চাঁদপুর, বুধবার ৬ নভেম্বর ২০১৯, ২১ কার্তিক ১৪২৬, ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৭-সূরা হাদীদ


২৯ আয়াত, ৪ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


২১। তোমরা অগ্রণী হও তোমাদের প্রতিপালকের ক্ষমা ও সেই জান্নাত লাভের প্রয়াসে যাহা প্রশস্ততায় আকাশ ও পৃথিবীর মত, যাহা প্রস্তুত করা হইয়াছে তাহাদের জন্য যাহারা আল্লাহ ও তাঁহার রসূলগণে ঈমান আনে। ইহা আল্লাহর অনুগ্রহ, যাহাকে ইচ্ছা তিনি ইহা দান করেন; আল্লাহ মহাঅনুগ্রহশীল।


 


 


 


 


 


যারা কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হতে চায় না, তারা কোনোদিন লাভবান হতে পারে না। -ডেভিড জেফারসন।


 


 


নামাজ হৃদয়ের জ্যোতি, সদকা (বদান্যতা) উহার আলো এবং সবুর উহার উজ্জ্বলতা।


 


 


 


 


ফটো গ্যালারি
সুশিক্ষার আদর্শ গন্তব্য
তৃপ্তি সাহা
০৬ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


ইউরোপে চতুর্দশ-পঞ্চদশ শতাব্দীতে রেনেসাঁ বা পুনর্জাগরণ ঘটলে শিক্ষার প্রসঙ্গটি গুরুত্ব পেতে শুরু করে। তবে সার্বজনীন শিক্ষার ধারণাটি সম্ভবত ব্রিটিশ লেখক টমাস মুরের 'ইউটোপিয়া' (১৫১৬) গ্রন্থে সাম্যের সামাজিক অবস্থান থেকে প্রথম উপস্থাপিত হয়েছিলো। ফরাসি দার্শনিক রুশো (১৭১২-১৭৭৮) সাম্যনীতি দ্বারা পরিচালিত সমাজ চেয়েছিলেন। সে কারণে তিনিও মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের ক্ষেত্রে শিক্ষার অপরিহার্যতাকে ঊধর্ে্ব তুলে ধরেছেন। বস্তুত ইউরোপের শিল্প, বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লব, রাজতন্ত্রের উচ্ছেদ, সমাজতন্ত্রের বিপ্লব, সমাজ, রাষ্ট্র এবং মানুষের চেতনার জগতে আমূল পরিবর্তন নিয়ে এনেছে। আধুনিক সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থার পতনের সাথে শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিস্তার লাভ স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়। বিংশ শতাব্দীর শুরুতেই দেশে দেশে শিক্ষা মানুষের জন্মগত অধিকার বলে স্বীকৃতি লাভ করে। নিরক্ষরতা দূরীকরণ রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান আন্দোলনে পরিণত হয়। এর ফলে শিক্ষার দ্বার খুলে যায় সমাজের সকল মানুষের কাছে।



 



সাধারণ অর্থে জ্ঞানের রাজ্যে অবাধ বিচরণই 'শিক্ষা'। মন-মানসিকতার উৎকর্ষ সাধন করে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় সাফল্যজনক অবদান রাখার নামই 'শিক্ষা'। শিক্ষা একটি কৌশল, শিক্ষিত মানুষ সে কৌশল ব্যবহার করে তার বিনিময়ে অর্থনৈতিক মূল্য পায়। স্বামী বিবেকানন্দ শিক্ষার সজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে, 'যে ব্যবস্থাপনার দ্বারা ইচ্ছাশক্তির বেগ ও স্ফূর্তি নিজের আয়ত্তাধীন ও সফলকাম হয়, তাহাই শিক্ষা।'



 



আমরা এই শিক্ষা বিভিন্নভাবে, বিভিন্ন স্থানে গ্রহণ করি। পারিবারিকভাবে, প্রকৃতিগতভাবে, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শিক্ষা লাভ করে থাকি। সাধারণভাবে শিক্ষা বলতে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাকেই বুঝানো হয়ে থাকে। আর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বলতে, সাধারণত কোনো নিদিষ্ট বিষয়ে জান্বার জন্যে একটি মেয়াদী কার্যক্রমকে বুঝায় এবং সেখানে শিক্ষার মূল হাতিয়ার হচ্ছে সনদপত্র অর্জন করা। এই সনদপত্রের মাধ্যমেই একেকজন একেক পেশা গ্রহণ করি। কিন্তু এই সনদনির্ভর শিক্ষাকে তখনই সুশিক্ষা বলা যাবে যখন এর সাথে যুক্ত হবে মেধা, মনন, মূল্যবোধ, ন্যায়পরায়ণতা, সততা, চারিত্রিক দৃঢ়তা ইত্যাদির সমন্বিত রূপ। আর এগুলো অর্জন করার জন্যে উন্নত পারিবারিক পরিবেশ একটি অন্যতম উপাদান।



তাহলে সুশিক্ষা হলো, শিক্ষার মাধ্যমে মেধা ও মননের উৎকর্ষতা সাধন। যা একজন মানুষকে মহামানবে পরিণত করে। শিক্ষাকে যদি একটি গাছ হিসেবে কল্পনা করি তবে তার পাতা, ফুল, ফল হবে সুশিক্ষা। শিক্ষা যদি একটি ময়ূর হয়, তবে সুশিক্ষা হবে ময়ূরের পেখম তুলে নাচা। শিক্ষা যদি হয় সুন্দর, তবে সুশিক্ষা হবে সৌন্দর্য। শিক্ষা যদি হয় ধুপ, সুশিক্ষা হলো তার সুরভিত গন্ধ। শিক্ষা যদি হয় আলো, সুশিক্ষা হলো আলোকছটা। আরও সহজ করে বলা যায়, শিক্ষাগ্রহণ করার পর আমাদের প্রায়োগিক দিকটি কেমন হবে সেটি বিচার্য বিষয়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, মহাভারতের পা-ব ও কৌরব ভ্রাতৃগণ একই গুরুর কাছে শিক্ষা লাভ করেন কিন্তু সুশিক্ষা লাভ করে পা-ুবকুল।



প্রাচীনকালে গুরুকুল প্রথার আদর্শে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে উঠতো। সেখানে সংযমী, সেবাপরায়ণ, স্নেহশীল ঋষিদের সানি্নধ্যে ও শিক্ষাগুণে পড়া অ-পড়া উভয় বিদ্যায় শিক্ষার্থী পারদর্শী হতো। বিভিন্ন জাগতিক বিষয়ে জ্ঞান ও কর্মদক্ষতা অর্জন করে যোগ্যতা লাভ করতো, সেই সাথে লোককল্যাণেচ্ছা সমুজ্জ্বল, বজ্রদৃঢ় দেবোপম চরিত্রেরও অধিকারী হয়ে উঠতো। এভাবে শিক্ষা সুশিক্ষায় পর্যবেসিত হতো। মানুষের মূল্যবোধ, নৈতিকতা, সেবা করার মনোভাব, ভাতৃত্ববোধ, দুর্নীতিহীন সমাজব্যবস্থার মাধ্যমে সুশিক্ষা অর্জিত হয়।



 



রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, 'সুশিক্ষার লক্ষণ এই যে তাহা মানুষকে অভিভূত করে না, তাহা মানুষকে মুক্তিদান করে।' বিজ্ঞানের অশেষ আর্শীবাদ আমাদের এই বিশ্ব পরিবর্তিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। দ্রুত এগিয়ে চলেছে এর গতির চাকা, এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে ধর্ম, জাতি, গোষ্ঠী নির্বিশেষে পৃথিবীর সকল দেশের সকল রাষ্ট্রের মানুষ। দিন দিন সমৃদ্ধ হচ্ছে মানুষের জ্ঞান, প্রসারিত হচ্ছে তার অধিকৃত অঞ্চলের পরিধি। অবস্থান সুদৃঢ় করার জন্যে চেষ্টা চলছে নিরন্তর। দু হাতে আসছে বিত্ত। আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্যে সৃষ্টি হয়েছে বহু মাফিক সুযোগ। কিন্তু এই প্রাচুর্য আর বিত্ত-বৈভবের মাঝে চিত্তের লালন-পালন নাই বললেই চলে। নৈতিকতার গুরুত্ব শূন্যের কোঠায়। নৈতিক অবক্ষয় তাই বেড়ে চলেছে অনিয়ন্ত্রিতভাবে। যে কারণে কাগজে-কলমে শিক্ষিত হলেও সুশিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি আমরা।



 



পরিশেষে বলা যায়, সুশিক্ষার জন্যে প্রয়োজন লোভ-লালসাবিহীন সুশীল সমাজ ব্যবস্থাপনা। শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমগুলো অনুশীলন এবং পরিচর্যা করা। এছাড়া আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় ত্রুটিগুলো সনাক্ত করে সঠিক শিক্ষানীতি প্রণয়নের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা। ভেতর থেকে মানুষকে আলোকিত করতে হবে যে, আলোকধারায় আমরা নিজেরাও আলোকিত হবো অন্যকেও সিক্ত করবো। এমন চিন্তাধারা থেকেই সুশিক্ষায় শিক্ষিত হবো আমরা।



 



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
১৩৫১৭৫
পুরোন সংখ্যা