চাঁদপুর, মঙ্গলবার ৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ৫ রবিউস সানি ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৮-সূরা মুজাদালা


২২ আয়াত, ৩ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


১৮। যে দিন আল্লাহ পুনরুত্থিত করিবেন উহাদের সকলকে, তখন উহারা আল্লাহর নিকট সেইরূপ শপথ করিবে যেইরূপ শপথ তোমাদের নিকট করে এবং উহারা মনে করে যে, ইহাতে উহারা ভালো কিছুর উপর রহিয়াছে। সাবধান! উহারাই তো প্রকৃত মিথ্যাবাদী।


 


 


দুর্বলের পক্ষে সবলের অনুকরণ ভয়াবহ। -দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর।


 


 


 


দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত জ্ঞান চর্চায় নিজেকে উৎসর্গ করো।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
শিক্ষার্থী সাক্ষাৎকার : নাজনীন আক্তার নিশা
কলেজে জীবনের সেরা সময় কাটাচ্ছি
০৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


নাজনীন আক্তার নিশা পড়াশোনা করছেন চাঁদপুর সরকারি কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে। পড়াশোনার পাশাপাশি সামাজিক কর্মকা-ে তিনি নিজেকে সক্রিয় রাখছেন। সম্প্রতি শিক্ষাঙ্গন বিভাগের মুখোমুখি হন তিনি। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এইচএম জাকির।



 



স্কুলে আপনার প্রথমদিনের অনুভূতি বলুন।



নাজনীন আক্তার নিশা : প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথমদিনের অনুভূতিটা বলি। আপুর সাথে স্কুলে গিয়েছিলাম। খুব ভয় লাগছিলো। স্কুল, শিক্ষক, বন্ধু-বান্ধব এসব সম্পর্কে কোনো ধারণা ছিলো না। প্রথম যখন হেডস্যারের রুমে যাই তখন উনি আমাকে অ আ আর ক খ লিখতে দিয়েছিলেন। আমার এখনো মনে আছে কাগজের একটা লাইনেই সবগুলো অক্ষর লিখে দিয়েছিলাম কোনো স্পেস না দিয়ে। লেখা শেষে স্যারের দিকে ভয়ে ভয়ে তাকাতেই দেখি উনি হেসে দিয়েছেন। ভয় কেটে গিয়েছিলো।



অনার্সের প্রথমদিনের ঘটনাটাও এ প্রসঙ্গে বলি। ভর্তি হলাম চাঁদপুর সরকারি কলেজে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে। কিছুটা মন খারাপ ছিলো, কোথাও সুযোগ না পাওয়ায়। সেই সাথে কিছুটা ভয়ও ছিলো নতুন জায়গা নিয়ে। এখানে মানিয়ে নিতে পারবো কি না সেই টেনশনও ছিলো। কিন্তু প্রথমদিন ক্লাসে এসেই সব ভয় কেটে গেলো। চাঁদপুর সরকারি কলেজে এখন পর্যন্ত জীবনের সেরা সময় এখানেই কাটাচ্ছি।



 



আপনার শিক্ষাজীবনের সেরা ও মধুর স্মৃতি বলুন।



নাজনীন আক্তার নিশা : এসএসসি পরীক্ষার রেজাল্টের কথা বলবো। গোল্ডেন এ প্লাস পেয়েছিলাম। হয়তো মনে হতে পারে এটা সেরা কিভাবে হয়_এমনতো সবাই পায়। কিন্তু এটা মধুর স্মৃতি হওয়ার একটা কারণ আছে। এসএসসি পরীক্ষার প্রায় ১ মাস আগে আমার এপেন্ডিসাইটিস-এর অপারেশন হয়। ঐ সময় এতটাই অসুস্থ ছিলাম আর পড়াশোনা করা সম্ভব হয়নি। ভালো প্রস্তুতি ছিলো। তারপরও কেউ এতোটা আশা করতে পারেনি। খুব খুব আনন্দের ছিলো রেজাল্ট দেয়ার দিনটি।



 



আপনার প্রিয় বন্ধু কে? তার সম্পর্কে বলুন।



নাজনীন আক্তার নিশা : অনার্সে এসে সবচেয়ে প্রিয় বন্ধুর দেখা পেয়েছি। স্কুল-কলেজে আমি কিছুটা ইন্ট্রোভার্ট টাইপ ছিলাম। বন্ধু ছিলো কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় সবার সাথে যোগাযোগ হয়নি। এবার প্রিয় বন্ধুর কথায় আসি। ওর নাম মিতা। ওকে চিনতাম ২০১২ সাল থেকে। ও পড়তো সরকারি কলেজে ইন্টারে আর আমি মহিলা কলেজে। তখন অতো ভালো বন্ধুত্ব হয়নি। শুধু চিনতাম আর মাঝে মাঝে কথা হতো। তারপর ২০১৫ সালে অনার্সে ভর্তি হওয়ার পর ও আমার রুমমেট হয়। যদিও ও পড়তো সমাজকর্মে। রুমমেট হওয়ায় তার সাথে আমার সম্পর্কটা খুব ভালো হয়। একসাথে চলতে চলতে কখন যে সে আমার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু হয়ে গেছে বুঝতেই পারিনি। অনেক হাসিখুশি, মিষ্টি স্বভাবের একটা মেয়ে। পরোপকারী, মিশুক সে। এসব গুণের জন্যে আমি ওকে ভীষণ ভালোবাসি।



 



আপনার প্রিয় শিক্ষকের কথা শুনতে চাই।



নাজনীন আক্তার নিশা : আমার প্রিয় শিক্ষক মহিলা কলেজের পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক ওমর ফারুক স্যার। স্যারের জন্যই পদার্থবিজ্ঞান বিষয়টা আমার প্রিয়। স্যারের পড়ানোর কৌশল আমায় মুগ্ধ করতো। খুব কঠিন কঠিন ইকুয়েশনও একদম সহজে বুঝিয়ে দিতেন। ইন্টারে ওনার ক্লাস করার সময় মনে মনে ভাবতাম ডাক্তার হতে না পারলে পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে পড়বো।



 



ক্লাসে প্রথম হওয়ার জন্যে কখনো প্রতিযোগিতা দিয়েছেন?



নাজনীন আক্তার নিশা : স্কুলে থাকতে সবসময় প্রথমই ছিলাম। প্রতিযোগিতা তো অবশ্যই ছিলো। পড়াশোনা করতাম প্রচুর। স্যাররা কোনো কিছু করতে দিলে সবার আগে সেটা জমা দেয়ার একটা ব্যাপার ছিলো। প্রথম হওয়ার জন্য দিনের পড়া দিনে শেষ করতাম। সেই সাথে বাড়তি কিছু পড়া পড়ে রাখতাম।



 



সহশিক্ষা কার্যক্রমের সাথে জড়িত আছেন?



নাজনীন আক্তার নিশা : স্কুল-কলেজে ডিবেট করতাম। শ্রেষ্ঠ বিতার্কিকের পুরস্কারও পেয়েছি কয়েকবার। অনার্সে ডিপার্টমেন্টের যেকোনো অনুষ্ঠানে উপস্থাপনায় ছিলাম। সাথে আবৃত্তি। অভিনয়ও টুকটাক করেছি। এখন বিভিন্ন সামাজিক কাজকর্মে সময় দেয়ার চেষ্টা করি।



 



আপনার বর্তমান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সার্বিক দিক নিয়ে বলুন।



নাজনীন আক্তার নিশা : বর্তমানে আমি চাঁদপুর সরকারি কলেজে পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ে মাস্টার্স পড়ছি। চট্টগ্রাম বিভাগের সেরা ১০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আমাদের কলেজ একটি। এখানে পড়াশোনার পরিবেশ খুবই ভালো। প্রতিবছর অসংখ্য শিক্ষার্থী এখান থেকে ভালো ফলাফল করে বের হচ্ছে। সেই সাথে সহশিক্ষা কার্যক্রমগুলোও বেশ চমৎকার। বিভিন্ন জাতীয় দিবসে চোখ ধাঁধানো অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। এ কলেজের ছাত্রী হতে পেরে নিজেকে গর্বিত মনে করছি। সেই সাথে চাঁদপুর সরকারি কলেজের পরিসর দিনদিন বাড়ুক সেই কামনা করছি।



 



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
১৩৬৮৫
পুরোন সংখ্যা