চাঁদপুর, মঙ্গলবার ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৮-সূরা মুজাদালা


২২ আয়াত, ৩ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


০৪। কিন্তু যাহার এ সামর্থ্য থাকিবে না, একে অপরকে স্পর্শ করিবার পূর্বে তাহাকে একাদিক্রমে দুই মাস সিয়াম পালন করিতে হইবে; যে তাহাতেও অসমর্থ, সে ষাটজন অভাবগ্রস্তকে খাওয়াইবে; ইহা এইজন্য যে, তোমরা যেনো আল্লাহর ও তাহার রাসূলে বিশ্বাস স্থাপন করো। এইগুলি আল্লাহর নির্ধারিত বিধান; কাফিরদের জন্য রহিয়াছে মর্মন্তুদ শাস্তি।


 


 


 


খাদ্য খাওয়া ও খাওয়ানোর চেয়ে খাদ্য উৎপাদনই মহত্তর কাজ।


-তাবিব।


 


 


যার দ্বারা মানবতা উপকৃত হয়, মানুষের মধ্যে তিনি উত্তম পুরুষ।


 


 


 


 


ফটো গ্যালারি
প্রাথমিক শিক্ষা : শিক্ষক ও মানোন্নয়ন
দেলোয়ার হোসেন
১৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


একটি শিশু ভবিষ্যতে কতটুকু ন্যায়নীতিবান, আদর্শবান, চরিত্রবান হবে কিংবা দেশ, জাতি, সমাজের প্রতি কতটুকু দায়িত্বশীল হবে এটি নির্ভর করে তার প্রাথমিক জীবনের শিক্ষার উপর। প্রাথমিক শিক্ষার গুরুত্ব তাই অপরিসীম। প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে কী করা উচিত, এক্ষেত্রে একজন প্রাথমিক শিক্ষকের ভূমিকা কেমন হওয়া উচিত, এ প্রসঙ্গে যাওয়ার আগে আমাদের জানতে হবে প্রাথমিক শিক্ষা কী বা কাকে বলে?



 



প্রাথমিক শিক্ষা : শিক্ষা প্রক্রিয়ায় কোন ব্যক্তির অন্তর্নিহিত গুণাবলির পূর্ণ বিকাশের জন্য উৎসাহ দেয়া হয় এবং সমাজের উৎপাদনশীল সদস্য হিসাবে প্রতিষ্ঠা লাভের জন্য যে সকল দক্ষতা প্রয়োজন সেগুলো অর্জনে সহায়তা করা হয়। সাধারণ অর্থে জ্ঞান বা দক্ষতা অর্জনই শিক্ষা। ব্যাপক অর্থে পদ্ধতিগতভাবে জ্ঞান লাভের প্রক্রিয়াকেই শিক্ষা বলে। তবে শিক্ষা হলো কোন ব্যক্তির কাঙ্ক্ষিত আচরণিক পরিবর্তন। প্রাথমিক শিক্ষা হলো আনুষ্ঠানিক বা কাঠামোগত শিক্ষার প্রথম পর্যায় যা প্রি-স্কুলের পরে এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আগে দেয়া হয়।



 



শিক্ষকের ভূমিকা : ফ্রেডরিক ফ্রয়েবেলের মতে, 'শিশু হলো উদ্যানের চারাগাছ। শিক্ষক হলেন তার মালী। শিক্ষকের কাজ হলো সযত্নে চারা গাছটিকে বড় করে তোলা। শিশুর মধ্যে লুকিয়ে থাকা সৎ ও সামাজিক গুণাবলির বিকাশ সাধন করাই হলো শিক্ষকের কর্তব্য।' শিক্ষা আলোকিত সমাজ বিনির্মাণের হাতিয়ার। শিক্ষক হলো তার সুনিপুণ কারিগর। শিক্ষা ছাড়া আলোকিত মানুষ সৃষ্টি কোনভাবেই সম্ভব নয়। শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে একজন শিক্ষকের কিছু কাজ ও দায়বদ্ধতা রয়েছে। এ দায়বদ্ধতা সমাজের, দেশ ও জাতির কাছে। আগামী প্রজন্মের কাছে। একজন সফল মানুষের পেছনে রয়েছে একজন আদর্শ শিক্ষক।



 



শিক্ষকদের আধুনিক পদ্ধতিতে নিয়মিত ও যথাযথ পাঠদান, শিক্ষাদানের সক্ষমতা, কৌশল ও নৈপুণ্যের ওপর নির্ভর করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা। যে কোন দেশকে উন্নয়নের পথে নিয়ে যাওয়ার জন্য মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষার বিকল্প নেই। প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য একজন আদর্শ শিক্ষকের নিয়মিত, সুষ্ঠু ও উন্নত এবং পদ্ধতিগত পাঠদান প্রণিধান যোগ্য। শিক্ষা ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা প্রশাসন, যোগ্য শিক্ষকম-লি ও ক্যারিকুলাম এর উপর নির্ভর করে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা অর্জন সম্ভব।



 



শিক্ষকদের শ্রেণী কক্ষে প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব ও বুদ্ধিমত্তার সাথে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ, তথ্য উপাত্তসহ মানসম্মত পাঠদানে নিশ্চিত হবে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগতমান। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকদের পাঠদানের ক্ষেত্রে তাদের সদিচ্ছা, ইচ্ছা শক্তি ও আন্তরিকতাই যথেষ্ঠ। একজন শিক্ষকের জীবনাদর্শ হবে দেশ, জাতি ও সমাজের জন্য আলোকবর্তিকা স্বরূপ। শিক্ষকদের স্বশাসিত হতে হবে। তাড়িত হতে হবে বিবেক দ্বারা। শিক্ষার্থীদের আত্মোপলব্ধির প্রয়োজনে চমৎকার উদ্ভাবনী সক্ষমতা থাকতে হবে। থাকতে হবে সৃজনশীলতার মনোভাব ও তথ্য প্রযুক্তিগত জ্ঞান। শিক্ষকদের আবিষ্কার করতে হবে শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা, তাদের সক্ষমতা, তাদের জ্ঞানের গভীরতা।



 



শিক্ষকের গুরুত্ব : শিক্ষক হচ্ছেন শিক্ষা প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেয়ার অনুপ্রেরণা দানকারী ব্যক্তি। শিক্ষকের ইতিবাচক ভূমিকার কারণেই ছোট শিশুদের মন-মনন, মানসিক উৎকর্ষ সাধন হয়, আচার আচরণ, মন ও আত্মার ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন ঘটে। মেজাজ ও দৃষ্টিভঙ্গির উপর সুদূর প্রসারী পরিবর্তনে প্রভাব ফেলে।



 



সুন্দর সমাজ তৈরি করেন : শিক্ষক সভ্যতার অভিভাবক, সমাজের অভিভাবক। কার্যত শিক্ষক বলতে একজন আলোকিত জ্ঞানী, গুনী ও বুদ্ধিদীপ্ত ব্যক্তিকে বুঝায় যিনি সমাজ সংস্কার ও সুন্দর সমাজ গঠনের অনুঘঠক।



 



সুশিক্ষিত ও উন্নত জাতি গঠন করেন : একজন সু-শিক্ষকই পারেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঠনরত কচি কাঁচা শিশুদের সুপ্ত প্রতিভাকে জাগ্রত করে জাতির উন্নয়ন ঘটাতে। একজন শিক্ষক আদর্শ, ব্যক্তিত্ব ও কর্মের গুণে শিক্ষার্থীদের কাছে আদর্শ ও অনুকরণীয় হয়ে ওঠেন, যা পরবর্তীতে জাতি গঠনে প্রভাব ফেলে।



 



প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে একজন আদর্শ শিক্ষকের ভূমিকা অনস্বীকার্য। একজন আদর্শ শিক্ষক হবেন চারিত্রিক দৃঢ়তা সম্পন্ন, পরিশ্রমী, নিরপেক্ষ, হাস্যোজ্জ্বল, সুপরামর্শক, প্রাণবন্ত ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্বের অধিকারী। শিক্ষক মূল্যবোধ বিনির্মানের আদর্শ কারিগর। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মূল্যবোধ চর্চার কারখানা। একজন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মূল্যবোধে উজ্জীবিত করে সমাজকে করতে পারে আলোকিত ও উদ্ভাসিত। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের প্রতি শিক্ষকের থাকতে হবে অগাধ ভালবাসা ও সহানুভূতি। সকল শিশুকে তিনি সমভাবে ভালোবাসবেন এবং সমভাবে দেখবেন। পরিশেষে বলতে চাই একজন আন্তরিক ও আদর্শ শিক্ষকই পারেন প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে।



 



লেখক : সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার, চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর।



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
১০৭৬৭৮০
পুরোন সংখ্যা