চাঁদপুর, মঙ্গলবার ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৮-সূরা মুজাদালা


২২ আয়াত, ৩ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


০৪। কিন্তু যাহার এ সামর্থ্য থাকিবে না, একে অপরকে স্পর্শ করিবার পূর্বে তাহাকে একাদিক্রমে দুই মাস সিয়াম পালন করিতে হইবে; যে তাহাতেও অসমর্থ, সে ষাটজন অভাবগ্রস্তকে খাওয়াইবে; ইহা এইজন্য যে, তোমরা যেনো আল্লাহর ও তাহার রাসূলে বিশ্বাস স্থাপন করো। এইগুলি আল্লাহর নির্ধারিত বিধান; কাফিরদের জন্য রহিয়াছে মর্মন্তুদ শাস্তি।


 


 


 


খাদ্য খাওয়া ও খাওয়ানোর চেয়ে খাদ্য উৎপাদনই মহত্তর কাজ।


-তাবিব।


 


 


যার দ্বারা মানবতা উপকৃত হয়, মানুষের মধ্যে তিনি উত্তম পুরুষ।


 


 


 


 


ফটো গ্যালারি
মডেল শিক্ষক নির্বাচন
মাছুম বিল্লাহ
১৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে আরেকটি নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশের সেরা প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকদের মধ্যে থেকে যোগ্যতার বিচারে নির্বাচিত করা হবে 'মডেল শিক্ষক'। এই মডেল শিক্ষকরা সংশ্লিষ্ট উপজেলার অপেক্ষাকৃত পিছিয়ে পড়া বিদ্যালয়গুলোর দুর্বল শিক্ষার্থীদের ক্লাস পরিচালনা করবেন। তাঁরা বিশেষ করে গণিত ও ইংরেজি বিষয়ের ওপর বেশি নজর দেবেন। এ সিদ্ধান্তের ফলে উপজেলার সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছে সরকার। এ ছাড়া গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা কাটাতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে মন্ত্রণালয়। এ জন্য দুই হাজার 'মাস্টার ট্রেইনার' তৈরি করা হচ্ছে। ব্রিটিশ কাউন্সিলের মাধ্যমে এটি করা হবে। এ জন্য ব্রিটিশ কাউন্সিলের সঙ্গে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি চুক্তি সই হয়েছে। শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য উপজেলা পর্যায়ে ফলের দিক দিয়ে সেরা বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকদের মধ্য থেকে নির্বাচন করা হবে 'মডেল শিক্ষক'। এই মডেল শিক্ষকদের দ্বারা ওই উপজেলার যেসব বিদ্যালয়ের ফল ভালো নয়, সেসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে উদ্বুদ্ধকরণের জন্য সুপারিশ করেছে এই মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। তবে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি চাইলেও মডেল শিক্ষক নিয়োগ করার বিষয়ে ধীরে চলো নীতি অনুসরণ করছে মন্ত্রণালয়। কারণ এতে ভালো স্কুলগুলোর ক্ষতি হওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে। অনেক শিক্ষক মনে করেন, উদ্যোগটি ভালো, তবে তার চেয়েও প্রয়োজন শিক্ষকদের বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সব শিক্ষককে দক্ষ করে গড়ে তোলা। আরেকটি বিষয় হচ্ছে, বিদ্যালয়ের পিছিয়ে পড়া বা এগিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নির্ধারিত হয় পরীক্ষার ফলের ওপর। প্রশ্ন হচ্ছে, প্রচলিত পদ্ধতির পাবলিক পরীক্ষার ফলের ওপর নিভর্র করে একটি বিদ্যালয়ের পিছিয়ে পড়া বা এগিয়ে যাওয়া নির্ধারণ করা কতটা যৌক্তিক হবে। পরীক্ষায় পাসের যেসব কসরত বা ইঞ্জিনিয়ারিং হয়, তার সঙ্গে শিক্ষকদের যোগ্যতা বা দক্ষতার ব্যাপার কতটা মানানসই সেটি কিন্তু দেখার বিষয়।



মন্ত্রণালয় যে বিষয়টি বলতে চাচ্ছে তা যুক্তিসংগত। আগের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে নতুন জাতীয়করণ হওয়া বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে এঙ্চেঞ্জ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কারণ নতুন জাতীয়করণকৃত শিক্ষকদের চেয়ে আগের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকদের যোগ্যতা ও দক্ষতায় বেশ তফাৎ লক্ষ্য করা যায়। তাই স্কুলগুলোতে প্রাক্তন ও নতুন দুই ধরনের শিক্ষক থাকলে সেটি শিক্ষার্থীদের জন্য ও প্রতিষ্ঠানের জন্য মঙ্গলজনক হবে। মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে। মডেল স্কুলের সব ভালো শিক্ষককে ক্লাস করাতে অন্যত্র নিয়ে গেলে সেসব স্কুল চলবে কী করে? তা ছাড়া বেশির ভাগ বিদ্যালয়েই তো পর্যাপ্তসংখ্যক শিক্ষক নেই। দু-একজন শিক্ষক সব সময়ই ছুটিতে থাকেন, নারী শিক্ষকরা মাতৃত্বজনিত ছুটিতে থাকেন। তাই মন্ত্রণালয় থেকে মাঠপর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে যে উপজেলার ভালো স্কুলগুলো ভিজিট করে 'গুড প্র্যাকটিসগুলো' নিয়ে দুর্বল স্কুলগুলোতে কাজে লাগাতে। এটিও একটি ভালো পরামর্শ।



 



প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে গণিত আর ইংরেজির দুর্বলতা কাটাতে শিক্ষকদের ব্যাপকভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। গণিত বিষয়ে আটটি গণিত অলিম্পিয়াড থেকে ১০ জন করে নিয়ে ৮০ জন শিক্ষকের ওপর বর্তমানে পাইলটিং করা হচ্ছে। ধীরে ধীরে এই সংখ্যা আরো বাড়ানো হবে। এই শিক্ষকরা উপজেলা পর্যায়ে গিয়ে অন্য শিক্ষকদের গণিতের ওপর প্রশিক্ষণ দেবেন। একইভাবে ইংরেজিতে দুই হাজার মাস্টার ট্রেইনার গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের পিটিআইগুলোতে ১০০ দিনের একটি বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ব্রিটিশ কাউন্সিলের সহায়তায় সেখানে মাস্টার ট্রেইনার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলবে। আইএলটিএসে পাঁচ অথবা সাড়ে পাঁচ পাওয়া দুই হাজার প্রাথমিক শিক্ষককে বাছাই করা হবে। তাঁদের ব্রিটিশ কাউন্সিল প্রশিক্ষণ দেবে। ১০০ দিন পর এই প্রশিক্ষকরা উপজেলায় গিয়ে অন্য টিচারদের প্রশিক্ষণ প্রদান করবেন। এভাবে শিক্ষকদের প্রশিক্ষিত করে তোলা হবে, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিশেষভাবে উপকৃত হবে। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে অনেক সমস্যা আছে, তার পরও এখন অনেক মেধাবীই প্রাথমিক শিক্ষকতায় ঢুকছেন, যেহেতু চাকরিটি সরকারি। বিসিএস কোয়ালিফাই করা নন-ক্যাডাররা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে ঢুকছেন, এটি প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায়। তবে শিক্ষার মান নিয়ে বড় প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। তাই প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় তথা সরকার বিষয়টি থেকে উত্তরণের জন্য মাঝেমধ্যে নতুন কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করে কিংবা করার চেষ্টা করে।



 



যেকোনো নতুন উদ্যোগই গ্রহণ করা হোক না কেন, তার পক্ষে ও বিপক্ষে যুক্তি থাকবে। তবে ভালো কোনো কিছু করতে হলে বেগ পেতেই হয়। মডেল শিক্ষক তৈরি করা একটি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শুভ উদ্যোগ। এখানে বেশি সমস্যা হতে পারে দু-একটি বিষয়ে। যেমন, সরকারি প্রাথমিকে শিক্ষকসংখ্যা কম, তারপর দু-একজন নিয়মিত ছুটিতে থাকেন। দ্বিতীয়ত, মডেল শিক্ষক নির্বাচনের জন্য সঠিক শিক্ষক বাছাই করার ক্ষেত্রে একটি সমস্যা হতে পারে। সেটি হতে পারে স্বজনপ্রিয়তা, ইজম, অথের্র লেনদেন বা 'তৈলমর্দন'। এ বিষয়গুলো তো সব জায়গায়ই আছে। বিষয়গুলোকে কিভাবে ম্যানেজ করা যাবে, সেটি নিয়ে ভেবে কাজ করলে সমস্যার অনেকটাই সমাধান হবে। একজন শিক্ষক 'মডেল শিক্ষক' হলে তাঁর শেখা ও জানার আগ্রহ বেড়ে যাবে, যা বর্তমানে অনেক শিক্ষকের মধ্যেই দেখা যায়। ফলে অন্য শিক্ষকদের মধ্যেও মডেল শিক্ষক হওয়ার জন্য এক ধরনের প্রতিযোগিতা শুরু হবে। শিক্ষকদের শিক্ষাদান জীবনও আনন্দময় হবে, কারণ একই বিদ্যালয়ে দিনের পর দিন শুধু শিক্ষাদান করা সব সময় আনন্দদায়ক না হয়ে বিরক্তিকর হয়। মডেল শিক্ষা কার্যক্রম শিক্ষকদের জন্য হবে এক ধরনের রিলিফ, তাঁদের পেশায় নিয়ে আসবে এক ধরনের বৈচিত্র্য। বৈচিত্র্য যেকোনো পেশাকে ও মানুষের জীবনকে আনন্দময় ও অর্থবহ করে তোলে।



 



লেখক : বর্তমানে ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচিতে কর্মরত।



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
১০৭৬৪৯৯
পুরোন সংখ্যা