চাঁদপুর। মঙ্গলবার ১১ ডিসেম্বর ২০১৮। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫। ৩ রবিউস সানি ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪৪-সূরা দুখান

৫৯ আয়াত, ৩ রুকু, ‘মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৩৭। শ্রেষ্ঠ কি উহারা, না তুব্বা সম্প্রদায় ও ইহাদের পূর্ববর্তীরা? আমি উহাদিগকে ধ্বংস করিয়াছিলাম, অবশ্যই উহারা ছিল অপরাধী।

৩৮। আমি আকাশম-লী ও পৃথিবী এবং উহাদের মধ্যে কোনো কিছুই ক্রীড়াচ্ছলে সৃষ্টি করি নাই;





 


মুক্ত করো ভয়, আপনা মাঝে শক্তি ধরো নিজেরে করো জয়।     


-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।


ডান হাত যা দান করে বাম হাত তা জানতে পারে না-এমন দানই সর্বোৎকৃষ্ট।

 


ফটো গ্যালারি
আমাদের শিক্ষক এবং পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন
মেহেরুন নেছা রুমা
১১ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা, শিক্ষক, সিলেবাস, শিক্ষার্থীদের নানান বিষয়, পরীক্ষাভীতি_ এই বিষয়গুলোর প্রতি আমার বিশেষ একটু আগ্রহ আছে সব সময়। হয়তো শিক্ষক পরিবারের সন্তান হওয়ার কারণে বিষয়গুলো আমাকে একটু বেশিই ভাবায়। এড়িয়ে যেতে পারি না। সম্প্রতি ঢাকা বোর্ডের কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে পরীক্ষার খাতা অবমূল্যায়ণের অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং ওই অভিযুক্ত শিক্ষকদেরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। সম্মানিত শিক্ষকগণই যদি এই ধরনের গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত হন তাহলে তারা ছাত্র-ছাত্রীদেরকে কী শিক্ষা দিবেন। ওই শিক্ষকদের নাম পরিচয়ও খবরের কাগজে এসেছে। এখন ওই শিক্ষকদের সম্পর্কে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মনের ভাবনাটা কিরকম হতে পারে একটু চিন্তা করলেই আমরা অনুধাবন করতে পারি। শুধুমাত্র ঢাকা বোর্ডের কয়েকজন শিক্ষকের নাম আসলেও এই ধরনের কর্মকান্ডে যে শুধু ঢাকার শিক্ষকগণই জড়িত, তা কিন্তু নয়। জেলা শহর এমনকি প্রত্যন্ত স্কুল কলেজের শিক্ষকদের অবস্থা আরো ভয়াবহ। সঠিকভাবে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ণ না করার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।এতে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীর সাথে ঘটে যেতে পারে অপ্রত্যাশিত কোন অঘটন। হতে পারে কোন স্বপ্নভঙ্গ, থেমে যেতে পারে তার জীবনের গতি।তার দ্বায় কী নেবেন আমাদের ওই শিক্ষক? যার গাফিলতির কারণে একটি ভাল শিক্ষার্থী পরীক্ষায় ভাল লেখার পরও তার খাতার মূল্যায়ণ সেভাবে হয়নি? অভিযুক্ত শিক্ষকগণ অজুহাত দিয়েছেন খাতা মূল্যায়ণের জন্য তাদেরকে যে সময় দেয়া হয় সেটি প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয়। কেন নয়? দিনে ২৮/২৯ টি খাতা তাদেরকে দেখতে হয়। এটি খুব বেশিও কিন্তু নয়, যদি শিক্ষকগণ গুরুত্বের সাথে খাতা দেখেন। কিন্তু আমাদের শিক্ষকগণ তো কেবল খাতাই দেখেন না। তাদেরকে স্কুল কলেজে ক্লাস নিতে হয়। ক্লাস নিয়েও তারা ওই নির্দিষ্ট পরিমান খাতা ঠিকই দেখতে পারতেন, কিন্তু শিক্ষকগণ এখন শুধু স্কুল-কলেজে ক্লাস নেয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নন। প্রায় প্রতিটি শিক্ষকেরই রয়েছে আলাদা কোচিং সেন্টার। শ্রেণিকক্ষে ঠিকভাবে না পড়িয়ে তারা আলাদাভাবে কোচিং এ ছাত্র পড়ান। এটিই তাদের মূল পেশায় পরিণত হয়েছে। এক একজন শিক্ষক কোচিং এ একটি ব্যাচে ২০ /৩০জন করে ছাত্র-ছাত্রী পড়ান। এখানে তারা নোট তৈরি করে দেন, পড়া দেন এবং পড়া নেন। ঠিক এই কাজগুলি যদি শ্রেণিকক্ষে করতেন তাহলে আমাদের শিক্ষার্থীদের আর কোচিংএ দেঁৗড়াতে হতো না। অভিভাবককে বাড়তি টাকা এবং সময়ও ব্যায় করতে হতো না। শিক্ষকগণ ক্লাস , কোচিং, এরপর ব্যক্তিগত ,সামাজিক,পারিবারিক দায়িত্ব কর্তব্য সেরে যখন পাবলিক পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ণ করতে বসেন তখন তাদের জন্য সেই সময়টা একটু কমই হয়ে যায়। যেসব শিক্ষকদের সেই সময় নেই তারা পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ণের মত গুরুত্বপূর্ণ কাজটি নেন কেন? শুধু ঢাকা বোর্ডে নয়। গ্রামে এই অবস্থা আরো ভয়াবহ। আমি দেখেছি একজন কলেজের প্রভাষককে। যিনি ঢাকার একটি কলেজে পরপর তিনবারেও এইচএসসি পরীক্ষা দিয়ে কৃতাকার্য হতে না পেরে চতুর্থবারে কোনরকম টেনেটুনে পাস করেন। এইচএসসি পাশের পর সে মফস্বেেলর একটি কলেজে ইংরেজি বিভাগে অনার্স এ ভর্তি হন। যেহেতু ওই মফস্বলে ইংরেজি বিভাগে ভর্তির কোন স্টুডেণ্টই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না সেহেতু সে সহজেই সেখানে টিকে যায়। তারপর সে বাবার সরকারী চাকরীর সুযোগ নিয়ে ওই কলেজ থেকে ট্রান্সফার হয়ে ঢাকার ইডেন মহিলা কলেজে ইংরেজী বিভাগে ভর্তি হয়।সেখানে চার বছরের কোর্স না জানি কত বছরে শেষ করে সে অনার্স মাস্টার্স সম্পন্ন করে। অতপর সে পুনরায় ওই মফস্বলে চলে যায়। সেখানে একটি কলেজে রাজনৈতিক আশির্বাদে তার ইংরেজী বিভাগে প্রভাষক পদে চাকরী হয়। তার অতীত ইতিহাস মুছে গিয়ে এখন গ্রামের একটি কলেজের একজন ইংরেজি শিক্ষক তিনি। ক্লাসের পাশাপাশি বাড়িতে ব্যাচ এ ছাত্র পড়ান। সব ইণ্টারমিডিয়েটর ছাত্র-ছাত্রী। যে নিজেই ইণ্টারমিডিয়েট পাস করেছিল চার বছরে। সেও এখন পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ণ করে। আমি নিজে তাকে দেখেছি সে পৃষ্ঠা গুনে গুনে খাতায় নম্বর দেয়। কি লিখলো, না লিখলো, কতটা সঠিক কিংবা ভুল লিখলো এসব তার দেখার বিষয় না। এই যদি হয় একটি পাবলিক পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ণ করার চিত্র তাহলে আমাদের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন যে কতটা ভয়াবহ বিপর্যস্তের মধ্যে রয়েছে তা সহজেই অনুধাবনযোগ্য। একটি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার যদি এই হাল হয় তাহলে জাতির উন্নতি কী করে আশা করা হয়। দেশে শিক্ষিত বেকার শ্রেণির অভাব নেই। ভাল-মন্দ সব ধরনেরই উচ্চশিক্ষিত তরুণ তরুণী রয়েছে যাদের বেকারত্বের অভিশাপ নিয়ে মাথা খুঁড়ে মড়তে হচ্ছে। তবু মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগে কেন এই উদাসীনতা? কেন শিক্ষকদের স্বেচ্ছাচারিতার হাতে জিম্মি হচ্ছে আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা? যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ এবং পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদেরকে আরো যথাযোগ্য করে গড়ে তুলে তবেই কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ানোর দায়িত্ব দেয়া উচিত। যাতে আমরা আমাদের সন্তানদের নিশ্চিন্তে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠানে পারি। খাতা মূল্যায়ণের অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষকদের শুধুমাত্র কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েই যেন শিক্ষাবোর্ড তাদের দায়িত্ব শেষ করে না ফেলেন। শিক্ষার মত মহান পেশাকে এতটা গাফিলতি করার মূল্য যেন তাদেরকে দিতে হয় এবং পর্যায়ক্রমে ঢাকার বাইরের শিক্ষকদেরকেও মনিটরিং এর আওতায় এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয় সেটিই প্রত্যাশা করি।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৬৩৭১৫২
পুরোন সংখ্যা