চাঁদপুর। মঙ্গলবার ২৫ ডিসেম্বর ২০১৮। ১১ পৌষ ১৪২৫। ১৭ রবিউস সানি ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • ফরিদগঞ্জের মনতলা হাজী বাড়ির মোতাহের হোসেনের ছেলে ফাহিম মাহমুদ (৩) নিজ বাড়ির পুকুরে ডুবে মারা গেছেন। ||  শনিবার সকালে ফাহিমের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক। || 
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪৮-সূরা ফাত্হ্

২৯ আয়াত, ৪ রুকু, ‘মাদানী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৪। তিনিই মু’মিনদের অন্তরে প্রশান্তি দান করেন যেন তাহারা তাহাদের ঈমানের সহিত ঈমান দৃঢ় করিয়া লয়, আকাশম-লী ও পৃথিবীর বাহিনীসমূহ আল্লাহরই এবং আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।







 


assets/data_files/web

সৌভাগ্যবান হওয়ার চেয়ে জ্ঞানী হওয়া ভালো।        


-ডাবলিউ জি বেনহাম।


স্বভাবে নম্রতা অর্জন কর।



 


ফটো গ্যালারি
এসো বইয়ের ভুবনে প্রবেশ করি
মেহেরুন নেছা রুমা
২৫ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


শেষ কবে তুমি পাঠ্যবইয়ের বাইরে কোন বই পড়েছ? বইয়ের নামটি কী ছিল? সমপ্রতি কয়েকজন শিক্ষার্থীকে এমন প্রশ্ন করেছিলাম। উত্তরটা দিতে তাদের সময় লেগেছিল খুব অল্প। কেউ বলেছিল পাঠ্যবইয়ের বাইরে আমি কোনো বই কখনো পড়েছি বলে মনে হয় না। কেউ বলেছিল, স্কুলের সিলেবাস শেষ করতে করতেই জান যায়, অন্য বই কখন পড়ব। কেউ হাসতে হাসতে বলেছিল, ফেসবুক পড়েই তো কূল পাই না অন্য বই পড়ার সময় কই? কেউ বলেছিল, গল্প-উপন্যাস পড়তে আমার ভালো লাগে না। এমনই সপ্রতিভ উত্তর তাদের। দেশের সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য সম্পর্কে তাদের না আছে কোনো আগ্রহ, না আছে পিপাসা।



পাঠ্যবইয়ের বাইরে কোনো কিছুই তাদের জানা নেই। আর কেউ কেউ পাঠ্যবইও ঠিকমতো রপ্ত করতে পারে না। যারা একটু ছোট তাদের সময় কাটে স্কুল-কোচিংয়ে যাতায়াত করে করে। আর যারা একটু বড় তাদের স্কুল-কোচিংয়ের বাইরে যতটুকু সময় আছে পুরোটাই ব্যয় করে ইন্টারনেটিং করে। এটাই সত্য, এটাই বাস্তব। আমরাও চাই আমাদের সন্তানরা যুগের সঙ্গে সঙ্গে এগিয়ে চলুক সামনের দিকে। কিন্তু যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে যেয়ে তাদের শৈশব-কৈশোর সব কিছু তলিয়ে যাচ্ছে ইন্টারনেটের গহ্বরে। একাদশ শ্রেণির একজন ছাত্র দিন-রাত পড়ে থাকে মোবাইল হাতে নিয়ে। সেই মোবাইলের মধ্যে নেই বলতে এমন কোনো জিনিস নেই। কিন্তু সেখানে তারা কী করছে? যে সময়ে ছাত্রদের হাতে বই থাকার কথা, বন্ধুদের সঙ্গে দেশ-বিদেশের শিল্প-সাহিত্য নিয়ে আলোচনা করার কথা, সেই সময়টাতে তারা ফেসবুকের স্ট্যাটাস নিয়ে আলোচনা করে। কে কী লিখল কে লাইক দিল-না দিল, কমেন্ট কী করল এসবই তাদের আলোচনার বিষয়।



যেভাবে ঘাড় নিচু করে তাদের গভীর মনোযোগের সঙ্গে মোবাইলের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায়, সেভাবে যদি কোনো বইয়ের দিকে তাকাত তা হলে তরুণদের অবস্থা আরও ভালো হতো। একজন অভিভাবক হতাশার সুরে বলছিলেন, তার ছেলে ঘরের মানুষদের সঙ্গে ঠিকমতো কথাই বলে না। কাজিনদের সঙ্গেও নয়। হাসে না, আনন্দ করে না। বিপদেও নিরুত্তাপ থাকে। অথচ ফেসবুকে সারাক্ষণ কাদের সঙ্গে কথা বলে, একা একা হাসে। কোনো প্রয়োজনীয় কথা জিজ্ঞাসা করলেও বিরক্তের সঙ্গে জবাব দেয়। আজকাল অভিভাবকদের দেখা যায় সন্তানদের হাতে স্মার্টফোন তুলে দেন। না দিলে হয় সন্তানদের মান থাকে না, নয়তো তাদের পিতা-মাতার জাত থাকে না। অথচ এই পিতা-মাতারা যদি তাদের সন্তানদের হাতে বই তুলে দিতেন, দেশের বরেণ্য ব্যক্তিদের জীবনী, ইতিহাস ঐতিহ্য, বিজ্ঞান, আবিষ্কার, এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেন তা হলে ওই সন্তানরা আর পিতা-মাতার কোনো প্রশ্নের উত্তর বিরক্তির সঙ্গে দিত না। তরুণ সমাজের এই ভয়াবহ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহের দিকে অগ্রসর হওয়ার আগেই সকলকে সচেতন হতে হবে। সন্তানদের বইমুখী করতে হবে। বই পড়ার মাঝে আনন্দ তৈরি করতে হবে। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা এখন জিপিএ-৫ নির্ভর হয়ে গেছে। এটি অর্জন করতে পারলেই যেন সব কিছু হাসিল হয়ে যায়। কিন্তু এর বিরূপ প্রভাবও কিন্তু আমরা দেখছি। এত এত জিপিএ-৫-এর পরেও সেসব শিক্ষার্থীর মৌলিক জ্ঞানের বড়ই অভাব। তারা পাঠ্যবইয়ের বাইরে কিছুই জানে না। তারা জানে না ক্ষুদিরাম, সূর্যসেন, প্রীতিলতা, রোকেয়া, নূরজাহান কে ছিলেন, জানে না একশ বছর আগে এই দেশটি কারা শাসন করত, জানে না মাদার তেরেসা, নেলসন ম্যান্ডেলা কে ছিলেন। তারা পড়েনি বঙ্কিম, মানিক, শরৎচন্দ্র, বিভূতিভূষণ। তারা বোঝে না কোনটা রবীন্দ্রসংগীত, কোনটা নজরুল।



এ রকম কত কিছু যে তাদের অজানা তার হিসাব নেই। অথচ এরাই পরিবার জাতির ভবিষ্যৎ। এই তরুণ সমাজ ঘরে, রাস্তায়, বাসে, মাঠে, রেস্তোরাঁয়, অফিসে সর্বত্র মাথা নিচু করে মোবাইলের দিকে তাকিয়ে থাকে। কোথাও বেড়াতে গেলেও ভালোভাবে জায়গাটা দেখে কিনা সন্দেহ। দেখার থেকে ছবি তোলা এবং ফেসবুকে পোস্ট করাই তাদের কাছে মুখ্য হয়ে ওঠে। এ অবস্থার আশু নিবারণ প্রয়োজন। তরুণরা বইয়ের প্রতি আগ্রহী হোক। দেশকে জানুক। স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠুক, আচার-আচরণে প্রতিবন্ধকতা নির্মূল হোক এটিই প্রত্যাশা। এসো বইয়ের ভুবনে, বেড়ে উঠি বুদ্ধিবৃত্তিক মননে।



 



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৮৩৮০৩৫
পুরোন সংখ্যা