ঢাকা, মঙ্গলবার ৯ জুলাই ২০১৯, ২৫ আষাঢ় ১৪২৬, ৫ জিলকদ ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৩-সূরা নাজম


৬২ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


০১। শপথ নক্ষত্রের, যখন উহা হয় অস্তমিত,


০২। তোমাদের সংগী বিভ্রান্ত নয়, বিপথগামীও নয়,


০৩। এবং সে মনগড়া কথাও বলে না।


০৪। ইহা তো ওহী, যাহা তাহার প্রতি প্রত্যাদেশ হয়।


 


 


 


খ্যাতিমান লোকের ভালোবাসা অনেক ক্ষেত্রে গোপন থাকে।


-বেন জনসন।


 


 


স্বভাবে নম্রতা অর্জন কর।


 


 


ফটো গ্যালারি
পেশা যখন শিক্ষকতা
আকমল হোসেন
০৯ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


মনীষী সক্রেটিস-এর ভাষায়_'পৃথিবীটা একটা নাট্যমঞ্চ। জগতের সকল মানুষই পৃথিবী নামক নাট্যমঞ্চের অভিনেতা। প্রত্যেক মানুষের পদ ও পদবির আলোকে তার রোল-প্লে থাকে। এটার ব্যতিক্রম হওয়াই একটা সমস্যা।' বাঙালি প্রবাদে বলে আগে দর্শনদারী পরে গুণবিচারী। কাঁধে ঝুঁড়ি হাতে বাঁশি দেখলেও তাকে যে কেউ বলবে তিনি সাপুড়ে। রাজমিস্ত্রি মানেই কন্যে, কড়াই, গজকাঠি; খেতমজুর মানেই কাস্তে মাথাল ইত্যাদি। এই যদি হয় পেশার দর্শনদারীতত্ত্ব তাহলে মানুষ গড়ার কারিগর অথবা দ্বিতীয় জন্মদাতা শিক্ষকের দর্শনদারীর কি হবে? আর গুণবিচারীরই কি হবে? সেটা গুরুত্বপূর্ণ। বাট্রান ও রাসেল এর জবাব দিয়েছেন। তাদের মতে, শিক্ষকের কাজ দুটি। প্রথমত, শিক্ষার্থীদের পাঠের প্রতি আগ্রহী করে তোলা; দ্বিতীয়ত, সেই আগ্রহ নিবৃত করা। কাজ দুটি বাক্যের মধ্যে যতো সহজভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব হয়েছে, প্র্যাকটিকেলি ততোটা হয়তো সহজ নয়। সহজ নয় বলেই এ পেশার নাম শিক্ষকতা। আর যারা এটা সহজ করতে পেরেছেন তারাই শিক্ষক, তাদের পরেই মাথানত করে তার শিক্ষার্থীরা। বেনামের ভিড়ে খাঁটি যাচাই করা কঠিন, তারপর শিক্ষকসমাজ আজও সম্মানের যে জায়গায় অবস্থান করেছেন, টাকা আয় অর্থ বৃত্তে সেটা হওয়ার নয়। কারণ নার্সের সেবায় বিনিময়মূল্য আছে, অর্থের পরিমাণযোগ্য ও কিন্তু মায়ের সেবায় অর্থমূল্য যোগ্য নয়। মায়ের সেবায় অর্থমূল্যে বিবেচনায় করলে মায়ের প্রতি ওই শ্রদ্ধা হয়তো থাকবে না। শিক্ষকের ক্ষেত্রে ঠিক একই উদাহরণ দেয়া যেতে পারে।



বৈচিত্র্যময় পৃথিবীতে প্রকৃতির অপার লীলা, বৃহৎজগৎ এখনও মানুষের জানার বাইরে। হাজারো কোটি প্রাণবৈচিত্র্যে এখনও মানুষের সর্বত্রই এবং 'মানুষ জ্ঞানের আধার।' মানুষ ছাড়া বিশ্ব জগৎ অচল। মানুষের সৃষ্টি মানুষ প্রকৃতিকেই সাজিয়েছে আপন মনে। মানুষের প্রয়োজনে মানুষের দ্বারাই সজ্জিত হয়েছে বিশ্ব জগতের নানামুখি কর্মকা-। এর মাঝেও মানুষরূপী অমানুষের দ্বারা মানবতাবিরোধী অনেক ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়েছে। নিয়ন্ত্রণহীন গতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে, পৃথিবীকে মানুষের বাসযোগ্য করতে এসেছে নানা তন্ত্র, মন্ত্র, ধর্ম ও আইন। প্রাণ নিয়ে ভূমিষ্ট হওয়া মানবসন্তানকে মানুষ করতে (জ্ঞানী প্রাণী) নানামুখি শিক্ষা এবং অনুশীলনের আর্বিভাব। জৈবিক চাহিদা নিয়ে জন্ম নেয়া আদম সন্তানদের প্রাণির বিরুদ্ধে মনুষ্যত্ব অর্জনে অভ্যুদয় ঘটেছিলো শিক্ষার। ক্ষুধা, প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া প্রদান, শীত-গ্রীষ্মের অনুভূত আর বিপদ আপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার নিজস্ব তাগিদ থেকে অবচেতন মনেই সে কিছু বিষয়ে শিক্ষা অর্জন করেছিলো। শিক্ষার অন্যতম একটি লক্ষ্য বাস্তবায়নের সাথে নিজেকে খাপ খাইয়ে চলার ক্ষমতা অর্জন। বন্য জীবজন্তু থেকে রক্ষা পেতে এবং খাদ্যের প্রয়োজনে দলবদ্ধভাবে বসবাস থেকে মানুষের মধ্যে যে সামাজিকতার সৃষ্টি হয়েছিলো তা আজও বিদ্যমান, তবে ভিন্ন প্যাটার্নে। শহরে নগরজীবনের ক্ষেত্রে এর কিছু ব্যতিক্রম, গ্রামভিত্তিক জীবনে এটা এখনও সচল এবং ব্যাপক। দূর্গম গিরিপথ আর সাগর নদীর তলদেশে আবাসন আর যাতায়াতের উন্নত ব্যবস্থা। শিক্ষার জগতে হাজার গুণ উন্নতি তারপরও মায়ের শিক্ষাই শিশুর আদি এবং অকৃত্রিম। মায়ের শিক্ষা পারিবারিক শিক্ষা এবং প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা। কিন্তু শুরুটা মায়ের কাছ থেকে তারপর পরিবার এবং সমাজ, সর্বশেষ প্রতিষ্ঠান/শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শিক্ষার বিষয়বস্তু হিসেবে প্রথমেই যে বিষয়টি এসেছিলো সেটি হলো প্রকৃত ঘটনা, বাঙালি প্রবাদে তার নিদর্শন পাওয়া যায়, কোথায় শিখি-যেথায় ঠেকি। এটাই হলো শিক্ষার মূল জায়গা। এরপর এসেছে অলৌকিতা/ভাববাদ। ভাববাদী দর্শন নিয়েই প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষার যাত্রা। পৃথিবীর বিখ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ইতিহাস তেমনটাই প্রমাণ করে। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা এবং তাদের জীবন ও জীবিকা সেই সাথে সুন্দর ভবিষৎ গড়তে নতুন চিন্তা হিসেবে যুক্তি/দর্শন এরপর সেটা আরও আধুনিক ও যুক্তিবাদী করতে বিজ্ঞানকে শিক্ষার বিষয়বস্তু হিসেবে গ্রহণ করেছে। যারা এটাকে গ্রহণ করেছে তারা সামনে এগিয়েছে, আর যারা সেটা গ্রহণ করেনি তারা অনেক পিছিয়ে আছে। বর্তমান পৃথিবীতে ৭০০ কোটি মানুষ। এরপরও বাড়তেই থাকবে। এদের নানামুখি চাহিদা বাড়বে। তবে প্রকৃতিতে সেই হারে সম্পদ বাড়ার সুযোগ নেই। ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীর নানামুখি চাহিদা মিটাতে প্রকৃতির এই সম্পদের নানামুখি ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। আর এর জন্যেই প্রয়োজন শিক্ষা এবং সেই শিক্ষাকে হতে হবে যুগের চাহিদা মিটানোর ক্ষমতা। সেই কারণে শিক্ষা ব্যবস্থাকে এমন হতে হবে যেনো সে যুগের চাহিদা মিটাতে পারে। আর যারা এই শিক্ষা বিস্তারে ভূমিকা রাখবেন তাদের দক্ষতা, যোগ্যতা এবং ক্ষমতা অর্জন জরুরি। শিক্ষাকতা আর পাঁচটি পেশার মতো গতানুগতিক কোনো কাজ নয়। বস্তুগত জিনিস দেয়ার বিষয়ও নয়।



চলবে



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৬৭৩২০৮
পুরোন সংখ্যা