চাঁদপুর, বুধবার ৬ নভেম্বর ২০১৯, ২১ কার্তিক ১৪২৬, ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৭-সূরা হাদীদ


২৯ আয়াত, ৪ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


২১। তোমরা অগ্রণী হও তোমাদের প্রতিপালকের ক্ষমা ও সেই জান্নাত লাভের প্রয়াসে যাহা প্রশস্ততায় আকাশ ও পৃথিবীর মত, যাহা প্রস্তুত করা হইয়াছে তাহাদের জন্য যাহারা আল্লাহ ও তাঁহার রসূলগণে ঈমান আনে। ইহা আল্লাহর অনুগ্রহ, যাহাকে ইচ্ছা তিনি ইহা দান করেন; আল্লাহ মহাঅনুগ্রহশীল।


 


 


 


 


 


যারা কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হতে চায় না, তারা কোনোদিন লাভবান হতে পারে না। -ডেভিড জেফারসন।


 


 


নামাজ হৃদয়ের জ্যোতি, সদকা (বদান্যতা) উহার আলো এবং সবুর উহার উজ্জ্বলতা।


 


 


 


 


ফটো গ্যালারি
বই পড়লে স্বপ্ন বড় হয়
মাছুম বিল্লাহ
০৬ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


আমাদের দেশে প্রথমবারের মতো 'বই পড়ি, স্বদেশ গড়ি' সেস্নাগানের মধ্য দিয়ে জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস পালিত হয়েছিল ২০১৮ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি। এজন্য উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্টরা বিশেষ ধন্যবাদ পাওয়ার উপযুক্ত। সভ্যতাকে টিকিয়ে রাখতে হলে গ্রন্থাগারগুলোকে টিকিয়ে রাখতে হবে। গ্রন্থাগার হচ্ছে সভ্যতার বাহন। ১৯৫৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল। তাই এ দিনটিকে 'জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস' হিসেবে ঘোষণা করা হয়।



 



দিবসটিকে ঘিরে সারা দেশের গ্রন্থ ও গ্রন্থাগার অঙ্গনগুলো নানামুখী কর্মকাণ্ডের মুখরিত ছিল। দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে সকালে র‌্যালি ও বিকালে সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, পাঠচক্র, সাংস্কৃৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে রাজধানী ঢাকাসহ সব জেলায়। অসংখ্য ভাবনা এবং নবতর ধারণার মধ্য দিয়ে গ্রন্থাগারগুলোর কার্যক্রম এখন সম্মুখের দিকে নিরন্তর ধাবিত হবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের। দেশে সরকারি পর্যায়ে বিভাগীয়, জেলা ও দুটি উপজেলাসহ মোট ৭১টি গণগ্রন্থাগার পরিচালিত হচ্ছে। বেসরকারি পর্যায়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ৯০ লাখ ছাত্রছাত্রীকে বই পড়াচ্ছে। ৪ হাজার স্কুলে যেখানে কোনো লাইব্রেরি ছিল না, সেখানে লাইব্রেরি করেছে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। এছাড়াও আরও ২ হাজার বিদ্যালয়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র লাইব্রেরি স্থাপন করেছে। ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচি প্রায় ৩ হাজার গণকেন্দ্র ও ৫ হাজার কিশোর-কিশোরী ক্লাবের মাধ্যমে লাইব্রেরি কার্যক্রম পরিচালনা করে প্রায় ১৪ লাখ পাঠক-পাঠিকা তৈরি করেছে দেশব্যাপী। এসব কেন্দ্রে বছরব্যাপী বিভিন্ন ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। জ্ঞান ও তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য ব্রিটিশ কাউন্সিল সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালনা করছে 'লাইব্রেরিজ আনলিমিটেড' কর্মসূচি। জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস ঘোষণার মাধ্যমে সরকারি ও বেসরকারি সব পর্যায়ের গ্রন্থাগারসংক্রান্ত কার্যাবলি আরও বেগবান হবে বলে আমরা মনে করি।



 



দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি বলেন, 'গ্রন্থাগার হলো সভ্যতার দর্পণ। মানবজাতির শিক্ষা, রুচিবোধ ও সংস্কৃতির কালানুক্রমিক পরিবর্তনের সঙ্গে গ্রন্থাগারের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। সে কারণে গ্রন্থাগার হচ্ছে অতীত ও বর্তমান শিক্ষা-সংস্কৃতির সেতুবন্ধন।' প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'গ্রন্থাগার হলো জ্ঞানের ভাণ্ডার। জ্ঞানার্জন, গবেষণা, চেতনা ও মূল্যবোধের বিকাশ, সংস্কৃতিচর্চা ইত্যাদির মাধ্যমে মানুষকে আলোকিত করে তোলা এবং পাঠাভ্যাস নিশ্চিতকরণে গ্রন্থাগারের ভূমিকা অপরিসীম।' মনের সি্নগ্ধরূপ গঠনে গ্রন্থের একটি বিরাট প্রভাব বিদ্যমান। মনের তৃপ্তি ও দীপ্তি গ্রন্থপাঠের মাধ্যমেই সম্ভব। গ্রন্থ মানুষকে দেয় জীবনীশক্তি, জ্ঞানকে নিজের মধ্যে বন্দি করতে। গ্রন্থ নির্বাচনে পাঠককে গ্রন্থাগারে ও দোকানে গিয়ে পরিশ্রম করতে হয়। জ্ঞানের জায়গায় যদি তথ্য প্রতাপ তৈরি করে, তাহলে সভ্যতার সংকট তৈরি হতে পারে। তবে কাগজের বই পড়ার যে আনন্দ, তা অন্য কোনো মাধ্যমে পাওয়া সম্ভব নয়। এটিই আসল সত্য কথা। বাংলাদেশের মানুষের গভীর আবেগ, ভালোবাসা ও গ্রন্থপ্রীতি যুক্ত হয়ে অমর একুশে গ্রন্থমেলা ধীরে ধীরে বাঙালির সাংস্কৃতিক জাগরণ আর রুচি নির্মাণের এক অনন্য প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পরিগ্রহ করেছে। মেলায় অঢেল বই প্রকাশিত হলেও মানসম্পন্ন বইয়ের যে অভাব রয়েছে, পাঠককে সে বিষয়ে সচেতন হতে হবে। একইভাবে দেশের গ্রন্থাগারগুলোতেও মানসম্পন্ন বইয়ের সমাবেশ ঘটাতে হবে। একখনা বই শত শত বছর টিকে থাকে, যদি তেমন বই হয় অর্থাৎ এখানে মানের কথা বলা হয়েছে। অনেক নতুন বই বাজারে আসে, কোনোগুলোর মান ভালো, আবার কিছু বই হয়তো সে রকম মানসম্পন্ন নয়; কিন্তু বিজ্ঞাপনের ভারে পাঠকদের কাছে পৌঁছে যায়। তবে ভালো বই কীভাবে পাঠকদের কাছে পৌঁছানো যায় তার ব্যবস্থা প্রকাশক সংস্থাগুলোসহ জাতীয় গ্রন্থাগার কর্তৃপক্ষকেও নিতে হবে। বইয়ের প্রতি তরুণদের আগ্রহ যদি বেশি থাকে তাহলে প্রকাশকরা নিম্নমানের বই প্রকাশে তেমন উৎসাহিত হবেন না। কাজেই পাঠকদেরও রয়েছে এখানে বিরাট দায়িত্ব। পাঠকরা যাতে শুধু বইয়ের বিজ্ঞাপন দেখে এবং শুধু প্রতিষ্ঠিত লেখকদের বই-ই না পড়েন, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। প্রতিষ্ঠিত লেখক হলেই যে, তারা সবসময় একই মানের বই বের করতে পারবেন, তা কিন্তু ঠিক নয়। তারা প্রকাশকদের চাপাচাপিতে অনেক সময় দ্রুত বই বের করেন আর প্রকাশকরাও তাদের নাম দিয়ে মোটামুটি বাণিজ্য করার চেষ্টা করেন। কাজেই বইয়ের মান বিচারের মূল দায়িত্ব পাঠকের।



 



জাতীয় গ্রন্থাগার দিবসে সংস্কৃতি সচিব বলেন, 'উন্নত দেশগুলোতে গন্থাগারের উপযোগিতা শ্বাস-প্রশ্বাসে ব্যবহৃত অক্সিজেনের মতো। সেখানকার জ্ঞানমনস্ক মানুষ দিনের শত কর্মব্যস্ততার মাঝেও গ্রন্থাগারে যাওয়ার জন্য একটু সময় বের করে নেন। আমাদের দেশে সর্বসাধারণের দ্বারা গ্রন্থাগারের ব্যবহার আরও ব্যাপকতর ও জোরদার করার জন্য সরকার বিভিন্ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন করছে। শুনে ভালো লেগেছে।' ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচির পরিচালক গ্রন্থাগারের গুরুত্ব সম্পর্কে বলেন, 'বর্তমান সময়ে যুবসমাজকে ঘিরে আমরা যে সম্ভাবনার আশা করছি এবং পাশাপাশি শঙ্কার মধ্যে আছি, সেটি থেকে পরিত্রাণের একটি উপায় হতে পারে বই পড়া এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করা। যুবসমাজকে নৈতিক অবক্ষয় থেকে রক্ষার জন্য বই পড়ার সংস্কৃতি চালু এবং সাংস্কৃতিক কর্মকা-ে অংশগ্রহণ করার জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। এজন্য প্রয়োজন গ্রন্থাগারগুলোতে পাঠকের বয়স অনুযায়ী বইয়ের সংখ্যা বৃদ্ধি করা, চিত্তবিনোদেনর ব্যবস্থা করা ও বই পড়ার প্রতি মানুষ আগ্রহ সৃষ্টি করার জন্য পাঠক ফোরাম, বই প্রদর্শনীর আয়োজন করা।' আমরা আশা করব, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে জাতীয় গ্রন্থাগার কর্তৃপক্ষ গোট দেশে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের মতো জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করবে।



যে পরিবারে গ্রন্থাগার আছে তা ওই পরিবারে এক ধরনের আলাদ জ্যোতি ছড়ায়। ওই পরিবারে অসামাজিক ও জঙ্গিবাদী কাজ হতে পারে না। প্রতিটি সচেতন পরিবারেরই উচিত একটি পারিবারিক লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করা। শিশুদের বই পড়ায় উদ্বুদ্ধ করা। ছোট হলেও প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গ্রন্থাগার চালু করা উচিত। প্রতিটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গ্রন্থাগারা আছে কিনা, থাকলে চালু আছে কিনা, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা তা পড়েন কিনা ইত্যাদি বিষয়ের খোঁজখবর রাখতে হবে সংশ্লিষ্টদের। দুঃখের বিষয়, অনেক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক এবং অনেক অভিভাবক বলে থাকেন, 'বাইরের বই পড়ে সময় নষ্ট করার সময় নেই আমাদের শিক্ষার্থীদের।' প্রচলিত শিক্ষা পদ্ধতিতে কি শিখছে আমাদের শিক্ষার্থীরা তার প্রমাণ আর নতুন করে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। সবাই আমরা পত্যক্ষ করছি গভীর উদ্বেগের সঙ্গে। কলেজ পর্যায়েও বই পড়া, প্রতিষ্ঠানে গ্রন্থাগার স্থাপন ও সচল রাখার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। শিক্ষার্থীদের যদি আমরা সঠিক জ্ঞানের রাজ্যে নিয়ে যেতে পারি, বই পড়ার মধ্যে ডুবিয়ে রাখতে পারি, তাহলে তাদের আত্মা পরিশুদ্ধ হবে, তারা জঙ্গিাবদে জড়াবে না, ইভটিজিং করবে না, মাদকাসক্ত হবে না, হাতে হকিস্টিক আর পিস্তল নিয়ে প্রতিপক্ষকের তাড়া করবে না। বই পড়লে তারা আলোয় উদ্ভাসিত হবে, অন্যায় করবে না। তাদের মনের দিগন্ত প্রসারিত হবে। তাদের পরিচয় করিয়ে দিতে হবে বিশিষ্ট লেখকদের ও মহামানবদের সঙ্গে। আর সেটি সম্ভব তাদের বই পড়ানোর মাধ্যমে। বই পড়লেই তারা দেশ গড়তে পারবে, দেশকে ভালোবাসতে শিখবে। প্রথম জাতীয় গ্রন্থাগার দিবসের সেস্নাগান 'বই পড়ি, স্বদেশ গড়ি' সার্থক হোক।



 



দিবস উপলক্ষে প্রধান আলোচক হিসেবে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, 'গেল ১০ হাজার বছর ধরে মানুষ জ্ঞান ধরে রেখেছে, ভাষা আবিষ্কারের ফলে পুস্তক আবিষ্কৃত হয়েছে আর তার মাধ্যমে মানুষ জ্ঞান ধরে রেখেছে। আগের মতো সভ্যতা, অবিষ্কার, জ্ঞান মানুষ মরতে দেয়নি। যত বেশি মানুষের কাছে বই নিয়ে যাওয়া যাবে, জ্ঞান নিয়ে যাওয়া যাবে, পৃথিবী ততই আলোকিত হবে।' তিনি আরও বলেন, 'বই সবাই পড়তে পারে না, বই সবার জন্য নয়। পাঠক হওয়া কিন্তু সহজ নয়, সস্তা নয়। বই পড়া কঠিন ব্যাপার। বই মানুষকে পাঁচটি ইন্দ্রিয়ের বাইরে নিয়ে যায়। গান কান দিয়ে শোন যায়; কিন্তু বইয়ের পড়া ইন্দ্রিয়ের বাইরের ব্যাপার। পৃথিবী বদলাচ্ছে, পরিবর্তন হচ্ছে এই বইয়ের কারণে। পাঠ্যপুস্তক পিটিয়ে পড়ানো হয়, কারণ সেখানে নগদ লাভ আছে, অর্থ আছে, ছোট জ্ঞান আছে; কিন্তু জ্ঞানের ভাণ্ডার নেই। বই সেটি যা মানুষকে তার নিজের চেয়েও বড় করে, বই পড়লে স্বপ্ন বড় হয়, হৃদয় বড় হয়।' আমাদের হৃদয়কে বড় করতে হবে, স্বপ্নকে বিশাল করতে হবে বই পড়ার মাধ্যমে, তাহলে সামাজিক নানা অনাচার, শিক্ষাঙ্গনে যে অস্থিরতা_ সবই দূরীভূত হবে। আসুন জাতীয় গ্রন্থাগার দিবসে আমরা সবাই এ প্রত্যাশা নিয়ে এগিয়ে যাই।



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
১৩৫০২৩
পুরোন সংখ্যা