখে কাকার আঙ্গুল চেপে ধরলাম। আস্তে আস্তে অফিসের সামনে এসে অনেক ছাত্র-ছাত্রীকে ভর্তি শেষে অফিস থেকে বের হতে দেখলাম। ঠিক অফিসকক্ষে প্রবেশের পূর্বে মনের ভেতর অজানা এক ভয়ের সঞ্চার হলো। বুকটা দুরুদুরু করে কাঁপতে শুরু করলো। প্রধান শিক্ষকের কাছে গেলে কী থেকে কী প্রশ্ন করে বসে এরকম বহুমুখী প্রশ্নবাণে মনস্তাত্তি্বকভাবে প্রাথমিক অবস্থায় ক্ষতবিক্ষত ছিলাম। সালাম দিয়ে কাকাসহ অফিসে প্রবেশ করলাম। প্রধান শিক্ষক হাসিমুখে সালামের জবাব দিলেন। প্রথম



অবস্থায় ভীতসন্ত্রস্ত থাকলেও স্যারের মিষ্টি হাসি দেখে বুকের উপর থেকে যেন একটা হাজার মনি পাথর সরে গেলো। স্যার আমার দিকে তাকিয়ে নাম জিজ্ঞেস করলেন। কী কী পারি তাও জানতে চাইলেন। আমি নির্দ্বিধায় স্যারকে প্রশ্নের উত্তর দিলাম। শেষ পর্যায়ে স্যার আমাকে আম বানান করতে বললেন। বানান করলাম, শরেয়া ম (আম)। সাথে সাথে স্যার আমাকে স্বরবর্ণের উচ্চারণ সম্পর্কে কিছু জ্ঞান দিলেন এবং হাতে একটা লেখার চক দিয়ে পাশের বস্ন্যাকবোর্ড দেখিয়ে বললেন, ওখানে গিয়ে আম বানান লিখো। হাতে চক নেয়া মাত্র শুরু হলো হাতকম্প। যেনো কয়েকদিন পর্যন্ত না খাওয়ার দরুণ দুর্বলতায় হাতটা কাঁপছে। তাও কন্ট্রোল করার চেষ্টা করে ছোটছোট কদমে বোর্ডের দিকে এগিয়ে গেলাম। ভয়ে ভয়ে কাঁপা কাঁপা হাতে লিখে ফেললাম, আম। স্যার বললেন, বেশ। একটা সাদা কাগজের মাঝেমধ্যে খালি রেখে অনেকের নামই লিখা। তবে স্যার আমার নামটা লিখলেন তিন নাম্বার সিরিয়ালে। স্যার কিন্তু প্রশ্নের উত্তর, কথা বলার স্টাইল এবং উচ্চারণসহ যাবতীয় দিক চিন্তা করে যোগ্যতার ভিত্তিতে রোল নাম্বার নির্ধারণ করেন। কাকা স্যারকে ভর্তি ফির কথা জিজ্ঞেস করার পর স্যার উত্তর দিলেন, দশ টাকা। সাথে সাথে কাকা পকেট থেকে দশ টাকা বের করে স্যারের হাতে দিলেন। সালাম দিয়ে আমরা কক্ষ ত্যাগ করলাম। বাইরে এসে বিশাল খেলার মাঠের পাশে ছোটছোট ক্ষণস্থায়ী দোকানপাট দেখলাম। সেখানে কেউ আচার বিক্রি করে। বিভিন্ন আইটেমের আচার। কেউ আইসক্রিম বিক্রি করে। আর খচর খচর শব্দ শুনে পাশে তাকিয়ে দেখলাম ঝালমুড়ি মামা গ্লাসের ভেতর চানাচুর, মুড়ি এবং মশলা দিয়ে হাত দিয়ে চেপে ধরে নাড়াচাড়া করে ঝালমুড়ি বানাচ্ছে। খাবারগুলো ততটা মানসম্মত না হলেও মুখরোচক। চাচাকে টেনে নিয়ে ঝালমুড়ি কিনলাম। মাঠ থেকে বেরুতেই দেলোয়ার ভাইয়ের দোকান। ভদ্র লোককে সবাই বলে, দেলু ভাই। আমার বাবা, চাচা এমনকি আমিও বলি, দেলু ভাই। দেলু ভাইয়ের দোকান থেকে চাচার মাধ্যমে দুই টাকা দিয়ে লিলি কলম কিনলাম। খুব সুন্দর কলম। ফিরে আসলাম বাড়িতে। তখন থেকেই আমি হয়ে গেলাম কড়ৈতলী জুবলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র। সেদিন আর ক্লাস না করলেও দিনটি ছিলো আমার কাছে অত্যন্ত স্মরণীয় ও মধুর। মিস করি সেই দিনটিকে। অনেক মিস করি।



 



লেখক : শিক্ষার্থী, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, চাঁদপুর সরকারি কলেজ, চাঁদপুর।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৮৮৮৫৯৭
পুরোন সংখ্যা